বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ঘিরে ফিক্সিং ও দুর্নীতির অভিযোগে এক ক্রিকেটারসহ পাঁচজনকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবির অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে বেটিং (জুয়া), দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড, তদন্তে অসহযোগিতা এবং তদন্ত কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় বিসিবি। নিষেধাজ্ঞা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- চট্টগ্রাম রয়্যালসের টিম ম্যানেজার মো. লাবলুর রহমান, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহ-মালিক তৌহিদুল হক তৌহিদ, রংপুর রাইডার্সের সাবেক ক্রিকেটার এবং চলমান ডিপিএলে রূপগঞ্জ টাইগার্সের হয়ে খেলা অমিত মজুমদার, নোয়াখালী ফ্র্যাঞ্চাইজির ম্যানেজার রেজওয়ান কবির ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের টিম ম্যানেজার সামিনুর রহমান।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অভিযোগের নোটিশ পাওয়ার দিন থেকে ১৪ (চৌদ্দ) দিনের মধ্যে তাদের জবাব দিতে হবে। তবে সামিনুর রহমানকে ‘নোটিশ অব ইনটেনডেড এক্সক্লুশন অর্ডার’ দেওয়ায় তার আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো অধিকার নেই। এই পর্যায়ে বিসিবি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করবে না।
বিপিএলে ফিক্সিংয়ের অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ৯ মাদ ব্যাপী তদন্তের পর একই বছরের অক্টোবরে বিসিবির কাছে ৯০০ পৃষ্ঠার তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয় তদন্ত কমিটি। তদন্তের মূল বিষয়গুলো ছিল বেটিং সংক্রান্ত কার্যক্রম, দুর্নীতির প্রস্তাব, কোডের ধারা ৪.৩-এর অধীনে ইস্যু করা ডিমান্ড নোটিশ পালনে ব্যর্থতা, সংশ্লিষ্ট তথ্য ও যোগাযোগ গোপন বা মুছে ফেলা এবং নির্ধারিত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তার (ডিএসিও) সাথে তদন্তে সহযোগিতা না করা।
তদন্ত কমিটির সেই রিপোর্ট পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করেন বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল। সেই যাচাই-বাছাইয়ে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতেই এবার নিষিদ্ধ হলেন এই পাঁচ জন।