জাতীয়
আত্মহত্যা করা ৩২ শতাংশ শিক্ষার্থীর কারণ অভিমান

দেশে গত এক বছর বা ২০২৩ সালে দেশে মোট ৫১৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর মধ্যে অভিমানে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে ৩২ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী। দেশের ১০৫টি জাতীয়, স্থানীয় পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালের আত্মহত্যার সংবাদ বিশ্লেষণ করে এ সমীক্ষা প্রকাশ করেছে সামাজিক সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন।
আজ শনিবার সমীক্ষার ফল ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়।
আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া ৫১৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে নারী শিক্ষার্থী ৩০৯ জন এবং পুরুষ শিক্ষার্থী ২০৪ জন। এর মধ্যে অভিমানে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে ৩২ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী। তবে ২০২২ সালের তুলনায় এই সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও গত বছর নারী শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার সংখ্যা বেড়েছে।
আঁচলের সমীক্ষার ফল বলছে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত, অর্থাৎ গত ১২ মাসে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলশিক্ষার্থী ২২৭ জন, কলেজ শিক্ষার্থী ১৪০ জন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ৯৮ জন ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ৪৮ জন। ২০২২ সালে আত্মহত্যা করেছিল ৫৩২ জন শিক্ষার্থী। আর ২০২৩ সালে এই সংখ্যা কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৫১৩।
আত্মহত্যার কারণ বিশ্লেষণ করে আঁচল ফাউন্ডেশনের সভাপতি তানসেন রোজ বলেন, এবার আত্মহত্যার ঘটনায় মূল ভূমিকা রাখছে অভিমান। অভিমানের কারণে আত্মহত্যার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের সঙ্গে সন্তানদের সম্পর্ক কতটুকু মজবুত তা নিয়ে চিন্তার উদ্রেক করে।
সমীক্ষার ফলাফল থেকে জানা যায়, গত বছর সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৪৯ টি। এর পরের অবস্থান চট্টগ্রাম বিভাগে। এই বিভাগে আত্মহত্যা করেছে ৮৯ জন শিক্ষার্থী। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৭৭ জন, খুলনা বিভাগে ৬৪ জন, বরিশাল ও রংপুর উভয় বিভাগেই ৪৩ জন করে, ময়মনসিংহে ৩৬ জন। এ ছাড়া সিলেটে ১২ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ঢাকা শহরে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠার সহায়ক পরিবেশ না থাকায় এখানে আত্মহত্যার ঘটনা বেশি ঘটছে।সমীক্ষায় আরও বলা হয়, নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। ৫১৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে নারী শিক্ষার্থীর ৬০ দশমিক ২ শতাংশ।
আত্মহত্যার কারণ বিবেচনায় দেখা যায়, ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী অভিমানে, প্রেমঘটিত কারণে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ, মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ, পারিবারিক বিবাদের কারণে ৭ দশমিক ১ শতাংশ, যৌন হয়রানির কারণে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং পড়াশোনার চাপজনিত কারণে ৪ দশমিক ২ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে এবং পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নেয়। এ ছাড়া পারিবারিক নির্যাতনে ১ দশমিক ৬ শতাংশ, অপমানে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ এবং পাবলিক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পাওয়ার কারণে ২ দশমিক ৯ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, আত্মহত্যার ঘটনায় স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২২৭ জন অর্থাৎ ৪৪ দশমিক ২ শতাংশ। আর কলেজগামী শিক্ষার্থী ছিল ১৪০ জন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ৯৮ জন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ৪৮ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন—কিশোর বয়সে হরমোনজনিত কারণে শিক্ষার্থীরা বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে। ফলে তারা আত্মহত্যার মতো অতি আবেগীয় সিদ্ধান্তগুলো নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে আত্মহত্যা প্রতিরোধে আঁচল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। এগুলো হলো—মাসে অন্তত একবার মেন্টাল হেলথ স্ক্রিনিং করা, মেন্টর ও শিক্ষার্থীর মাঝে সুসম্পর্ক তৈরি, হেলথ কর্নার চালু, প্রচারণা কার্যক্রম চালু ইত্যাদি।
সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. সাইদুর রহমান, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দীন আহমদসহ আরও অনেকে।
অর্থসংবাদ/এমআই
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

জাতীয়
থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ড. ইউনূসের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা। তিনি শুক্রবার ব্যাংককের শাংগ্রি-লা হোটেলে সাক্ষাৎ করেন।
শনিবার (৫ এপ্রিল) প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এক বার্তায় তা জানান। সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক ইউনূস তার পুরোনো বন্ধু থাকসিনের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।
২০০১ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থাকসিন তার সহকর্মীদের সঙ্গে বাংলাদেশ এবং গ্রামীণ ব্যাংক পরিদর্শন করেন এবং গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির সাফল্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে থাইল্যান্ডের জন্য একটি ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির নকশা তৈরি করেন। সেই বছর জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অধ্যাপক ইউনূসকে মি. থাকসিন আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
তারা চিয়াং মাই এবং চট্টগ্রামের মধ্যে বিমান রুটের সম্ভাব্য পুনঃপ্রবর্তন নিয়েও আলোচনা করেছিলেন, যার ফলে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বিমানের সময় এক ঘণ্টায় নেমে এসেছিল। মি. থাকসিন উদ্বোধনী ফ্লাইটে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদ জিয়ার চট্টগ্রাম থেকে চিয়াং মাইতে একসঙ্গে উড়ানের কথা স্মরণ করেছিলেন।
অধ্যাপক ইউনূস এবং মি. থাকসিন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধান উপদেষ্টা আসিয়ান সদস্য হওয়ার জন্য বাংলাদেশের পরিকল্পনার জন্য থাকসিনের সমর্থন কামনা করেন।
অধ্যাপক ইউনূস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন থাই-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রচেষ্টার জন্য প্রাক্তন থাই প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় করার জন্য এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এবং সেই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য তার মূল্যবান সহায়তা কামনা করেন।
বৈঠকে তারা বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য সমস্যা এবং থাইল্যান্ডে ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যাবসা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা করেন। বাংলাদেশ সরকারের সিনিয়র সচিব এবং এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়কারী লামিয়া মোর্শেদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
জাতীয়
ঈদের ছুটি শেষে স্বস্তিতে ঢাকায় ফিরছে মানুষ

রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষজন। তবে বিগত কয়েকদিনের থেকে আজ একটু বেশি মানুষ ফিরছেন। কারণ, আগামীকাল (৬ এপ্রিল) থেকে খুলবে সব সরকারি অফিস।
শনিবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর সদরঘাট, বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গাবতলী বাস টার্মিনালে একের পর এক প্রবেশ করছে দূরপাল্লার বাস, সেখান থেকে নামছেন যাত্রীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ভিড় আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একইচিত্র যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদেও। তবে নেই তেমন কোনো অভিযোগ।
সপরিবারে সায়েদাবাদ জনপথ মোড়ে বাস থেকে নেমেছেন আল-আমিন। তিনি বলেন, গ্রামে বাবা-মায়ের সঙ্গে সপরিবারে ঈদ করতে গিয়েছিলাম। আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষণ বিভাগে কাজ করি। আজ থেকে আমার অফিস খুলছে। চেয়েছিলাম পরশু রওনা করে কাল ঢাকায় এসে পৌঁছাবো। পরে ভাবলাম এবারের ঈদযাত্রা তো স্বস্তির। তাছাড়া এখন পর্যন্ত চোখে কোনো ভোগান্তির খবর চোখে পড়েনি। তাই গতকাল রাতে রওনা হয়ে ভোরে এসে নামলাম। আলহামদুলিল্লাহ।
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে লঞ্চে মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। ভোর থেকেই যাত্রীবোঝাই যে সব লঞ্চ ঘাটে ভিড়েছে, সবগুলোতেই যাত্রীর চাপ রয়েছে।
যাত্রীরা জানান, এবারের ঈদযাত্রা ছিল ভোগান্তিহীন। এ ছাড়া ভাড়া নিয়েও তাদের কোনো অভিযোগ নেই।
কমলাপুর রেলস্টেশনে বিভিন্ন ট্রেন থেকে নামা যাত্রীরা জানান, এবারের ঈদযাত্রা স্বাচ্ছন্দ্যের হয়েছে। তাই বাড়ি ফেরার মতো কর্মস্থলে ফিরতেও তাদেরকে কোনো বেগ পোহাতে হয়নি।
এদিকে, দৌলতদিয়া ঘাটেও রয়েছে রাজধানীতে ফেরা মানুষের চাপ। তবে পাওয়া যায়নি কোনো ভোগান্তির খবর।
প্রসঙ্গত, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবার টানা ৯ দিনের ছুটি পান। সে অনুযায়ী, ছুটি শেষে আগামী ৬ এপ্রিল খুলবে অফিস-আদালত।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
জাতীয়
দেশে ফিরলেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দুই দিনের থাইল্যান্ড সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। তিনি ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট শুক্রবার রাত ১০টা ৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
সফরকালে অধ্যাপক ইউনূস বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি বিমসটেক ইয়ং জেনারেশন ফোরামে বক্তব্য রাখেন।
শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে তিনি সদস্য দেশগুলোর প্রতি পারস্পরিক স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে সবাই লাভবান হতে পারে।
এছাড়া তিনি থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েতংটার্ন সিনাওয়াত্রার কাছ থেকে আগামী দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেন।
সফরের সময় অধ্যাপক ইউনূস ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। তাছাড়া তিনি থাইল্যান্ড, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এবং বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্রা মণি পান্ডের সঙ্গে বৈঠক করেন।
থাইল্যান্ডের সামাজিক উন্নয়ন ও মানব সুরক্ষা মন্ত্রী ভারাউত শিলপা-আর্চা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংযুক্ত মন্ত্রী জিরাপর্ন সিন্ধুপ্রাই-ও অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
অধ্যাপক ইউনূস গত বৃহস্পতিবার বিমসটেক সম্মেলনে অংশ নিতে ব্যাংকক পৌঁছান।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
জাতীয়
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা ফেরাতে রাজি মিয়ানমার

বাংলাদেশে আশ্রিত আট লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে প্রত্যাবাসনের যোগ্য হিসেবে এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা চূড়ান্ত করেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।
কক্সবাজারে আশ্রিত এই জনগোষ্ঠীকে স্বদেশে ফেরানোর জন্য ২০১৮ থেকে ২০২০ সময়কালে ছয় ধাপে মিয়ানমারকে তালিকা দেয় বাংলাদেশ সরকার।
এর মধ্যে এক লাখ ৮০ হাজার জনের তালিকা মিয়ানমার চূড়ান্ত করেছে। আরও ৭০ হাজার রোহিঙ্গার চূড়ান্ত যাচাই চলমান। যাদের ছবি ও নাম যাচাই করার মধ্য দিয়ে তাদের ভাগ্যও নির্ধারণ হবে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ থান শেও বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ (বিশেষ দূত) ড. খালিলুর রহমানের কাছে প্রকাশ করেন।
এটি রোহিঙ্গা সঙ্কটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে প্রথম নিশ্চিতকৃত তালিকা।
মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, মূল তালিকার বাকি ৫ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গার যাচাইও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
বৈঠকের সময় হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খালিলুর রহমান মিয়ানমারে ভূমিকম্পে আক্রান্ত মানুষের জন্য সমবেদনা জানান এবং দুর্যোগকবলিত মানুষের জন্য আরও মানবিক সহায়তা পাঠাতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
জাতীয়
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ আগামী দুই বছরের জন্য বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এই জোটের লক্ষ্য দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে আঞ্চলিক সংযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং উন্নয়ন বাড়ানো।
বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে বিমসটেক নেতাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেতারা (সরকার প্রধানরা) সর্বসম্মতিক্রমে ব্যাংকক ঘোষণাপত্র এবং বিমসটেক ব্যাংকক ভিশন গ্রহণ করেছেন, যা একটি কৌশলগত রোডম্যাপ। এটি সংগঠনটিকে টেকসই উন্নয়ন এবং গভীর অর্থনৈতিক একীকরণের দিকে পরিচালিত করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বিমসটেকের জন্য বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি এবং অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন। তার সরকারের অটল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আশ্বস্ত করেন, বাংলাদেশ তার সব নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে অবিচল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস মুক্ত বাজার এলাকা চুক্তি এফটিএ-সংক্রান্ত বিমসটেক ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি বাস্তবায়নের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং পরিবহন সংযোগ সম্পর্কিত বিমসটেক মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি রাখাইন রাজ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় মিয়ানমারকে সম্পৃক্ত করার জন্য বিমসটেককে আরও দৃশ্যমান এবং সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের তাদের ভূমিতে প্রত্যাবর্তনের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সভাপতিত্ব গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কর্মমুখী বিমসটেকের প্রতি স্বীকৃতির বিবৃতি দেন।
এর আগে, সকালে প্রধান উপদেষ্টা থাই বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশের বৈঠক করেন।
১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেক আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য বিশেষ করে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পরিবহন, জ্বালানি এবং সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমানভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।