ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
সংবাদ সংগ্রহকালে ইবি সাংবাদিকদের উপর হামলা

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অর্থনীতি বিভাগের একাংশ শিক্ষার্থী কর্তৃক কর্মরত সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে বাঁধা প্রদান’সহ কিল-ঘুষি, চড়-থাপ্পর এবং পেটে লাথি দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
শনিবার (১২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে বিকাল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় হামলাকারীদের শাস্তি দাবি ও নিরাপত্তা চেয়ে প্রক্টর বরাবর অভিযোগপত্র জমা দেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক শিক্ষা ক্যাম্পাস প্রতিনিধি আরিফ বিল্লাহ, দৈনিক আজকালের খবর ক্যাম্পাস প্রতিনিধি রবিউল আলম ও দৈনিক বার্তা ২৪ ক্যাম্পাস প্রতিনিধি নূর ই আলম।
ভুক্তভোগী আরিফ বিল্লাহ জানান, আমি অফিস থেকে রুমে যাচ্ছিলাম তখন ফুটবল মাঠে মারামারির ঘটনা লক্ষ্য করি। দুই পক্ষের হাতাহাতি ও মারামারি চলাকালে সংবাদ সংগ্রহের জন্য আমি মোবাইল নিয়ে ভিডিও করা আরম্ভ করলে অর্থনীতি বিভাগের ২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আফসানা পারভীন তিনা আমার হাত থেকে ফোন কেড়ে নেয়৷ এসময় আমি মোবাইল কেড়ে নেওয়ার বিষয় জানতে চাইলে একই বিভাগের ২০২০-২১ বর্ষের নাহিদ, মিনহাজ, সৌরভ দত্ত, পান্না ও একই বিভাগের ২০২২-২৩ বর্ষের অজিল, সাইফুল, মশিউর রহমান ও হৃদয়সহ আরও ৮/১০ জন শিক্ষার্থী আমাকে ঘিরে ধরে চর, থাপ্পর, ঘুষি মারতে থাকে। তখন দূর থেকে সাংবাদিক নূরে ই আলম ছুটে এসে ভিডিও করলে তারা নূরে ই আলমের উপরও আক্রমণ করে। তৎক্ষনাৎ আমাকে নাজমুল ভাই, সমন্বয়ক সুইট ভাই ও গোলাম রাব্বানী ভাই সহ অনেকে ওদের কাছ থেকে উদ্ধার করলেও পরে ফেরার সময় আবার আমার উপর আরেক দফায় হামলা করে। এসময় আমার সহকর্মী রবিউল আলম ও তামিমকে জোরেসোরে ডাকতে থাকি। সহকর্মী রবিউল এগিয়ে আসলেও তাকে লাথি, ঘুষি, কিল মেরে প্রচন্ড আঘাত করে। মিনিট পাঁচেক ধরে আঘাত সহ্য করতে না পারায় রবিউল মাটিতে পড়ে যায়।
তিনি আরও জানান, ওরা আমার ফোন কেড়ে নিয়েছে কিন্তু এখনো ফেরত দেয় নি। পেশাদারি কাজে বাঁধা প্রদান এবং এক পর্যায়ে মারধরের শিকার হওয়ায় আমি যথাযথ বিচার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানাচ্ছি।
ভুক্তভোগী নূর ই আলম বলেন, খেলার মাঠে আমি সমন্বয়ক এস এম সুইট ভাই ও সহ-সমন্বয়ক গোলাম রব্বানী ভাই দাড়িয়ে ছিলাম। অর্থনীতি বিভাগের আন্তঃবিভাগ খেলায় হটাৎ মারামারি শুরু হলে সাংবাদিক আরিফ বিল্লাহ ভিডিও করতে গেলে তার উপর আক্রমনাত্নক হয়ে কিল ঘুষি মারতে থাকে। ঘটনাস্থলে আমি ছুটে গিয়ে ভিডিও করলে তারা আমার উপর কিল, লাথি ও গলায় ঘুষি সহ খামচে দেয়। এই অবস্থায় সুইট ভাই ও গোলাম রব্বানী ভাই ছুটে এসে উচ্চবাচ্চ করে আমাকে রক্ষা করে। এসময় সাংবাদিক রবিউল ছুটে এলে তাকেও বেধড়ক মারতে থাকে। মার সহ্য করতে না পেরে রবিউল এক পর্যায়ে বসে পড়ে। এসময় অর্থনীতি বিভাগের ২০২০-২১ বর্ষের মিনহাজ ও একই ২০২২-২৩ বর্ষের অজিল, সাইফুল, মশিউর রহমান ও হৃদয়সহ ১০/১৫ জন আমাকে কিল, ঘুষি ও ঘাড়ে আঘাত করে। এসময় সমন্বয়ক সুইট ও রব্বানী ভাই হামলা থেকে উদ্ধার করে। সাংবাদিকদের উপর এ অতর্কিত হামলার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক হামলাকারীদের বিচার ও প্রশাসনের নিকট নিরাপত্তা চাচ্ছি।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক রবিউল জানান, আমি বিকাল ৫ টার সময় অফিসে অবস্থান করছিলাম। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে অর্থনীতি বিভাগের আন্ত: সেশন ফুটবল খেলা চলছিলো। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মারামারির ভিডিও করতে গেলে সাংবাদিক আরিফ বিল্লাহ হামলার শিকার হন। বিষয়টি জানতে পেরে সেখানে গেলে দেখি আরিফ বিল্লাহকে তারা ঘিরে রেখেছে। ওই সময় ভিডিও ধারণের প্রস্তুতি নিতে থাকলে কয়েকজন এসে মোবাইল কেড়ে নেওয়ার জন্য উদ্যত হয়। আমি বলেছিলাম ‘আমি সাংবাদিক এভাবে আপনারা চার্জ করতে পারেন না।’ তখন কয়েকজন ‘তার মোবাইল কেড়ে নে, ওরে ধর, ভিডিও থাকলে ডিলিট দে’ বলে চারদিক থেকে এলোপাথারি কিল ঘুষি মারে। বিশেষ করে অর্থনীতি বিভাগের ২০২০-২১ বর্ষের নাহিদ ইসলাম আমার তলপেটে লাথি মারে। তখন আমি মাটিতে পড়ে যাই। এসময় সমন্বয়ক সুইট, রব্বানী ভাইসহ কয়েকজন আমাকে উদ্ধার করে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ এপ্রিল একটি সংবাদ প্রকাশের জেরে আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন নাহিদ। পেশাদারি কাজে বাঁধা প্রদান এবং মারধরের ঘটনায় আমি যথাযথ বিচার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানাচ্ছি।
ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক এস এম সুইট, রোভার খন্দকার সায়েম এবং ডিবিসি প্রতিনিধি নাজমুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, তাদের সামনেই আরিফ বিল্লাহ সহ রবিউলকে মারধর করা হয়। পরে সবাই মিলে আহতদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে ইবি সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, খেলার মধ্যে হঠাৎ মারামারি শুরু হলে সেখানে আরিফ ভিডিও করতে গেলে আরিফের ওপর ওরা চড়াও হয়। এরপর একই ভাবে ওরা রবিউল এবং আরেকজন সাংবাদিককে মারধর করে৷ ঘটনাস্থলে আমি তাদের আটকানোর চেষ্টা করি। তবে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের সাথে এমন আচরণ অবশ্যই কাম্য নয়।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ইশতিয়াক ফেরদৌস ইমন বলেন, আমি বাইরে হট্টগোলের আওয়াজ শুনে এগিয়ে যাই, তখন দেখি কয়েকজন মিলে একজন সাংবাদিককে মারতেছে। অপরদিকে আরেক সাংবাদিক আমার পিছন থেকে ওইদিকে যাচ্ছিল। তারপর সে ভিডিও করা শুরু করলে তার ভিডিও বন্ধ করতে একদল এসে বলে এবং তাকে মারতে উদ্ধত হয়। এবং একজন এসে তার পেটে লাথি মারে। কয়েকজন কিল-ঘুষি মারে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন অর্থনীতি বিভাগের ২০২০-২১ বর্ষের নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিভাগের আন্তঃসেশন খেলা হচ্ছিল। তখন বল আউট হওয়া না হওয়া নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা হয়। জুনিয়র একজন স্যরি বলে সমাধান করা হয়। এসময় আমি সাংবাদিক কাউকে মারিনি। আমার গলা ধরছে তখন আমি কি করব।’ এ কথা বলেই তিনি প্রতিবেদকের কল কেটে দেন।
অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি ড. পার্থ সারথি লস্কর বলেন, আজকে অর্থনীতি বিভাগের আন্তঃশিক্ষাবর্ষ খেলা ছিল। সেখানে ২০১৯-২০, ২০২০-২১, ২০২১-২২, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের খেলা ছিল। শুনেছি মারামারি ঘটনা ঘটেছে। তবে সেখানে ঠিক কি হয়েছে জানি না। বিষয়টি নিয়ে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।
অর্থসংবাদ/সাকিব/কাফি

ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে মোবাইল জার্নালিজম: উমামা

ডিজিটাল মোবাইল জার্নালিজম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পুরো নির্বাচনের পরিবেশকে নষ্ট করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ডাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী (সহসভাপতি) উমামা ফাতেমা।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।
উমামা ফাতেমা লিখেছেন, ক্যাম্পাসের ডাকসু নির্বাচনে ডিজিটাল মোবাইল জার্নালিজম পুরো নির্বাচনের পরিবেশকে নষ্ট করছে। প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটারদের কথা বলার সহজ স্বাভাবিক প্রসেসকে কঠিন করে দিচ্ছে। প্রার্থীদের পেছনে প্রতিটা পদক্ষেপ ভিডিও করতে থাকা কতটা সমীচীন দেখায় সেটা আমার প্রশ্ন!
তিনি আরও লিখেছেন, বারবার নিষেধ করার পরও সাংবাদিকদের এ ধরনের নীতি বহির্ভূত কার্যক্রম থামানো যাচ্ছে না। ব্যক্তির কনসেন্টের বাইরে গিয়ে ভিডিও করা, ক্রপ করে ভিডিও ভিন্ন এঙ্গেলে প্রদর্শন করার কাজ থামানো যায় না।
সবশেষে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের এই ভিপি প্রার্থী লিখেছেন, সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ থাকবে আপনারা প্রার্থী ও ভোটারের প্রাইভেসি মেনে চলুন। ভোটার ও প্রার্থীর সম্মতির বাইরে অযাচিতভাবে ভিডিও করে ভোটের পরিবেশটা নষ্ট করবেন না।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে নতুন বিধিমালা জারি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার। এতে আগের কোটা পদ্ধতি বাতিল করে ৭ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। এছাড়া নারীদের জন্য কোটাও বাতিল করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সংগীত এবং শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য ২০ শতাংশ এবং অন্যান্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য ৮০ শতাংশ পদ রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিধিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা।
এর আগের বিধিমালা অনুযায়ী- সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নারীদের জন্য ৬০ শতাংশ কোটা ছিল। বাকি ৪০ শতাংশের মধ্যে ২০ শতাংশ পোষ্য এবং ২০ শতাংশ পুরুষ কোটা ছিল।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ বিধিমালা ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ নামে অভিহিত হবে। বিধিমালার অধীনে সরাসরি ও পদোন্নতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ করা যাবে।
বিধিমালার বিশেষ বিধান হিসেবে বলা হয়েছে, অন্য কোনো বিধি বা সরকারি সিদ্ধান্তে যা কিছুই উল্লেখ থাকুক না কেন, শিক্ষক নিয়োগ উপজেলা ও ক্ষেত্রবিশেষে থানাভিত্তিক হবে।
নতুন এ বিধিমালার অধীন সরাসরি নিয়োগযোগ্য ৯৩ শতাংশ পদ মেধাভিত্তিক এবং ৭ শতাংশ কোটা রাখা হবে। ৭ শতাংশ কোটার মধ্যে ৫ শতাংশ পদ বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
এছাড়া ১ শতাংশ পদ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রার্থী এবং ১ শতাংশ পদে শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হবে। তবে কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে।
নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, অবিলম্বে এ বিধিমালা কার্যকর হবে। আর ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ কার্যকর হওয়ার পর আগের বিধিমালা, অর্থাৎ ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯’ রহিত বলে বিবেচিত হবে।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা

তিন দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনরত প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা আজ বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তবে জনদুর্ভোগ এড়াতে শাহবাগ অবরোধ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
বুধবার (২৭ আগস্ট) শিক্ষার্থীদের পক্ষে প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সাকিবুল হক লিপু এই কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, আগামীকাল দেশের সকল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা সব বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
জনদুর্ভোগ হয় এমন কর্মসূচি এড়িয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমাদের ৩ দফা দাবির কোনোটাই পূরণ হয়নি। পলিসি মেকার যারা বসে আছেন তারা কেউ আমাদের আন্দোলনের বিষয় সম্পর্কে কিছুই জানে না। এ সময় চার উপদেষ্টা ও ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটিতে শিক্ষার্থীদের মনোনীত সদস্য যোগ দেবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে, তিন দফা দাবিতে পূর্বঘোষিত ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেওয়া প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার দিকে রওয়ানা হলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়। পরে সন্ধ্যায় প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রেলপথ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নামের আগে প্রকৌশলী লিখতে না দেওয়া, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের কাউকে পদোন্নতি দিয়ে নবম গ্রেডে উন্নীত না করা এবং দশম গ্রেডের চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্নাতক প্রকৌশলীদের সুযোগ দেওয়া।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
বুয়েট শিক্ষার্থীদের ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ আজ

তিন দফা দাবিতে রাজধানীতে আজ ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় শাহবাগ মোড়ে এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাত ৮টায় শাহবাগ থেকে এ কর্মসূচি দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সাকিবুল হক লিপু।
তিনি বলেন, আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে শাহবাগে জমায়েত শুরু হবে। এদিন সারা দেশের সব প্রকৌশল এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো—
১. ইঞ্জিনিয়ারিং ৯ম গ্রেড বা সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে প্রবেশের জন্য সবাইকে নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং ন্যূনতম বিএসসি ডিগ্রিধারী হতে হবে। কোটার মাধ্যমে কোনো পদোন্নতি নয়, এমনকি অন্য নামে সমমান পদ তৈরি করেও পদোন্নতি দেওয়া যাবে না।
২. টেকনিক্যাল ১০ম গ্রেড বা উপসহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদের নিয়োগ পরীক্ষা ডিপ্লোমা ও বিএসসি ডিগ্রিধারী উভয়ের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
৩. ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি ব্যতীত প্রকৌশলী পদবি ব্যবহারকারীদের বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। নন-অ্যাক্রিডেট বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সগুলোকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আইইবি-বিএইটিই অ্যাক্রিডেশনের আওতায় আনতে হবে।
এর আগে, মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) পোনে ৪টার দিকে বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান রোকনকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে এবং তিন দাবিতে শাহবাগ অবরোধ করেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। এর ফলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ইবিতে শহীদ আব্দুল মালেক’র স্মরণে আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ইবি শাখা। শহীদ আব্দুল মালেকের স্মরণে ১৫ আগস্ট ইসলামী শিক্ষা দিবস উপলক্ষে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন তারা।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বরে এই উদ্বোধনী সেশনে অংশগ্রহণ করেন শহীদ জিয়াউর রহমান হল ও শাহ্ আজিজুর রহমান হলের বিতার্কিকেরা।
বিতর্কে ‘একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা ব্যতীত শিক্ষা অধিকার নিশ্চিত সম্ভব নয়’ বিষয়ে পক্ষ ও বিপক্ষ দলের বিতার্কিকেরা তাদের যুক্তিসমূহ তুলে ধরেন।
বিচারক হিসেবে ছিলেন সাবেক টিভি বিতার্কিক মো. খালিদ হাসান, আইইউডিএস এর সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য সাইফুর রহমান ও স্পিকার হিসেবে ছিলেন আইইউডিএস সদস্য-সচিব দিদারুল ইসলাম।
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহা. মাহমুদুল হাসান বলেন, এটা মূলত ইসলামী শিক্ষাদিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে ভিত্তিপ্রস্তর কেমন হওয়া উচিত এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট শহীদ আব্দুল মালেক একটি বক্তব্য রেখেছিল। সেখানে তিনি যুক্তির মাধ্যমে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন যে শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি ইসলাম হওয়া দরকার। যার মাধ্যমে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত একটি ভালো জাতি তৈরি করা সম্ভব হবে। তার যুক্তিপূর্ণ বক্তব্যে সবাই উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। আব্দুল মালেকের বক্তব্যের কাছে যুক্তিতে হেরে যায় বামদল সহ সবাই। পরবর্তীতে ১৫ আগস্ট তাকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি ইটের উপর মাথা রেখে অন্য ইট দিয়ে আঘাত করে মাথা থেতলে হত্যা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, তাকে স্মরণের উদ্দেশ্যে মূলত আজকের এই আয়োজন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন করা অপরিসীম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে জায়গা থেকে শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা কী হবে, ভিত্তি কী হওয়া দরকার সেটা সামনে নিয়ে আসার জন্য এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি।
অর্থসংবাদ/কাফি/সাকিব