আন্তর্জাতিক
এশিয়ায় রেকর্ড পরিমাণ এলএনজি আমদানি

এশিয়ায় ডিসেম্বরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি রেকর্ড সর্বোচ্চে বেড়েছে। আমদানি বাড়া সত্ত্বেও স্পট মার্কেটে জ্বালানিটির দাম নিম্নমুখী। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি রফতানি সর্বকালের সর্বোচ্চে উঠেছে। শীর্ষস্থানীয় রফতানিকারক এ দেশ দুটি থেকে সরবরাহ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দামে নিম্নমুখী প্রভাব পড়েছে। খবর রয়টার্স।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, ডিসেম্বরে এলএনজি আমদানিতে শীর্ষে ছিল এশিয়া। মাসটিতে এশিয়া দেশগুলোর আমদানি পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৬৬ লাখ ১০ হাজার টন, যা আগের মাস নভেম্বরের ২ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টনের চেয়ে বেশি। এর আগে সর্বোচ্চ আমদানির রেকর্ড ছিল ২০২২ সালের জানুয়ারির ২ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার টন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সে রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।
এশিয়ায় মাসটিতে এলএনজি আমদানির শীর্ষে ছিল চীন। একক দেশ হিসেবে জাপান থেকে ২০২৩ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি এলএনজি ক্রয় করেছে দেশটি। ডিসেম্বরে চীনের আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ লাখ ২০ হাজার টনে, যা নভেম্বরের ৬৯ লাখ ৭০ হাজার টনের চেয়ে বেশি। কেপলারের মতে, এটা ২০২১ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ।
এশিয়ার আরেক বৃহৎ আমদানিকারক হচ্ছে জাপান। দেশটি ডিসেম্বরে ৬৭ লাখ ৮০ হাজার টন এলএনজি আমদানি করেছে, যা নভেম্বরের ৫৪ লাখ টনের চেয়ে বেশি এবং গত বছরের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। দক্ষিণ কোরিয়া ডিসেম্বরে ৫১ লাখ টন এলএনজি আমদানি করেছে, যা নভেম্বরের ৪১ লাখ ৯০ হাজার টনের বেশি এবং ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ।
শিল্প তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে এলএনজির স্পট মূল্য ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। এর পেছনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে দায়ী করা হচ্ছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। এর পর থেকে রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেয় ইউরোপ।
তবে বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়িয়েছে ইইউ। কেপলারের প্রতিবেদন অনুসারে, গত ডিসেম্বরে ইউরোপে এলএনজি আমদানি বেড়ে ১ কোটি ১৮ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। আগের মাস নভেম্বরে ১ কোটি ৮ লাখ ১০ হাজার টন আমদানি করেছিল ইউরোপীয় দেশগুলো। ডিসেম্বরের এ আমদানি ২০২৩ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ।
অর্থসংবাদ/এমআই
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

অর্থনীতি
কুয়েতে স্বর্ণের দামে রেকর্ড

বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কুয়েতে রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে স্বর্ণের মূল্য। গত এক মাসের ব্যবধানে গ্রাম প্রতি তিন থেকে চার দিনার বৃদ্ধি পেয়েছে স্বর্ণের দাম। অল্প সময়ের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় হতাশ সাধারণ ক্রেতারা। গত এক মাসের ব্যবধানেই গ্রাম প্রতি বেড়েছে তিন দিনার। আর ভরিতে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা বেশি।
কুয়েতে স্বর্ণের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতি মিনিটে পরিবর্তন হতে থাকে। দেশটির প্রত্যেকটি স্বর্ণের দোকানে কুয়েত সরকার নির্ধারিত অনলাইন মূল্য তালিকা রয়েছে। দিন দিন মূল্য বৃদ্ধির কারণে অনেক ক্রেতাই এখন স্বর্ণ কিনতে দ্বিধায় ভুগছেন।
তবে দাম আরও বাড়তে পারে এই আশঙ্কায় ভবিষ্যত প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে কেউ কেউ স্বর্ণ কিনে রাখছেন। ক্রেতারা বলেন, সপ্তাহ ব্যবধানে স্বর্ণের দাম অনেক বেড়েছে। সামনে আরও বাড়তে পারে। তাই ভবিষ্যতে বিয়ে, অনুষ্ঠান ও প্রিয়জনকে উপহার দেয়ার জন্য কিনে রাখতে হচ্ছে।
তবে স্বর্ণের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনাও বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, উৎসবের মৌসুম থাকায় স্বর্ণের দাম বাড়ার পরও বেড়েছে বেচাকেনা। তাছাড়া সামনে আরও দাম বাড়ার আশঙ্কায় মজুতও করছেন অনেকে।
কুয়েতে স্বর্ণ বিক্রি হয় গ্রাম হিসেবে। তারা ২১ ক্যারেট অথবা ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের অলংকার ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আর প্রবাসী বাংলাদেশিদের পছন্দের শীর্ষে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণে।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
১০ দিনে গাজায় কমপক্ষে ৩২২ শিশু নিহত: ইউনিসেফ

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এমনকি পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময়ও ফিলিস্তিনি এই উপত্যকায় কমেনি ইসরায়েলি বর্বরতা।
গত মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি ভেঙে গাজায় ইসরায়েল হামলা শুরু করার পর থেকে নিহত হয়েছে ৩ শতাধিক শিশু। এমন তথ্যই সামনে এনেছে জাতিসংঘের শিশু নিরাপত্তা ও অধিকার বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
ইউনিসেফ গত সোমবার জানিয়েছে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর গত ১০ দিনে গাজা উপত্যকায় কমপক্ষে ৩২২ শিশু নিহত এবং আরও ৬০৯ জন আহত হয়েছে। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথেরিন রাসেল বলেছেন, “গাজায় যুদ্ধবিরতি গাজার শিশুদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জীবনরেখা এবং পুনরুদ্ধারের পথের আশা প্রদান করেছিল।”
তিনি বলেন, “কিন্তু শিশুরা আবারও মারাত্মক সহিংসতা এবং বঞ্চনার চক্রেই নিমজ্জিত হয়েছে। শিশুদের সুরক্ষার জন্য সকল পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে।”
ইউনিসেফের মতে, গাজায় নিহত শিশুদের বেশিরভাগই ছিল বাস্তুচ্যুত। তারা হয় অস্থায়ী তাঁবুতে বা ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, গত ২৩ মার্চ দক্ষিণ গাজার আল-নাসের হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে হামলায় নিহত ও আহতদের মধ্যে শিশুরাও ছিল।
এছাড়া গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি বোমা হামলার পুনরায় শুরু হওয়া এবং সাহায্য সরবরাহের ওপর সম্পূর্ণ অবরোধের ফলে গাজার বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে সেখানকার ১০ লাখ শিশু গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে ইউনিসেফ জানিয়েছে।
প্রতিরোধযোগ্য শিশু মৃত্যু সম্ভবত বৃদ্ধি পাবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সংস্থাটি বলেছে, “গত ২ মার্চ থেকে গাজা উপত্যকায় কোনও সাহায্য প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় খাদ্য, নিরাপদ পানি, আশ্রয় এবং চিকিৎসা সেবা ক্রমশ দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় এটিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অবরোধ।”
আর তাই গাজায় হামলা বন্ধ করে যুদ্ধবিরতি পুনঃস্থাপন এবং গাজায় মানবিক ও বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ।
সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, বিশ্বের চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকা উচিত নয় এবং শিশুদের হত্যা ও দুর্ভোগ অব্যাহত রাখতে দেওয়াও উচিত নয়। একইসঙ্গে প্রভাবশালী দেশগুলোকে ভয়াবহ এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছে ইউনিসেফ।
দীর্ঘ ১৫ মাস সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। তারপর প্রায় দু’মাস গাজায় কম-বেশি শান্তি বজায় ছিল; কিন্তু গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে হামাসের মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে মার্চ মাসের তৃতীয় গত সপ্তাহ থেকে ফের গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১ হাজার ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ২ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের বর্বর এই হামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে দিয়েছে।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
লিবিয়ায় অপহৃত ২৩ বাংলাদেশি উদ্ধার

লিবিয়ার মিসরাতা শহরে ২৩ অপহৃত বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় দুজন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লিবিয়ায় বাংলাদেশি দূতাবাস এমন তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লিবিয়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে ২৩ জন অপহৃত বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে এবং এ ঘটনায় জড়িত দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। মিসরাতার আল-গিরান থানায় বেশ কয়েকজন বিদেশিকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি এই তদন্ত শুরু করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তদন্তের মাধ্যমে অপহরণকারী চক্রের অবস্থান চিহ্নিত করে পুলিশ সফল অভিযান পরিচালনা করে জিম্মিদের উদ্ধার করে। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত ব্যক্তি ও গ্রেপ্তারকৃতদের আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আল-গিরান থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিসরাতা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ দুটি ছবি যুক্ত করে পৃথক ফেসবুক পোস্টেও এ কথা জানিয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে বাংলাদেশ দূতাবাস মিসরাতার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে উদ্ধার বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রক্ষা করছে বলে জানিয়েছে।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
হাসপাতালে ভর্তি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিকে করাচির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
এতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ার পর তাকে করাচির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে, জ্বর এবং সংক্রমণের কথা জানানোর পর তাকে প্রথমে নওয়াবশাহ থেকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্ট জারদারির বেশ কয়েকটি মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা তার অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
দলীয় নেতারা জনসাধারণকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট জারদারির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং তিনি এখন ভালো আছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং আগামী দিনে আরও আপডেট পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিন্ধু প্রদেশের গভর্নর কামরান তেসোরির কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি প্রেসিডেন্ট জারদারির চিকিৎসক ড. আসিম হুসেনকে ফোন করে জারদারির স্বাস্থ্যের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং তার শুভকামনা জানিয়েছেন।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অসুস্থতার খবরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ প্রেসিডেন্ট জারদারির স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এ সময় প্রেসিডেন্ট জারদারির দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ।
তিনি তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করে বলেন, আল্লাহ আপনাকে পূর্ণ ও দ্রুত আরোগ্য দান করুন। সমগ্র জাতির দোয়া আপনার সঙ্গে রয়েছে।
এর আগে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিমান থেকে নামার সময় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের পা ভেঙে যায়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
শান্তিতে নোবেলের জন্য মনোনীত হলেন ইমরান খান

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন পুরস্কার নোবেলের জন্য মনোনীত হয়েছেন। পাকিস্তানে মানবাধিকার এবং গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাকে।
নরওয়ের রাজনৈতিক দল পার্টিয়েট সেন্ট্রামের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। জানা গেছে পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স (পিডব্লিউএ) নামের একটি অ্যাডভোকেসি গ্রুপের প্রচেষ্টায় ২০২৫ সালের শান্তিতে নোবেলের সম্ভ্যাব প্রার্থীদের তালিকায় ওঠানো সম্ভব হয়েছে ইমরান খানের নাম। পিডব্লিউএ পার্টিয়েট সেন্টরামের একটি অঙ্গসংগঠন।
এক্সে পোস্ট করা বার্তায় বলা হয়েছে, আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে পিডব্লিউএ এমন একজনকে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছে, যিনি এই পুরস্কারের জন্য হকদার। তিনি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পাকিস্তানে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে যে অবদান তিনি রেখেছেন, তা আমলে নিয়েই আমরা তার নাম সুপারিশ করেছি।
শক্তিশালী বিস্ফোরক ডিনামাইটের আবিষ্কারক ও সুইডিশ রসায়নবিদ আলফ্রেড বের্নহার্ড নোবেল ১৮৯৬ সালে মারা যান। মৃত্যুর আগে তার সমুদয় সম্পত্তি দান করার পাশাপাশি উইল করে গিয়েছিলেন যে প্রতি বছর যারা পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য ও শান্তিতে বিশেষ অবদান রাখতে পারবেন, তাদেরকে যেন এই সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত অর্থ থেকে পুরস্কৃত করা হয়। ১৯৬৯ সাল থেকে আগের ৫টির পাশাপাশি নতুন ক্যাটাগরি হিসেবে যুক্ত হয়েছে অর্থনীতি।
১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা শুরু হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ছেদ পড়লেও তারপর থেকে প্রতি বছরই এ ৬ বিভাগে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।
শুরু থেকেই পদার্থ, রসায়ন, সাহিত্য, অর্থনীতিতে নোবেল প্রদান করছে সুইডেনের রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি। অন্যদিকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করে আসছে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। প্রতি বছর শান্তিতে নোবেল মনোনীতদের যে তালিকা হয়, সেই তালিকার নাম সুপারিশ করে নরওয়ের পার্লামেন্ট ও রাজনৈতিক দলগুলো।
ইমরান খান অবশ্য এর আগেও একবার শান্তিতে নোবেলের জন্য মনোনীতি হয়েছিলেন। ২০১৯ সালে প্রথমবার নোবেলের জন্য মনোনীতি হন তিনি। সে সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান।
তবে পাকিস্তানের বিগত অন্যান্য প্রধানমন্ত্রীর মতো ইমরানকেও মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই বিদায় নিতে হয়েছে। ২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে বিরোধী এমপিদের অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি।
ক্ষমতা হারানোর পরপরই একের পর এক মামলা হতে থাকে ইমরানের বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালের আগস্টে তাকে কারাবন্দি করা হয়। বিভিন্ন মামলায় তাকে ১৪ বছর কারাবাসের সাজা দিয়েছেন আদালত। বর্তমানে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের আদিয়ালা কারাগারে আছেন তিনি।
১৯৫২ সালে পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লাহোরে একটি সম্ভ্রান্ত পশতু পরিবারে জন্ম নেন ইমরান খান। ইকরামুল্লাহ খান নিয়াজি-শওকত খানম দম্পতির একমাত্র পুত্র সন্তান তিনি। ইমরান খান ছাড়াও চার কন্যা রয়েছে এই দম্পতির।
পাকিস্তানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার পর যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান তিনি। ভর্তি হন বিশ্ববিখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি।
তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের উত্থানও এই সময়ই। ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে খেলতেন তিনি। সেই সুবাদে পাকিস্তানের জাতীয় দলেও নিয়মিত হন এবং সেই ধারাবাহিকতায় একসময় জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়কও বনে যান।
গত শতকের সত্তরের দশকের মাঝামাঝি ও শেষের দিকে লন্ডনে তিনি পরিচিত ছিলেন প্লেবয় হিসেবে। ১৯৯৫ সালে যুক্তরাজ্যের ধনকুবের জেমস গোল্ডস্মিথের মেয়ে জেমিমা গোল্ডস্মিথকে বিয়ে করেন তিনি। সুলাইমান ইসা ও কাসিম নামে এই দম্পতির দুই সন্তানও রয়েছেন।
২০০৪ সালে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তারপর টিভি সাংবাদিক রেহাম খানকে বিয়ে করলেও অল্প সময়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে তাদের। ইমরানের বর্তমান স্ত্রীর নাম বুশরা বিবি।
১৯৯৬ সালে পিটিআই প্রতিষ্ঠার পর থেকে পুরোপুরি রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। তবে রাজনীতিতে তার প্রকৃত উত্থান শুরু হয় ২০১১ সাল থেকে। ওই বছর দুর্নীতি, বিদ্যুৎ ঘাটতি, শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সংকট এবং বেকারত্বের বিরুদ্ধে টানা আন্দোলন শুরু করেন তিনি, যা দেশটির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়। মূলত পাকিস্তানের গণতন্ত্র ও উন্নয়নকামী তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয়তার ওপর ভর করেই ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হন ইমরান।
পাকিস্তান ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয় করেছে মাত্র একবার, ১৯৯২ সালে। সেই ক্রিকেট টিমের অধিনায়ক ছিলেন ইমরান খান। গত বছর রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানকে একটি কল্যাণমূলক ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে রাজনীতিতে এসেছিলেন তিনি।