অর্থনীতি
রমজানে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে: বাণিজ্যসচিব

দেশে নিত্যপণ্যের আমদানি স্বাভাবিক আছে। তাই রোজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ।
বুধবার (৩ জানুয়ারি) সচিবালয়ে পবিত্র রমজান উপলক্ষে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের রমজান ৯ মার্চ শুরু হতে পারে। যদিও এটা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। সেই উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা প্রস্তুতিমূলক সভা করেছি। আমদানিকারক সমিতি, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সবাই ছিলেন। আমাদের মূল উদ্দেশ্য, রমজানের সময় বাজারে তেল, চিনি, চাল, ছোলা, খেজুর ও পেঁয়াজসহ যেসব পণ্যের বেশি চাহিদা থাকবে, সেগুলোর মজুতের পরিমাণ কী, এবং আগামী মাসে আরও কী পরিমাণ আসছে, আসার পরে চাহিদা ও যোগানের মধ্যে ভারসাম্য আছে কি না; সেটা দেখা। আবার আমদানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কোনো সমস্যা আছে কি না, বা বন্দরে মাল খালাসের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা আছে কি না, বৈঠকে সেসব বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।
সচিব বলেন, আমদানি মোটামুটি স্বাভাবিক আছে। আমরা জানি যে, আগে থেকেই অর্থাৎ প্রায় সাত-আট মাস ধরেই চিনি আমদানি একটু কম ছিল, সেটার প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন কারণে চিনির আমদানি করা যাচ্ছিল না, যেমন ভারত চিনি রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে, ব্রাজিল থেকে আনতেও কিছু বাধা ছিল। এখন নতুন করে আমরা জানি যে, জাহাজের ক্ষেত্রে লোহিত সাগরের চ্যানেলে কিছুটা সমস্যা হয়েছে।
তিনি বলেন, পেঁয়াজের ক্ষেত্রে আমরা ভালো অবস্থানে চলে যাবো। নতুন পেঁয়াজ আসবে। ভোজ্য তেলের মধ্যে সয়াবিন ও পাম তেল আমদানি হচ্ছে। আগামী দু-মাসে আরও আমদানি হবে। আলোচনা করে দেখলাম, খেজুরের ক্ষেত্রেও একটা সমস্যা হচ্ছে। খেজুরের শুল্ক নিয়ে একটা দাবি আমদানিকারকদের আছে। তাদের অভিযোগ, এনবিআর থেকে অ্যাসেসম্যান্ট ভ্যালু অনেক বেশি রাখা হচ্ছে। সেটা কমানোর জন্য আমরা লিখেছিলাম। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, মাল অনেক ক্ষেত্রে বন্দরে এসে গেছে। খালাস হচ্ছে না। আগামীকাল চট্টগ্রাম বন্দরে আমরা খবর নেবো। যদি এ ধরনের বিষয় হয় যে ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে, কিন্তু সেটির সেটেলড হয়েছে অনেক কম, এটা আলোচনা করে ফয়সালা করতে হবে। যাতে আগামী দুই মাসের মধ্যে খেজুর চলে আসে।
রমজান উপলক্ষে কতটা বাড়তি আমদানি করতে হবে? প্রশ্নে তিনি বলেন, সাধারণত বছরে বা মাসিক যে চাহিদা থাকে, রমজানে সেটা দ্বিগুণ হয়ে যায়। যেমন মাসে হয়ত দেড় লাখ টন সয়াবিন তেল লাগে, রমজানে সেটা তিন লাখ টন লাগে। রমজানে চিনিও লাগে দেড় লাখ টনের মতো, যেটা স্বাভাবিক সময়ে ৭৫ হাজার টন। বেশির ভাগ পণ্যই দেড় থেকে দুই গুণ বেশি চাহিদা থাকে। আর সারা বছরে খেজুরের যে চাহিদা, সেটার অর্ধেকটাই রমজানে, ৫০ হাজার টন।
এ বর্ধিত চাহিদা মেটাতে বৈঠক করা হয়েছে। রমজান সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা একটু বেশিই আমদানি করেন, আমরা সেটাকে সহায়তা দেওয়ার জন্য, বন্দর থেকে খালাস কিংবা এনবিআরের শুল্ক নিয়ে যদি কোনো সমস্যা থাকে, সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করবো। বাংলাদেশের ব্যাংকের বিষয়েও কথা হয়েছে। অনেক সময় শতভাগ মার্জিন দিয়ে এলসি খুলতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা চাচ্ছন, এটা কমিয়ে দেওয়া বা শূন্য করা যায় কি না। এটা নিয়েও আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি লিখবো।
আমদানি সহজ করে দেওয়া, যাতে পণ্যগুলো বাজারে সহজলভ্য হয়। আমাদের মূল্য উদ্দেশ্য সেটা। কারণ দামের ক্ষেত্রেও সেটার প্রভাব পড়বে। আমরা যদি পণ্যের যথেষ্ট যোগান দিতে পারি, তাহলে ভোক্তারা দামের ক্ষেত্রে সুবিধা পাবেন। রমজানে খুব ভালোভাবেই এসব পণ্য সরবরাহ করতে পারবো বলে আশা করছি।
রমজান সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য যাতে সহজে আমদানি করতে পারেন ব্যবসায়ীরা, এ জন্য ব্যবসায়ীরা যাতে সহজে এলসি খুলতে পারেন, সে জন্য অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া অনেকক্ষেত্রে শতভাগ মার্জিন নেওয়া হচ্ছে। এটা আমদানিকারকরা অভিযোগ করেছেন। এসব পণ্যের আমদানিকারকদের দাবি হচ্ছে, তারা শূন্য মার্জিনে আমদানি করতে চান। এটা অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিষয় না, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিজেরাই করতে পারে।
কারণ রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য আসবে, সেটার যদি মার্জিন কম রাখেন, তাহলে ভোক্তাদের লাভ হবে। তারা কম দামে পণ্যটি পেতে পারেন। আশা করি, বাণিজ্য ব্যাংকগুলো সেই ভূমিকা রাখবে। তাদেরও এ বিষয়ে লিখবো।
রমজানে প্রতিবছরেই পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এর প্রভাব নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমদানিমূল্যের ওপর নির্ভর করে পণ্যের দাম। জাহাজে আনতে কত খরচ হয়, বিমায় কত দিতে হয়! সবকিছু মিলিয়ে দাম নির্ধারিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি থাকলে এখানেও দাম বেশি হবে, কম হলে কম হবে। আজ পর্যালোচনা করে দেখেছি, তেল ও চিনির দাম আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীল আছে। খুব একটা বেশির দিকে না। এর মধ্যে ডাল, ছোলার দামও স্থিতিশীল আছে। পেঁয়াজের দামও কমে যাবে।
রমজানের প্রথম সাতদিন ভোক্তারা একটু বেশি কেনাকাটা করেন, এ কারণে তখন দাম একটু বেশি হয়ে যায়। আশা করি, ভোক্তারাও এ বিষয়ে সচেতন থাকবেন। রোজার প্রথম কয়েকটা দিন যাওয়ার পর দাম কমে আসে, স্থিতিশীল হয়ে যায়। আগে কিনলে লাভবান হতে পারবেন না। রমজানে যেসব পণ্য বেশি প্রয়োজন হয়, সেগুলো আমদানি করতে যাতে ডলার থাকে, সেটা আমি বলেছি। এলসি খুলতে যাতে কোনোভাবে নিরুৎসাহিত করা না হয়। রমজানে যাতে পণ্যের ঘাটতি না হয়।
আমি চাইবো, গত বছর আমরা ৮টি পণ্যের জন্য বিশেষভাবে এলসি খোলার ব্যবস্থা করতে লিখেছিলাম। এ বছরে ৬টি পণ্যের জন্য লিখেছি। এগুলো নিয়েই মূলত আজ আলোচনা করেছি। কালকেই এ বিষয়ে চিঠি লিখবো।
সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম এখনো কমছে না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বলেছিলাম, কৃষিপণ্যের দাম কমে আসবে। সেটার দাম কমে এসেছে। আরও কমে যাবে। পেঁয়াজ ও আলুসহ যেসব পণ্য এসময়ে বাজারে উঠে, সেগুলোর দাম কমে এসেছে, আরও কমবে। পেঁয়াজের দাম আরও কমে যাবে। আলুর দাম আরও কমে যাবে।
তিনি বলেন, সমসময়ই নতুন আলুর দাম বেশি থাকে। আর পুরোনো আলু সব খাওয়া শেষ হয়ে গেছে। ডিমের দাম স্থিতিশীল। ডিমের দাম নিয়ে আমি কোনো সমস্যা দেখছি না। সারাবছর যে পণ্যের দাম একই রকম রাখা যাবে, সেটা না।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

অর্থনীতি
ভারত থেকে এলো ১০ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন চাল

আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় (প্যাকেজ-৮) ভারত থেকে ১০ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল নিয়ে এমভি এইচটি ইউনাইট জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
আজ বৃহস্পতিবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় ভারত থেকে মোট ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি প্যাকেজে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। ইতোমধ্যে চুক্তি অনুসারে ৩ লাখ ৬ হাজার ৭৬৯ মেট্রিক টন চাল দেশে পৌঁছেছে।
জাহাজে রক্ষিত চালের নমুনা পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং চাল খালাসের কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
অর্থনীতি
রোববার থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু

ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে টানা ৯ দিন বন্ধ থাকার পর আগামী রবিবার (৬ এপ্রিল) আবার শুরু হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের সাশ্রয়ী পণ্য বিক্রি কার্যক্রম ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।
সংস্থাটি স্মার্ট পরিবার কার্ডের মাধ্যমে পরিবেশক বা সরবরাহকারীর দোকানের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করে। আবার স্মার্ট কার্ড ছাড়া সর্বসাধারণের জন্য ট্রাকে করেও তেল, ডাল, চিনি বিক্রি করে সংস্থাটি।
অন্যদিকে খোলাবাজারে বিক্রি বা ওএমএস কর্মসূচির আওতায় ট্রাকে করে সাশ্রয়ী দামে চাল ও আটা বিক্রি করে খাদ্য অধিদপ্তর। ট্রাকের পাশাপাশি নির্ধারিত পরিবেশকের দোকানের মাধ্যমেও চাল-আটা বিক্রি করে সংস্থাটি।
সরকারি এই দুটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, ঈদের আগে সর্বশেষ গত ২৭ মার্চ পর্যন্ত সাশ্রয়ী দামে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চালিয়েছিলেন তারা। সরকারি ছুটি শেষে ৬ এপ্রিল আবার এ কার্যক্রম শুরু হবে।
বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৬০ লাখ পরিবারের মধ্যে স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে পণ্য বিক্রি করে টিসিবি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মোট এক কোটি পরিবার কার্ডের বিপরীতে এ পণ্য বিক্রি করা হতো। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে এসব কার্ডের মধ্যে একটি বড় অংশ অযোগ্য বা ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করে। পাশাপাশি নতুন করে উপকারভোগী চিহ্নিত করে নতুন স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রমও চলছে।
অন্যদিকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ট্রাকে করেও পণ্য বিক্রি করে টিসিবি। প্রতিদিন রাজধানীর ৫০টি স্থানে, চট্টগ্রাম নগরীর ২০টি স্থানে এবং বিভাগীয় শহরের পাশাপাশি কিছু শ্রমঘন জেলায় ট্রাকে পণ্য বিক্রির এ কার্যক্রম পরিচালনা করে সংস্থাটি। টিসিবির প্রতিটি ট্রাকে ২০০ জনের পণ্য থাকে। যদিও টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ ভিড় করেন প্রতিদিন।
কাফি
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
অর্থনীতি
আট মাসে বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে ৪.৪১ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) বৈদেশিক বাণিজ্যে নেতিবাচক অবস্থা কমেছে। সেই সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে ৪.৪১ শতাংশ৷ এদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এমনটা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ৩ হাজার ৩৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে এবং ৪ হাজার ৩৭৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। এর ফলে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭০ কোটি ডলার।
গত অর্থবছরের একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৪৩৩ কোটি ডলার, যা এ সময়ের তুলনায় ৪.৪১ শতাংশ কমেছে। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ভালো খবর, যা মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
প্রতিবেদনটি আরও বলা হয়েছে , চলতি হিসাবের লেনদেনে ঋণাত্বক অবস্থান ছিল ১২৭ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরে (২০২৩-২৪) ৪০৭ কোটি ডলার ছিল।
সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে (ওভারঅল ব্যালান্স) ঘাটতিও কিছুটা কমেছে। জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে এ সূচকে ঘাটতি ছিল ১১০ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যেখানে গত মাসে এটি ছিল ১১৭ কোটি ডলার। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি ছিল ৪৪৪ কোটি ডলার।
তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ১৮.৪৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২.৬ শতাংশ বেশি। গত বছর একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৫.০৭ বিলিয়ন ডলার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রবাসী আয়ের বা রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে এবং রপ্তানি আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রপ্তানি পণ্যের দাম সঠিকভাবে নির্ধারিত হওয়ায় আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। একইসঙ্গে শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ব্যয় খুব একটা বাড়েনি, যার কারণে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ কমে এসেছে।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
অর্থনীতি
কুয়েতে স্বর্ণের দামে রেকর্ড

বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কুয়েতে রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে স্বর্ণের মূল্য। গত এক মাসের ব্যবধানে গ্রাম প্রতি তিন থেকে চার দিনার বৃদ্ধি পেয়েছে স্বর্ণের দাম। অল্প সময়ের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় হতাশ সাধারণ ক্রেতারা। গত এক মাসের ব্যবধানেই গ্রাম প্রতি বেড়েছে তিন দিনার। আর ভরিতে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা বেশি।
কুয়েতে স্বর্ণের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতি মিনিটে পরিবর্তন হতে থাকে। দেশটির প্রত্যেকটি স্বর্ণের দোকানে কুয়েত সরকার নির্ধারিত অনলাইন মূল্য তালিকা রয়েছে। দিন দিন মূল্য বৃদ্ধির কারণে অনেক ক্রেতাই এখন স্বর্ণ কিনতে দ্বিধায় ভুগছেন।
তবে দাম আরও বাড়তে পারে এই আশঙ্কায় ভবিষ্যত প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে কেউ কেউ স্বর্ণ কিনে রাখছেন। ক্রেতারা বলেন, সপ্তাহ ব্যবধানে স্বর্ণের দাম অনেক বেড়েছে। সামনে আরও বাড়তে পারে। তাই ভবিষ্যতে বিয়ে, অনুষ্ঠান ও প্রিয়জনকে উপহার দেয়ার জন্য কিনে রাখতে হচ্ছে।
তবে স্বর্ণের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনাও বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, উৎসবের মৌসুম থাকায় স্বর্ণের দাম বাড়ার পরও বেড়েছে বেচাকেনা। তাছাড়া সামনে আরও দাম বাড়ার আশঙ্কায় মজুতও করছেন অনেকে।
কুয়েতে স্বর্ণ বিক্রি হয় গ্রাম হিসেবে। তারা ২১ ক্যারেট অথবা ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের অলংকার ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আর প্রবাসী বাংলাদেশিদের পছন্দের শীর্ষে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণে।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
অর্থনীতি
ক্রেতা কমলেও বেড়েছে গরু ও মুরগির মাংসের দাম

ঈদুল ফিতরে সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব পড়েছে বাজারে। যে কারণে ক্রেতা কমলেও কমেনি মাংস, সবজির দাম। কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা করে বেড়েছে গরুর মাংস ও মুরগির দাম। তবে দুটি বাজার খুঁজেও মেলেনি খাসির মাংস।
পেঁয়াজ রসুনে স্বস্তি মিললেও গরুর মাংস আর মুরগির দামে অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।
রাজধানীর মিরপুরের উত্তর ও মধ্য পীরেরবাগের একাধিক মাংসের দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেজিতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে গরুর মাংসের দাম। কোনো দোকানে আরেকটু বেশি।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-২ উত্তর পীরেরবাগ ছাপড়া মসজিদ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজি, মাছ ও গরুর মাংসের দোকানে ক্রেতাদের ভিড়।
মরিয়ম গোস্ত বিতানের বিক্রেতা বাবুল মিয়া বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে প্রচুর গরু কাটছি। চাহিদা অনুযায়ী বিক্রিও ছিল বেশি। আজকে আর গরু কাটি নাই। তবে চাহিদা থাকায় মিরপুর-১ থেকে একমণ মাংস এনেছি। আর ৫ কেজি বিক্রি বাকি আছে। তিনি বলেন, গতকালও ৭৮০ টাকায় মাংস বিক্রি করছি। আজ ৮০০ টাকা বিক্রি করছি।
তবে কাদের গোশত বিতানে গরুর মাংসের দাম আরও ২০ টাকা বেশি, অর্থাৎ সেখানে ৮২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। পাইকারি এই দোকানে মুরগি ডিমসহ নিত্যপণ্য বিক্রি করা হয়।
কাদের গোশত বিতানের বাদশা মিয়া বলেন, আজও সবচেয়ে বেশি মাংসের চাহিদা। ঈদের আগের দিন থেকে এখানে ৮২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। দেশি মুরগি ৬০০ টাকা, ব্রয়লার ২৩০ টাকা, লেয়ার মুরগি বাজারে নেই। পাকিস্তানি কক ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিম মিলছে কমেই, ১২০ টাকা ডজন।
উত্তর পীরেরবাগ এলাকার একটি আবাসিক ভবনের এক বাসিন্দা বলেন, হাসপাতালে চাকরি করি। এ ঈদে ছুটি মেলেনি। বাসায় রাতে কিছু অতিথি আসবে। গরুর মাংস কিনতে এসে দেখি কেজি প্রতি ৪০ টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে। গত ৩ দিন আগেও গরুর মাংসের কেজি ছিল ৭৮০ টাকা। আজকে নিলো ৮২০ টাকা।
নির্মাণ শ্রমিক ফরহাদ গরুর মাংসের দাম শুনে কপালে ভাঁজ নিয়ে মুরগির দাম জানতে চান। সেখানেও বাড়তি দাম। বাধ্য হয়ে ৩৩০ টাকায় একটি পাকিস্তানি কক কিনে ফেরার পথে ফরহাদ বলেন, গরুর মাংস আমগো নাগালের না, মুরগিও দেখতাছি দাম বাড়তাছে। খামু কি? ৩৩০ টাকায় কক কিনে আমগো পোষায় না। কি করমু। ব্রয়লার আর কতো! একটা দিন তো কক খাইতে মন চায়।
মরিয়ম গোশত বিতানের মালিক বাবুল শিকদার বলেন, গরুই বেচতেছিলাম, খাসির মাংসের বাড়তি দাম, তাই দোকানেই তুলি নাই।
ব্রয়লার মুরগি কিনে মুসলিমা বেগম বলেন, কক ৩৩০ টাকা কেজি। কেমনে খামু কন! ব্রয়লারও যে খুব কম তা না, তবে দেড় কেজি ব্রয়লার কিনে যা বাঁচবে তা দিয়ে কিন্তু সবজি কেনা যায়। তাই কক বাদ দিয়ে ব্রয়লারই কিনতে হলো।
মধ্য পীরেরবাগ বিসমিল্লাহ গোশত বিতানে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা ভিড় করেও ফিরে যাচ্ছেন। মাংস শেষ। মালিক মো. জাহাঙ্গীর বলেন, প্রতি রমজানের ঈদে অন্তত ২০টা গরু কাটি। গতকালও ২টা কাটছি। আজ একটা, তা সকাল সকালই শেষ হয়ে গেছে।
মাছের সরবরাহ কমেছে বাজারে। যা আছে তাও ক্রেতা কম।
নদীর চিংড়ির কেজি ৭০০ টাকা, তবে লাল ও অন্য সাদা চিংড়ি ৬৬০ টাকায় মিলছে। রুই মাছ যেন ছুলেই দাম। ৪৬০ টাকা কেজি হাঁকিয়ে বেচা হচ্ছে ৪২০ টাকায়। তেলাপিয়া ১৮০ টাকা। নলা মাছ ১৬০ টাকা। ইলিশ ৭৬০ থেকে ১৩০০ টাকার মধ্যে আকার অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে।
মাছ বিক্রেতা তরিকুল ইসলাম বাজারে মাছের সরবরাহ কম। ক্রেতাও কম। যা পাইছি তাই বেচতাছি। ক্রেতারা তো মাছের চেয়ে মাংসই বেশি কিনতাছে।
ছাপড়া মসজিদ কাঁচাবাজারে গিয়ে জানা যায়, কিছু সবজিতে বেড়েছে দাম। দামে কাঁচা মরিচের ঝাঁজ নেই। কেজিতে টমেটোর দাম বেড়েছে ২০ টাকা। টমেটো ৬০ টাকা ও গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। আলু ২০-২৫ টাকায় মিলছে। তবে পটল ও শশায় অসন্তুষ্ট ক্রেতারা।
ছাপড়া মসজিদ কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা সেলিম মিয়া বলেন, বেগুন গত সপ্তাহে কিনেছি ৮০ টাকায়। গত সপ্তাহেও ঢেঁড়শ ছিল ৫০ টাকা, আজ তা ৬০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে, কেজি বাড়তি ১০ টাকা। গত সপ্তাহেও শশার দাম ছিল ৬০টাকা, আজ ৮০ বেচতে হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা পিস, কচুরলতি ৮০ টাকা কজি, ১০ টাকা বাড়তিতে করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা। ৫০০ গ্রাম ওজনের ছোট পাতা কপির পিস ৫০ টাকা, ঝিঙা ৭০, চিচিঙ্গা ৭০, কাঁচা কলার হালি ৩০ টাকা। পেঁপে আর পটলে বিরক্ত ক্রেতারা। পটল ৮০, পেঁপে ৬০ টাকা।
হুসাইন আল মামুন নামে ক্রেতা বলেন, গরুর মাংসের সঙ্গে আলু আর পটল ভাল লাগে। আলুটার দাম ঠিক আছে। পটল যে ৮০! আর গরুর মাংসের দাম তো জানেনই ৮২০ টাকা! আমাদের মতো মধ্যবিত্তের ৬ সদস্যের পরিবারের জন্য এটা বেশিই।
ধনেপাতার ১০০ গ্রাম ২৫ টাকায় বিক্রি হলেও লেবুর দাম ফের বেড়েছে। ছোট ছোট লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।
সবজি বিক্রেতা আলমগীর বলেন, টমেটো ও গাজরের দাম বাড়তি। পেঁপে ও পটলে বিরক্ত ক্রেতারা। কিন্তু কিছু করার নাই। কেনাই তো বাড়তি আমাদের।