জাতীয়
শপথ নিলেন নবনির্বাচিত দুই এমপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে স্পিকারের কার্যালয়ে তাদের শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
শেরপুর-৩ আসন থেকে বিজয়ী মাহমুদুল হক রুবেল এবং বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিজয়ী রেজাউল করিম বাদশা শপথ গ্রহণ শেষে রীতি অনুযায়ী শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
উল্লেখ্য, বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে সাধারণ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। বগুড়া-৬ আসনে রেজাউল করিম বাদশা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৩১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৫৯ ভোট। অন্যদিকে, ফুলকপি প্রতীকে আল আমিন তালুকদার পেয়েছেন ৫২৬ ভোট।
শেরপুর-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাসুদুর রহমান পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১ ভোট। এ ছাড়া বাসদের (মার্কসবাদী) কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৪৮০ ভোট।
জেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনে ৪২ দশমিক ৫৭ শতাংশ ভোট পড়েছে (পোস্টাল ব্যালট ছাড়া)। প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩২৬।
জাতীয়
সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের সম্পত্তি নয়: প্রধানমন্ত্রী
সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই সশস্ত্র বাহিনীর একমাত্র পবিত্র দায়িত্ব।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে সেনানিবাসের দরবার হলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়েও নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
২০২৪ সালেল ৫ আগস্ট পরবর্তী এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো আমলে সেনাবাহিনীর ভূমিকা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সেনাবাহিনী স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে।
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে বাংলাদেশকে কখনও কেউ পরাজিত করতে পারবে না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশপ্রেমের যে অগ্নিশিখা সেনাবাহিনীর মধ্যে জ্বালিয়েছিলেন, তা যেন নিভে না যায়।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে অংশগ্রহণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে বিএনপি সরকারই অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই সেনাবাহিনীর একমাত্র পবিত্র দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, শুধু সেনাবাহিনী নয়, দেশের প্রতিটি সেক্টর সংস্কার ও প্রতিটি মানুষের উন্নয়নের ইশতেহার আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। রাষ্ট্র মেরমতের লক্ষ্যে বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল। জুলাই সনদের প্রতিটি দফা ঠিক যেভাবে ছিল, সেভাবেই বাস্তবায়নে এই সরকার বদ্ধপরিকর।
জাতীয়
হাম মোকাবিলায় সরকার বদ্ধপরিকর, শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী টিকাদান : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
হাম মোকাবিলায় সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে আমরা বাংলাদেশের বড় সিটি কর্পোরেশনগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করলাম। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর কড়াইল বস্তির এরশাদ মাঠে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তথ্য বিশ্লেষণ করে দেশের ১৮টি জেলার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলাকে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব এলাকায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত ৫ এপ্রিল থেকেই জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি করেছে মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে আমাদের এক মিনিটও অপেক্ষার সময় নেই। আমরা অতি গুরুত্বসহকারে দ্রুততমভাবে এই কাজগুলো করছি। জনগণের কাছে আপনাদের সেই কথাগুলো তুলে ধরতে হবে। তাহলে জনগণ যে আশা নিয়ে যে স্বপ্ন নিয়ে স্বৈরাচারের বাংলাদেশ থেকে নতুন গণতন্ত্রে বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আমাদের ভোট দিয়েছেন, সমর্থন দিয়েছেন, আমরা তাদের সেই স্বপ্নকে পূরণ করতে পারব। তাদের সেই সমর্থনকে ধরে রাখতে পারব।
সরকারে আসার পর থেকে আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি উল্লেখ করে স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা মানুষের জন্য কাজ করছি। কিন্তু যদি আমরা বারবার মানুষের কাছে যেতে পারি, মানুষ জানবে আমাদের কাজের ফল এই সুযোগে আমরা তাদের কাছে যাব। তাদের জন্যই আমরা কাজ নিয়ে এসেছি। আর এটি হল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ শিশুদের সুরক্ষা।
তিনি বলেন, মানুষ অনেক সময় বলেন আমরা রাজনীতিবিদরা নির্বাচনের সময় আসি তারপরে ভুলে যাই। এই ক্যাম্পেইনটি একটি সুযোগ।
অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেন, আপনারা যখন জনগণের কাছে সঠিক তথ্য নিয়ে যাবেন, তখন মানুষ প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করতে পারবে। আমাদের সরকার ও দলের বিরুদ্ধে অতীতেও অপপ্রচার হয়েছে, এখনও হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা স্বাভাবিকভাবেই আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা করবে, কিন্তু জনগণ এখন অনেক সচেতন।
তিনি আরও বলেন, মায়েদের উদ্দেশ্য করে বলতে চাই। যাদের বয়স ৬ মাস থেকে পাঁচ বছরের কম তাদের অবশ্যই এই টিকার আওতায় আনবেন। এই টিকা সফল হবে কি হবে না, আমাদের সন্তানরা সুস্থ থাকবে কিনা শুধু আপনার একজন বাচ্চা টিকা নিল কিনা তার ওপর নির্ভরশীল নয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, হাম একদিকে যেমন দ্রুত ছড়ায়, অন্যদিকে সঠিক সময়ে টিকার মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করাও বেশ সহজ। এটি মূলত ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা গোষ্ঠীগত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মতো কাজ করে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর বড় অংশকে যদি টিকার আওতায় এনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা যায়, তবে ওই এলাকার সব শিশু সুরক্ষিত থাকবে। অধিকাংশ শিশুকে এই টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হলে হাম ছড়ানোর আর কোনো সুযোগ থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, ডিএনসিসির নিজস্ব কোনো জেনারেল হাসপাতাল নেই। তবে মহাখালীতে আমাদের একটি স্থাপনা রয়েছে, যা বর্তমানে কোভিড হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত। আমি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমি চাই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ভবনে আমাদের ব্যবস্থাপনায় নগরবাসীকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে। সেই লক্ষ্যে আমরা সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতাল গড়ে তুলতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আমি সম্প্রতি ওই হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম এবং সেখানে কিছু অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করেছি। সেখানে একটি জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মানুষ সহজেই চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি দলের সদস্যরাসহ আরও অনেকেই।
জাতীয়
সামনে পরীক্ষা, তাতে তুমিও ফেল, ছয়মাস পর আমিও ফেল : শিক্ষামন্ত্রী
সাধারণত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সবার শেষে একটা দীর্ঘ বক্তব্য দেন। তবে এবার শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দেখালেন ভিন্ন কিছু। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহী গিয়ে মঞ্চে উঠলেন, শুনলেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সমস্যার কথা। সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপও নেন মন্ত্রী।
পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শিক্ষার্থীরা অভিযোগ জানিয়ে বলেন, নিয়মিত ক্লাস হয় না। নেই হাতে-কলমে শেখার মেশিনারিজ। ল্যাবের যন্ত্রপাতি সব পুরনো। নেই দক্ষ শিক্ষকও।
শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগ শুনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘সামনে পরীক্ষা। তাতে তুমিও ফেল, ছয়মাস পর আমিও ফেল। কারো বাঁচার উপায় নেই।’
আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে স্কিল কম্পিটিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী গতানুগতিক বক্তব্য না দিয়ে শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও সংকটের কথা শোনেন।
মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী নিহাল উদ্দীন সরকার বলেন, ‘আমাদের ঠিকমতো ক্লাসই হয় না। প্র্যাকটিক্যাল কাজ আটকে যায়। ক্লাসে কিছুই বুঝতে পারি না।’
ওই শিক্ষার্থীর সমস্যার কথা শুনে তার বিভাগের শিক্ষক মাশফিকুর রহমানকে ডেকে কারণ জানতে চান মন্ত্রী।
ওই শিক্ষক জানান, ১৯৬৩ সালে নির্মিত ভবনে ক্লাস ও ল্যাবের কাজ চালাতে হচ্ছে। মেশিনারিজ বলতে কিছুই নেই। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় পড়ানোর জন্য যেসব সুবিধা দরকার, তার কিছুই নেই। ফলে শিক্ষকরা চাইলেও শেখাতে পারেন না।
আবুজর গিফারি নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অষ্টম সেমিস্টারে আমাদের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর কথা। কিন্তু আমাদের সেভাবে পাঠানো হয়। পাঠালেও ভালো প্রতিষ্ঠানে আমাদের নেওয়া হয় না। কাউকে ঢাকার প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় না।’
ঢাকার ভালো প্রতিষ্ঠানে না পাঠানোর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী রাজশাহী পলিটেকনিকের প্রিন্সিপালের কাছে জানতে চান। কিন্তু প্রিন্সিপাল জানান, ইন্ডাস্ট্রির লোকজন শিক্ষার্থীদের নিতে চান না।
তখন শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির চুক্তি আছে। ছাত্রদের অবশ্যই নিতে হবে। মেশিনারি ব্যবহার করতে দিতেই হবে। কেন দিচ্ছে না তার খোঁজ নিতে হবে। আমরাও খোঁজ নেব, কথা বলব।’
কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে সরকার কাজ করবে জানিয়ে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন শিক্ষায় যত টাকা লাগে, তা দেবেন। কিন্তু আমি তো নিতে পারছি না। কত নেব, কিভাবে নেব, কোথায় খরচ করব? আমাকে তো প্রকল্প হাতে নিতে হবে। যেখানে যেখানে সমস্যা, সেখানে কাজ করব। তা সমাধানে প্রকল্প হাতে নেব। সেজন্য আমরা শিক্ষার্থীদের কথা শুনছি। ওরা কি চায়, সেটা জানার চেষ্টা করছি।’
মন্ত্রীকে এক শিক্ষক জানান, পলিটেকনিকের ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে যাচ্ছে। এ ঝরেপড়া ঠেকাতে সরকারকে উদ্যোগ নিতেও অনুরোধ জানান তিনি।
পাশাপাশি ৭ বছর ধরে চাকরি করলেও বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করেন ১৯ জন শিক্ষক। মন্ত্রী তাদের পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে আত্তীকরণ করার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি রাজশাহী পলিটেকনিকের সব সমস্যা লিখিতভাবে পাঠাতে অধ্যক্ষকে নির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বজলুর রশীদসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
ঢাকার যেসব ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল পাস চালু, আবেদন করবেন যেভাবে
জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ চালু করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। প্রাথমিকভাবে রাজধানীর দুটি ফিলিং স্টেশনে এই সেবা চালু করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলটিং) শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে কিউআর কোডের মাধ্যমে জ্বালানি সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি বিভাগ জানায়, তাদের আওতাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের উদ্যোগে তৈরি এই অ্যাপটি প্রথম পর্যায়ে মোটরসাইকেলচালকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
এতে জানানো হয়, ঢাকার তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এবং আসাদগেটের সোনার বাংলা ফুয়েল স্টেশনে এটি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাইলটিং সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব ধরনের যানবাহনের জন্য এটি চালু করা হবে।
জ্বালানি বিভাগ জানায়, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জ্বালানি বিতরণের কারণে নানা জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানজট ও লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে।
একই ব্যক্তি একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করছেন, এতে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম সংকট। বর্তমান এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থাটি চালু করা হয়েছে।
ডিজিটাল এই ব্যবস্থায় প্রতিটি ব্যবহারকারীর জন্য একটি কিউআর কোড তৈরি হবে। ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নেওয়ার সময় কোড স্ক্যান করলেই নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী নেওয়া যাবে জ্বালানি।
ফিলিং স্টেশন মালিকরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে জ্বালানির বরাদ্দ নথিভুক্ত করবেন। চালকরা কিউআর কোড স্ক্যান করে জ্বালানি গ্রহণ ও নিজেদের বরাদ্দ দেখতে পারবেন। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে পুরো দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
এ ছাড়া যাদের স্মার্টফোন নেই, তারা ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে কিউআর কোড ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে ব্যবহার করতে পারবেন। নতুন এই ব্যবস্থাটি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।
এ ব্যবস্থার ফলে যানবাহনভিত্তিক তথ্য যাচাই সহজ হবে এবং জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আবেদন প্রক্রিয়া
গুগল প্লে স্টোর থেকে ফুয়েল পাস নামের অ্যাপটি মুঠোফোনে ইন্সটল করে নিতে হবে। এর পর অ্যাপে প্রবেশ করে ফোন নম্বর ভেরিফাই করে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও অন্যান্য তথ্য প্রদান করে পাসওয়ার্ড দিয়ে রেজিস্ট্রেশনপ্রকিয়া শেষ করতে হবে।
জাতীয়
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টারের পদত্যাগ
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ওই পোস্টে আকবর হোসেন লিখেছেন, ‘ডিয়ার অল—লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার পদ থেকে আমি পদত্যাগ করেছি। একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে সেখানে দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টির সঙ্গে অন্য কোনো কিছুর সম্পর্ক নেই। ধন্যবাদ।’
২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার হিসেবে তাকে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
তবে তার পদত্যাগের বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রেস মিনিস্টার হিসেবে যোগদানের আগে তিনি বিবিসি বাংলার ঢাকা অফিসে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।



