জাতীয়
ঈদে টানা ৯ দিনের ছুটি পেলেন সরকারি চাকরিজীবীরা

ঈদের ছুটির পর ৩ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) একদিন অফিস খুলে আবার দুদিনের সাপ্তাহিক ছুটি। তাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদে টানা ছুটির সুযোগ করে দিতে ৩ এপ্রিল নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
এতে এবার ঈদে ২৮ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা নয় দিনের ছুটি পেলেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ৩ এপ্রিল নির্বাহী আদেশের ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে উপস্থিত একজন উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ অনুমোদনের কথা জানান।
এবার আগেই ঈদে টানা পাঁচ দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করে সরকার। ঈদের আগে-পরে মিলছে স্বাধীনতা দিবস, শবে কদর ও সাপ্তাহিক ছুটি। সবমিলিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ এবং এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ যাবে ছুটির মধ্যে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩১ মার্চ (সোমবার) বা ১ এপ্রিল (মঙ্গলবার) মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। তবে ৩১ মার্চ ঈদুল ফিতর ধরে ঈদের ছুটি নির্ধারণ করে রেখেছে সরকার। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ীও ৩১ মার্চ ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
ঈদ উপলক্ষে এবারই প্রথম পাঁচ দিনের ছুটি রাখা হয়। তবে ছুটি মূলত শুরু হচ্ছে ২৬ মার্চ (বুধবার) স্বাধীনতা দিবসের দিন। এরপর ২৭ মার্চ (বৃহস্পতিবার) একদিন অফিস খোলা। ২৮ মার্চ (শুক্রবার) শবে কদরের ছুটি।
এবার ২৯ মার্চ (শনিবার) থেকে শুরু হচ্ছে ঈদুল ফিতরের ছুটি, টানা পাঁচ দিনের ছুটি (২৯, ৩০, ৩১ মার্চ এবং ১ ও ২ এপ্রিল) থাকার কথা ছিল ২ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর মাঝখানে একদিন (৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার) অফিস খোলা রাখার কথা ছিল। এরপর আবার ৪ ও ৫ এপ্রিল (শুক্র ও শনিবার) দুদিনের সাপ্তাহিক ছুটি।
সেই হিসাবে ২৬ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত ১১ দিনের মধ্যে মাত্র দুদিন অফিস খোলা ছিল। তবে ‘নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯’ অনুযায়ী, দুটি ছুটির মাঝখানে নৈমিত্তিক ছুটি নেওয়ার নিয়ম নেই। তাই মাঝখানের কর্মদিবসগুলোতে ছুটি নিয়ে কেউ চাইলেই টানা ছুটি নিতে পারবেন না। মাঝখানে ছুটি নিলে টানা ছুটি হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতিতে ২৮ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৯ দিন ছুটির সুযোগ করে দিতে ৩ এপ্রিলও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন মিলেছে, এখন ৩ এপ্রিল ছুটি ঘোষণা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
গ্রামের বাড়িতে থাকা প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রতিবছরই রেল, সড়ক ও নৌপথে রাজধানী ছাড়েন অসংখ্য মানুষ।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

জাতীয়
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকালে বেইজিংয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান উপদেষ্টার সরকারি ফেসবুক পেজে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টায় বৈঠকের এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
এদিন স্থানীয় দুপুর পৌনে ১২টায় বেইজিংয়েই বিনিয়োগ বিষয়ক এক সম্মেলনে যোগ দেবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের তথ্য জানাতে এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) চীনের ইউনানে বোয়াও এশিয়া বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে বেশ কয়েকটি সাইডলাইন বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এর মধ্যে উল্লেখ ছিল চীনের স্টেট কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রিমিয়ার ডিং জুয়েশিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রিমিয়ার ডিং জুয়েশিয়াং।
এদিন চীনের এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান চেন হুয়াইয়ু’র সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। এতে চীনা কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তরের প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের টেকসই সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অবকাঠামো নির্মাণে চীনের এক্সিম ব্যাংক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব ও বোয়াও ফোরামের চেয়ারম্যান বান কি মুনের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন ড. ইউনূস। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নির্বিঘ্ন উত্তরণে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুনের সমর্থন ও পরামর্শ চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে অন্তর্বর্তী সরকারকে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব। এসব কোরিয়া-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন তিনি।
এদিন ‘বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া বার্ষিক কনফারেন্স ২০২৫’ এ বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া আরও কয়েকটি বৈঠকে যোগ দেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
চারদিনের সফরে বুধবার (২৬ মার্চ) চীনের হাইনান প্রদেশে পৌঁছান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২০ মিনিটে হাইনান থেকে বেইজিং যান তিনি। সফর শেষে আগামী ২৯ মার্চ দেশে ফিরবেন তিনি।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
জাতীয়
২০২৮ সাল পর্যন্ত চীনে শুল্ক-কোটামুক্ত বাজার সুবিধা পাবে বাংলাদেশ

চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডিং জুয়েশিয়াং বলেছেন, চীন ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা দেবে। যা বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান পাওয়ার দুই বছর পর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আলোচনার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) চীন সফররত প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক বৈঠকে এ কথা জানান তিনি। এশিয়ার ডেবোসখ্যাত বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া বার্ষিক সম্মেলনের সাইডলাইনে তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার কথা জানিয়ে ডিং জুয়েশিয়াং বলেন, তারা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দেবে। দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে উভয় দেশ বিনিয়োগ, বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ও জনগণের পারস্পরিক বিনিময় বাড়ানোর ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।
উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং আপনার (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) সফরকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। চীন আশা করে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা দেশের ‘এক-চীন নীতির প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি’ পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, বাংলাদেশ গর্বিত যে এটি দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই) যোগ দিয়েছে।
মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও দাশেরকান্দি পয়োনিষ্কাশন প্রকল্পে চীন অর্থায়ন করবে জানিয়ে চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীন গত বছর বাংলাদেশ থেকে আম আমদানির জন্য একটি প্রটোকল সই করেছে। এ গ্রীষ্মেই চীনে আম রপ্তানি শুরু হবে। যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্য আনতে সহায়ক হবে।
এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপকে উৎসাহিত করতে চীন সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।
চীনের এ সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আজকের বৈঠক বাংলাদেশ-চীন অংশীদারত্বকে আরও গভীর করার আরেকটি মাইলফলক। আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি—বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের এক নতুন যুগের সূচনা করি এবং আমাদের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করি।’
বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি, রেল ও সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা ফওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান এবং বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
জাতীয়
হাইনান থেকে বেইজিংয়ের পথে প্রধান উপদেষ্টা

চীনের হাইনান প্রদেশ থেকে রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টায় বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।
চীনে চারদিনের সরকারি সফরের প্রথম দিনে তিনি বোআও ফোরাম ফর এশিয়ার বার্ষিক সম্মেলনে ভাষণ দেন এবং অন্তত আটটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। যার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
জাতীয়
‘আওয়ামী লিগ’ নামে নিবন্ধন চাওয়া সেই উজ্জ্বলের পরিচয় মিলেছে

নতুন রাজনৈতিক দল ‘আওয়ামী লিগ’ নামে নিবন্ধন চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করা হয়েছে। এর প্রতীক চাওয়া হয়েছে ‘নৌকা’ অথবা ‘ইলিশ’। গত ২৪ মার্চ দলটির নিবন্ধন চেয়ে উজ্জ্বল রায় (২৭) নামের এক ব্যক্তির পরিচয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আবেদন করা হয়। এরপর বিষয়টি গণমাধ্যমে আসলে শুরু হয় আলোচনা। পরিচয় খোঁজা শুরু হয় উজ্জ্বল রায়ের। তিনি নিজেকে দলের প্রধান বলে দাবি করেছেন।
ইসিতে জমা দেওয়া আবেদন ফরমের তথ্য অনুযায়ী, ‘আওয়ামী লিগ’-এর প্রধান দাবি করা উজ্জ্বল রায়ের বাড়ি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলায়। তিনি ওই উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা নরেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে। তার মায়ের নাম পারুল রায়।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উজ্জ্বল রায় ছাড়াও নরেশ চন্দ্রের আরো এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার বড় ছেলে কনক চন্দ্র চাকরিজীবী এবং মেয়ের নাম প্রতীমা রাণী। উজ্জ্বল পার্শ্ববর্তী উপজেলার ফুলবাড়ী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।
‘আওয়ামী লিগ’-এর নিবন্ধন চেয়ে আলোচনায় আসার পর থেকে ‘আত্মগোপনে’ উজ্জ্বল রায়। বাড়িতে বা এলাকায় তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, উজ্জ্বল রায় দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক ভারসম্যহীন।
নিবন্ধন চেয়ে ইসি সচিবের কাছে করা আবেদনে উজ্জ্বল রায় উল্লেখ করেন, দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন হয়েছে গত ২৪ মার্চ, এই কমিটির মেয়াদ শেষ আগামী ২০ এপ্রিল। দলের প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা বঙ্গবন্ধু এভিনিউ। তবে এতে কোনো সড়ক ও বাড়ির নম্বর উল্লেখ নেই।
ঘটনার পর থেকেই উজ্জল রায় পলাতক থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কথা হয় তার বাবা নরেশ চন্দ্র ও মা পারুল রানীর সাথে। তাদের অভিযোগ, উজ্জ্বলকে ফাঁসানো হয়েছে।
নরেশ চন্দ্র বলেন, ‘উজ্জলের নাম ব্যবহার করে কেউ তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। সে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন।’ তবে ঘটনার পর থেকে উজ্জলের আত্মগোপনে থাকার কারণ সম্পর্কে কোনো উত্তর দেননি তিনি।
পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি আব্দুস ছালাম জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশ অবগত নয়।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
জাতীয়
জনগণের আস্থা ফেরাতে সংস্কার করা হচ্ছে: প্রধান উপদেষ্টা

জনগণের আস্থা ফেরাতে সংস্কার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া (বিএফএ) সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। রোহিঙ্গাদের কারণে সামাজিক ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’ এসময় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে এশিয়ার নেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ব দেখছে বাংলাদেশের মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক হয়েছে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবে জনগণের আস্থা ফেরাতে সংস্কারকাজ করা হচ্ছে।
এ সময় জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে বৈশ্বিক যে ক্ষতি হচ্ছে তা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আমাদের সভ্যতা হুমকির মুখে। জলবায়ুর এই প্রভাব রোখে অনুদানভিত্তিক অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস।
গাজায় যা হচ্ছে তা শুধু মুসলিম বা আরব বিশ্বের নয়, এটি মানবতার বিষয় বলেও মন্তব্য করেন ড. ইউনূস।
এদিকে, স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করবেন দেশটির খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মহাপরিচালক কু দোংইউ। এ ছাড়া জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন ও রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রীও সাক্ষাৎ করবেন প্রধান উপদেষ্টার সাথে।
অধ্যাপক ইউনূস বুধবার চার দিনের সরকারি সফরে চীনে পৌঁছেছেন। প্রধান উপদেষ্টাসহ তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী সাউদার্ন এয়ারলাইন্সে একটি বিশেষ ফ্লাইট বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে হাইনানের কিয়োংহাই বোয়াও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম এবং হাইনান প্রদেশের ভাইস গভর্নর বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টাকে অভ্যর্থনা জানান।
অধ্যাপক ইউনূস এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ২৮ মার্চ বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। ২৯ মার্চ অধ্যাপক ইউনূস পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিকেইউ) বক্তৃতা দেবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়টি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করবে।
সফরে প্রধান উপদেষ্টা চীনের হাসপাতাল চেইনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবেন। যাতে তারা যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যবসার সম্ভাবনা অন্বেষণ এবং হাসপাতাল স্থাপনের জন্য উৎসাহিত হয়।
আগামী ২৯ মার্চ প্রধান উপদেষ্টার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
কাফি