জাতীয়
এবারও জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ১১০, সর্বোচ্চ ২৮০৫ টাকা
রমজানে এ বছরও বাংলাদেশে ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা ও সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরও (২০২৫) সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ফিতরার হার একই ছিল।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভায় ১৪৪৭ হিজরি সনের ফিতরার এ হার নির্ধারণ করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা আবদুল মালেক। এতে ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের ফিতরার হার জানান।
সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয় যে, ইসলামী শরীয়াহ মতে মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী গম, আটা, যব, খেজুর, কিসমিস ও পনির- যে কোনো একটি পণ্যের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা এর বাজার মূল্য ফিতরা হিসেবে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করতে পারবেন।
গম ও আটার ক্ষেত্রে এর পরিমাণ এক কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা’)। খেজুর, কিসমিস, পনির ও যবের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রামের (এক সা’) মাধ্যমে সাদকাতুল ফিতর (ফিতরা) আদায় করতে হয়।
এসব পণ্যের বাজার মূল্য হিসাব করে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ফিতরা নির্ধারণ করা হয়।
মুফতি মাওলানা আবদুল মালেক জানান, উন্নতমানের আটা বা গমের ক্ষেত্রে ফিতরা এক কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা’) বা এর বাজার মূল্য ১১০ টাকা (প্রতি কেজি ৬৫ টাকা ধরে)। যবের ক্ষেত্রে (এক সা’) ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ৫৯৫ টাকা ফিতরা দিতে হবে (প্রতি কেজি ১৮০ টাকা ধরে)।
এছাড়া প্রতি কেজি ৮০০ টাকা ধরে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম কিসমিস বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৬৪০ টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে। খেজুরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৪৭৫ টাকা (প্রতি কেজি ৭৫০০ টাকা ধরে) ও পনিরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৮০৫ টাকা (প্রতি কেজি ৮৫০ টাকা ধরে) দিয়ে ফিতরা আদায় করতে হবে বলে জানান কমিটির সভাপতি।
ফিতরার পণ্যের স্থানীয় খুচরা বাজার মূল্যের তারতম্য রয়েছে। সে অনুযায়ী স্থানীয় মূল্য পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে বলেও জানান আবদুল মালেক।
আব্দুল মালেকের পক্ষে বক্তব্য পাঠ করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ।
কোনো ব্যক্তি (ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময়) নেছাব পরিমাণ (সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমপরিমাণ) মালের মালিক হলে ঈদের দিন সকালে তার ওপর নিজের, নাবালক সন্তানসহ নির্ভরশীলদের সাদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হয়। ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে ফিতরা আদায় করতে হয়।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ বা ২১ মার্চ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।
এমএন
জাতীয়
সামনে পরীক্ষা, তাতে তুমিও ফেল, ছয়মাস পর আমিও ফেল : শিক্ষামন্ত্রী
সাধারণত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সবার শেষে একটা দীর্ঘ বক্তব্য দেন। তবে এবার শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দেখালেন ভিন্ন কিছু। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহী গিয়ে মঞ্চে উঠলেন, শুনলেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সমস্যার কথা। সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপও নেন মন্ত্রী।
পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শিক্ষার্থীরা অভিযোগ জানিয়ে বলেন, নিয়মিত ক্লাস হয় না। নেই হাতে-কলমে শেখার মেশিনারিজ। ল্যাবের যন্ত্রপাতি সব পুরনো। নেই দক্ষ শিক্ষকও।
শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগ শুনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘সামনে পরীক্ষা। তাতে তুমিও ফেল, ছয়মাস পর আমিও ফেল। কারো বাঁচার উপায় নেই।’
আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে স্কিল কম্পিটিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী গতানুগতিক বক্তব্য না দিয়ে শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও সংকটের কথা শোনেন।
মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী নিহাল উদ্দীন সরকার বলেন, ‘আমাদের ঠিকমতো ক্লাসই হয় না। প্র্যাকটিক্যাল কাজ আটকে যায়। ক্লাসে কিছুই বুঝতে পারি না।’
ওই শিক্ষার্থীর সমস্যার কথা শুনে তার বিভাগের শিক্ষক মাশফিকুর রহমানকে ডেকে কারণ জানতে চান মন্ত্রী।
ওই শিক্ষক জানান, ১৯৬৩ সালে নির্মিত ভবনে ক্লাস ও ল্যাবের কাজ চালাতে হচ্ছে। মেশিনারিজ বলতে কিছুই নেই। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় পড়ানোর জন্য যেসব সুবিধা দরকার, তার কিছুই নেই। ফলে শিক্ষকরা চাইলেও শেখাতে পারেন না।
আবুজর গিফারি নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অষ্টম সেমিস্টারে আমাদের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর কথা। কিন্তু আমাদের সেভাবে পাঠানো হয়। পাঠালেও ভালো প্রতিষ্ঠানে আমাদের নেওয়া হয় না। কাউকে ঢাকার প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় না।’
ঢাকার ভালো প্রতিষ্ঠানে না পাঠানোর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী রাজশাহী পলিটেকনিকের প্রিন্সিপালের কাছে জানতে চান। কিন্তু প্রিন্সিপাল জানান, ইন্ডাস্ট্রির লোকজন শিক্ষার্থীদের নিতে চান না।
তখন শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির চুক্তি আছে। ছাত্রদের অবশ্যই নিতে হবে। মেশিনারি ব্যবহার করতে দিতেই হবে। কেন দিচ্ছে না তার খোঁজ নিতে হবে। আমরাও খোঁজ নেব, কথা বলব।’
কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে সরকার কাজ করবে জানিয়ে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন শিক্ষায় যত টাকা লাগে, তা দেবেন। কিন্তু আমি তো নিতে পারছি না। কত নেব, কিভাবে নেব, কোথায় খরচ করব? আমাকে তো প্রকল্প হাতে নিতে হবে। যেখানে যেখানে সমস্যা, সেখানে কাজ করব। তা সমাধানে প্রকল্প হাতে নেব। সেজন্য আমরা শিক্ষার্থীদের কথা শুনছি। ওরা কি চায়, সেটা জানার চেষ্টা করছি।’
মন্ত্রীকে এক শিক্ষক জানান, পলিটেকনিকের ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে যাচ্ছে। এ ঝরেপড়া ঠেকাতে সরকারকে উদ্যোগ নিতেও অনুরোধ জানান তিনি।
পাশাপাশি ৭ বছর ধরে চাকরি করলেও বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করেন ১৯ জন শিক্ষক। মন্ত্রী তাদের পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে আত্তীকরণ করার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি রাজশাহী পলিটেকনিকের সব সমস্যা লিখিতভাবে পাঠাতে অধ্যক্ষকে নির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বজলুর রশীদসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
ঢাকার যেসব ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল পাস চালু, আবেদন করবেন যেভাবে
জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ চালু করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। প্রাথমিকভাবে রাজধানীর দুটি ফিলিং স্টেশনে এই সেবা চালু করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলটিং) শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে কিউআর কোডের মাধ্যমে জ্বালানি সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি বিভাগ জানায়, তাদের আওতাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের উদ্যোগে তৈরি এই অ্যাপটি প্রথম পর্যায়ে মোটরসাইকেলচালকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
এতে জানানো হয়, ঢাকার তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এবং আসাদগেটের সোনার বাংলা ফুয়েল স্টেশনে এটি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাইলটিং সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব ধরনের যানবাহনের জন্য এটি চালু করা হবে।
জ্বালানি বিভাগ জানায়, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জ্বালানি বিতরণের কারণে নানা জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানজট ও লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে।
একই ব্যক্তি একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করছেন, এতে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম সংকট। বর্তমান এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থাটি চালু করা হয়েছে।
ডিজিটাল এই ব্যবস্থায় প্রতিটি ব্যবহারকারীর জন্য একটি কিউআর কোড তৈরি হবে। ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নেওয়ার সময় কোড স্ক্যান করলেই নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী নেওয়া যাবে জ্বালানি।
ফিলিং স্টেশন মালিকরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে জ্বালানির বরাদ্দ নথিভুক্ত করবেন। চালকরা কিউআর কোড স্ক্যান করে জ্বালানি গ্রহণ ও নিজেদের বরাদ্দ দেখতে পারবেন। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে পুরো দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
এ ছাড়া যাদের স্মার্টফোন নেই, তারা ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে কিউআর কোড ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে ব্যবহার করতে পারবেন। নতুন এই ব্যবস্থাটি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।
এ ব্যবস্থার ফলে যানবাহনভিত্তিক তথ্য যাচাই সহজ হবে এবং জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আবেদন প্রক্রিয়া
গুগল প্লে স্টোর থেকে ফুয়েল পাস নামের অ্যাপটি মুঠোফোনে ইন্সটল করে নিতে হবে। এর পর অ্যাপে প্রবেশ করে ফোন নম্বর ভেরিফাই করে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও অন্যান্য তথ্য প্রদান করে পাসওয়ার্ড দিয়ে রেজিস্ট্রেশনপ্রকিয়া শেষ করতে হবে।
জাতীয়
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টারের পদত্যাগ
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ওই পোস্টে আকবর হোসেন লিখেছেন, ‘ডিয়ার অল—লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার পদ থেকে আমি পদত্যাগ করেছি। একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে সেখানে দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টির সঙ্গে অন্য কোনো কিছুর সম্পর্ক নেই। ধন্যবাদ।’
২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার হিসেবে তাকে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
তবে তার পদত্যাগের বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রেস মিনিস্টার হিসেবে যোগদানের আগে তিনি বিবিসি বাংলার ঢাকা অফিসে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জাতীয়
কার্যকারিতা হারাল অন্তর্বর্তী সরকারের গণভোট অধ্যাদেশ
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধে করা অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন গঠনের লক্ষ্যে জারি করা অধ্যাদেশসহ ১৩টি অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন বা অননুমোদন কোনোটাই করেনি জাতীয় সংসদ। ফলে এই অধ্যাদেশগুলো কার্যকারিতা হারিয়েছে।
সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকে উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে এই ১৩ অধ্যাদেশও ছিল।
অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের শেষ সময় ছিল শুক্রবার। এ সময়ের মধ্যে এগুলো অনুমোদন বা অননুমোদনে কোনো বিল সংসদে আনা হয়নি।
সংসদ না থাকা অবস্থায় জারি করা অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম বৈঠকে উত্থাপন করতে হয়। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে তা হয় পাস করতে হয়, নইলে প্রয়োজনে হেফাজতকরণব্যবস্থা রেখে রহিতকরণ বিল আনতে হয়।
হেফাজতকরণ হলো অধ্যাদেশের অধীনে নেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল রাখা। সংসদে পাস অথবা রহিত করা না হলে অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকারিতা হারায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন, অর্থাৎ গত ১২ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে।
যদিও বিএনপির সংসদ সদস্যরা গণভোট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেখানে আদেশটি এবং জুলাই সনদের সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাব নিয়ে গণভোট আয়োজনের কথা বলা হয়। এরপর গণভোট আয়োজনে ‘গণভোট অধ্যাদেশ’ জারি হয়।
বিএনপি বলে আসছিল সংসদ না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন, সংবিধান সংশোধনের আদেশ নয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ৩১ মার্চ সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-কে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘অন্তহীন প্রতারণার দলিল’ ও ‘জাতীয় প্রতারণা’ আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এই আদেশের কোনো আইনি বৈধতা নেই এবং এটি সূচনা থেকেই অবৈধ।
এখন গণভোট অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারানোর ফলে গণভোট নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। যদিও বিরোধী দল বলে আসছিল, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারির ভিত্তি জুলাই গণ–অভ্যুত্থান এবং জনগণের গাঠনিক ক্ষমতা।
এদিকে শুক্রবার সংসদে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসংক্রান্ত ৩টি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত ৩টি এবং সংসদ সচিবালয়সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ (মোট ৭টি অধ্যাদেশ) রহিতকরণ বিল পাসের মাধ্যমে বাতিল করা হয়। সব মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাচ্ছে। আর সব মিলিয়ে ১১৩টি অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে সংসদ। রহিতকরণসহ অধ্যাদেশ সম্পর্কিত ৯১টি বিল পাস করা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে সংসদের অনুমোদন না পাওয়ায় যে অধ্যাদেশগুলো কার্যকারিতা হারিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে আছে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ২টি অধ্যাদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসংক্রান্ত ২ অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ।
বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে পাস করার সুপারিশ ছিল। কিন্তু শুক্রবার পর্যন্ত এই অধ্যাদেশ পাস করার জন্য বিল আনা হয়নি।
শেষ দিনে ২৪ বিল
অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের শেষ দিন ছিল শুক্রবার। এ কারণে সরকারি ছুটির দিনের সকাল–বিকেল দুই বেলা সংসদের বৈঠক বসে। শেষ দিনে ২৪টি বিল পাস হয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) বিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, বাংলাদেশ বনশিল্প করপোরেশন বিল, বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) বিল, আমানত সুরক্ষা বিল, দ্য এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট (সংশোধন) বিল, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ব্যাংক রেজোল্যুশন বিল, অর্থ (২০২৫-২৬ অর্থবছর) বিল, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল, বিশ্ববিদ্যালয়সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) বিল, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল, সাইবার সুরক্ষা বিল, মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংরক্ষণ) বিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল।
জাতীয়
বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় আজ শীর্ষে ঢাকা
জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে দিন দিন বায়ুদূষণ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরেই মেগাসিটি ঢাকা ভয়াবহ বায়ুদূষণের কবলে রয়েছে। সম্প্রতি শহরটিতে দূষণের মাত্রা ওঠানামা করছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী- বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশের ঢাকা। আজ শহরটির বায়ুমানের স্কোর ১৮৬। বায়ুমানের এই স্কোরই ঢাকাবাসীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভিয়েতনামের হেনোয় শহরের স্কোর ১৮৫, তৃতীয় অবস্থানে থাকা থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই’র স্কোর ১৭৮, চতুর্থ অবস্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার স্কোর ১৫৯, ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা মিশরের কায়রোর স্কোর ১৫৬। শহরগুলোর বায়ুমানের স্কোর অস্বাস্থ্যকর।
এদিন ভারতের কলকাতা ১৫৭ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। বায়ুমানের এই স্কোরও ‘অস্বাস্থ্যকর’। তবে তালিকার সপ্তম অবস্থানে থাকা দেশটির আরেকটি শহর দিল্লির স্কোর ১৪৪। শহরটির বায়ুমানের স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। পাকিস্তানের করাচি এবং লাহোরের আজ অবস্থান ২২ ও ২৩ তম। শহর দুইটির বায়ুমানের যথাক্রমে ৮৬, যা শহরগুলোর বাসিন্দাদের জন্য মোটামুটি ভালো।
একই স্কোর নিয়ে অষ্টম অবস্থানে চীনের হুয়াংজু আর শাংহাই। শহর দুটির বায়ুমানের স্কোর ১৪৩। ১১তম অবস্থানে থাকা দেশটির আরেকটি শহর উহানের স্কোর ১১০। তিনটি শহরের বাতাসে দূষণের মাত্রা কম হলেও বায়ুমানের স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর।
একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।
২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।



