জাতীয়
রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতার করবেন প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘ মহাসচিব

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আগামী শুক্রবার (১৪ মার্চ) কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাচ্ছেন। ওই দিন ক্যাম্প পরিদর্শন এবং একাধিক বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় লাখো রোহিঙ্গাকে নিয়ে ইফতার করবেন দুজন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন এর জন্য ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে নানা প্রস্তুতিও।দুজনের এই সফরে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আশার আলো সৃষ্টি হয়েছে।
রোহিঙ্গারা বলছেন, আন্তর্জাতিক মহল রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আছে এবং তারা স্বদেশে ফিরতে পারবেন। এসব দাবি সহজেই বলতে পারবেন দুই জনকে। একই সঙ্গে সম্প্রতি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) খাদ্য সহায়তা কমিয়ে নেয়ার বিষয়েও এটা সমাধান হবে।
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে বলা হয় বিশ্বের সর্ববৃহৎ আশ্রয়শিবির। যেখানে বসবাস করছে ১৩ লাখের বেশি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক। দীর্ঘ ৮ বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। উল্টো গত কয়েক মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয়শিবিরে ঠাঁই নিয়েছেন ৬০ থেকে ৭০ হাজার রোহিঙ্গা। এ অবস্থায় আগামী শুক্রবার কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শনে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। জাতিসংঘ মহাসচিব এর আগেও আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেছেন। তবে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে প্রধান উপদেষ্টার এটিই প্রথম সফর। আশ্রয়শিবিরে তাদের সফর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে অগ্রগতি আসবে মনে করছেন রোহিঙ্গা কমিউনিটির নেতারা।
আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, মিয়ানমার ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দেয়ার পর বাংলাদেশে এসে জাতিসংঘের মহাসচিব আমাদের সঙ্গে কথা বলেছিল। এখন এই মাসের ১৪ তারিখ আবার তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করতে ক্যাম্প আসছেন শুনে খুব খুশি লাগছে। আন্তোনিও গুতেরেসকে একটা কথায় বলব, বাংলাদেশ আমাদের দেশ নয়। এই ক্যাম্পে আর দীর্ঘ সময় থাকতে চাই না। এখন ক্যাম্প জীবনের ৮ বছর চলছে। আমাদের দেশ আছে, রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব হচ্ছে জাতিসংঘের। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে আরাকানে নিরাপদ জোন করে দেন, আমরা স্বদেশে এক্ষুনি চলে যেতে চাই এটাই অনুরোধ করব জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে।
প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘের মহাসচিব আশ্রয়শিবির পরিদর্শনের পাশাপাশি একাধিক বৈঠকে অংশ নিবেন। এরপর সন্ধ্যায় ইফতার করবেন লাখো রোহিঙ্গার সঙ্গে। তাই কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আগামী শুক্রবার (১৪ মার্চ) জাতিসংঘের মহাসচিব ও প্রধান উপদেষ্টা কক্সবাজার আসছেন। আশ্রয়শিবিরে যে কার্যক্রমগুলো হবে তা তত্ত্বাবধান করছেন সেনাবাহিনী। পুলিশ কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ক্যাম্প পর্যন্ত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখছি। কয়েক স্তরের বলয় থাকবে। মূলত এসএসএফ কক্সবাজার চলে এসেছেন, তারা সব বিষয় সমন্বয় করছেন। আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। প্রধান উপদেষ্টার কক্সবাজার শহর কেন্দ্রিক কিছু ভেন্যু রয়েছে, এসব ভেন্যুতেও কয়েক স্তরের নিরাপত্তার বলয় থাকছে।
রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে দুজনের সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আগামী শুক্রবার (১৪ মার্চ) জাতিসংঘের মহাসচিব ও প্রধান উপদেষ্টা আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতার করবেন। এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটতে চলেছে। বাংলাদেশের জন্য এবং রোহিঙ্গাদের জন্যও তো অবশ্যই। এটির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যে বিশ্ব সম্প্রদায় পাশে আছে এবং বাংলাদেশ যে তাদের পাশে রয়েছে এটি প্রমাণিত হচ্ছে। এটি ঐতিহাসিক একটি বড় ঘটনা।
মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উখিয়ার আশ্রয়শিবিরে পৌঁছাবেন। পরিদর্শনের সময় একটি ওয়াচ টাওয়ারে উঠে আশ্রয়শিবিরের বর্তমান চিত্র পর্যবেক্ষণ করবেন। সেখানে আশ্রয়শিবিরের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফ করা হবে। এ ছাড়া জাতিসংঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাসহ (আইওএম) বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও সেবা কার্যক্রমের হালচাল তুলে ধরবেন। বিশেষ করে, খাদ্য সহায়তা কমে আসা এবং খাদ্য সংকট তৈরি হওয়ার বিষয়টি বলা হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিদর্শনকালে জাতিসংঘের মহাসচিব বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১৮) একটি লার্নিং সেন্টার, ইউএনএইচসিআর এবং ডব্লিউএফপির সেবা ও ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে যাবেন। পাশাপাশি পৃথক তিনটি বৈঠকে রোহিঙ্গা কমিউনিটির নেতা, তরুণ ও নারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকেলে কুতুপালং আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-২০ বর্ধিত) হেলিপ্যাডের কাছে একটি সেন্টারে রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক ও নারীদের সঙ্গে কথা বলবেন। সবশেষ তিনি ইফতার করবেন, এটি হবে বিরল ঘটনা। যেখানে ধারণা করা যায়, ১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা একসঙ্গে ইফতার করবেন।
এর আগে ২০১৮ সালের ২ জুলাই নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের দেখতে কক্সবাজারের উখিয়া ক্যাম্পে আসে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশা নিজের চোখে দেখেন তিনি।
আশায় বুক বেঁধেছেন রোহিঙ্গারা
নিজদেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে আশায় বুক বেঁধে আছেন বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা। টেকসই প্রত্যাবাসন, নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার দাবিও জানাবেন আশ্রিত রোহিঙ্গারা।
রোহিঙ্গা নেতারা জানান, আশ্রয়শিবির পরিদর্শনের সময় টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেফ জোন (নিরাপদ অঞ্চল) প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের মহাসচিবের হস্তক্ষেপ চাইবেন রোহিঙ্গারা। রাখাইন রাজ্যে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) ও সরকারি বাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের বিবরণও তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্যসহায়তা সাড়ে ১২ ডলার থেকে কমিয়ে ৬ ডলারে নিয়ে আসার প্রভাব, তহবিল সংকটের কারণে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়া, স্বাস্থ্যসেবা থেকে রোহিঙ্গাদের বঞ্চিত হওয়ার কথাও তুলে ধরা হবে। আশ্রয়শিবিরে সাধারণ রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানাবেন রোহিঙ্গারা।
উখিয়ার ৪ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা হোসেন জোহান বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ক্যাম্পে আসবে শুনে খুবই খুশি লাগছে। তাকে সব দুঃখ-কষ্টের কথা শোনাতে পারব এটার জন্য আরও বেশি খুশি লাগছে। আর ডবিøউএফপি আমাদেরকে খাদ্য কমিয়ে দিচ্ছে এটা বলতে পারব।
বর্ধিত ৪ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, আন্তোনিও গুতেরেসকে আমরা বুঝাবো, দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদেরকে নিরাপত্তা দিয়ে যেন রাখাইনে ফেরত পাঠায়। ফেরত পাঠানোর ক্ষমতা জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে রয়েছে। কারণ আমরা জাতিসংঘের অধীনে রয়েছি।
লম্বাশিয়া ১ নম্বর ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মো. তৈয়ব বলেন, আমাদের দেশে আমরা ফিরে যেতে চাই। ২০১৭ সালে আমরা যারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছি সবারই দেশে ধন-সম্পত্তি রয়েছে। এখন জাতিসংঘ রাখাইনে নিরাপত্তা দিলে এক্ষুনি স্বদেশে চলে যেতে রাজি। কারণ এটা আমাদের দেশ নয়।
আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আশ্রয়শিবিরে আসার খবরে সাধারণ রোহিঙ্গারা খুবই উৎফুল্ল। বৈঠকে আমরা মহাসচিবের কাছে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে টেকসই প্রত্যাবাসন এবং আরাকান রাজ্যে সেফ জোন প্রতিষ্ঠার দাবি জানাব। খাদ্যসহায়তায় কাটছাঁট করার ফলে শরণার্থীদের জীবনে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা-ও তুলে ধরা হবে।

জাতীয়
১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই নির্বাচন হবে: প্রেস সচিব

আগামী বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শনিবার (৩০ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার বাইরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
শফিকুল আলম বলেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপারে সরকার বদ্ধপরিকর। কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র নির্বাচন পেছাতে পারবে না।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে রোডম্যাপও ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির রোডম্যাপ অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এ রোডম্যাপ ঘোষণ করেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন ও দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন চূড়ান্ত করাসহ ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি প্রাধান্য দিয়ে রোডম্যাপ ঘোষণা করে ইসি।
জাতীয়
জরুরি বৈঠকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

রাজধানীর বিজয়নগরে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এক জরুরি বৈঠকে বসেছেন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঘটনার সময় পুলিশের পাশাপাশি সেনা সদস্যদের সামনেই লাল পোলো-শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে গণঅধিকার পরিষদের ছাত্রনেতা সম্রাটকে এলোপাতাড়ি লাঠিপেটা করতে দেখা যায়। তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য দাবি করলেও ডিএমপি এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। বিষয়টি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক চলছে। ওই সিভিল পোশাকধারী ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে কি না বা তার পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে কি না, এ মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্ত চলছে।”
এর আগে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ করে। এতে নুরুল হক নুর, দলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় নুরকে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার পরপরই বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা বলেছে, এটি বিরোধী মত দমনের অপচেষ্টা এবং ভয় দেখানোর রাজনৈতিক কৌশল।
জাতীয়
নুরের চিকিৎসার খোঁজ নিলেন প্রধান উপদেষ্টা, সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুরকে ফোন করে খোঁজ নেন তিনি। এ সময় গতকাল রাতের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধান উপদেষ্টা।
গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ফোন করে নুরুল হক নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। দুপুর ১টায় তিনি ফোন করেন। এ সময় নুরুল হক নুর প্রধান উপদেষ্টাকে গতকালের ঘটনার বিস্তারিত জানান। প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন, এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।
এরআগে রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে আল রাজী টাওয়ারের সামনে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের হামলায় আহত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। ওই ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো বিবৃতির মাধ্যমে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
জাতীয়
নুরের ওপর হামলা সুগভীর ষড়যন্ত্রের অংশ: অ্যাটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুরের ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং এটি একটি সুগভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের অংশ।
শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে ঝিনাইদহে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, নুরের ওপর হামলা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। জাতীয় পার্টি ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত মানুষের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করেছে। তারা জুলাই বিপ্লবে আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করেছিল।
তিনি আরও বলেন, এবারও তারা তাদের পুরোনো ইতিহাস উন্মোচন করেছে। তাই নিষিদ্ধ ঘোষণার যে দাবি উঠেছে, তা আইনগতভাবে যাচাই-বাছাই করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে, সকাল ১০টায় ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের পাশে টেলিভিশন সেন্টার পাড়ায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। পরে শহরের সরকারি কেশবচন্দ্র (কেসি) মহাবিদ্যালয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আবু বকর সিদ্দিকী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর ও গণঅধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বক্তব্য রাখেন।
জাতীয়
সীতাকুণ্ডে অস্ত্রের কারখানার সন্ধান, আটক ৪

সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নে ছিন্নমূল এলাকায় দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
শনিবার (৩০ আগস্ট) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী বিশেষ অভিযান চালিয়ে কারখানা থেকে ৪ জন সন্ত্রাসীকে আটক করে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেই কারখানা থেকে ৬টি দেশীয় অস্ত্র, ৩৫ রাউন্ড খালি কার্তুজ, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, একটি চাইনিজ কুড়াল, ২০টি ছুরি, চার্জারসহ ২টি ওয়াকিটকি, ১টি মেগাফোন, ৪টি প্যারাসুট ফ্লেয়ার এবং অন্যান্য অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদি ও যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
আটকদের থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং সন্ত্রাস দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। খাগড়াছড়ির গুইমারা রিজিয়নের অধীন সিন্দুকছড়ি জোন এই অভিযান চালিয়েছে।