রাজনীতি
আ. লীগের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

আওয়ামী লীগের দুদিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এর মধ্যে রয়েছে- আগামীকাল রোববার (৪ আগস্ট) রাজধানীর ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে এবং জেলা ও মহানগরে জমায়েত। পরদিন সোমবার বিকেল ৩টা থেকে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে থেকে বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্ট নিহত এবং সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহতদের স্মরণে শোক মিছিল।
শনিবার (৩ আগস্ট) ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, একদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অন্যদিকে আমরা কোনো রকম মুখোমুখি অবস্থানে জড়াতে চাই না। সে কারণে সংঘাত হতে পারে এ ধরনের প্রোগ্রাম আমরা এড়িয়ে চলেছি। গতকাল (শুক্রবার) এবং আজও (শনিবার) আমাদের নির্ধারিত কর্মসূচি ছিল।
আওয়ামী লীগের নতুন কর্মসূচির কথা জানিয়ে কাদের বলেন, রোববার ঢাকা সিটির সব ওয়ার্ডে জমায়েত এবং বাংলাদেশের সব জেলা ও মহানগরীতে জমায়েত। ৫ আগস্ট (সোমবার) বিকেল ৩টায় আমরা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে থেকে বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত শোক মিছিল করবো।
সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতির অভিভাবক। এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তিনি বসতে চান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংঘাত এড়াতে পক্ষ-বিপক্ষ হতে পারে, পাল্টাপাল্টি হতে পারে এমন কর্মসূচি এড়িয়ে চলছি। বিবেক নয়, আমরা ঐক্যে বিশ্বাসী। যারা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও প্রগতিতে বিশ্বাস করেন, তাদের সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস আমরা চাই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে দেশের অর্জিত গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও অগ্রগতি যারা বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের প্রতিহত করতে আমরা মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সবার সম্মিলিত সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি।
কাদের বলেন, এখানে আমরা একটা বিষয় উল্লেখ করতে চাই। অবুঝ শিশুরা কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় পড়ে না। অবুঝ শিশুর তাজা প্রাণ ঝড়িয়ে আমাদের সরকারি দলের কোনো লাভ নেই। লাভ তাদের যারা এ শিশুর লাশ থেকে ফায়দা লুটতে চায়। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। তারপরও আমরা ইউনিসেফকে বলবো, অনুরোধ করবো যে ৩২ জন শিশু হত্যার কথা তারা বলছেন, আমরা সেই শিশুদের নাম-ঠিকানা জানতে চাই। এটা পেলে ব্যবস্থা নেবো। সত্য খুঁজে বের করুন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার। এ দেশের মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারই ফিরিয়ে এনেছে। আজ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের অপচেষ্টা চালাচ্ছে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির প্রতিভূ বিএনপি-জামায়াত। তারা বারবার জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত এবং রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ। তাই যে কোনো আন্দোলন দেখলে সেটাকে সরকারবিরোধী রূপ দিতে উন্মত্ত হয়ে ওঠে। এখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ওপর ভর করে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা করছে।
বিএনপি-জামায়াত লাশের রাজনীতি করছে দাবি করে কাদের বলেন, গত শুক্রবার তাদের ষড়যন্ত্র ও উসকানির মাধ্যমে ছাত্রদল ও শিবিরের ক্যাডার বাহিনী সহিংসতা করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা করছে। ফলে দুটো তাজা প্রাণ ঝরে গেলো। পুলিশ বাহিনীর সদস্যসহ অনেকেই আহত। এছাড়াও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করেছে। পুলিশ সদস্য হত্যার দায় কার, তা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে জানতে চান কাদের।
শুক্রবার দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে সহিংসতা হয়েছে তার সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জড়িত নয় উল্লেখ করে কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছেন। আমরা শিক্ষার্থীদের বলতে চাই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন গুজব ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। দেশবিরোধী একটা মহল চলমান সংকট জিইয়ে রেখে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, এরই মধ্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বেহাত হয়ে গেছে। চলে গেছে তৃতীয় পক্ষের হাতে, যারা বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে এবং দেশকে খাদের কিনারায় নিয়ে যেতে চায়। এ অশুভ শক্তির অশুভ তৎপরতা আমরা সফল হতে দিতে পারি না। আমাদের মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি কমিটমেন্ট শতভাগ। আমরা শিক্ষার্থীদের নিকট দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি। তারা আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন। দেশটি আমাদের। কোনো পক্ষকে বাদ দিয়ে নয়, বরং সবার সম্মিলিত প্রয়াসে এগিয়ে যাবে আমাদের এ বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাদের বলেন, আমরা অফিসিয়ালি সেটা বলিনি। আমাদের যোগাযোগের একটা মাধ্যম তো আছে। যখন যোগাযোগটা হবে, তখন আপনারা দেখতে পাবেন, জানতে পাবেন। এখানে কোনো রাখঢাকের বিষয় নেই। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন আলোচনার দরজা খোলা। কাজেই বিভিন্নভাবে যোগাযোগ হতে পারে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যেখানে বলছেন তার দরজা খোলা, তিনি আলোচনা করবেন। তাহলে নিচের দিকে আর কাউকে দায়িত্ব দেওয়া বা না দেওয়ার কোনো ব্যাপার নয়। আমাদের যোগাযোগের দরজা খোলা।
তারা আলোচনা না করলে আওয়ামী লীগ কী করবে- এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, আমি আমার পজিটিভ বিষয়টা বললাম। নেগেটিভে যাবো কেন? দরজা খোলা রাখছি।
বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা হয়েছে, এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটতে পারে কি না, ঘটলে আওয়ামী লীগ কী করবে– জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী বলেন, আইনগত ব্যবস্থা নেবো।
তদন্তে সহযোগিতার জন্য জাতিসংঘের কাছে সরকার আবেদন করেছে কি না– জানতে চাইলে কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী এটা তার বক্তব্যে বারবার উল্লেখ করেছেন। একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী বলার পর…। জাতিসংঘ একটা প্রস্তাব দিয়েছে। এটা তো চিঠি দিয়ে বলেনি। আমরাও সেটাতে সায় দিয়েছি।
রোববার থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সর্বাত্মক অসহযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের কর্মসূচি বলে দিয়েছি। এজন্য আমরা জমায়েত কর্মসূচি দিয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতি
চীনে এনসিপির ‘রিমেম্বারিং আওয়ার জুলাই হিরোস’ শীর্ষক অনুষ্ঠান

চীনে “রিমেম্বারিং আওয়ার জুলাই হিরোস” শীর্ষক একটি বিশেষ স্মরণ ও আলোচনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানে জুলাই মাসের শহীদদের স্মরণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ডায়াস্পোরা এলায়েন্স-চীনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি চীনের বেইজিংয়ে স্থানীয় একটি হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদা সারওয়ার নিভা, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম এবং যুগ্ম সদস্য সচিব তাহসিন রিয়াজ উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা গণঅভ্যুত্থানকে সফল করতে প্রবাসীদের অসামান্য ভূমিকার বিশেষভাবে প্রশংসা করেন। দেশের ক্রান্তিকালে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স শাটডাউন কর্মসূচির ভূমিকার কথা স্মরণ করেন এবং জুলাই মাসের শহীদ ও আহতদের অম্লান আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে প্রবাসীদেরকে দেশ পুনর্গঠনে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় জুলাই মাসের বীরত্বগাথা নিয়ে তৈরি একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন এবং ফুল দিয়ে অতিথিদের বরণ করার মধ্য দিয়ে। তাছাড়া, অনুষ্ঠানের শেষভাগে প্রবাসীদের সাথে প্রশ্নোত্তর পর্ব, জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ প্রার্থনা, সম্মাননা স্মারক প্রদান এবং ডিনারের আয়োজন করা হয়।
এনসিপি ডায়াস্পোরা এলায়েন্স – চীন এর চিফ কো-অর্ডিনেটর সাদ্দাম হোসাইন, সদস্য মো: শাওন পারভেজ, মো: আরিফ সালেহ তাসিন, খন্দকার রিয়াজুল জান্নাত, মো: তৌহিদুল ইসলাম, নুহু ইবনে শহিদসহ অন্যান্য সদস্যদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং সংগঠনের সদস্যদের অর্থায়নে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে এনসিপি ডায়াস্পোরা এলায়েন্স – চীনের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্টজন ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনলাইন ও সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।
রাজনীতি
পিআর ছাড়া নির্বাচন হলে বিপর্যয় সৃষ্টি হবে: ড. হেলাল উদ্দিন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে পিআর পদ্ধতি ছাড়া নির্দিষ্ট একটি দলকে প্রাধান্য দিয়ে যদি নির্বাচন পরিচালনা করে তাহলে দেশে বিপর্যায় সৃষ্টি হবে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর একটি অডিটোরিয়ামে ভয়েস অব সিভিল রাইটস ফাউন্ডেশন আয়োজিত সংস্কার, বিচার, নির্বাচন ও মানবাধিকার শীর্ষক আয়োজিত গোল টেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের কর্মকান্ডে জনমনে সংশয় তৈরি হচ্ছে। এই সংশয় দূর করতে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি দলের ভাষায় কথা বলছেন এবং সাংবিধানিক সংকটের দোহাই দিচ্ছে।
এখন জুলাই যোদ্ধাদের খাটো করে কথা বলা হচ্ছে। তাদের ওপর প্রশাসন কর্তৃক হামলা করা হচ্ছে। যে কারণে মানুষ আজ বিরক্তি হয়ে গেছে সরকারের ওপর।
মনে রাখবেন যারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সাংবিধানিক সংকটে ভয় দেখাচ্ছে, তারা ক্ষমতায় গেলে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অসাংবিধান সরকার হিসেবে অবৈধ ঘোষণা করবে। এরফলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক যাবতীয় সংস্কার প্রস্তাব অনায়েসে বাতিল হয়ে যাবে। তখন জুলাই চেতনার অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই সুযোগে ক্ষমতাসীনরা নতুন রূপে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েম করবে। তাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাংবিধানিক বৈধতার প্রয়োজনে এবং নতুন বাংলাদেশ গড়তে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে।
একটি জরিপ মতে দেশের ৭১ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচন চায়, একটি মাত্র দল ব্যতীত। তাহলে সরকার কার স্বার্থে পিআর পদ্ধতি এড়িয়ে গিয়ে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে, সেটি সরকারকে জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি’ রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে দিতে না পারলে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করতে হবে।
সরকার ফ্যাসিবাদের উত্থানে সহযোগিতা না হয়ে অনতিবিলম্বে ‘পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি’ দিতে গণভোটের আয়োজন করতেই হবে। নতুবা জনগণ রাজপথে নেমে আসলে এর সকল দায় সরকারকে বহন করতে হবে।
বৈঠকে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,
ঢাকা মহানগরীর সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও পল্টন থানা জামায়াতের আমীর শাহীন আহমেদ, জুলাই বিপবের অগ্রসৈনিক ও সাবেক ছাত্র নেতা মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার সেক্রেটারি মোঃ একরাম উল্লাহ, আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম।
বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন, ভয়েস অব সিভিল রাইটস ফোরামের চেয়ারম্যান ডা: মারুফ শাহরিয়ার।
রাজনীতি
আহত নুরকে দেখতে হাসপাতালে বিএনপি নেতা ড. মঈন খান

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিচার্জে গুরুতর আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিউতে ভর্তি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে দেখতে গেলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।
শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে নুরের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন এবং তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
পরে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ২৪-এর আগস্টের পূর্ব থেকে বিএনপিসহ দেশের ৬৩ রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে রাজপথে ছিলাম। সে আন্দোলনে নুরুল হক নুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশে গায়ের জোরে কারও মুখ বন্ধ করা যাবে না। বাংলাদেশে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। আমরা আগামীতে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আজকে নয়, হাজার বছরের ইতিহাস দেখলে দেখা যাবে এ দেশের মানুষ কখনও অত্যাচার-জুলুম সহ্য করে নাই। তারা প্রতিবাদ করেছে এবং স্বাধীনতার জন্য বারংবার যুদ্ধ করেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, আমাদেরকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী হতে হবে। সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছার স্পষ্ট প্রতিফলন হতে হবে। তারা নির্বাচনে তাদের মতামত দেবে এবং সেই মতামতের মাধ্যমে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে তারাই এ দেশ পরিচালনা করবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহ স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. পারভেজ রেজা কাকন এবং গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
রাজনীতি
আল্লাহ ছাড়া কেউ এই নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না: সালাহউদ্দিন

নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। স্বয়ং আল্লাহ ছাড়া এই নির্বাচন আর কেউ ঠেকাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে নেত্রকোনার মোক্তারপাড়া মাঠে আয়োজিত জেলা বিএনপির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চলছেই। তারপরও আগামী রমজানের আগেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে। আর নির্বাচনে অতন্দ্র পাহারা দেবে এই দেশের জনগণ।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন নির্বাচনমুখী। কেউ নির্বাচনের বিরোধিতা করলে বাংলাদেশের জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আমরা সাংবিধানিক সংস্কার করছি। রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করছি। একটি লক্ষ্য নিয়েই সংস্কার করছি, যাতে এই দেশে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদের জন্ম না হয়।
আগামী সংসদীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সংস্কার বাস্তবায়ন করবে জানিয়ে এই বিএনপি নেতা বলেন, যে সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন নেই তা বর্তমান সরকার এখনই বাস্তবায়ন করতে পারে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ আলমগীর, জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল আলম, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, সম্মেলনে নেত্রকোণার ১০ উপজেলা ও ৫টি পৌরসভা মিলিয়ে মোট ১৫টি ইউনিটের প্রতিটি থেকে ১০১ জন করে সর্বমোট ১ হাজার ৫১৫ জন কাউন্সিলর অংশ নিচ্ছেন। তারা প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচন করবেন।
রাজনীতি
নুরের ওপর হামলার ঘটনায় তারেক রহমানের তীব্র নিন্দা, তদন্তের আহ্বান

নুরুল হক নুরের ওপর হামলা এবং কাকরাইলে সংঘটিত সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই সঙ্গে ঘটনার আইনানুগ তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্ট এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রপন্থী অংশীদারদের, যার মধ্যে বিএনপি এবং তার মিত্ররাও রয়েছে, তাদের অবশ্যই সংযম ও সহনশীলতা বজায় রাখতে হবে। গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা অবশ্যই জয়ী হতে হবে। দেশকে অবশ্যই জনতার শাসন এবং বর্তমান অস্থিরতার শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
যদি আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে আমাদের জনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সতর্কতা বজায় রাখা উচিত, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা উচিত এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল দেশ গড়ে তোলা উচিত। কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক পথে জনগণকে ক্ষমতায়িত করার এবং সকলের জন্য ন্যায়বিচার, সাম্য এবং মর্যাদা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে সফল হতে পারি। আমি নুরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি এবং ঘটনার আইনানুগ তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।
কাফি