আন্তর্জাতিক
প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেল ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি

করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশই পিছিয়ে আছে। বিশেষ করে শীর্ষ অর্থনীতিগুলো মূল্যস্ফীতি ও সুদহারের গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খাচ্ছে। একই সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথতা নানান ধরনের আশঙ্কা তৈরি করেছে। জাপান ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশও মন্দার কবলে পড়েছে। সেই সময় জিডিপি পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেল ভারত। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের (এনএসও) দেয়া তথ্য অনুসারে, মার্চে শেষ হওয়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। খবর দ্য হিন্দু ও মিন্ট।
এনএসওর তথ্যানুযায়ী, মার্চে শেষ হওয়া ভারতের চতুর্থ প্রান্তিকে অর্থনীতি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ সম্প্রসারণ হয়েছে। ফলে ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে অর্থনীতির ৭ শতাংশ সম্প্রসারণ ঘটে।
অবশ্য সর্বশেষ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) চেয়ে চতুর্থ প্রান্তিকে অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ কমেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। এর আগের দুই প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ২ ও ৮ দশমিক ১ শতাংশ। তবে ২০২৩ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে জিডিপি ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ প্রবৃদ্ধি ভারতীয় অর্থনীতিকে ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের আকারের দিকে নিয়ে গেছে, যা পরবর্তী কয়েক বছরে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার লক্ষ্য অর্জনের মঞ্চ প্রস্তুত করছে।
সরকারের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থিরমূল্যে জিডিপির প্রাক্কলন ছিল ১৭৩ দশমিক ৮২ লাখ কোটি রুপি। আগের অর্থবছরে (২০২২-২৩) সংশোধিত প্রাক্কলন ছিল ১৬০ দশমিক ৭১ লাখ কোটি রুপি। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৭ শতাংশের বিপরীতে ২০২৩-২৪ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতি সমন্বয় না করলে চলতি মূল্যে সর্বশেষ অর্থবছরে প্রাক্কলিত জিডিপি ২৯৫ দশমিক ৩৬ লাখ কোটি রুপি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ২৬৯ দশমিক ৫০ লাখ কোটি রুপি। এ হিসাবে মূল্যস্ফীতির সমন্বয় বাদ দিলে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ঘটেছে বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে।
এর আগে এনএসও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ দশমিক ৭ শতাংশ সংশোধিত প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস দিয়েছিল। এছাড়া চতুর্থ প্রান্তিকে ৫ দশমিক ৯ থেকে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত মন্থর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল।
এদিকে মার্চে শেষ হওয়া প্রান্তিকে এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের প্রবৃদ্ধির চেয়ে এগিয়ে আছে ভারত। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীন ৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নথিভুক্ত করেছে। তবে এটি বার্ষিক ৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৩ শতাংশ।
আগামী ৪ জুন ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষিত হবে। এর মাত্র দুদিন আগে দেশটির সামষ্টিক অর্থনীতির এ বার্ষিক ডাটা প্রকাশ হলো। জিডিপি প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স বার্তায় লেখেন, ‘২০২৩-২৪ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকের জিডিপি প্রবৃদ্ধির ডাটা অর্থনীতির শক্তিশালী গতিকে দেখায়, যা আরো গতিশীল হতে প্রস্তুত। বার্ষিক ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বলে দিচ্ছে যে ভারত দ্রুততম হতে চলেছে। যেমন আমি বলেছি, ভারত বিশ্বে ক্রমবর্ধমান শীর্ষ অর্থনীতি। এজন্য দেশের পরিশ্রমী মানুষদের ধন্যবাদ জানাই। এটি আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য একটি ট্রেলার মাত্র।’
জিডিপির এ হার বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ উল্লেখ করে ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, ‘অর্থনীতির সূচকগুলো বলছে, বিশ্ববাজারের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ভারতীয় অর্থনীতি স্থিতিস্থাপক ও প্রাণবান ভূমিকা পালন করছে।’
তিনি আরো জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন খাত উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ খাতে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ সম্প্রসারণ ঘটেছে।
এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খনিজ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরে উৎপাদন খাত ২ দশমিক ২ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল। তবে খনিজ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৯ শতাংশ।
এদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের শুরুর দিকের কিছু প্রবৃদ্ধি পরিসংখ্যান দিয়েছে ভারত সরকার। তথ্য অনুসারে, প্রাকৃতিক গ্যাস, পরিশোধনাগার পণ্য ও বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ আটটি মূল অবকাঠামো খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। গত এপ্রিলে এসব খাতে ৬ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। আগের অর্থবছরের সর্বশেষ মাস মার্চে এ আট খাতে উৎপাদন বেড়েছিল ৬ শতাংশ।
এদিকে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) বার্ষিক প্রতিবেদনে দেয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটির অর্থনীতি ৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল শীর্ষ অর্থনীতি হিসেবে স্বীকৃত ভারত, বর্তমানে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। আগামী বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ভারত।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আন্তর্জাতিক
আবারও মিথ্যাচারের অভিযোগ টিউলিপের বিরুদ্ধে

ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। এবার খোদ যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার রেকর্ড সামনে এসেছে। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর যে হলফনামা দিতে হয় তাতে বাংলাদেশে নিজের মালিকানায় থাকা ফ্ল্যাট নিয়ে ওই প্রতারণার আশ্রয় নেন টিউলিপ।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক। শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের দুর্নীতির সঙ্গে তার জড়িত থাকার প্রমাণ সামনে আসে। এতে দলের ভেতরে বাইরে চাপে পড়েন টিউলিপ। শেষমেশ বাধ্য হয়ে লেবার মন্ত্রিসভার ইকোনমিক সেক্রেটারি টু দি ট্রেজারি অ্যান্ড সিটি মিনিস্টারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
ওই পদে তার কাজ ছিল যুক্তরাজ্যের অর্থবাজারের ভেতরের দুর্নীতি সামাল দেওয়া। কিন্তু মন্ত্রী নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশ-বিদেশে কোণঠাসা হয়ে পড়েন টিউলিপ; পদত্যাগের পরও এর প্রভাব বিদ্যমান। সে সঙ্গে শেখ পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। সেসব তদন্তে নামে দুদক। প্রাথমিকভাবে যার প্রায় সব কটিরই বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পায় সংস্থাটি। এখনও তদন্ত চলমান।
ব্রিটিশ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও টিউলিপকে নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেসব প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির সঙ্গে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের যোগসূত্র স্পষ্ট।
ডেইলি মেইল শনিবার (৫ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে জানায়, সাবেক নগরমন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক তার জন্মভূমি বাংলাদেশে একটি ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে পার্লামেন্টকে বিভ্রান্ত করেছেন কি না তা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন।
বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুরোধে রাজধানী ঢাকার ৬ লাখ পাউন্ড মূল্যের অ্যাপার্টমেন্টটি জব্দ করেছে সরকার। এ নিয়ে লেবার এমপির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
৪২ বছর বয়সী টিউলিপ সিদ্দিক কোনো অন্যায় করেননি দাবি করে মেইলকে বলেন, ২০০২ সালে তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে উপহার হিসেবে ফ্ল্যাটটি পেয়েছিলেন। ২০১৫ সালের মে মাসে সংসদে নির্বাচিত হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ‘আইনসম্মত এবং বৈধভাবে’ সেটি তার বোন আজমিনাকে (৩৪) হস্তান্তর করেন।
ওয়েস্টমিনস্টারের নিবন্ধন বহিতে বলা হয়েছে, তিনি ২০১৫ সালের জুন মাসেও পরিবারের একজন সদস্যের সঙ্গে সম্পত্তিটির সহমালিকানাধীন ছিলেন। পরের মাসের মধ্যেই মালিকানা হস্তান্তর করেন।
কিন্তু গত সপ্তাহে ঢাকা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে মেইল কর্তৃক অনুসন্ধানে দেখা যায়, টিউলিপ এখনও ফ্ল্যাটটির মালিক; যেমনটি দুদকের অভিযোগও বলা হয়েছে। এটি কার মালিকানাধীন, এখন সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশের আদালত ।
গত মাসে দুদক জানিয়েছে, টিউলিপ ২০১৫ সালে হেবার মাধ্যমে ফ্ল্যাটের মালিকানা আজমিনার কাছে হস্তান্তর করার চেষ্টা করেছিলেন। হেবা একটি ইসলামিক দলিল, যা ভালোবাসার বশবর্তী হয়ে পরিবারের সদস্যের কাছে সম্পত্তি হস্তান্তরের অনুমতি দেয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশি আইন অনুসারে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন না করা পর্যন্ত সম্পত্তি হস্তান্তর বৈধ বলে বিবেচিত হয় না।
দুদক দাবি করেছে, হেবা করার যে দাবি করা হচ্ছে তাও জাল। কারণ, যে ব্যারিস্টারের মাধ্যমে এটি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে তিনি এতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার স্বাক্ষর জাল করে দলিল করার করা হয়েছে।
তবে টিউলিপ সিদ্দিকের আইনজীবীরা বলেছেন, হেবার আইনটি সঠিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। তার প্রতিনিধিরা দুদকের অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং বিরক্তিকর বলে অভিহিত করেন।
গত আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। তারপর থেকে তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জমি বরাদ্দ ও আর্থিক অনিয়মের একের পর এক অভিযোগ উঠেছে। দুদকের দাবি, পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পে প্রায় ৬০ কাঠা (এক একর) সরকারি জমি শেখ হাসিনা, তার সন্তান ও নিকটাত্মীয়দের নামে অবৈধভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
টিউলিপের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, ঢাকায় তার অন্য একটি সম্পত্তি থাকার কারণে জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে তিনি অযোগ্য ছিলেন। তবে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিয়মকানুনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে এই মূল্যবান জমি বরাদ্দ নেন। এ জন্য তারা পাবলিক লটারি এবং যোগ্যতার মানদণ্ড এড়িয়ে গেছেন, যা মূলত সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত ছিল।
এদিকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে প্রচার চালাচ্ছেন ব্রিটেনের সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক। দেশটির ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ এ কাজ চাতুরতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে নিয়োগ করেছেন আইনজীবী। সেই আইনজীবীদের তরফে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদককে) একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এমন তথ্য মার্চের শেষ দিকেই জানিয়েছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এপ্রিলের শুরুতে আইনজীবী নিয়োগের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেন টিউলিপ। এরপর থেকে টিউলিপের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছেন তার আইনজীবীরা।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশসহ ১৩ দেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা সৌদির

আসন্ন হজ মৌসুমকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশসহ ১৩ দেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সৌদি আরব। খবর পাকিস্তান অবজারভারের।
জানা গেছে, সৌদি হজ মৌসুমের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্যস্ত এ মৌসুমে হজযাত্রীদের আগমন নিয়ন্ত্রণ এবং ধর্মীয় কর্তব্য পালনের সুষ্ঠু সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সৌদি আরবের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে প্রযোজ্য নয়; বরং জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে।
তালিকাভুক্ত দেশগুলোর ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। এই স্থগিতাদেশ ওমরাহ, ব্যবসায়িক এবং পারিবারিক ভিসাসহ বিভিন্ন ভিসা অন্তর্ভুক্ত। তবে যাদের ওমরাহ ভিসা আছে তারা ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন। এই তারিখের পরে কোনো ওমরাহ ভিসাধারী সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন না।
বাংলাদেশ ছাড়াও তালিকায় থাকা অন্যান্য দেশগুলো হলো- পাকিস্তান, মিশর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, নাইজেরিয়া, জর্ডান, আলজেরিয়া, সুদান, ইথিওপিয়া, তিউনিসিয়া ও ইয়েমেন।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, এই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাঁচ বছরের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশ এবং অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। এ ছাড়া ব্যক্তির অপরাধ বিবেচনায় তাকে আজীবনের জন্য সৌদিতে অবাঞ্ছিত ঘোষণার আশঙ্কাও রয়েছে।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
টিকটককে আরো ৭৫ দিন সময় দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ওপর ঝুলে থাকা নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের সময়সীমা আবারও ৭৫ দিনের জন্য পিছিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) এ সম্পর্কিত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে দেশটিতে টিকটককে দ্বিতীয়বারের মতো লাইফলাইন প্রদান করলেন তিনি।
অন্যথায় আজই (৫ এপ্রিল) দেশটিতে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতো চীনের বাইটড্যান্সের মালিকানাধীন স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপটি। খবর বিবিসির।
গতকাল শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, “আমরা চাই না টিকটক অন্ধকারে চলে যাক। টিকটক এবং চীনকে নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করছি।”
যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ১৭ কোটিরও বেশি গ্রাহক রয়েছে। কিন্তু এর চীনভিত্তিক মালিকানা প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। টিকটকের মাধ্যমে চীন সরকার মার্কিন জনগণের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করতে পারে, এই আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে মার্কিন প্রশাসন। যদিও বাইটড্যান্স ও চীন এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে।
গত বছরের এপ্রিলে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সরকার প্রণীত আইনে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে টিকটক। জো বাইডেন সরকারের আইন অনুযায়ী, বাইটড্যান্সকে টিকটকের যুক্তরাষ্ট্র অংশের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণমূলক মালিকানা চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারির মধ্যে ছেড়ে দিতে হবে কোনো মার্কিন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে। অন্যথায় দেশটিতে টিকটককে নিষিদ্ধ করা হবে।
তবে, জানুয়ারিতে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড দায়িত্ব নেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে টিকটকের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ৭৫ দিন পিছিয়ে দেন। ফলে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সক্ষম হয় টিকটক। ৭৫ দিনের সেই সময়সীমা আজ (৫ এপ্রিল) শেষ হওয়ার কথা ছিল।
গতকাল শুক্রবার ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের ফলে আরো ৭৫ দিন সময় পেল টিকটক। সে হিসেবে এবার ১৯ জুনের মধ্যে বাইটড্যান্সকে টিকটিক ইস্যুতে চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে বাইটড্যান্স জানিয়েছে, তারা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখনো কোনো চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।
কোম্পানির এক মুখপাত্র বলেছেন, “কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো নিষ্পত্তি করা বাকি এবং যেকোনো চুক্তি চীনা আইনের অধীনে অনুমোদন নিতে হবে।”
বিবিসি প্রতিবেদন বলছে, গত বুধবার টিকটক কেনার একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। তবে একই দিনে ট্রাম্প চীনের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা করার পর চুক্তিটি ভেঙে যায়।
চুক্তির সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র সিবিএস নিউজকে জানিয়েছে, বাইটড্যান্সের প্রতিনিধিরা হোয়াইট হাউজের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তারা জানিয়েছেন যে, শুল্কের বিষয়ে আলোচনা না হলে চুক্তিটির অনুমোদন দেবে না চীন।
ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা বাজার অর্থনীতির মৌলিক নীতি লঙ্ঘনকারী অনুশীলনের বিরোধিতা করে।
যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৫৪ শতাংশ মোট শুল্কের সম্মুখীন হয়েছে চীন এবং ৩৪ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। টিকটক বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হলে শুল্ক কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
চীনের পাল্টা শুল্কারোপে মার্কিন শেয়ারবাজারে ধস

চীনের পাল্টা শুল্কারোপের পর মার্কিন শেয়ারবাজারে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। টালমাতাল পরিস্থিতিতে বেশ শঙ্কায় দিন পার করছেন শেয়ার হোল্ডাররা। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) মার্কিন স্টক এক্সচেঞ্জগুলো ভয়াবহ দিন পার করেছে। এ দিন প্রধান প্রধান সূচকগুলো প্রায় ৬% হ্রাস পেয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্যের ওপর নতুন করে ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপের জবাবে চীন পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন সূচকের মান কমতে থাকে।
এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, বিস্তৃতভিত্তিক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক কমেছে ৬%। প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাকের ৫.৮% সূচক হ্রাস পেয়েছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল গড়ে ২,২০০ পয়েন্টেরও বেশি হারিয়েছে বা প্রায় ৫.৫% হ্রাস পেয়েছে।
ট্রেডিং ফ্লোরে শুক্রবার ছিল টানা দ্বিতীয় অস্থিরতার দিন। এর আগে বৃহস্পতিবার এসঅ্যান্ডপি সূচক কোভিড-১৯ মহামারির প্রথম পর্যায়ের পর সবচেয়ে খারাপ দিনটি অতিক্রম করে।
চীন জানিয়েছে, আগামী ১০ এপ্রিল থেকে সব মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৩৪ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা বিরল কিছু পণ্যে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার কথাও জানিয়েছে বেইজিং। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত মার্কিন বাজার ছাড়াও বিশ্ববাজারে বাণিজ্যযুদ্ধকে আরও তীব্র করে তুলবে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন, চীনা পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে। আগেই চীনা পণ্যে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ছিল, ফলে নতুন শুল্ক মিলিয়ে মোট হার দাঁড়ায় ৫৪ শতাংশে।
চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ট্রাম্পের ঘোষণার জবাবে এর আগেই তারা মার্কিন কয়লা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। এবার সেই শুল্কের ওপর আরও ৩৪ শতাংশ যোগ করা হলো।
চীনের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে বলেন, চীন ভুল খেলেছে। তারা আতঙ্কে রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হলো, তাদের এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য নেই।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
২০২৫ সালে বিশ্বের শীর্ষ ধনী যারা

বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় যোগ হয়েছে আরও ২৪৭ জন। ২০২৫ সালে বিশ্বে ধনকুবেরের সংখ্যা বেড়ে তিন হাজার ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছেন টেসলা ও স্পেস এক্সের মালিক ইলন মাস্ক। তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩৪২ বিলিয়ন ডলার। এর পরেই রয়েছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ। তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ২১৬ বিলিয়ন ডলার। ২১৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন অ্যামাজনের মালিক জেফ বেজস।
বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছেন ল্যারি এলিসন ও বার্নার্ড আর্নল্ট এবং পরিবার। তাদের মোট সম্পত্তির পরিমাণ যথাক্রমে ১৯২ ও ১৭৮ ডলার।
৯৪ বছর বয়সী ওয়ারেন বাফেট ১৫৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি নিয়ে তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছেন। এরপরে আছেন ল্যারি পেজ, সের্গেই ব্রিন, আমানসিও ওর্তেগা ও স্টিভ বলমার।
বিশ্বের বিলিয়নিয়ারদের এখন মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১৬ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলার বেশি।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ধনকুবের যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে ৯০২ জন বিলিয়নিয়ার রয়েছেন। এর পরেই চীনের অবস্থান। দেশটিতে ৫১৬ জন বিলিয়নিয়ার রয়েছে। এক্ষেত্রে ২০৫ জন বিলিয়নিয়ার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত।