আন্তর্জাতিক
আরও বাড়ল স্বর্ণের দাম
বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম মঙ্গলবার সামান্য বেড়েছে। তবে শক্তিশালী ডলার ও উচ্চ তেলের দামের কারণে এই ঊর্ধ্বগতি সীমিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পট স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৬৫৫.৮৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে দাম প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও পরে কিছুটা কমে আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪,৬৮০.৫০ ডলারে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে টানছে। তবে একই সঙ্গে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং তেলের উচ্চ মূল্য স্বর্ণের দামের ওপর চাপ তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন বিনিয়োগকারীদের নজর, যা স্বর্ণবাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আন্তর্জাতিক
ডলারের বিপরীতে আরও শক্তিশালী হলো চীনা ইউয়ান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে বাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ডলারের বিপরীতে অফশোর ইউয়ানের মান বৃদ্ধি পেয়ে ৬ দশমিক ৮৫ অতিক্রম করেছে। ট্রেডিং ইকোনমিক্সের খবর জানায়, এটি গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং টানা তৃতীয় সেশনের মতো চীনা মুদ্রার মান বৃদ্ধির রেকর্ড।
মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, মঙ্গলবার ইস্টার্ন টাইম রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়াসহ তার শর্তগুলো তেহরান পূরণ না করলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতুগুলোতে হামলা চালানো হবে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে বাহরাইন। তবে রাশিয়া বা চীনের সম্ভাব্য ভেটো এড়াতে এই প্রস্তাবে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবেই বাদ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটামের সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এই ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এই মুহূর্তে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে প্রকাশিত হতে যাওয়া মূল মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের দিকে নজর চীনা বিনিয়োগকারীদের। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, দেশটিতে ভোক্তা পর্যায়ে মুদ্রাস্ফীতি সামান্য কমতে পারে। তবে উৎপাদক মূল্য সূচক (পিপিআই) ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের পর প্রথমবারের মতো বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।
আন্তর্জাতিক
তেহরানে রেড অ্যালার্ট, মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাতের শঙ্কা
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বড় ধরনের সামরিক হামলার আশঙ্কায় ইরানের রাজধানী তেহরানে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে ইরানি কর্তৃপক্ষ এই সতর্কতা জারি করে তেহরানের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশেষ করে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কৌশলগত অবকাঠামোগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংঘাতের মূলে রয়েছে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে (গ্রিনিচ মান সময় বুধবার রাত ১২টা) এই প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে সময় বেঁধে দিয়েছেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, তারা কোনোভাবেই শত্রুপক্ষের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করবে না।
এদিকে চলমান উত্তেজনা নিরসনে কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তারা আংশিক কোনো সমাধান চায় না; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে একটি ‘সমন্বিত ও স্থায়ী শান্তিচুক্তি’র পক্ষে তাদের অবস্থান।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আল্টিমেটামের সময়সীমা পেরিয়ে গেলে এই অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হতে পারে। তেহরানে রেড অ্যালার্ট জারির পর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরান তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সজাগ রেখেছে।
আন্তর্জাতিক
হুমকিতে পশ্চিম এশিয়ায় অপমান ঢাকতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র : ইরান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ভ্রান্ত’ ও ‘ভিত্তিহীন’ হুমকি পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অপমান ঢাকতে পারবে না বলে দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র ভিডিও বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি অচলাবস্থায় আটকে পড়েছে এবং সেই ব্যর্থতা ঢাকতেই ট্রাম্প এমন হুমকি দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, আমেরিকা পশ্চিম এশিয়ায় অপমানিত হয়েছে। হুমকি দিয়ে সেই অপমান মুছে ফেলা যাবে না।
মুখপাত্র আরও দাবি করেন, ইরানের পাল্টা সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পদক্ষেপের জবাব আরও শক্তভাবে দেওয়া হবে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক হামলায় কুয়েতে অবস্থিত আল-আদিরি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে মার্কিন সেনা ও হেলিকপ্টার সংরক্ষণ অবকাঠামো ছিল।
এছাড়া ইরান দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক উড়োজাহাজ ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে সি-১৩০ পরিবহন বিমান ও ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারও রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলমান সংঘাতে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন। এ ধরনের হুমকিকে ইরান ‘যুদ্ধাপরাধের শামিল’ বলে উল্লেখ করেছে এবং পাল্টা কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
সূত্র : প্রেস টিভি
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধবিরতি নয়, আঞ্চলিক শান্তিচুক্তি চায় ইরান
চলমান সংঘাত নিরসনে শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কোনো যুদ্ধবিরতি চায় না, বরং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি ‘সমন্বিত ও স্থায়ী শান্তিচুক্তি’ চায়। আলজাজিরা মঙ্গলবারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
তেহরান থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক মোহাম্মদ ভাল জানিয়েছেন, ইরানের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন বর্তমান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি শুধু ইসরায়েল ও আমেরিকার জন্য পুনরায় শক্তি সঞ্চয় এবং যুদ্ধের আরো ধ্বংসাত্মক ধাপের প্রস্তুতির একটি কৌশল মাত্র।
ইরান এমন একটি শান্তিচুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে, যা শুধু তাদের একার জন্য নয়, বরং এই অঞ্চলের সঙ্গে জড়িত লেবানন, ইয়েমেন এবং ইরাককেও অন্তর্ভুক্ত করবে। তাদের প্রধান শর্ত হলো—ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হবে না, এমন স্থায়ী গ্যারান্টি থাকতে হবে। ইরান মনে করে, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধকালীন ধ্বংসযজ্ঞের কারণে ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে বলে দাবি করছে তেহরান। এই বিপুল আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা একটি নতুন প্রস্তাব সামনে এনেছে। ইরান চায় ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালিতে একটি নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থা বা ‘রেজিম’ চালু করতে। এই ব্যবস্থার আওতায় ইরান ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর ট্যাক্স বা কর আরোপ করতে পারবে, যা দিয়ে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ নেওয়া হবে।
ইরানি বিশ্লেষকদের মতে, সাময়িক যুদ্ধবিরতি যুদ্ধের মূল সমস্যার সমাধান করবে না। বরং এটি ইসরায়েল ও আমেরিকাকে মহড়া দেওয়ার এবং পরবর্তী ভয়াবহ আক্রমণের প্রস্তুতির জন্য সময় দেবে। তাই ইরান কোনো ‘যুদ্ধবিরতি’ নয়, বরং যুদ্ধের চিরস্থায়ী অবসান ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পক্ষেই অনড় অবস্থান নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক
ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াল জাপান
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানা যায়, সংসদে তিনি বলেন, ‘গতকালও বলেছিলাম, আমরা ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করছি।’
তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান- এই দুই দেশের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখা জরুরি। আর সে কারণেই দুই দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেই কথা বলার চেষ্টা চলছে।
এরমধ্যেই খবর আসে, জানুয়ারি থেকে ইরানে আটক থাকা দ্বিতীয় জাপানি নাগরিককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাতে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি ফোনে কথা বলেন তার ইরানি সমকক্ষ আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওই আলোচনায় টোকিও আবারও তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। তারা বলেছে, পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত করা খুবই জরুরি।



