জাতীয়
প্রথমবার ফ্লাইট পরিচালনায় পাইলট থেকে শুরু করে সবাই নারী

নারী দিবস উপলক্ষে প্রথমবারের মতো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করলেন নারীরা। ঢাকা-দাম্মাম রুটে ওই ফ্লাইটের পাইলট থেকে শুরু করে গ্রাউন্ড স্টাফ সবাই ছিলেন নারী।
দক্ষতা আর পেশাদারিত্বের অসামান্য অবদান রাখা নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এদিন ফ্লাইট পরিচালনার সব বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
শুক্রবার (৮ মার্চ) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-দাম্মাম রুটের বিজি-৩৪৯ ফ্লাইটটি পাইলট হিসেবে পরিচালনা করেন বিমানের সিনিয়র নারী ক্যাপ্টেন আলিয়া মাননান ও ফার্স্ট অফিসার ফারিহা তাবাসসুম। এছাড়াও ফ্লাইটের ক্রুদের ব্রিফিং, চেক-ইন কাউন্টার, ফ্লাইট কভারেজ, কেবিন ক্রু ও ককপিট ক্রু হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন নারী।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শফিউল আজিমের (অতিরিক্ত সচিব) নির্দেশনায় এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন), মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ), মহাব্যবস্থাপক (গ্রাহক সেবা), প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে নারীরা দায়িত্বরত।
বিমানে ১৫ জন অভিজ্ঞ নারী পাইলট রয়েছেন যা পুরুষ ও নারী পাইলটদের আন্তর্জাতিক গড় ৬ শতাংশের প্রায় দ্বিগুণ (১০.৪)। এছাড়াও রয়েছে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ ৩৪৫ জন নারী কেবিন ক্রু।
গ্রাউন্ড স্টাফ, নারী প্রকৌশলী, নারী প্রকৌশল ইনস্ট্রাক্টরসহ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সব শাখায় নারী কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে।

জাতীয়
পলিথিন ব্যবহারে আর কোনো ছাড় নয়: পরিবেশ উপদেষ্টা

পলিথিন শপিং ব্যাগের পরিবর্তে সাশ্রয়ী মূল্যের পাটের ব্যাগ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় ভর্তুকি মূল্যে পাটের ব্যাগ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরপরও পলিথিন পাওয়া গেলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, জব্দসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করা হবে।
রবিবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা শহরের ভোক্তাদের মধ্যে সাশ্রয়ী মূল্যে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ বাজারজাতকরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, পলিথিনের বহুল ব্যবহারে মাটি, পানি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি তৈরি করছে। বিপরীতে পাটের তৈরি ব্যাগ টেকসই, পুনঃব্যবহারযোগ্য এবং পরিবেশবান্ধব। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে গৃহীত এ প্রকল্পের আওতায় টিসিবির ডিলার ও বাজারের বণিক সমিতির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে পাটের ব্যাগ বিক্রি করা হবে।
প্রকল্পের মাধ্যমে জনসাধারণকে পাটের ব্যাগ ব্যবহার ও পুনঃব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনকারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, মার্কেটিং, মান নিয়ন্ত্রণ ও উৎপাদন খরচ কমানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বণিক সমিতি ও টিসিবি ডিলারদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি সভা, সেমিনার, কর্মশালা, সিম্পোজিয়াম ও গণমাধ্যমে প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রউফ। অন্যদের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফাহমিদা খানম, পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরা এবং কারওয়ান বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, টিসিবির নির্ধারিত ডিলারদের ভর্তুকি মূল্যে এসব ব্যাগ বিক্রির জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে নির্ধারিত দোকান থেকে ব্যাগ পাওয়া যাবে। ব্যাগের মান ও সাইজ অনুযায়ী ২০ টাকা, ২৫ টাকা, ৩০ টাকা, ৩৫ টাকা, ৭০ টাকা এবং ৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয়
পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়-মাদ্রাসায় বাংলাদেশিদের বৃত্তি দেওয়ার আহ্বান

পাকিস্তানের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় মাদ্রাসাগুলোতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
রবিবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে পাকিস্তানের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, পাকিস্তানের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় ও বৃহৎ মাদ্রাসাগুলোতে এদেশের শিক্ষার্থীদেরকে বৃত্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে তারা উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাবে। কুরআন শিক্ষা, হাদিস শিক্ষা, ফিকহ, উসুলে ফিকহ, আকিদা, আখলাক, তথ্যপ্রযুক্তি প্রভৃতি বিষয়ে এদেশের শিক্ষার্থীদেরকে বৃত্তি দেওয়া এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। এতে দু-দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় ও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এদুটি বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মধ্যে শিক্ষা, বাণিজ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, মানব সম্পদ উন্নয়ন প্রভৃতি বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষা ও দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এদুটি দেশ একত্রে কাজ করতে পারে।
তবে পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা ও সৌহার্দ্যের ভিত্তিতেই এসব বিষয়কে এগিয়ে নিতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।
এর আগে উপদেষ্টা পাকিস্তানের নতুন হাইকমিশনারকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশে দায়িত্ব পাওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান।
এ সময় ধর্ম সচিব একেএম আফতাব হোসেন প্রামানিক উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
ভোটকেন্দ্র মেরামত-সংস্কারে লাগবে ১১০ কোটি টাকা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহার অনুপযোগী ভোটকেন্দ্র মেরামত ও সংস্কারে ১১০ কোটি টাকা লাগবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে ভোটকেন্দ্র সংস্কার করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এমন তথ্য জানিয়েছে।
অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলতাফ হোসেনের তৈরি করা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ভোটকেন্দ্র হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেরামত ও সংস্কার কাজ করা প্রয়োজন এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৪৯০টি এবং ওই ভোটকেন্দ্রগুলো মেরামতের জন্য মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত চাহিদার পরিমাণ ৩৩৭৮.৭৮ লাখ টাকা। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ প্রয়োজন সে ধরনের ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৫৫৯টি। এসব সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত চাহিদার পরিমাণ ৭৬৪৮.৪৯০ লাখ টাকা।
অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলতাফ হোসেন সম্প্রতি এক চিঠিতে ওই পরিমাণ বরাদ্দ দিতে শিক্ষা সচিবকে চিঠিও দিয়েছেন, যার অনুলিপি নির্বাচন কমিশনকেও দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ব্যবহার উপযোগী করতে নিজ খরচে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র মেরামত করতে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল ইসি।
জাতীয়
দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৬৩ লাখ: ইসি সচিব

দেশে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৭০ হাজার ৫০৪ জনে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪১ লাখ ৪৫৫ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২২ লাখ ৫ হাজার ৮১৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩০ জন।
এই সংখ্যক ভোটারকে তালিকাভুক্ত করে হালনাগাদ সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই তালিকা প্রকাশ করলো সাংবিধানিক এই সংস্থাটি।
ররিবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, এর আগে গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়ায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৬১ লাখ ৭০ হাজার ৯০০ জন। এরপর নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৪২ জন। প্রকাশিত তালিকা থেকে মৃত ভোটার কর্তন হয়েছে ১ হাজার ৩৮ জন। অর্থাৎ খসড়া তালিকা থেকে মোট ভোটার বেড়েছে ১ লাখ ৩৬ আর ৬০৪ জন।
ইসি সচিব জানান, এছাড়া আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারাও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। ওই দিন আরেকটি তালিকা প্রকাশ করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাব তিনি বলেন, এই মুহূর্তে প্রতিবন্ধী ভোটার কতজন, সেই তালিকা তাদের হাতে নেই। তবে ভোটার তালিকার বিশ্লেষণ করে তথ্য উপাত্ত জানানো হবে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ভোট দানের বিষয়ে বাস্তব পদক্ষেপ নেবেন তারা।
তিনি বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এবং সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ চূড়ান্ত করার বিষয়ে ইসি কাজ করছে। এ বিষয়ে পরে সাংবাদিকদের অবহিত করা হবে।
জাতীয়
জাপানের অর্থায়নে ঢাকায় পাতাল রেলের নির্মাণ, সুফল আসবে ২০৩০ সালে

বিভিন্ন দেশের বড় শহরগুলোর নাগরিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জাপানের নজর থাকে মূলত মেট্রোরেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর। বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে মেট্রোরেল নির্মাণে বিনিয়োগ করেছে জাপান। তেমনি বাংলাদেশেও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে এমআরটি লাইন-১ বা বাংলাদেশের প্রথম পাতাল রেল। যা ২০৩০ সালে এটি চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী দিনে দেশের অন্যান্য বড় শহরে মেট্রোরেল নির্মাণের ব্যাপারে পরিকল্পনা গ্রহণ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এতে নগর জীবনে স্বাচ্ছন্দ আসবে বা যাতায়াতে প্রচুর সময় বাঁচাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাতাল রেল চালু হলে অল্প সময়ে অধিক সংখ্যায় যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। ছোট যানবাহনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় কমবে। জীবাশ্ম ও তরল জ্বালানির ব্যবহার কম হবে। যানজট অনেক কমবে। ঢাকা মহানগরীর জীবনযাত্রায় ভিন্ন মাত্রা ও গতি যোগ হবে। মহানগরবাসীর কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে। সাশ্রয়কৃত কর্মঘণ্টা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যবহার করা যাবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাথমিকভাবে তিন রুটে চলাচল করবে এমআরটি লাইন-১ বা বাংলাদেশের প্রথম পাতাল রেল। আগামী ২০৩০ সালে এটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চালু হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর যেতে পারবে। এমআরটি লাইন-১ আন্ডার গ্রাউন্ড প্যাকেজ সিপি-০৪ (রামপুরা-নতুন বাজার), সিপি-০৫ (নতুনবাজার-নর্দ্দা), সিপি-০৬ (নর্দ্দা-বিমানবন্দর)।
ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-১) সূত্র জানায়, প্রকল্পের সর্বমোট ১২টি প্যাকেজের মধ্যে ইতোমধ্যে ৯টির দরপত্র দাখিল হয়েছে, যার মধ্যে একটি প্যাকেজের নির্মাণকাজ প্রায় সমাপ্ত। অপর ৭টি প্যাকেজের আর্থিক দরপত্র উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং ১টি প্যাকেজের (সিপি-০৮) কারিগরি মূল্যায়ন চলমান রয়েছে। সামগ্রিকভাবে দর দাতাগণের উদ্ধৃত দর ডিপিপি মূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৯,৪৫০ দশমিক ৩২ কোটি টাকা হতে বৃদ্ধি পেয়ে বাস্তবায়নাধীন একটি প্যাকেজের চুক্তি মূল্য, ৭টি প্যাকেজের উদ্ধৃত দর ও ৪টি প্যাকেজ বিবেচনায় ৭৫,৬৪৯ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। প্রতি কিলোমিটার টানেল নির্মাণ ব্যয় ১২৫০ দশমিক ৭২ কোটি টাকা হতে বৃদ্ধি পেয়ে ২৩৯৮ দশমিক ৩৬ কোটি টাকা হতে পারে।
তারা আরো জানায়, শিল্ড টানেল সেগমেন্ট থেকে পানি লিকেজ এড়াতে সেগমেন্টাল লাইনিং (আস্তরণ) থেকে পানি লিকেজজনিত দুর্ঘটনা এড়াতে টানেল সেগমেন্ট স্থাপনের সময়ে বিশেষ করে দুটো সেগমেন্টের সংযোগস্থলে সেগমেন্টাল লাইনিং এর গুণগত মান সুনিশ্চিত করতে এবং শিল্ড টানেল সেগমেন্টের পৃষ্ঠতলে কোনরকম কোন ফাটল দৃশ্যমান না হওয়ার জন্য পানি নিরোধক জাপানি বিশেষ প্রযুক্তি ‘ওয়ান পাস জয়েন্ট’ ব্যবহার করা হবে। বালু নদীর উপর তিন স্প্যান বিশিষ্ট সেতুটি ১৪৯ মিটার দীর্ঘ এবং সেতু সংলগ্ন একটি আন্ডারপাস রয়েছে। সেতুটি অক্ষুন্ন রেখে তার উপর দিয়ে যথাযথ নির্মাণের সুবিধায় ১৭২ মিটার দীর্ঘ একক স্প্যান বিশিষ্ট সেতুর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৮ এর দরপত্র দলিলে ১৭২ মিটার দীর্ঘ একক স্প্যান বিশিষ্ট সেতুর প্রস্তাব রয়েছে। এত ব্যবহার করা হবে বিশেষভাবে উন্নতকৃত উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ইস্পাত। জাপানের বাইরে কোনো ইস্পাত উৎপাদককে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
প্যাকেজ সিপি-০৮ এর প্রিকোয়ালিফিকেশন সম্পন্ন হয়েছে যাতে চীন, জাপান, কোরিয়া, ভারত ও বাংলাদেশের মোট ৮টি প্রতিষ্ঠান উত্তীর্ণ হয়। পরবর্তীতে চীন-বাংলাদেশ, জাপান-বাংলাদেশ এবং জাপান- কোরিয়ার ৩টি প্রতিষ্ঠানে মূল দরপত্র দাখিল করে। বর্তমানে কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৮ এর কারিগরি মূল্যায়ন চলমান রয়েছে। কারিগরি মূল্যায়ন শেষে শুধুমাত্র উত্তীর্ণ দরদাতাগণের আর্থিক প্রস্তাব উন্মুক্ত করা হবে।
সম্প্রতি ভারতের ও অন্যান্য দেশের প্রকল্পগুলোর সাথে তুলনা করে ঢাকার মেট্রো রেল নির্মাণ প্রকল্পকে অতিরিক্ত ব্যয়বহুল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। প্রকল্পের পরিসর, নগরের ঘনত্ব, ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি এবং মুদ্রাস্ফীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিবেচনায় আনলে, ঢাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল নির্মাণ ব্যয় বিশ্বের অন্যান্য সমতুল্য মেট্রো ব্যবস্থার তুলনায় সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও তারা জানায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টানেলিং প্রযুক্তি, বিশেষায়িত সিস্টেম এবং সংশ্লিষ্ট নির্মাণ দক্ষতা প্রথমবারের মতো দেশে আনতে বড় অংকের প্রাথমিক মোবিলাইজেশন ব্যয়ের প্রয়োজন হবে। ঢাকার নরম মাটি, উচ্চ ভূগর্ভস্থ পানির স্তর এবং বন্যা-ঝুঁকি প্রকৌশলগতভাবে মোকাবেলার প্রয়োজনে নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। এমআরটি লাইন-১ এর ডিজাইনে অগ্নি নিরাপত্তা, বন্যা প্রতিরোধ, জরুরি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোরসহ উন্নত বিশ্বমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি টাকা ডলারের তুলনায় প্রায় ৪৪ দশমিক ৩ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয়েছে। আমদানিকৃত পণ্যের ও বৈদেশিক মুদ্রায় চুক্তিভিত্তিক ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মেট্রো রেলের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, রোলিং স্টক, সিগন্যালিং সিস্টেম এবং নির্মাণসামগ্রী বাংলাদেশে উৎপাদিত না হওয়ায়, বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক দরপত্রে ব্যবহৃত মার্কিন ডলার ও জাপানি ইয়েনের বিপরীতে টাকার দুর্বলতা ব্যয় আরও বাড়িয়েছে। এমআরটি-১ এর আন্ডারগ্রাউন্ড অংশের ব্যয় প্রতি কিলোমিটারে ১৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা সিঙ্গাপুর, সিডনি এবং মেলবোর্নের তুলনায় কম। ঢাকার প্রকৌশল ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় প্রতি কিলোমিটারে ১৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় যৌক্তিক ও আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী তুলনাযোগ্য। ঢাকার আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো ভবিষ্যৎমুখী এবং জনগণের জন্য নিরাপদ সেবা নিশ্চিতে নির্মিত প্রকল্প বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (লাইন-১) প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল কাসেম ভূঁঞা বলেন, প্রকল্পটির অর্থায়নে রয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির (জাইকা)। ২০১৫ সালে প্রণীত আরএসটিপি (রিভাইজড স্ট্রাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান) অনুসরণ করে এমআরটি লাইন-১ এর রুট এলাইনমেন্ট নির্ধারণ করে ২০১৭-১৮ সালে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়। জাইকার সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় আন্তর্জাতিক মান ও রীতিনীতি, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং ঢাকায় অবকাঠামো নির্মাণ উপযোগিতার বিষয়গুলো বিবেচনা করে এমআরটি লাইন-১ এর উড়াল এবং পাতাল পথ চূড়ান্ত করা হয়। ১৯ দশমিক ৮৭২ কি.মি দীর্ঘ পাতাল এবং ১১ দশমিক ৩৬৯ কি.মি উড়াল মেট্রোরেলসহ মোট ৩১ দশমিক ২৪১ কি.মি দৈর্ঘ্যরে এলাইনমেন্টের মধ্যে ১২টি পাতাল ও ৭টি উড়াল স্টেশন থকবে।
তিনি আরো বলেন, দেশের বৃহত্তর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গণপরিবহনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রাখবে। যানজটে নষ্ট হওয়া লাখ লাখ কর্মঘণ্টার আর্থিক মূল্যে নির্ণয়পূর্বক বিবেচিত হতে পারে। জনবহুল ঢাকা ও অন্যান্য নগরে সড়কপথে গন্তব্যে পৌছানোর ভ্রমণ সময়ের অনিশ্চয়তাকে মেট্রোরেল ইতিবাচক ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারে। পরিবেশ দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে তা নগর পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। উন্নয়নসহযোগী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিকট ইতিবাচক ভাব মর্যাদা রাখতে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখবে।
কাফি