আন্তর্জাতিক
শুক্রবার ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তেহরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে।
বুধবারের এই বিবৃতিটি এমন এক সময়ে এলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুগুলোতে বোমা হামলার হুমকি প্রত্যাহার করেছেন এবং দুই সপ্তাহের জন্য দেশটিতে হামলা ‘স্থগিত’ রাখতে সম্মত হয়েছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতি তখনই কার্যকর থাকবে যদি ইরান হরমুজ প্রণালী ‘সম্পূর্ণ, অবিলম্বে এবং নিরাপদভাবে খুলে দিতে’ রাজি হয়। এই সরু জলপথটি পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে এবং বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই পথেই পরিবাহিত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান এই প্রণালীতে আংশিক অবরোধ আরোপ করে। এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যাহত হয়, তেলের দাম বেড়ে যায়, আর্থিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়।
ইরানের পাল্টা হামলাগুলো পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতিরাও এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। উভয় গোষ্ঠীই ইসরায়েলে হামলা শুরু করে, যা সংঘাতকে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করে।
ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে ১০ দফার একটি প্রস্তাব পেয়েছে এবং তারা বিশ্বাস করে যে এটি ‘আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি’।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘প্রায় সবকটি বিরোধপূর্ণ বিষয়ে’ একমত হয়েছে এবং এই দুই সপ্তাহ চুক্তিটি ‘চূড়ান্ত ও সম্পন্ন’ করার সুযোগ দেবে। জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের পক্ষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে তেহরানের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করা হলে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীও তাদের প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম বন্ধ রাখবে।’
আরাগচি জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ‘সাধারণ কাঠামো’ গ্রহণ করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেছেন, যুদ্ধরত সব পক্ষ ‘লেবাননসহ সর্বত্র অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে’ সম্মত হয়েছে। এক্সে তিনি লিখেছেন, এ পদক্ষেপ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
শেহবাজ শরীফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ধন্যবাদ জানান এবং শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইসলামাবাদে তাদের প্রতিনিধি দলকে আমন্ত্রণ জানান, যাতে সব বিরোধ মেটাতে একটি চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করা যায়।
ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মতে, তাদের ১০ দফা প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের আধিপত্য ও তদারকির কথা বলা হয়েছে, যা দেশটিকে একটি ‘অনন্য অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থান’ দেবে।
প্রস্তাবটিতে মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলো থেকে সব মার্কিন যুদ্ধবাহিনী প্রত্যাহার এবং এই অঞ্চলের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ‘পূর্ণ ক্ষতিপূরণ’ এবং যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবিও এতে রয়েছে।
প্রস্তাবটিতে বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে অনুমোদনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানি কাউন্সিল আরও যোগ করেছে, তেহরান আলোচনায় সম্মত হলেও তারা ‘আমেরিকান পক্ষের প্রতি সম্পূর্ণ অবিশ্বাস’ নিয়েই তা করছে। তারা জানিয়েছে, ইরান এ আলোচনার জন্য দুই সপ্তাহ সময় দেবে এবং ‘উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে’।
কাউন্সিল সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ‘শত্রুর সামান্যতম ভুল’ হওয়ামাত্র ইরান ‘পূর্ণ শক্তি’ দিয়ে জবাব দিতে প্রস্তুত। এ বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির পর তেলের দাম কমলো প্রায় ১৪ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি এবং শর্তসাপেক্ষে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ব্যাপারে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে কমতে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তেলের দাম হ্রাস পেয়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাতে ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সেই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এক এক্সবার্তায় জানান, যুদ্ধবিরতির এই ১৫ দিন হরমুজ প্রণালি সব দেশের জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। তবে হরমুজ পেরোনোর আগে অবশ্যই ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অনুমোদন নিতে হবে।
এই দুই ঘোষণা পর পর পরই কমতে শুরু করে তেলের দাম। বাজার সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে আজ বুধবার এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজে অবরোধ শিথিলের খবরের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হচ্ছে ৯৪ দশমিক ৪৩ ডলারে, যা আগের তুলনায় ১৩ দশমিক ০৬ শতাংশ কম। প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডে দাম কমেছে ১৪ দশমিক ৮৪ ডলার।
আর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের অপর বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)- এর দাম কমেছে ১৬ দশমিক ১৩ ডলার। শতকরা হিসেবে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে ১৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এই অবস্থাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তেলের বৈশ্বিক বাজার বিশ্লেষক টনি সাইক্যামোর রয়টার্সকে বলেছেন, “যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ অবসানের ঘটনা বাজারের জন্য খুবই ইতিবাচক। উত্তেজনা নিরসনের এই প্রাথমিক পর্যায়টি খুবই চমৎকার। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে বাজার এখনও স্থিতিশীল হয়নি। বৈশ্বিক তেলের বাজারকে স্থিতিশীল করতে আরও অনেক কাজ এখনও বাকি আছে।”
সূত্র : রয়টার্স
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি ইরান
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। পারস্য সাগরের জাহাজ চলাচলের এই গুরুত্বপূর্ণ রুট খুলে দিতে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘যদি ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ বন্ধ করা হয়, তবে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীও তাদের প্রতিরোধমূলক অভিযান বন্ধ করবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হবে। তবে এ ক্ষেত্রে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় করতে হবে এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতাগুলো বিবেচনায় রাখতে হবে।’
পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের এই সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়ার মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে এই ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেল।
আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালী থেকে টোল নেবে ইরান ও ওমান
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল বা মাশুল আরোপের অনুমতি পাবে বলে জানা গেছে।
মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এ তথ্য জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাতে এপি জানিয়েছে, ইরান এই অর্থ তার পুনর্গঠনের কাজে ব্যবহার করবে। খবর আল জাজিরা’র।
তবে ওমান তাদের প্রাপ্ত অর্থ কীভাবে ব্যবহার করবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত সরাসরি আলোচনায় সম্পৃক্ত ছিলেন ওই কর্মকর্তা। তবে অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বক্তব্য দেন তিনি।
ইরান ও ওমান দুই দেশেরই হরমুজ প্রণালীর ওপর আঞ্চলিক অধিকার রয়েছে।
এর আগে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করা হলে ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে বলে ঘোষণা দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বলেন, যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি ‘দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ চলাচল (জাহাজ) সম্ভব হবে।’
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি বাস্তবায়ন করা হবে ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাগুলো বিবেচনায় রেখে।’
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ‘বিশেষ অনুরোধ’ গ্রহণ করে ইরানে ‘বড় ধরনের হামলা’ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে রাজি হওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালী জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার শর্তে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কিছু সময় আগে ট্রাম্পের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের ‘বিশেষ অনুরোধে’ ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত ‘বিধ্বংসী হামলা’ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিতে রাজি হয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক
আরও বাড়ল স্বর্ণের দাম
বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম মঙ্গলবার সামান্য বেড়েছে। তবে শক্তিশালী ডলার ও উচ্চ তেলের দামের কারণে এই ঊর্ধ্বগতি সীমিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পট স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৬৫৫.৮৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে দাম প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও পরে কিছুটা কমে আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪,৬৮০.৫০ ডলারে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে টানছে। তবে একই সঙ্গে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং তেলের উচ্চ মূল্য স্বর্ণের দামের ওপর চাপ তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন বিনিয়োগকারীদের নজর, যা স্বর্ণবাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আন্তর্জাতিক
ডলারের বিপরীতে আরও শক্তিশালী হলো চীনা ইউয়ান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে বাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ডলারের বিপরীতে অফশোর ইউয়ানের মান বৃদ্ধি পেয়ে ৬ দশমিক ৮৫ অতিক্রম করেছে। ট্রেডিং ইকোনমিক্সের খবর জানায়, এটি গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং টানা তৃতীয় সেশনের মতো চীনা মুদ্রার মান বৃদ্ধির রেকর্ড।
মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, মঙ্গলবার ইস্টার্ন টাইম রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়াসহ তার শর্তগুলো তেহরান পূরণ না করলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতুগুলোতে হামলা চালানো হবে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে বাহরাইন। তবে রাশিয়া বা চীনের সম্ভাব্য ভেটো এড়াতে এই প্রস্তাবে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবেই বাদ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটামের সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এই ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এই মুহূর্তে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে প্রকাশিত হতে যাওয়া মূল মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের দিকে নজর চীনা বিনিয়োগকারীদের। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, দেশটিতে ভোক্তা পর্যায়ে মুদ্রাস্ফীতি সামান্য কমতে পারে। তবে উৎপাদক মূল্য সূচক (পিপিআই) ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের পর প্রথমবারের মতো বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।



