খেলাধুলা
তামিমের নেতৃত্বে বিসিবিতে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন করে ১১ সদস্যের একটি এডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল আহসান।
তিনি জানান, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে সভাপতি করে তিন মাসের জন্য এই এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নতুন এই কমিটি আগামী তিন মাস বিসিবির কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তামিম ইকবাল, সঙ্গে রয়েছেন আরও ১০ জন সদস্য।
ক্রিকেট বোর্ড একটি স্বশাসিত সংস্থা হওয়ায় এর কাঠামোগত পরিবর্তন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর নজরদারির মধ্যে পড়ে। এ বিষয়ে এনএসসি ইতোমধ্যে আইসিসিকে ই-মেইলের মাধ্যমে বর্তমান বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। পাশাপাশি নতুন এডহক কমিটির তালিকাও সংস্থাটির কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ক্রীড়া পরিচালক।
এনএসসির গঠিত ১১ সদস্যের এডহক কমিটির সদস্যরা হলেন- রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন, আতহার আলী খান, তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম ও ফাহিম সিনহা।
নতুন এই কমিটির মাধ্যমে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে সাময়িক পরিবর্তন এলেও, আইসিসির অবস্থান ও অনুমোদনের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
খেলাধুলা
ইতিহাসের সামনে বাংলাদেশ, ইউরোপে প্রথম প্রতিপক্ষ সান মারিনো
দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। প্রথমবারের মতো ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আগামী ৫ জুন ইউরোপের দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক ফিফা টায়ার-১ প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে সান মারিনোর মাটিতে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপের মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে বাংলাদেশ।
ম্যাচটি দুই দলের জন্যই ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ যেমন প্রথমবার কোনো ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, তেমনি সান মারিনোও তাদের ইতিহাসে প্রথমবার খেলবে কোনো এশিয়ান দলের বিপক্ষে।
এই আন্তর্জাতিক ম্যাচটি নিয়ে দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশনই উচ্ছ্বসিত। বাফুফে জানিয়েছে, ম্যাচটি দুই দলের খেলোয়াড়দের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের পরখ করে নেওয়ার ভালো সুযোগ তৈরি করবে, যা ফুটবলের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুই দেশের ফেডারেশনের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
খেলাধুলা
হামজা-জামালদের নতুন কোচের সন্ধানে বাফুফে
২০২২ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছেন হাভিয়ের কাবরেরা। দীর্ঘ চার বছরে তার অধীনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি মিশ্র। ৩৯ ম্যাচের মধ্যে জয় মাত্র ১০টি, সেগুলোও তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে। সদ্য শেষ হওয়া বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে পাওয়া জয়টিই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি।
দেশের ফুটবল মহলের একটি বড় অংশ অবশ্য কাবরেরার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে লম্বা সময়ের কোচ তিনি। এই স্প্যানিশ কোচের অধীনে দলের খেলার ধরনে উন্নতি এলেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসেনি। বিশেষ করে হামজা চৌধুরী ও শামিতদের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়েও এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ আশানুরূপ সাফল্য না পাওয়ায় সমালোচনা বেড়েছে। তাই কাবরেরার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচের পর থেকে।
এই কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সভাপতিত্বে ন্যাশনাল টিমস কমিটির আলোচনায় বসে গতকাল শনিবার। বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য ও বাফুফের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, কোচের সন্ধানে আছেন তারা।
তবে কাবরেরাও আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বাবু। ‘আপনারা জানেন, আমাদের বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ কাবরেরার চুক্তি আছে এপ্রিল মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত। যার পরিপ্রেক্ষিতে এখন থেকেই আমরা নতুন কোচের সন্ধান আমরা নেমেছি। আমরা এখন থেকেই আমরা চেষ্টা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে কাবরেরাও সাক্ষাৎকার দিতে পারবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের ন্যাশনাল টিমস ম্যানেজমেন্ট কমিটি, আমাদের সভাপতি তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বে কমিটিতে যারা থাকবেন, তারা সিদ্ধান্ত নেবেন পরবর্তী কোচ কে হবেন।
এখন পর্যন্ত যেহেতু আমাদের এই ৩০ তারিখ পর্যন্ত কাবরেরার সাথে চুক্তি রয়েছে, অতএব সে এখন পর্যন্ত আমাদের আছে। এখন থেকে যে কোচের ইন্টারভিউ আমরা নেব, তার ওপর নির্ভর করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব আমরা।’
‘ভালো বিকল্প’ না পেলে কাবরেরাকে রেখে দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন বাবু। বাফুফের মিডিয়া কমিটির এই চেয়ারম্যান বলেন, ‘না, তাকে বাদ দিয়ে ভাবছি না কিংবা তাকে নিয়ে চিন্তা করছি, তাও কিন্তু না। এখানে সবচেয়ে বড় ব্যাপারটা হচ্ছে যে, আমাদের তার সঙ্গে আরও এক মাসের চুক্তি আছে। ৩০ এপ্রিল আমাদের চুক্তি শেষ হবে। যে কারণে, এখন থেকেই আমরা তার চেয়ে ভালো কোচ পাওয়ার চেষ্টা আমরা করছি। আমরা যদি আরও ভালো মানে কোচ পাই, অবশ্যই তখন আমরা সেই চিন্তা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কাউকে কোনো প্রাধান্য দেব না। আমাদের ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটির সব কর্মকর্তারা মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে- আমরা আজকে থেকেই সিভি নেওয়া শুরু করে দেব এবং বিদেশেও যোগাযোগ করব, প্রত্যেকটা দেশের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করব, প্রত্যেকটা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করব। যদি কারোর কাছে আরও বেটার কোনো কিছু থাকে, তাহলে আমরা সেটাই আমরা বেছে নিব। কাবরেরার এই মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিব না।’
জাতীয় দল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন কোচকে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে একজন নতুন গোলরক্ষক কোচও দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেবে বাফুফে।
কমিটির সভায় সদ্য সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী দল নিয়েও কথা হয়েছে। আলোচনা হয়েছে আগামী জুনের ফিফা উইন্ডো কাজে লাগানোর বিষয়েও।
‘আগামী জুনে ফিফা উইন্ডো আছে এবং সেই ফিফা উইন্ডোতে বাংলাদেশ চেষ্টা করছে খেলার জন্য। সেটার জন্য আমরা অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় ফুটবল দল গঠন করার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই দলটা সর্বক্ষণিক প্র্যাকটিসে থাকবে।’
বাবু বলেন, ‘জুনের ফিফা উইন্ডোতে আমরা থাইল্যান্ড অথবা মিয়ানমার-এই ধরনের দলের সঙ্গে, একটু মানসম্পন্ন দলের সঙ্গে আমরা চেষ্টা করব খেলার জন্য।’
খেলাধুলা
একই দিনে বিসিবির চার পরিচালকের পদত্যাগ
মুখে যতই বলেন, কোনো সংকট নেই, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কথার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। শনিবার (৪ এপ্রিল) একই দিনে পদত্যাগ করেছেন চারজন পরিচালক। ২৫ সদস্যের কমিটিতে এই নিয়ে দায়িত্ব ছাড়লেন সাতজন।
শনিবার ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বোর্ড সভা। সভার এজেন্ডা ছাপিয়ে আলোচনায় পদত্যাগ। প্রথমে পদত্যাগ করেন ফায়াজুর রহমান মিতু। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন। বিসিবির বোর্ড মিটিং শেষে পদত্যাগের চিঠি দিয়েছেন। বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান ও সিসিডিএমের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন ফাইয়াজুর রহমান।
তার দেখানো পথে হেঁটে মধ্যরাতে বোর্ড ছেড়েছেন ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের চেয়ারম্যান শাহনিয়ান তানিম ও সিকিউরিটি বিভাগের চেয়ারম্যান মেহরব আলম চৌধুরী। এখানেই শেষ হয়নি। সর্বশেষ রাতে পদত্যাগ করেন মনজুর আলম।
গতকাল পদত্যাগ করা চারজনই অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর আগে ইশতিয়াক সাদেক আমজাদ হোসেন ও ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল পদত্যাগ করেন। যাদের মধ্যে ফয়সাল ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মনোনীত পরিচালক।
বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে অনিয়মের তদন্ত করতে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এনএসসিতে কমিটির মুখোমুখি হয়েছেন বেশ কয়েকজন পরিচালক। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে। জানা গেছে, দুয়েকদিনের মধ্যেই সেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
এমন সময়ে পরিচালকদের একে একে সরে দাঁড়ানোতে অনেকে পাচ্ছেন রহস্যের গন্ধ। বর্তমান বোর্ড নিয়ে যে অনেকেই সন্দিহান।
খেলাধুলা
আমিরকে ছাড়িয়ে টি-টোয়েন্টিতে পেসারদের শীর্ষে মুস্তাফিজ
পাকিস্তান সুপার লিগে বল হাতে খুব বেশি মিতব্যয়ী না হলেও রেকর্ড গড়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। মুলতান সুলতানসের বিপক্ষে ৩ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নেওয়ার ম্যাচেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাঁহাতি পেসার হিসেবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন তিনি। এই রেকর্ড গড়তে গিয়ে পেছনে ফেলেছেন নিজের আদর্শ পাকিস্তানের তারকা পেসার মোহাম্মদ আমিরকে।
বর্তমানে মুস্তাফিজের ঝুলিতে রয়েছে ৩২৫ ম্যাচে ৪১৬ উইকেট, যেখানে আমির ৩৫৬ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ৪১৫ উইকেট। কম ম্যাচ খেলেই এই অর্জন ফিজের কৃতিত্বকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
তবে এই রেকর্ড বেশিদিন নিজের দখলে রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। কারণ ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এখনও নিয়মিত খেলছেন আমির। চলমান পিএসএলেও রাওয়ালপিন্ডির হয়ে মাঠে নামছেন তিনি। আজকের ম্যাচেই একাধিক উইকেট পেলে আবারও শীর্ষস্থান ফিরে পেতে পারেন পাকিস্তানি এই পেসার।
সবমিলিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে উইকেট শিকারের তালিকায় মুস্তাফিজের অবস্থান সপ্তম। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন আফগানিস্তানের রশিদ খান (৭০৩ উইকেট)। এরপর রয়েছেন ডোয়াইন ব্রাভো (৬৩১), সুনীল নারিন (৬১৪), ইমরান তাহির (৫৭২), আন্দ্রে রাসেল (৫০৮), সাকিব আল হাসান (৫০৭) ও ক্রিস জর্ডান (৬৪৬)। তাদের পরেই অবস্থান মুস্তাফিজ ও আমিরের।
শুধু বাঁহাতি পেসারদের তালিকায় শীর্ষে থাকলেও বাংলাদেশের এই কাটার মাস্টারের সামনে আরও বড় মাইলফলক অপেক্ষা করছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ইতোমধ্যে ১৫৮ উইকেট নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ শিকারির রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি। আর স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতেও সতীর্থ সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
খেলাধুলা
আসছে বিশ্বকাপে নতুন যে ৫ নিয়ম আনল ফিফা
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের আর মাত্র বাকি আড়াই মাস। মহামরণের লড়াইয়ে নামার আগে দলগুলো নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছে ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার ৪৮ দল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে হতে যাচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’খ্যাত এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট। বিশ্বকাপকে আরো গতিশীল করতে ফুটবলের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ফিফা।
ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদসংস্থা ইএসপিএন সকারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের বিশ্বকাপ সামনে রেখে ফিফা ঘোষণা দিয়েছে ৫ নিয়ম পরিবর্তনের। ম্যাচের গতি ধরে রাখা, সময় অপচয় রোধ করা এবং মাঠের রেফারিদের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে এই পরিবর্তনগুলো কার্যকর হবে বলে মনে করছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ফিফার ঘোষিত নতুন ৫ নিয়ম হলো-
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বদলি খেলোয়াড়ের মাঠে প্রবেশ
যেকোনো ম্যাচেই খেলোয়াড় পরিবর্তনের সময় দলগুলো অযথা সময় নষ্ট করে। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে এমন যেন না হয়, সে জন্য খেলোয়াড় বদলের নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দিয়েছে ফিফা।
পরিবর্তন হওয়া খেলোয়াড়কে সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। এর বেশি সময় নিলে বদলি খেলোয়াড়কে মাঠে প্রবেশের আগে এক মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। ওই সময়টা তার দলকে খেলতে হবে ১০ জন নিয়ে।
দ্রুততম সময়ে খেলা শুরুর বাধ্যবাধকতা
গোলকিক এবং থ্রো-ইনেও সময়ক্ষেপণ খুব সাধারণ একটি বিষয়, বিশেষ করে ম্যাচে এগিয়ে থাকা দল প্রায়ই এই কাজটা করে থাকে।
বিশ্বকাপে এমন কিছু যাতে না হয়, তাই গোলকিক ও থ্রো-ইন নিতে হবে পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে। এর বেশি সময় নিলে বলের দখল চলে যাবে প্রতিপক্ষের কাছে।
মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের চিকিৎসা
ম্যাচের সময় খেলোয়াড়েরা চোট পেলে প্রাথমিক চিকিৎসা মাঠেই দেওয়া হয়। ফলে খেলা বন্ধ রাখা হয় সেই সময়ে। বিশ্বকাপে অবশ্য এমন কিছুর সুযোগ থাকছে না।
নতুন নিয়মে চোট পাওয়া কোনো খেলোয়াড় চিকিৎসা চাইলে তাকে এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তবে প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড় যদি ফাউল করে হলুদ বা লাল কার্ড দেখেন, সে ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
রেফারির সঙ্গে কথা বলবেন শুধু অধিনায়ক
রেফারির দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত বিপক্ষে গেলেই তাকে ঘিরে খেলোয়াড়দের জটলা চলে। খেলোয়াড়েরা তর্ক করতে থাকেন রেফারির সঙ্গে। এতে সময়ের অপচয় হয়। খেলার পরিবেশও নষ্ট হয়। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা আপত্তি জানানোর এখতিয়ার থাকবে শুধু অধিনায়কেরই। তিনি ছাড়া অন্য কেউ রেফারির দিকে এগিয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে হলুদ কার্ড দেখানো হবে।
ভিএআরের বর্ধিত ক্ষমতা
ক্রমেই ফুটবলে বাড়ছে ভিডিও সহকারী রেফারি বা ভিএআরের ভূমিকা। সেই ধারায় ২০২৬ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড বা লাল কার্ডের সিদ্ধান্তও পর্যালোচনা করা হবে এই প্রযুক্তি দিয়ে। পাশাপাশি রেফারি যদি কোনো কর্নারের সিদ্ধান্ত ভুল দিয়েছেন বলে সন্দেহ থাকে, তাহলে সেটিও ভিএআরের মাধ্যমে শোধরানো হবে।
ফুটবলবোদ্ধাদের মতে, ফিফার এই নতুন নিয়মগুলো কার্যকর হলে খেলায় নাটুকেপনা ও সময় নষ্ট করার প্রবণতা অনেকাংশেই কমে আসবে।



