রাজনীতি
মিটফোর্ডের ঘটনা নির্বাচনকে বিলম্বিত করার অপচেষ্টাও হতে পারে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকায় ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিমূলক কি না, তা ভাবার যথেষ্ট কারণ আছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আসন্ন নির্বাচনকে বিলম্বিত করার অপচেষ্টায় করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।
সোমবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, মিটফোর্ডের মর্মান্তিক ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। তীব্র নিন্দা জানাই এ ঘটনার।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির যারা জড়িত তাদের আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। ব্যক্তির অপকর্মের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। মামলায় যাদের নাম এসেছে ঘটনার সঙ্গে, তাদের সম্পৃক্ততা নেই বলে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, মিটফোর্ডের ঘটনা একটি চিহ্নিত মহল দ্বারা বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে সন্দেহ হচ্ছে। এই ঘটনার বিচার করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দাবি জানাই।
রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আবার ফ্যাসিবাদের ধারায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিটফোর্ডের ঘটনাটি যে পরিকল্পিত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ইন্টারনেটে একটি সুনির্দিষ্ট সময় ভিডিও ছড়ানো হয়।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এটি কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা না, ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা; দলের চেয়ারপারসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য। যারা জাতীয় নির্বাচনকে প্রতিহত করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চান, তাদের প্রতিহত করার আহ্বান জানাই।
সুপরিকল্পিতভাবে দেশের শীর্ষ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণা জানাই। একইসঙ্গে অপরাজনীতি প্রতিহত করতে সরকারের উদাসীনতার বিরুদ্ধে নিন্দা জানাই। এসব অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে স্বাধীনতার পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো। সবাইকে সংঘাত সৃষ্টির উসকানিতে পা না দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, গত ৯ জুলাই সন্ধ্যায় রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতাল কম্পাউন্ডে চাঁদ মিয়া ওরফে সোহাগ নামে এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ও ইট-পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। এরপর তার মরদেহের ওপর চলে বর্বরতা।
সেই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে ও দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কাফি

রাজনীতি
আল্লাহ ছাড়া কেউ এই নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না: সালাহউদ্দিন

নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। স্বয়ং আল্লাহ ছাড়া এই নির্বাচন আর কেউ ঠেকাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে নেত্রকোনার মোক্তারপাড়া মাঠে আয়োজিত জেলা বিএনপির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চলছেই। তারপরও আগামী রমজানের আগেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে। আর নির্বাচনে অতন্দ্র পাহারা দেবে এই দেশের জনগণ।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন নির্বাচনমুখী। কেউ নির্বাচনের বিরোধিতা করলে বাংলাদেশের জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আমরা সাংবিধানিক সংস্কার করছি। রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করছি। একটি লক্ষ্য নিয়েই সংস্কার করছি, যাতে এই দেশে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদের জন্ম না হয়।
আগামী সংসদীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সংস্কার বাস্তবায়ন করবে জানিয়ে এই বিএনপি নেতা বলেন, যে সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন নেই তা বর্তমান সরকার এখনই বাস্তবায়ন করতে পারে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ আলমগীর, জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল আলম, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, সম্মেলনে নেত্রকোণার ১০ উপজেলা ও ৫টি পৌরসভা মিলিয়ে মোট ১৫টি ইউনিটের প্রতিটি থেকে ১০১ জন করে সর্বমোট ১ হাজার ৫১৫ জন কাউন্সিলর অংশ নিচ্ছেন। তারা প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচন করবেন।
রাজনীতি
নুরের ওপর হামলার ঘটনায় তারেক রহমানের তীব্র নিন্দা, তদন্তের আহ্বান

নুরুল হক নুরের ওপর হামলা এবং কাকরাইলে সংঘটিত সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই সঙ্গে ঘটনার আইনানুগ তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্ট এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রপন্থী অংশীদারদের, যার মধ্যে বিএনপি এবং তার মিত্ররাও রয়েছে, তাদের অবশ্যই সংযম ও সহনশীলতা বজায় রাখতে হবে। গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা অবশ্যই জয়ী হতে হবে। দেশকে অবশ্যই জনতার শাসন এবং বর্তমান অস্থিরতার শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
যদি আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে আমাদের জনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সতর্কতা বজায় রাখা উচিত, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা উচিত এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল দেশ গড়ে তোলা উচিত। কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক পথে জনগণকে ক্ষমতায়িত করার এবং সকলের জন্য ন্যায়বিচার, সাম্য এবং মর্যাদা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে সফল হতে পারি। আমি নুরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি এবং ঘটনার আইনানুগ তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।
কাফি
রাজনীতি
নুরের জ্ঞান ফিরেছে, শারীরিক অবস্থা নিয়ে যা জানা গেল

রাজধানীর কাকরাইলে হামলায় গুরুতর আহত গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের জ্ঞান ফিরেছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টা ৫ মিনিটে তার ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানানো হয়।
স্ট্যাটাসে জানানো হয়েছে, নুর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে লেখা হয়, নুরুল হক নুরের ওপর গতরাতে হামলার পর এখন পর্যন্ত তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এখন তার কিছুটা হুঁশ ফিরেছে। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।
স্ট্যাটাসের সঙ্গে নুরের দুটি ছবিও প্রকাশ করা হয়। তাতে দেখা যায়, তিনি হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছেন, নাকে ব্যান্ডেজ বাঁধা এবং মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো।
এর আগে, শুক্রবার রাতেই গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান জানান, নুরের মাথায় আঘাত লেগে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (৩০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় গুরুতর আহত হন নুর। রক্তাক্ত অবস্থায় সেখান থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, নুরের মুখ থেকে বুক পর্যন্ত রক্তাক্ত। তার নাক ফেটে যায় এবং তিনি স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছেন।
রাজনীতি
প্রহসনের নাটকীয় নির্বাচন জনগণ প্রতিহত করবে: ড. হেলাল

পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ব্যতীত প্রহসনের নাটকীয় নির্বাচন জনগণ প্রতিহত করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. এডভোকেট হেলাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ব্যতীত প্রহসনের নাটকীয় নির্বাচন জনগণ প্রতিহত করবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট একটি দলকে প্রাধান্য দিয়ে যেই নির্বাচন হলে সেই নির্বাচন হবে একটি নাটকীয় নির্বাচন। বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটলে, মানুষ দাবি আদায়ে জীবন দিতেও দ্বিধা করে না। দেশের ৭১ শতাংশ জনগণ চায় পিআর পদ্ধতি নির্বাচন। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে একটি দলের প্রতিনিধিত্ব মূলক আচরণ করছে। সরকারের কর্মকান্ডে জনমনে সংশয় তৈরি হচ্ছে। এই সংশয় দূর করতে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মতিঝিল পূর্ব থানা আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি জামায়াতে ইসলামীর দলীয় দাবি নয়, এই দাবি গণমানুষের দাবি। যার প্রমাণ ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থার জরিপে উঠে এসেছে। জরিপে দেখা গেছে দেশের ৭১ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচন চায়। একটি মাত্র দল ব্যতীত অন্য সকল রাজনৈতিক দলও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়। তাহলে সরকার কার স্বার্থে পিআর পদ্ধতি এড়িয়ে গিয়ে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে, সেটি সরকারকে জাতির সামনে স্পষ্ট করতে তিনি আহ্বান জানান।
তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবস্থান জাতির সামনে স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি দলের ভাষায় কথায় কথায় সাংবিধানিক সংকটের দোহাই দিচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা কোন সংবিধানে কোথায় রয়েছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না দিলে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বৈধতা নিশ্চিত হবে না। যারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সাংবিধানিক সংকটে ভয় দেখাচ্ছে, তারা ক্ষমতায় বসতে পারলে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অসাংবিধান সরকার হিসেবে অবৈধ ঘোষণা করবে। এরফলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক যাবতীয় সংস্কার প্রস্তাব অনায়েসে বাতিল হয়ে যাবে। ফলে জুলাই চেতনার অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই সুযোগে ক্ষমতাসীনরা নতুন রূপে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েম করবে। তাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাংবিধানিক বৈধতার প্রয়োজনে এবং নতুন বাংলাদেশ গড়তে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি’ রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে দিতে না পারলে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করতে হবে। জনগণ যদি গণভোটের মাধ্যমে পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না চায়, তবে জামায়াতে ইসলামীও চাইবে না। কিন্তু জনগণ যদি চায় তাহলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিংবা কোনো দলের আপত্তি কেন?- তাহলে কী নতুন করে ফ্যাসিবাদের উত্থানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সহযোগিতা করছে বলে মনে হয় না?- যদি সরকার ফ্যাসিবাদের উত্থানে সহযোগিতা না করে, তাহলে অনতিবিলম্বে ‘পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি’ দিতে গণভোটের আয়োজন করতেই হবে। নতুবা জনগণ রাজপথে নেমে আসলে এর সকল দায় সরকারকে বহন করতে হবে।
মতিঝিল পূর্ব থানা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কমলাপুর শেরেবাংলা রেলওয়ে স্কুল এন্ড কলেজ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৮ নং ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থী জসিমুল হক পাটোয়ারী, মতিঝিল পূর্ব থানার আমির নুরুদ্দিন, থানা সেক্রেটারি খলিলুর রহমান, থানা অফিস সম্পাদক এডভোকেট দেলোয়ার হোসাইন মজুমদারসহ মতিঝিল পূর্ব থানা কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্যবৃন্দ।
রাজনীতি
উগ্রপন্থী রাজনীতি প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল

দেশে মধ্যপন্থা ও উদার পন্থার রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে সরিয়ে উগ্রবাদের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এটি বাংলাদেশের জন্য চরম ক্ষতিকর হবে।
সৈয়দা ফাতেমা সালামের লেখা ‘রক্তাক্ত জুলাই’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল। আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা ষড়যন্ত্র চলছে, সে ষড়যন্ত্রটা হচ্ছে, মধ্যপন্থা রাজনীতি, উদার পন্থার রাজনীতি, উদারপন্থী গণতন্ত্রকে সরিয়ে দিয়ে একটা উগ্রবাদের রাজনীতি নিয়ে আসার। এটি বাংলাদেশের জন্য চরম ক্ষতিকর হবে। সে জন্য উদারপন্থী গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি সব সময় যেটা বলি, নির্বাচন হবেই এবং যে সময়ের মধ্যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সে সময়ের মধ্যেই হবে। এ কারণেই যে, এর কোনো বিকল্প নাই। যদি নির্বাচন বন্ধ করা হয় তাহলে এ জাতি প্রচণ্ড রূপে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেক বাড়বে।’
গতকাল নির্বাচন কমিশন রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো, প্রতিষ্ঠান এবং সরকার সবাই মিলে যদি আমরা এটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, তাহলে আমরা একটি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাঝে মাঝে হতাশ হই যখন দেখি, কিছু দুর্বৃত্তের কারণে আমাদের এত দিনকার লড়াই, সংগ্রাম ও স্বপ্ন সেটা কেন জানি গ্ল্যান হয়ে যাচ্ছে।’
যা কিছু সংস্কার হয়েছে বিএনপির হাত ধরে হয়েছে বলে দাবি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। তিনি বলেন, ‘অনেকে বলে আমরা সংস্কার করছি না। আমাদের বিরুদ্ধে এমনভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে আমরা সংস্কার চাচ্ছি না, সংস্কারের কথা তো প্রথম বিএনপি বলেছে। বাংলাদেশের যা কিছু সংস্কার হয়েছে তা বিএনপির হাত ধরেই হয়েছে।’
কতগুলো রাজনৈতিক দল মিথ্যা ও ভুল প্রচারণা করে বিএনপিকে হেয় প্রতিপন্ন করতে চায় অভিযোগ বিএনপির মহাসচিবের। তিনি বিএনপি নেতা–কর্মীদের দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়ে এমন কাজ না করার আহ্বান জানান। নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এখন আপনারা ক্ষমতার কাছে আসেননি। অনেক চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র আছে। সেগুলোকে মোকাবিলা করে আপনাদের ভালো কাজ দিয়ে, ঐক্য নিয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সত্য কথা, জুলাই–আগস্টে ছাত্ররা বেরিয়ে এসেছিল। কিন্তু পরে সাধারণ মানুষ এতে যোগ দিয়েছেন বলে ফ্যাসিবাদ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
আজকে মানুষ একটা পরিবর্তন চায়, সে পরিবর্তনটা বিএনপির কাছে চায় বলে দাবি বিএনপির এই নেতার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বিএনপির ওপর তাকিয়ে আছে তারা কীভাবে গণতন্ত্রকে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা করবে।
মোড়ক উন্মোচনে সভাপতিত্ব করেন কবি, সাংবাদিক বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল হাই শিকদার।
সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। আরও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক জাহানারা লাইজু প্রমুখ।