অর্থনীতি
৩৪.৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ
দেশে এখন মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৩৪ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি ‘বিপিএম-৬’ অনুসারে দেশে রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৈদেশিক লেনদেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং আমদানি ব্যয়ের ওপর নির্ভর করে রিজার্ভের এই অবস্থান নির্ধারিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির ধারা রিজার্ভকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রিজার্ভের এই অবস্থান দেশের বৈদেশিক লেনদেন সক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে এই রিজার্ভ একটি প্রধান নিরাপত্তা বেষ্টনী হিসেবে কাজ করে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিপিএস-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ হিসাব করা হলে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত হয়, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
অর্থনীতি
বাংলাদেশ ব্যাংক সংশোধনী বিল পাস, বয়সসীমার বাধা শেষ
জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধনী) বিল ২০২৬’, যার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৭ বছর বাতিল করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে বয়স নির্বিশেষে অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিদের এ পদে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন পায়। নির্দিষ্ট ধারাগুলোর ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় বিলটি মূল আকারেই গৃহীত হয়।
নতুন আইনে গভর্নরের চার বছরের মেয়াদ এবং পুনর্নিয়োগের সুযোগ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে পূর্বের আইনে থাকা ৬৭ বছর বয়সসীমার বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে, যেখানে বলা ছিল ওই বয়স পূর্ণ হলে গভর্নর পদে থাকা যাবে না।
আগের বিধান অনুযায়ী, গভর্নর চার বছরের জন্য নিয়োগ পেলেও ৬৭ বছর বয়সে বাধ্যতামূলক অবসরে যেতে হতো। নতুন সংশোধনের ফলে এখন সরকার প্রয়োজন ও যোগ্যতার ভিত্তিতে গভর্নর নিয়োগ বা বহাল রাখতে পারবে।
বিলের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, ব্যাংক তদারকি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ে গভর্নরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্দিষ্ট বয়সসীমা অনেক সময় অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিদের এ পদে নিয়োগে বাধা সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে নেপাল ও পাকিস্তান ছাড়া অধিকাংশ দেশেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের জন্য কোনো সর্বোচ্চ বয়সসীমা নেই, ফলে নতুন এই সংশোধন বৈশ্বিক চর্চার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অর্থনীতি
দেশে আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম। এবার ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকেই স্বর্ণের এ নতুন দাম কার্যকর হয়। আজ শুক্রবারও সারাদেশে একইদামে বিক্রি হবে স্বর্ণ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
স্বর্ণের দাম কমানোর সঙ্গে দেশের বাজারে কমানো হয়েছে রুপার দামও। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকায়।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
অর্থনীতি
গ্রামীণ ব্যাংক সংশোধন বিল সংসদে পাস
গ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩ সংশোধনের জন্য আনা গ্রামীণ ব্যাংক সংশোধন বিল ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩ সংশোধন কল্পে আনা একটি বিল গ্রামীণ ব্যাংক সংশোধন বিল ২০২৬ এই সংসদে উত্থাপনের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করছি।
এরপর ডেপুটি স্পিকারের অনুমতি সাপেক্ষে অর্থমন্ত্রী গ্রামীণ ব্যাংক সংশোধন বিল ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করে তা অবিলম্বে বিবেচনার প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
পরে ডেপুটি স্পিকার গ্রামীণ ব্যাংক সংশোধন বিল ২০২৬ অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গ্রহণ করার ভোটে দেন। এরপর বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। বিলটির দফা ওয়ারি কোনো সংশোধন না থাকায় তিনি বিলের দফাগুলো সংসদের সামনে পেশ করেন।
অর্থনীতি
চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে ৪ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে বলে অনুমান করেছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রভাব ধীরে ধীরে কমে যাবে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) প্রকাশিত এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে (এডিও) এমন প্রাক্কলন রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৩.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪.০ শতাংশ এবং আাগামী অর্থবছরে ৪.৭ শতাংশ হারে বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এই পূর্বাভাসে ভোগব্যয় ও বিনিয়োগের পুনরুদ্ধার প্রতিফলিত হয়েছে, যা সাধারণ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসার ফলে সম্ভব হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত অস্থায়ী সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্ন গত ত্রৈমাসিকে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করলেও, এর প্রভাব ধীরে ধীরে কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে একটি কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যা বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বহির্বাণিজ্য ও আর্থিক খাতের চাপ দ্বারা প্রভাবিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘নতুন সরকারের সংস্কার কর্মসূচি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার, বেসরকারি খাতের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়তার জন্য একটি সময়োপযোগী সুযোগ তৈরি করেছে। যথাযথ নীতি ও ধারাবাহিক সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতি আরও স্থিতিস্থাপক হবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরে যেতে পারবে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৯.০ শতাংশের কাছাকাছি উচ্চ অবস্থানে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে উচ্চ বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য এবং চলমান সরবরাহ বিঘ্ন। আগামী অর্থবছরে এটি কিছুটা কমে ৮.৫ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ বাহ্যিক চাপ কমবে এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
এডিবির মনে করছে, চলতি হিসাবের ঘাটতি অর্থবছরে জিডিপির ০.৫ শতাংশ হবে, যা আগামী অর্থবছরে সামান্য বেড়ে ০.৬ শতাংশ হতে পারে। এর প্রধান কারণ হবে আমদানি বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ঘাটতির প্রসার। তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ স্বল্পমেয়াদে স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এডিও অনুযায়ী ভোগ ও বিনিয়োগে মাঝারি প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে, যা শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং নির্বাচন-পরবর্তী সরকারি ব্যয়ের মাধ্যমে সমর্থিত হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ব্যবসা সহজীকরণের লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগও এতে সহায়ক হবে।
সরবরাহ দিক থেকে সেবা খাত পুনরুদ্ধার হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা গৃহস্থালির ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের সংস্কারের মাধ্যমে ত্বরান্বিত হবে। অনুকূল আবহাওয়া ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকলে কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। রপ্তানি বৃদ্ধি, সরবরাহ বাধা কমে আসা এবং অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে সরকারের জোর দেওয়ার ফলে শিল্প খাতেও প্রবৃদ্ধি বাড়বে।
তবে ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে, বিশেষ করে যদি সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, শিপিং রুট এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটলে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে পারে, যা দেশের অভ্যন্তরে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়াবে এবং অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণকে জটিল করে তুলবে।
এডিবি মনে করে, উচ্চ জ্বালানি মূল্য বাজেট ঘাটতিও বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যদি জ্বালানি ভর্তুকি বাড়ানো হয় বা মূল্য সমন্বয় সঠিকভাবে না করা হয়।
অর্থনীতি
জ্বালানি তেলের দাম কবে স্বাভাবিক হবে, জানালেন বিশেষজ্ঞরা
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘোষিত নাজুক যুদ্ধবিরতির পরও বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে সময় লাগবে, যা কয়েক মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সংঘাতের জেরে ইরান গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি চলাচল সীমিত করে দেয়। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বে মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং দাম হঠাৎ বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের আগে প্রতিদিন যেখানে ১২০–১৪০টি জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করত, সংঘাতের সময় তা নেমে আসে হাতে গোনা কয়েকটিতে। যুদ্ধবিরতির পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরান নাকি জাহাজ চলাচলে অতিরিক্ত ফি আরোপ করছে। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ফি নয়, বরং সরবরাহের অনিশ্চয়তাই দাম বাড়ার মূল কারণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার কারণে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও অন্যান্য জ্বালানির বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। তবে এই খাত পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ইতোমধ্যে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, সংঘাতের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ধীর করে দিতে পারে।
এদিকে বিশ্বজুড়ে তেলের সংকট সুরাহা হতে যেসব সংকট রয়েছে, সেগুলো নিয়ে প্রতিবেদন করেছে আলজাজিরা।
হরমুজ প্রণালি ও সরবরাহ জটিলতা: বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ জলপথটি কার্যত বন্ধ ছিল। চুক্তি অনুযায়ী এটি খুলে দেওয়া হলেও তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।
ট্যাংকারের দূরত্ব: যুদ্ধের কারণে বিশাল আকৃতির তেলবাহী ট্যাংকারগুলো বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এই জাহাজগুলো ফের উপসাগরীয় অঞ্চলে ফিরে এসে তেল লোড করতে কয়েক সপ্তাহ সময় নেবে।
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা: মাত্র দুই সপ্তাহের এই ‘ভঙ্গুর’ যুদ্ধবিরতির মধ্যে বড় বিনিয়োগ বা জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি নিতে এখনো অনেক কোম্পানি দ্বিধাগ্রস্ত।
তেলকূপ চালুর কারিগরি চ্যালেঞ্জ: দীর্ঘদিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় এবং অনশোর স্টোরেজ (তীরবর্তী মজুতাগার) পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের অনেক তেল উৎপাদনকারী দেশ তাদের কূপগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল।
ধীর প্রক্রিয়া: একটি তেলকূপ বা রিফাইনারি ফের চালু করা বৈদ্যুতিক সুইচ টেপার মতো সহজ কাজ নয়। এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ কারিগরি প্রক্রিয়া।
স্থাপনার ক্ষতি: যুদ্ধের সময় অনেক জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, যা মেরামত করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।



