আন্তর্জাতিক
যুদ্ধবিরতিতে ‘সমর্থন’ দিয়েও ইরানে ইসরাইলের হামলা
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও ইসরাইলি বিমান বাহিনী ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইলকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, সেই সময়ের পর থেকে ইরান ইসরাইলকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যুদ্ধবিরতিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। তবে ইসলাইল এখন পর্যন্ত হিহজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ করেছে এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীই এটি সম্ভব করেছে বলে দাবি তার। খবর আল জাজিরা’র।
প্রতিবেদন অনুসারে, লেভিট বলেছেন, শুরু থেকেই ট্রাম্প ধারণা করেছিলেন যে এই যুদ্ধ চার থেকে ছয় সপ্তাহ চলবে এবং ৩৮ দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ওয়াশিংটনের মূল সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জন ও অতিক্রম করেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি লিখেছেন, ‘আমাদের সামরিক বাহিনীর সাফল্য সর্বোচ্চ দর কষাকষির সুযোগ তৈরি করেছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার দলকে কঠিন আলোচনায় বসতে সক্ষম করেছে এবং এটি এখন একটি কূটনৈতিক সমাধান ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তির পথ খুলে দিয়েছে।’
ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে সক্ষম হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লেভিটের এই বক্তব্যের আগে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, তারা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে কারণ ‘যুদ্ধের প্রায় সব লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে’ এবং তারা ইসলামাবাদে আলোচনা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে তাদের ‘যুদ্ধক্ষেত্রের বিজয়’ রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে আরও সুসংহত করা যায়।
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধ থামাতে ১০ দফা প্রস্তাব দিল ইরান, থাকছে ইউরেনিয়াম ইস্যু
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে প্রস্তাবিত ১০ দফা শর্তে নিজেদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির স্বীকৃতির পাশাপাশি সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান।
বুধবার (০৮ এপ্রিল) দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি)- এর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া ১০ দফা শর্ত বাস্তবায়নে ‘হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অব্যাহত নিয়ন্ত্রণ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের স্বীকৃতি এবং সব প্রাথমিক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার’ প্রয়োজন হবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে দেওয়া এই প্রস্তাবে আরও রয়েছে—মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, ইরান ও তার মিত্রদের ওপর হামলা বন্ধ, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং যে কোনো চুক্তিকে বাধ্যতামূলক করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাব গ্রহণ।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানায়, এ ধরনের প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে তা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সব চুক্তিকে বাধ্যতামূলক করবে এবং এটি ইরানের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই ঘোষণার আগে ইরানের ওপর সম্ভাব্য বড় ধরনের মার্কিন হামলা ঠেকাতে মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) একটি সমঝোতা প্রস্তাব দেয় পাকিস্তান। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, কোনো সমঝোতা না হলে ‘আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।’
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির পর তেলের দাম কমলো প্রায় ১৪ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি এবং শর্তসাপেক্ষে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ব্যাপারে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে কমতে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তেলের দাম হ্রাস পেয়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাতে ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সেই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এক এক্সবার্তায় জানান, যুদ্ধবিরতির এই ১৫ দিন হরমুজ প্রণালি সব দেশের জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। তবে হরমুজ পেরোনোর আগে অবশ্যই ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অনুমোদন নিতে হবে।
এই দুই ঘোষণা পর পর পরই কমতে শুরু করে তেলের দাম। বাজার সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে আজ বুধবার এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজে অবরোধ শিথিলের খবরের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হচ্ছে ৯৪ দশমিক ৪৩ ডলারে, যা আগের তুলনায় ১৩ দশমিক ০৬ শতাংশ কম। প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডে দাম কমেছে ১৪ দশমিক ৮৪ ডলার।
আর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের অপর বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)- এর দাম কমেছে ১৬ দশমিক ১৩ ডলার। শতকরা হিসেবে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে ১৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এই অবস্থাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তেলের বৈশ্বিক বাজার বিশ্লেষক টনি সাইক্যামোর রয়টার্সকে বলেছেন, “যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ অবসানের ঘটনা বাজারের জন্য খুবই ইতিবাচক। উত্তেজনা নিরসনের এই প্রাথমিক পর্যায়টি খুবই চমৎকার। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে বাজার এখনও স্থিতিশীল হয়নি। বৈশ্বিক তেলের বাজারকে স্থিতিশীল করতে আরও অনেক কাজ এখনও বাকি আছে।”
সূত্র : রয়টার্স
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি ইরান
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। পারস্য সাগরের জাহাজ চলাচলের এই গুরুত্বপূর্ণ রুট খুলে দিতে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘যদি ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ বন্ধ করা হয়, তবে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীও তাদের প্রতিরোধমূলক অভিযান বন্ধ করবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হবে। তবে এ ক্ষেত্রে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় করতে হবে এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতাগুলো বিবেচনায় রাখতে হবে।’
পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের এই সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়ার মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে এই ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেল।
আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালী থেকে টোল নেবে ইরান ও ওমান
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল বা মাশুল আরোপের অনুমতি পাবে বলে জানা গেছে।
মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এ তথ্য জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাতে এপি জানিয়েছে, ইরান এই অর্থ তার পুনর্গঠনের কাজে ব্যবহার করবে। খবর আল জাজিরা’র।
তবে ওমান তাদের প্রাপ্ত অর্থ কীভাবে ব্যবহার করবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত সরাসরি আলোচনায় সম্পৃক্ত ছিলেন ওই কর্মকর্তা। তবে অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বক্তব্য দেন তিনি।
ইরান ও ওমান দুই দেশেরই হরমুজ প্রণালীর ওপর আঞ্চলিক অধিকার রয়েছে।
এর আগে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করা হলে ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে বলে ঘোষণা দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বলেন, যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি ‘দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ চলাচল (জাহাজ) সম্ভব হবে।’
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি বাস্তবায়ন করা হবে ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাগুলো বিবেচনায় রেখে।’
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ‘বিশেষ অনুরোধ’ গ্রহণ করে ইরানে ‘বড় ধরনের হামলা’ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে রাজি হওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালী জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার শর্তে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কিছু সময় আগে ট্রাম্পের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের ‘বিশেষ অনুরোধে’ ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত ‘বিধ্বংসী হামলা’ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিতে রাজি হয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক
শুক্রবার ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তেহরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে।
বুধবারের এই বিবৃতিটি এমন এক সময়ে এলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুগুলোতে বোমা হামলার হুমকি প্রত্যাহার করেছেন এবং দুই সপ্তাহের জন্য দেশটিতে হামলা ‘স্থগিত’ রাখতে সম্মত হয়েছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতি তখনই কার্যকর থাকবে যদি ইরান হরমুজ প্রণালী ‘সম্পূর্ণ, অবিলম্বে এবং নিরাপদভাবে খুলে দিতে’ রাজি হয়। এই সরু জলপথটি পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে এবং বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই পথেই পরিবাহিত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান এই প্রণালীতে আংশিক অবরোধ আরোপ করে। এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যাহত হয়, তেলের দাম বেড়ে যায়, আর্থিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়।
ইরানের পাল্টা হামলাগুলো পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতিরাও এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। উভয় গোষ্ঠীই ইসরায়েলে হামলা শুরু করে, যা সংঘাতকে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করে।
ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে ১০ দফার একটি প্রস্তাব পেয়েছে এবং তারা বিশ্বাস করে যে এটি ‘আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি’।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘প্রায় সবকটি বিরোধপূর্ণ বিষয়ে’ একমত হয়েছে এবং এই দুই সপ্তাহ চুক্তিটি ‘চূড়ান্ত ও সম্পন্ন’ করার সুযোগ দেবে। জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের পক্ষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে তেহরানের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করা হলে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীও তাদের প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম বন্ধ রাখবে।’
আরাগচি জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ‘সাধারণ কাঠামো’ গ্রহণ করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেছেন, যুদ্ধরত সব পক্ষ ‘লেবাননসহ সর্বত্র অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে’ সম্মত হয়েছে। এক্সে তিনি লিখেছেন, এ পদক্ষেপ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
শেহবাজ শরীফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ধন্যবাদ জানান এবং শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইসলামাবাদে তাদের প্রতিনিধি দলকে আমন্ত্রণ জানান, যাতে সব বিরোধ মেটাতে একটি চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করা যায়।
ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মতে, তাদের ১০ দফা প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের আধিপত্য ও তদারকির কথা বলা হয়েছে, যা দেশটিকে একটি ‘অনন্য অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থান’ দেবে।
প্রস্তাবটিতে মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলো থেকে সব মার্কিন যুদ্ধবাহিনী প্রত্যাহার এবং এই অঞ্চলের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ‘পূর্ণ ক্ষতিপূরণ’ এবং যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবিও এতে রয়েছে।
প্রস্তাবটিতে বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে অনুমোদনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানি কাউন্সিল আরও যোগ করেছে, তেহরান আলোচনায় সম্মত হলেও তারা ‘আমেরিকান পক্ষের প্রতি সম্পূর্ণ অবিশ্বাস’ নিয়েই তা করছে। তারা জানিয়েছে, ইরান এ আলোচনার জন্য দুই সপ্তাহ সময় দেবে এবং ‘উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে’।
কাউন্সিল সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ‘শত্রুর সামান্যতম ভুল’ হওয়ামাত্র ইরান ‘পূর্ণ শক্তি’ দিয়ে জবাব দিতে প্রস্তুত। এ বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আল জাজিরা



