আন্তর্জাতিক
নিউইয়র্কে ভয়াবহ তুষারঝড়, জরুরি অবস্থা জারি
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী তুষারঝড় শুরু হয়েছে। এর ফলে নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। সিটির মেয়র জোহারান মামদানি এ ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুষারঝড়ের কারণে শহরের পুরো ট্রাফিক নেটওয়ার্ক জরুরি সেবা ছাড়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মেয়র বলেন, ব্লিজার্ডের আগে নিউইয়র্ক সিটিতে স্থানীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপদে থাকুন, নিউইয়র্ক।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, উপকূলীয় মিড-আটলান্টিক অঞ্চল থেকে মেইন পর্যন্ত ভারী তুষারপাত, শক্তিশালী বাতাস ও উপকূলীয় বন্যা দেখা দিতে পারে। কোথাও কোথাও প্রতি ঘণ্টায় ৭ দশমিক ৬ সেমি পর্যন্ত তুষারপাত হতে পারে। মোট তুষারপাত ৩০ দশমিক ৫ থেকে ৬১ সেমি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ফলে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
এনডব্লিউএস আরও জানিয়েছে, ঘণ্টায় ৬০ মাইল (১০০ কিমি) বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ভারী, ভেজা তুষারের চাপ ও দমকা হাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কাও রয়েছে।
আলজাজিরা জানিয়েছে, নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে আগেভাগেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি ও লং আইল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটসের বস্টনসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় ব্লিজার্ড সতর্কতা জারি রয়েছে।
মেয়র মামদানি জানান, রোববার রাত ৯টা থেকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত শহরের সড়ক, মহাসড়ক ও সেতু বন্ধ থাকবে। জরুরি সেবা কর্মী ও বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রায় ৮০ লাখের বেশি জনসংখ্যার এই শহরে এমন তীব্র ঝড় গত এক দশকে দেখা যায়নি বলে উল্লেখ করেন মেয়র।
এমএন
আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালীতে মাইন ঝুঁকি এড়াতে নতুন রুট ঘোষণা ইরানের
হরমুজ প্রণালীতে মাইন ঝুঁকি এড়াতে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন রুট প্রকাশ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) নৌ-মাইন এড়িয়ে চলার জন্য বিকল্প নৌপথ ব্যবহার করতে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রকাশিত মানচিত্রে একটি বৃত্তাকার এলাকা ‘বিপজ্জনক অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, নৌ-মাইন ঝুঁকি এড়াতে জাহাজগুলোকে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে হবে।
আইআরজিসি আরও জানায়, যেসব তেলবাহী জাহাজ আগে প্রণালীর দক্ষিণে ওমান উপকূলের কাছ দিয়ে যাতায়াত করত, সেগুলোকে এখন আরও উত্তরের দিকে, ইরানের উপকূলের কাছাকাছি পথ ব্যবহার করার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ চলাচল (জাহাজের) নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ। ‘টুডে’ নামের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত এই প্রণালী ‘হাজার হাজার বছর ধরে খোলা ছিল’।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘বাস্তবে এই আগ্রাসন থেকে সরে না এলে’ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা হবে না। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র ‘আগ্রাসন’ বন্ধ করলে হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
খাতিবজাদেহ বলেন, ইরান ‘আন্তর্জাতিক রীতি ও আন্তর্জাতিক আইন’ মেনে চলবে। তবে তিনি এটিও বলেন যে, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জলসীমার অন্তর্ভুক্ত নয় এবং সেখানে নিরাপদ চলাচল ইরান ও ওমানের ‘সদিচ্ছার’ ওপর নির্ভর করে।
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে দফায় দফায় ইসরায়েলের হামলা
যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) দেশটিতে কয়েক ধাপে হামলা চালানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের হারুফ শহরে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এরপর একই অঞ্চলের আরেকটি শহর আল-দুওয়াইর (খেরবেত এল-দুওয়াইর নামেও পরিচিত)-এ নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে দক্ষিণ লেবাননের হাব্বুশ শহরেও হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই বৈরুতসহ লেবাননের জনবহুল বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকাগুলোতে এই তণ্ডবলীলা চালানো হয়। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, এই হামলায় ১,১৬৫ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কাতার ভিত্তিক গণ্যমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরুদ্দিন এই পরিস্থিতিকে একটি ‘বিপজ্জনক উস্কানি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ইসরায়েল দেশজুড়ে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। বৈরুতের আকাশ বর্তমানে কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন এবং শহরজুড়ে আতঙ্কিত মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে।
লেবাননের রেড ক্রস জানিয়েছে, ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স নিরবচ্ছিন্নভাবে হতাহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবিকতার তোয়াক্কা না করে সুপরিকল্পিতভাবে নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এই অভিযানকে হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে চালানো ‘সবচেয়ে বড় এবং সমন্বিত আঘাত’ হিসেবে দাবি করেছেন। তার মতে, ‘অপারেশন বিপার্স’-এর পর এটিই হিজবুল্লাহর ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংস করছে, যদিও অধিকাংশ লক্ষ্যবস্তু ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।
আন্তর্জাতিক
চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান ঘিরে সেনা মোতায়েন থাকবে : ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অবসান এবং দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা স্থায়ীভাবে প্রশমনের জন্য পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আগামী ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ। আসন্ন এই সংলাপ নিয়ে ইরানকে নতুন হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেছেন, সংলাপ চলাকালেও ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বহাল থাকবে এবং ইরান যদি সমঝোতা চুক্তিতে না পৌঁছায়— তাহলে ফের সামরিক অভিযান শুরু করা হবে দেশটিতে।
গতকাল বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, “সব মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান, সেনাসদস্য, গোলাবারুদ, অস্ত্রশস্ত্র…সবকিছু বর্তমানে যে জায়গায় আছে, সেখানেই থাকবে; অর্থাৎ ইরানকে ঘিরে থাকবে। যতদিন পর্যন্ত ইরান একটি সত্যিকার সমঝোতা চুক্তিতে না পৌঁছাচ্ছে— ততদিন এই অবস্থা থাকবে।”
“আর যদি কোনো কারণে ইরান চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, যে সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ— তাহলে ফের হামলা শুরু হবে এবং সেই হামলা এত ব্যাপক, শক্তিশালী এবং তীব্র হবে যা কেউ কোনোদিন দেখেনি।”
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের ১৫ পয়েন্ট বিশিষ্ট যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব এবং ইরানের ১০ দফা দাবি সম্বলিত আরেকটি প্রস্তাব নিয়ে আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে সংলাপে বসতে যাচ্ছে মার্কিনি ও ইরানি প্রতিনিধি দল। এই সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, আর ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদাম জানিয়েছেন, আজ রাতেই ইসলামবাদের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন ইরানি প্রতিনিধি দল।
সূত্র : রয়টার্স
আন্তর্জাতিক
লেবাননে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা দিলেন আরাগচি
লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ আগ্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি অথবা ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধ— যুক্তরাষ্ট্রকে এই দুই-এর মধ্যে যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হবে।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগ এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় আরাগচি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো পরিষ্কার এবং স্পষ্ট: যুক্তরাষ্ট্রকে এখন অবশ্যই বেছে নিতে হবে যে তারা যুদ্ধবিরতি চায়, না-কি ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধ করতে চায়। কারণ, এই দু’টো একসঙ্গে চলতে পারবে না।”
“লেবাননে যে বিধ্বংসী হামলা, বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড চলছে— পুরো পৃথিবী তার সাক্ষী। বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। তারা তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করবে কিনা— তা বিশ্ব দেখছে।”
গত ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার ১৫ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ীভাবে যুদ্ধাবসানের দিকে পরিচালনা করা নিয়ে আলোচনা ও চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই গতকাল বুধবার লেবাননজুড়ে শতাধিক বিমান হামলা পরিচালনা করে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননে নিহত হয়েছেন মোট ২৫৪ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি। নিহত এবং আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে লেবাননের ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী বাহিনী।
মাত্র ১০ মিনিট চলেছে ইসরায়েলের বিমান অভিযান। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ অভিযানে অংশ নিয়েছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ৫০টি যুদ্ধবিমান এবং ১০ মিনিটে পুরো লেবাননে ১০০ বারেরও বেশি বোমাবর্ষণ করা হয়েছে।
অধিকাংশ বোমা ফেলা করা হয়েছে লেবাননের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে। ফলে ধ্বংস ও প্রাণহানি মাত্রা অনেক বেশি। এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, নিহত-আহত এবং তাদের স্বজনদের ভিড়ে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছে বৈরুত ও লেবাননের অন্যান্য শহর-গ্রামের হাসপাতালগুলো। ধ্বংসস্তূপ আটকা পড়া নিহত এবং আহতদের উদ্ধারে বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারী বাহিনীর সদস্যদেরও।
ইরানের সমর্থন ও মদতপুষ্ট বিশ্বের বৃহত্তম সশস্ত্র ইসলামি গোষ্ঠী হিজবুল্লা। লেবাননভিত্তিক এই গোষ্ঠীটির প্রতিষ্ঠা গত শতকের আশির দশকে এবং জন্মলগ্ন থেকেই হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের চরম শত্রু।
হিজবুল্লাকে পুরোপুরি দমন করতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে লেবাননে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। পরে ২০২৫ সালের অক্টোবরে মাসে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে লেবাননের সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় ইরান- যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ। এই যুদ্ধ বাঁধার দু’দিন পর অর্থাৎ ২ মার্চ থেকে যুদ্ধবিরতি ভেঙে লেবাননে অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। পরে মার্চের মাঝামাঝি বিমান অভিযানের সঙ্গে যুক্ত হয় স্থল অভিযানও।
লেবাইরানের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দেশটির আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখে— তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি থেকে বেরিয়ে যেতে পারে ইরান।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
আন্তর্জাতিক
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ২৫৪ জন নিহত, আহত অন্তত ১১০০
লেবাননে গত মাসে ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর বুধবার সবচেয়ে বড় হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে।
মৃতের সংখ্যা সর্বোচ্চ ছিল বৈরুতে, যেখানে ৯১ জন নিহত হয়েছেন। তবে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মৃতের সংখ্যা ১৮২ জন বলে জানিয়েছে এবং বলেছে যে এটি চূড়ান্ত সংখ্যা নয়। রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার বিকেলে রাজধানী বৈরুতে পরপর অন্তত ৫টি হামলা চালানো হয়, যার ফলে আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় সমন্বিত হামলাটি চালিয়েছে। ১০ মিনিটের মধ্যে বৈরুত, বেকা উপত্যকা ও দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ১০০টিরও বেশি কমান্ড সেন্টার ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার ভোরে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তারা মানারা নামের ছোট কিবুতজটিতে রকেট হামলা চালিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘আমাদের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
গত ২ মার্চ শুরু হওয়া যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ দিন ছিল বুধবার। এর দুই দিন আগে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে হিজবুল্লাহ তেহরানের সমর্থনে ইসরায়েলে গুলি চালায়। এর জবাবে ইসরায়েল একটি পুরোদস্তুর বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে।
রয়টার্সের সাংবাদিকরা দেখেছেন, বৈরুতের পশ্চিমাঞ্চলের একটি ভবন থেকে বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীরা একজন বয়স্ক নারীকে ক্রেনে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। ইসরায়েলি হামলায় ভবনটির অর্ধেক অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ায় ওপরের তলার বাসিন্দারা আটকা পড়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সময়মতো পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় লোকজন মোটরসাইকেলে করে আহতদের তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, ‘লেবাননে আজ যে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে, তার মাত্রা ভয়াবহ ছাড়া আর কিছুই নয়। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন হত্যাকাণ্ড অবিশ্বাস্য।’
রয়টার্সের সরাসরি সম্প্রচার অনুযায়ী, বুধবার গভীর রাতে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতে একটি ধর্মঘট শুরু হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার সন্ধ্যায় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবানন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির অংশ নয় এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হিজবুল্লাহর ওপর শক্তি প্রয়োগ করে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বুধবার বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
ভ্যান্স বলেন, ‘আমার মনে হয়, ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এ ঘটনার সৃষ্টি। আমার ধারণা, ইরানিরা ভেবেছিল যে যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু আসলে তা ছিল না।’
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেছিলেন, এই যুদ্ধবিরতিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এদিকে হিজবুল্লাহ বুধবার ভোরেই ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বন্ধ করে দিয়েছে বলে দলটির ঘনিষ্ঠ তিনটি লেবানিজ সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।
হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম আল-মুসাউই রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমাদের জানানো হয়েছিল যে এটি যুদ্ধবিরতির অংশ—তাই আমরা তা মেনে চলেছি, কিন্তু ইসরায়েল বরাবরের মতোই তা লঙ্ঘন করেছে এবং সারা লেবানন জুড়ে গণহত্যা চালিয়েছে।’



