অর্থনীতি
বাণিজ্য ঘাটতি ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

ডলার সংকটের কারণে আমদানিতে বিভিন্ন শর্ত দেওয়া আছে। এর প্রভাবে আমদানি কমেছে। তবে একই সময় রপ্তানি আয়ও কমে গেছে। আশানুরূপ হারে বাড়েনি রেমিট্যান্স। যার কারণে এখনো বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হচ্ছে। বাণিজ্য ঘাটতির সঙ্গে চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়ছে। সঙ্গে সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনেরও বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তবে রপ্তানি আয় সমন্বয় হওয়ায় আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ( ২৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-মে পর্যন্ত সময়ের বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যের (ব্যাল্যান্স অব পেমেন্ট) পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-মে মাস পর্যন্ত সময়ে তিন হাজার ৭৩৪ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এ সময় আমদানি হয়েছে ৫ হাজার ৭৫৬ কোটি ডলারের পণ্য। এতে অর্থবছরের ১১ মাসে ২ হাজার ২২ কোটি ( ২০.২২ বিলিয়ন) ডলারের বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি এক ডলার ১১৮ টাকা ধরে) এর পরিমাণ ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা। যদিও তার আগের ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময় বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৬ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার।
ডলার সংকট কাটাতে নানা উপায়ে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়েছে সরকার। একই সঙ্গে তুলনামূলক কম প্রয়োজন বা বিলাসী পণ্যের এলসি খোলার সময় শতভাগ পর্যন্ত নগদ মার্জিনের শর্ত দেওয়া আছে। এসব কারণে আমদানি কমেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জানানো হয়, আগে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের ফারাক ছিল, যা এখন সমন্বয় করা হয়েছে। এতে করে আর্থিক হিসাবে এই উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। গত অর্থবছরের ১১ মাসে বৈদেশিক বাণিজ্যের আর্থিক হিসাবে ২০৮ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত আছে, যা তার আগের অর্থবছরের একই সময়ের এ উদ্বৃত্ত ছিল ৫৫১ কোটি ডলার। তবে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
চলতি হিসাবের ভারসাম্য (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স)
কোনো দেশের চলতি হিসাব মূলত বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য এবং মানুষের আয় কেন্দ্রিক আয়-ব্যয়ের হিসাব। চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়। সেই হিসাবে উন্নয়নশীল দেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা ভালো।
সবশেষ তথ্য বলছে, গত অর্থ বছরের ১১ মাসে চলতি হিসাবে ঘাটতি ৫৯৮ কোটি ডলার। তার আগের অর্থবছরে একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ১ হাজার ২০২ কোটি ডলার।
ওভার অল ব্যাল্যান্স
সামগ্রিক লেনদেনে (ওভারঅল ব্যাল্যান্স) বড় ঘাটতিতে আছে বাংলাদেশ। জুলাই-মে মাসে সামগ্রিক লেনদেনের (ঋণাত্মক) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৮৮ কোটি ডলার। এই সূচকটি আগের বছর একই সময় ঘাটতি ছিল ৮৮০ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি বেড়ে যাওয়া মানে বিভিন্ন উৎস থেকে দেশে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আসছে, তার চেয়ে বেশি পরিশোধ করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিশোধ ঝুঁকি এড়াতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রচুর পরিমাণ ডলার বিক্রি করছে।
রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি
গত অর্থবছর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ১ হাজার ২৬৯ কোটি ডলার বা ১২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ হাজার ৩৫৮ কোটি ডলার (১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন) বিক্রি করা হয়েছিল। আর ২০২১-২২ অর্থবছরে বিক্রি হয় ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন বা ৭৬২ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে তিন অর্থবছরে রিজার্ভ থেকে ৩৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দুই হাজার ১৩৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। আগের বছর একই সময় পাঠিয়েছিলেন ১ হাজার ৯৪১ কোটি ডলার।
বিদেশি বিনিয়োগ
দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কমেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-মে বাংলাদেশ যেখানে ৪০৭ কোটি ডলারের এফডিআই পেয়েছিল। গেল অর্থবছরের একই সময় সেখানে এসেছে ৩৮১ কোটি ডলার। বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে সরাসরি মোট যে বিদেশি বিনিয়োগ আসে তা থেকে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মুনাফার অর্থ নিয়ে যাওয়ার পর যেটা অবশিষ্ট থাকে সেটাকে নেট এফডিআই বলা হয়।
আলোচ্য অর্থবছরে নেট বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। এই সূচকটি আগের বছরের চেয়ে দশমিক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১৫৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার হয়েছে। আগের অর্থবছরে নেট বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ১৫০ কোটি ২০ লাখ ডলার।
একই সঙ্গে আলোচিত সময়ে দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) নেতিবাচক অবস্থা অব্যাহত আছে। গত অর্থবছরের ১১ মাসে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (নেট) যা এসেছিল তার চেয়ে ১১ কোটি ১০ লাখ ডলার চলে গেছে। তার আগের অর্থবছরের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ঋণাত্মক ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

অর্থনীতি
ছুটি শেষে বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু

ঈদ উপলক্ষে টানা আট দিনের ছুটি শেষে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। শনিবার (৫ এপ্রিল) সকালে থেকে দেশের অন্যতম এই স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়।
ছুটি চলাকালীন ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক ছিল।
বেনাপোল স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আলহাজ মহসিন মিলন জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২৮ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের বেনাপোল ও ভারতের পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। আজ দুপুর থেকেই শুরু হয় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। ফলে বন্দর এলাকায় দেখা দিয়েছে যানজট। বেনাপোলের মতোই পেট্রাপোল বন্দরেও যানজট রয়েছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি ইব্রাহিম আহম্মেদ জানান, ঈদে টানা আটদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক ছিল। ভারত-বাংলাদেশ ভিসা কার্যক্রম সীমিত থাকায় এ সময় যাত্রীদের চাপ ছিল না। যাতায়াতকৃত যাত্রীদের যেন দুর্ভোগ পোহাতে না হয় সেজন্য ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছিল।
আমদানি-রপ্তানি শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার। তিনি বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২৮ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত এই স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ ছিল। আজ সকাল থেকে পুনরায় এ স্থলবন্দর দিয়ে শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
অর্থনীতি
ঈদের ছুটি শেষে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু

ঈদের কেন্দ্রে করে আট দিন বন্ধ থাকার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শুরু হয়েছে। ছুটি শেষে বন্দরের ব্যবসায়ী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদচারণায় কর্মচাঞ্চল আখাউড়া স্থলবন্দর।
শনিবার (৫ এপ্রিল) সকালে আখাউড়া স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, সকাল ১০টার দিকে ৫টি গাড়িতে করে প্রায় ২৫ মেট্রিক টন মাছ রপ্তানির মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়েছে। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য কার্যক্রম আট দিন বন্ধ ছিল। আজ সকালে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে।
আখাউড়া স্থলবন্দরের মাছ রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক মিয়া জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২৮ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত টানা আট দিন বন্দরে ব্যবসায়ী কার্যক্রম বন্ধ ছিল। শনিবার সকাল থেকে সব ধরনের বাণিজ্য কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে।
আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে টানা আট দিন দুই দেশের বাণিজ্য বন্ধ থাকে। তবে ভারত-বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক ছিল।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
অর্থনীতি
কমেছে মাংসের দাম, স্বস্তি নেই মাছ-সবজির বাজারে

ঈদুল আজহার পর এখনো জমে ওঠেনি রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো। বেশির ভাগ দোকানপাট এখনো খোলেনি। আজ সকালে কাওরান বাজারে গিয়ে দেখা যায় নেই সেই চিরচেনা ভিড়। তবে শুধু কাওরান বাজারই নয়, রাজধানীর শান্তিনগর, নিউ মার্কেটসহ অন্য কাঁচাবাজারগুলোর প্রায় একই চিত্র।
হঠাৎ বেড়েছে সবজির বাজার। বাড়তি মাছের দামও। পরিস্থিতি এমন- এক কেজি পাঙাশ কিনতে ক্রেতার ২০০-২২০ টাকা গুনতে হচ্ছে, যা ঈদের আগেও ১৮০-১৯০ টাকা ছিল। তবে কিছুটা কমেছে মুরগি ও গরুর মাংসের দাম।
শনিবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর কাওরান বাজার, নিউ মার্কেট ও শান্তিনগর বাজারে খোঁজ নিয়ে ঈদের পরের নিত্যপণ্যের বাজারের এ চিত্র দেখা যায়।
ব্যবসায়ীরা বলেছেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরের বন্ধের কারণে অনেক মানুষ এখনো রাজধানীতে ফেরেননি। আবার অনেক ব্যবসায়ীও ঈদ করতে গ্রামের বাড়ি গেছেন। সবমিলিয়ে বাজারে কেনাবেচা কম। তবে ঈদের ছুটি শেষে এ সপ্তাহেই বাজার জমে উঠবে বলে তারা আশা করছেন।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির সরবরাহ কিছুটা কম। তাই দাম তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে কাঁচা মরিচ, পেঁপে, টমেটোর দাম বেড়েছে। ঈদের আগে প্রতি কেজি টমেটো ২০ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও শনিবার তা ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। কাঁচামরিচের কেজিতেও ২০ টাকা বেড়ে তা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদের পর চাহিদা কমলেও এখনো লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা।
প্রতিটি লাউ আকার ভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া, পেঁপে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, দেশি শসার কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাওরান বাজারের সবজি বিক্রেতা লোকমান হোসেন জানান, ঈদের পর বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কম। কিন্তু একই সঙ্গে বাজারে সবজির সরবরাহ কমেছে। ফলে দামটা একটু বাড়তি। তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়লে দামটাও কমে আসবে বলে আশা করছি।
বাজারে সবজির দাম কিছুটা বাড়লেও মুরগি ও গরুর মাংসের দাম কমেছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা ঈদের আগে ২৪০ টাকায় উঠেছিল। ব্রয়লারের পাশাপাশি সোনালি মুরগির দামও কমেছে। কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা কমে তা ২৮০ থেকে ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে চাহিদা বাড়ায় গরুর মাংসের দাম বাড়লেও এখন তা কমেছে। রাজধানীর খুচরাবাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ ঈদের আগে চাঁদ রাতে প্রতি কেজি গরুর মাংস রাজধানীর কোনো কোনো বাজারে ৮৫০ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে।
কাওরান বাজারের মাংস বিক্রেতা জিল্লুর রহমান জানান, বাজারে এখন মুরগির চাহিদা নেই বললেই চলে। যে কারণে পাইকারি বাজারে দাম কিছুটা কমেছে। কম দামে আনায় আমরা খুচরা বিক্রেতারাও কম দামেই বিক্রি করছি। মনে হচ্ছে, দু-একদিনে দাম আরও কমে আসবে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের ছুটির কারণে রাজধানীর বাজারে চাষের মাছের সরবরাহ কমায় এই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাছের মধ্যে প্রতি কেজি পাঙাশ ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা, শিং ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, কই ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই, কাতল আকার ভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিংড়ি ৬৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, কোরাল ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, ট্যাংরা ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা, শোল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব মাছ ঈদের আগের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন।
কাফি
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
অর্থনীতি
আইএমএফের প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছে আজ

ঋণ কর্মসূচির আওতায় ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্ত পর্যালোচনা করতে আজ ঢাকায় আসছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দল।
সফরের দ্বিতীয় দিন রোববার (৬ এপ্রিল) সকালে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করবে প্রতিনিধিদলটি।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্ত পালনের অগ্রগতি পর্যালোচনায় আইএমএফের একটি দল আজ ঢাকায় আসছে। দলটি ৬ এপ্রিল থেকে টানা দুই সপ্তাহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে।
এ সফরে আইএমএফের দলটির সঙ্গে অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠক শেষে ১৭ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করবে সফররত আইএমএফের দল। তবে সংবাদ সম্মেলনের আগে দলটি ১৭ এপ্রিল অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে আরও একটি বৈঠক করবে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি ঋণ কর্মসূচি চালু হওয়ার পর আইএমএফ থেকে তিন কিস্তিতে ২৩১ কোটি ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। বাকি আছে ঋণের ২৩৯ কোটি ডলার। বিপত্তি দেখা দেয় চতুর্থ কিস্তির অর্থছাড়ের আগে। যদিও সরকার আশা করছে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ একসঙ্গে পাওয়া যাবে আগামী জুনে।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
অর্থনীতি
ভারত থেকে এলো ১০ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন চাল

আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় (প্যাকেজ-৮) ভারত থেকে ১০ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল নিয়ে এমভি এইচটি ইউনাইট জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
আজ বৃহস্পতিবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় ভারত থেকে মোট ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি প্যাকেজে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। ইতোমধ্যে চুক্তি অনুসারে ৩ লাখ ৬ হাজার ৭৬৯ মেট্রিক টন চাল দেশে পৌঁছেছে।
জাহাজে রক্ষিত চালের নমুনা পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং চাল খালাসের কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।