জাতীয়
অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হবে
অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
ডা. জাহেদ বলেন, দুর্নীতির লাগাম টানতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ কারণে সরকারের ভেতরেও কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর রাখা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বর্তমান সরকার তদন্ত করবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই করবে। আপনারা জানেন, দুর্নীতি দমন কমিশন এখনো পুনর্গঠিত হয়নি। কমিশন পুনর্গঠিত হলে এসব কাজ তাদের মাধ্যমেই শুরু হবে।
দুর্নীতি মানেই কে করেছে, শুধু সেই বিষয় নয়; এই সরকারের সময়েও এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটছে কি না, সেটিও দেখা হবে।
অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ এবং এ যান নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, অটোরিকশা অবশ্যই নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। এটি শুধু বিদ্যুতের বিষয় নয়; সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।
তিনি বলেন, অনেক চালক প্রশিক্ষিত নন এবং অনেক যানবাহন প্রযুক্তিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ। আগে এসব যান মূলত অলিগলিতে চলাচল করলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রধান সড়কেও চলাচল করছে, যা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অনিয়মিত ও অনুপযুক্ত চালক এবং ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এভাবে চলতে পারে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সরকার কাজ করছে।
অর্থনীতি
অন্তর্বর্তী সরকারের ‘ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ-২০২৫’ বাতিলের দাবি
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারিকৃত ‘ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ-২০২৫’-এর মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আড়ালে ক্ষুদ্রঋণ খাতকে ধ্বংস করার সুস্পষ্ট নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংকিং কাঠামোর আওতায় আনার নামে কোনো ধরনের করপোরেট আগ্রাসন মেনে নেওয়া হবে না। তাই অবিলম্বে এই অধ্যাদেশ বাতিল করতে হবে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ক্ষুদ্রঋণকে ব্যাংকিং কাঠামোয় রূপান্তরের ঝুঁকি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশে বিদ্যমান ৬৭টি ব্যাংক পরিচালনায় যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংককেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়, সেখানে শত শত এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হলে তা কিভাবে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা সম্ভব হবে। অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঝুঁকি সৃষ্টি না করে বরং সঞ্চয়ের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো আর্থিকভাবে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে, পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট-এর আওতায় সার্টিফিকেট মামলা দায়েরের সুযোগ প্রদান করতে হবে, যাতে অর্থ আত্মসাৎ প্রতিরোধ করা যায়। ক্ষুদ্রঋণ খাতের তদারকির দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে না দিয়ে বরং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ), পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং এনজিও ব্যুরোর মতো বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে হবে এবং তাদের নিজস্ব কাঠামোর মধ্যেই তাদের কাজ করতে দিতে হবে।
কোস্ট ফাউন্ডেশন, ইক্যুইটিবিডি এবং বিডিসিএস্ও প্রসেস কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কোস্ট ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক ও ইক্যুইটিবিডি-এর প্রধান সঞ্চালক রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো বা ব্যাংক ব্যালেন্স বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রকৃত উন্নয়ন হলো মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা।
রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, এনজিওগুলো স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের জন্য বিদেশ থেকে যে ফান্ড আনার সুযোগ পায়, ব্যাংকগুলো কি সুযোগ পাবে? তা ছাড়া যেখানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এনপিএল প্রায় ৩৫ শতাংশ, সেখানে ক্ষুদ্রঋণ এনপিএল গড়ে ৮-৯ শতাংশ ওপরে নয়, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে এমন নজির বাংলাদেশে নেই। তাই ব্যাংকগুলোও এখন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করছে।
ক্ষুদ্রঋণ সেক্টর লাখো মানুষের আত্মনির্ভরতা ও নারীর ক্ষমতায়ন জোরদার করেছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করেছে। এই সেক্টরকে করপোরেট আগ্রাসনের ঝুঁকিতে ফেলতে দিতে পারি না। তাই আমরা দাবি করছি, এই অধ্যাদেশ অবিলম্বে বাতিল করা হোক।
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিডিসিএসও প্রসেস-এর মোস্তফা কামাল আকন্দ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রস্তাবিত ‘ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ২০২৫’ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
প্রথমত, ক্ষুদ্রঋণের মূল লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক উন্নয়ন, যা ব্যাংকিং কাঠামোয় মুনাফা-চালিত হয়ে প্রান্তিক মানুষদের সেবার বাইরে ঠেলে দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকিং নিয়ম ও জটিলতা দ্রুত ও সহজলভ্য সেবাকে বাধাগ্রস্ত করবে। তৃতীয়ত, এনজিওদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলার কাজ ব্যাংকিং মডেলে গুরুত্ব হারাবে, যা গ্রামীণ উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তৃতা করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক সৈয়দ আমিনুল হক, ইকুইটিবিডির সমন্বয়কারী ওমর ফারুক ভুইয়া, বিডিসিএসও-প্রসেসের এম. এ. হাসান প্রমুখ।
জাতীয়
৯ তারিখ নয়, স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হবে ১৬ এপ্রিল
রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদানের সময় এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৯ এপ্রিল এর পরিবর্তে আগামী ১৬ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ হতে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানটি অনিবার্য কারণবশত ৯ এপ্রিলের (বৃহস্পতিবার) পরিবর্তে আগামী ১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে।
পুনর্নির্ধারিত তারিখের জন্য নতুন করে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হবে না। ৯ এপ্রিলের (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠানের জন্য পাঠানো আমন্ত্রণপত্র নিয়ে পুনর্নির্ধারিত তারিখের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা যাবে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া (মরণোত্তর), সংগীতশিল্পী বশির আহমেদ (মরণোত্তর), সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেতসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন। গত ৫ মার্চ মন্ত্রিসভা বৈঠকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত হয়।
জাতীয়
গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধে অন্তর্ভুক্ত করে সংসদে বিল পাস
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচারের পথ প্রশস্ত করতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে গুমকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
বিল পাসের আগে এর উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিলের মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচারকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য গুমকে একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছি। যারা বলছেন আমরা গুমের বিচার চাচ্ছি না, তাদের বলবো-এই আইনটা ভালো করে পড়ে দেখবেন।
গুম আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের তালিকায় ছিল না। আমরা তা অন্তর্ভুক্ত করে বিচারের ব্যাপারে আমাদের সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, বাইরে গুমের বিচার করার ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছাকে অনেকে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছেন। এই সরকার গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে কতটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, তা এই বিলের মাধ্যমে পুরো সংসদ ও দেশবাসীকে অবহিত করলাম।
বিলটি পাসের পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময় যখন আসবে তখন আলোচনায় আমরা অংশগ্রহণ করব। এখানে এই ব্যাপারে আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।’
আলোচনার এক পর্যায়ে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মন্ত্রী, বাইরে কত লোক কত কথা বলে। আপনি সংসদের আলোচনা ও সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের মধ্যে আপনার বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন। বাইরের কথা শোনার প্রয়োজন এখানে সংসদীয় আইনে নেই। বিধি অনুযায়ী যেটুকু করতে হবে সে ব্যাপারে আমরা কাজ করছি।’
উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস অ্যাক্ট-এর অধিকতর সংশোধন কল্পে এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। বিলটি পাসের মধ্য দিয়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার আইনি ভিত্তি আরও শক্তিশালী হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয়
‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন ২০২৬’ সংসদে পাস
জেল-জরিমানার বিধান করে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দশম দিনে বিলটি উত্থাপন করেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১০ম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের রায়ে জলাভূমি সুরক্ষা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন দ্রুত প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। উচ্চ আদালতের রায় কার্যকর এবং জলাভূমি সুরক্ষা, সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য সংসদে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন ২০২৬’ বিল আনা হয়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিস্তৃত হাওর ও জলাভূমি অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি হাওরকে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সেচব্যবস্থা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন এবং কৃষি সম্প্রসারণের আওতায় আনার উদ্দেশে ১৯৭৭ সালে ‘হাওর উন্নয়ন বোর্ড’ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার পর হাওর অঞ্চলের অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, নদীপথে বাধা সৃষ্টি, বিষ ও কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং পর্যটনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলার জন্য আইনি কাঠামোর অপ্রতুলতা অনুভূত হয়।
বিবৃতিতে আরো জনানো হয়, সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ছাড়া ২০২০ সালে বেলার করা রিট পিটিশনের রায়ে হাইকোর্ট জলাভূমি সুরক্ষা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন দ্রুত প্রণয়নের নির্দেশ দেন।
এ প্রেক্ষাপটে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং হাওর ও জলাভূমি এলাকার পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্রের সংরক্ষণের জন্য ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন, ২০২৬’ বিলটি আইনে পরিণত করা প্রয়োজন।
আইনের বিধান লঙ্ঘনে দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে উভয় দণ্ডের অতিরিক্ত দণ্ড হবে না।
জাতীয়
আলটিমেটাম দেয়ার জায়গা রাজপথ, সংসদ নয়: জামায়াত এমপিকে স্পিকার
জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলামকে উদ্দেশ্যে করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, আল্টিমেটাম দেয়ার জায়গা রাজপথ, সংসদ নয়। উত্থাপিত বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার জন্য আলাপ হচ্ছে এখানে।
মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এসব কথা বলেন স্পিকার।
এর আগে ভোলায় জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেফতার করার ঘটনায় নিন্দা জানান দলের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম।
অফিস চলাকালীনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার করে তাকে মুক্তির দাবি জানান তিনি ।
তারও আগে সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দলের কর্মী সাওদা সুমির সঙ্গে নিকৃষ্ট আচরণ নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা দিচ্ছে।
ওই পোস্টে জামায়াত আমির লেখেছেন, জামায়াতকর্মী সাওদা সুমির সঙ্গে যে নিকৃষ্ট আচরণ করা হয়েছে তা নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা দিচ্ছে। ফ্যাসিবাদীরা সব যুগেই নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার জন্য প্রতিবাদী জনগণের কণ্ঠ নির্লজ্জ ও নিষ্ঠুরভাবে স্তব্ধ করতে চায়। পরিণতিতে তাদের কণ্ঠই স্তব্ধ হয়ে যায়।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘জানি না, অন্তরে যারা ফ্যাসিবাদ লালন করে, তারা অতীত থেকে শিক্ষা নেবে কী না। লজ্জা, লজ্জা!’
রোববার ৫ এপ্রিল রাতে নিজ বাসা থেকে জামায়াত কর্মী সাওদা সুমিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। জামায়াতের এ নারী কর্মীর গ্রেফতার ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
এদিকে ভোলার পৌরসভা মহিলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সাওদাকে রাতের বেলা নিজ বাসা থেকে গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজনৈতিক এই সংগঠনটি এই ঘটনাকে অমানবিক ও অনভিপ্রেত হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে ওই নারীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দলটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল। তিনি এই গ্রেফতারকে গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থি বলে অভিহিত করেছেন।
বিবৃতিতে জানানো হয়, গতকাল রোববার (৫ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিবি সাওদাকে তার নিজ বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে যায়। গ্রেফতারের কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বাহিনী থেকে ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ’ থাকার কথা বলা হয়েছে। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া একজন নারীকে গভীর রাতে গ্রেফতারে এ ঘটনায় স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।



