রাজনীতি
সারা দেশে জামায়াত জোটের বিক্ষোভের ডাক
গণভোটের রায় কার্যকর করার দাবিতে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে বিক্ষোভ ও সেমিনারের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। ৯ এপ্রিল থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৯ এপ্রিল বিকেল ৫টায় রাজধানীর শাহবাগে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন হবে। এরপর ৯ এপ্রিল থেকে পরবর্তী এক সপ্তাহ দেশব্যাপী কর্মসূচি চলবে।
এর মধ্যে ১১ এপ্রিল দেশের সব মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল, ১২ এপ্রিল সব জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (মুক্তিযোদ্ধা হল) প্রাঙ্গণে জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের এক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা মাওলানা মামুনুল হক। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিএনপি গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, “৫ কোটি মানুষ ভোট দিয়ে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) খারিজ করে দিয়েছে। এখন সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সেই জনরায় উপেক্ষা করা হলে দেশ আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে ধাবিত হবে।’
এর আগে সকাল ১০টা থেকে আল-ফালাহ মিলনায়তনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জ্বালানিসংকট নিয়ে আলোচনা করেন ১১ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
রাজনীতি
নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম, সংসদে বিল পাস
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) ২০২৬ বিল পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরের অধিবেশনে এই বিলটি পাস হয়।
সন্ত্রাসবিরোধী বিল ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে বিলটি ‘হ্যাঁ’ ভোটে জয়যুক্ত হয়। এতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে।
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আগে থেকেই দেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইন থাকলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও জনমতের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে। সেই অধ্যাদেশে গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়, যার আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।’
এর আগে বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বৈঠক পুনরায় শুরু হয়।
রাজনীতি
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের
সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জরুরি বৈঠক শেষে দুপুর সাড়ে ১২টায় মগবাজার আল-ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
তিনি বলেন, আগামী ৯ এপ্রিল থেকে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি ও গণসংযোগ পালিত হবে। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে এ কর্মসূচি পালিত হবে। এছাড়া ১১ এপ্রিল দেশের সব মহানগরীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে। ১২ এপ্রিল সব জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি। ১৩ এপ্রিল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিনটিউটে জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
মামুনুল হক আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে নানা রকম ছলচাতুরি করছে। তারা সুস্পষ্টত মানুষের ম্যান্ডেটকে অপমাণ করেছে।
তিনি বলেন, দায়িত্বশীল জায়গা থেকে বিরোধী দল চুপ থাকতে পারে না। ফ্যাসিবাদের এই প্রত্যাবর্তনকে আমরা রুখে দেব। আমরা গণভোটের রায় যেভাবে হোক কার্যকর করবো। আমরা এই দাবির পক্ষে অব্যাহত কর্মসূচি পালন করে যাব।
এর আগে সকাল ১০টা থেকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জ্বালানি সংকট নিরসনের দাবিতে বৈঠক করে নির্বাচনি ঐক্যভুক্ত ১১ দলের শীর্ষ নেতারা।
রাজনীতি
সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেপ্তার
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বর্তমানে তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। তবে ঠিক কোন মামলার অধীনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি ডিবি কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ধারণা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
সাবেক এই স্পিকারের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন সহিংসতার ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রংপুরে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি আমলি আদালতে নিহত শ্রমিকের স্ত্রী দিলরুবা আক্তারের করা সেই মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরী ছাড়াও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, এই একই মামলায় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
রাজনৈতিক কর্মজীবনে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় সংসদের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি প্রথমবার স্পিকার নির্বাচিত হন এবং এরপর থেকে টানা চারবার এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে আসীন ছিলেন।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। তিনি মূলত আওয়ামী লীগের টিকিটে রংপুর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি স্পিকারের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন।
৫ আগস্টের পর থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরী জনসম্মুখে খুব একটা না আসলেও তার অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ছিল।
রাজনীতি
১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক মঙ্গলবার
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ইস্যুতে আন্দোলন কর্মসূচি বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডেকেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানী ঢাকার মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠক শেষে দুপুর ১২টায় একইস্থানে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে গত ২ এপ্রিল বৈঠক করেছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। ওই বৈঠকের পর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল-
বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং অবিলন্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বলা হয়, দাবি আদায় না হলে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সিদ্ধান্ত অনুযাযী গত শনিবার বিকেলে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা ও তা পালন করা হয়। পাশাপাশি গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ এবং জনমত গঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
এছাড়া আগামী ৭ এপ্রিল ১১ দলের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে আন্দোলনের রূপরেখা ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সেদিন জানানো হয়। সে অনুযায়ী মঙ্গলবার বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজনীতি
যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায় আদায় করা হবে: শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন, জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল হাইজ্যাক করা হলেও যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন. সংসদে জনগণের ভাগ্য নিয়ে যেন কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেজন্য আমরা লড়াই করে যাবো।
সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাগপার ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠের অহমিকায় বিএনপি ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে মন্তব্য করে আমির অভিযোগ করেন, শুধু ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়নি। অভ্যুত্থান পুরো ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে ছিল। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল হাইজ্যাক করেছে একটি পক্ষ।
হুঁশিয়ারি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায়কে আমরা আদায় করেই ছাড়ব। এই প্রজন্ম ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সজাগ রয়েছে। তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করবো।’
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, জ্বালানি সংকট ও হাম সংক্রমণ ইস্যু নিয়ে সংসদে কথা বলতে গেলেই আমাদের মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়। আমাদের নোটিশ আলোচনার জন্য উত্থাপন করা হয় না। সরকার বলছে, জ্বালানি সংকট নেই। কিন্তু আমি নিজের গাড়ির জন্যই প্রয়োজন মাফিক তেল পাই না।
আলোচনা সভায় বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি যোগ দেন কবি, সাহিত্যিকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
চলমান নানা সংকট ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা করেন অনুষ্ঠানে আসা বক্তারা। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বক্তব্য দেন তারা। সংসদে অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট হতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।



