আন্তর্জাতিক
শিক্ষার্থীদের সরকার বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরান
গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারির রক্তক্ষয়ী দমনের ক্ষত শুকানোর আগেই আবারও সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী তেহরানসহ দেশটির প্রধান প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের বিশাল মিছিল ও অবস্থান ধর্মঘট পালিত হয়েছে। একদিকে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার হুমকির মুখে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তেহরানের আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান ধর্মঘট পালিত হয়েছে এবং উত্তর-পূর্বে একটি সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীরা জানুয়ারিতে গণ-বিক্ষোভে নিহত হাজার হাজার ব্যক্তিকে সম্মান জানাচ্ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছাকাছি সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে এবং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি সীমিত সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের সন্দেহ ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যদিও ইরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এ অবস্থায় ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক চাপ আর সামরিক তৎপরতার মুখে তেহরান মাথা নত করবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, বিশ্বশক্তিগুলো আমাদের মাথা নত করাতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। কিন্তু তারা আমাদের জন্য যত সমস্যাই সৃষ্টি করুক না কেন, আমরা মাথা নত করব না।
এদিকে, সাম্প্রতিক দেশব্যাপী বিক্ষোভে হাজারো মৃত্যুর জন্য আবারও ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করেছে ইরান সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ৩ হাজারের বেশি নিহতের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২০০ জনই নিরাপত্তা সদস্য।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, প্রয়োজনে ইরানে সীমিত পরিসরে সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছে তারা। এরমধ্যেই, কাতারের আল উদেইদ মার্কিন বিমান ঘাঁটি থেকে শত শত মার্কিন সেনাকে সরিয়ে নিচ্ছে পেন্টাগন। ইরানের পাল্টা হামলা থেকে বাঁচতেই এমন পদক্ষেপ বলে ধারণা স্থানীয় গণমাধ্যমের।
এমএন
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই প্রথমবারের মতো সমুদ্রভিত্তিক দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সায়াদ-৩জি ছুড়েছে ইরান। বৃহৎ সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করে দেশটি।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী পরিচালিত হরমুজ প্রণালীর স্মার্ট কন্ট্রোল শীর্ষক নৌ মহড়ার সময় যুদ্ধজাহাজ শহিদ সায়াদ শিরাজি থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি স্থলভিত্তিক সায়াদ-৩ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নৌ সংস্করণ, যা এই প্রথমবারের মতো সমুদ্রে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হলো।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, আইআরজিসির নৌবাহিনী ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে।সায়াদ-৩জি ক্ষেপণাস্ত্রটি সোজাসুজি উৎক্ষেপণযোগ্য এবং এর কার্যকর দূরপাল্লা প্রায় ১৫০ কিলোমিটার।
হরমুজ প্রণালীতে অনুষ্ঠিত স্মার্ট কন্ট্রোল মহড়া শুরু হয় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং এটি টানা তিন দিন ধরে চলে। এই মহড়ার মধ্য দিয়েই তেহরান সমুদ্রভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার জানান দিলো বলে অভিমত বিশ্লেষকদের।
দেশটির কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শহিদ সোলাইমানি শ্রেণির সামরিক জাহাজগুলোর জন্য আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এর আগে সায়াদ-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের স্থলভিত্তিক সংস্করণ প্রথম পরীক্ষা করা হয় ২৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ওই সংস্করণের দূরপাল্লা ছিল ১২০ কিলোমিটার।
এমএন
আন্তর্জাতিক
কোর্টের রায়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বৈশ্বিক শুল্ক ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বৈশ্বিক শুল্ক হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তার আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি দুই দফায় শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন।
এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প আদালত কর্তৃক বাতিল হওয়া শুল্কের জায়গায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলেছিলেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, আগে কখনো ব্যবহার হয়নি – এমন একটি আইনের অধীনে তিনি এ শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করবেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্ত এমন সময় এল, যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ওয়াশিংটনের আদায় করা আনুমানিক ১৩৩ বিলিয়ন ডলার ফেরত চাওয়া শুরু করেছে।
ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প বলেন, নতুন শুল্ক ‘অবিলম্বে কার্যকর’ হবে। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের ‘অযৌক্তিক, দুর্বলভাবে লেখা এবং অত্যন্ত আমেরিকাবিরোধী’ রায়ের পর্যালোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকেই তার ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা। এখন সেটি যদি ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হয় তাহলে সেটি কখন থেকে কার্যকর হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এ সংক্রান্ত একটি রুল জারি করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ৬-৩ ভোটে এই রায় দেয়।
তবে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করে সব দেশের পণ্যের ওপর অন্য আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
আপিল আদালতের রায়কে অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট উল্লেখ করে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে, তা সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেবে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালাল পাকিস্তান
আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলার জেরে এ হামলা চালিয়েছে পাক বাহিনী।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঘাঁটি ও গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান এবং সহযোগী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশ (আইএসকেপি)-এর সাতটি সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ শিবির ও আস্তানায় ‘নির্বাচিত লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালানো হয়েছে।
পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগে সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে কাবুল তিন পাকিস্তানি সেনাকে মুক্তি দেয়। দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম সীমান্তজুড়ে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড কাজে লাগিয়ে পরিকল্পনা করা সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে বোমা বিস্ফোরণ এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাজাউর ও বান্নু জেলায় সহিংসতা।
কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বান্নু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে আত্মঘাতী হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সেনা নিহত হন। এর পরদিন সোমবার বাজাউরে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলায় ১১ জন সেনা ও এক শিশু নিহত হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই হামলাকারী একজন আফগান নাগরিক।
এদিকে কাবুলের তালেবান প্রশাসনের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করতে পারেনি রয়টার্স। তবে আফগানিস্তান বরাবরই পাকিস্তানের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালানোর সুযোগ কোনো গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়নি।
এমএন
আন্তর্জাতিক
পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণার পর সব দেশের ওপর নতুন ১০ শতাংশ শুল্কারোপ করলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন, তিনি পাল্টা শুল্কের বদলে নতুন করে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট তার আরোপ করা বেশিরভাগ শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি এই পদক্ষেপ নিলেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, তিনি ওভাল অফিসে বসে এই নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। তিনি আরও জানান, এই আদেশ ‘প্রায় তাৎক্ষণিকভাবেই’ কার্যকর হবে।
এর আগে শুক্রবারই ট্রাম্প ভিন্ন একটি আইনি ক্ষমতাবলে শুল্কারোপের বিকল্প পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ ও ‘ভয়ংকর’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আদালত ভুলবশত যেসব সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে, সেগুলোর জায়গায় এখন অন্যান্য বিকল্প ব্যবহার করা হবে। আমাদের কাছে বিকল্প আছে—দারুণ সব বিকল্প। এর মাধ্যমে হয়তো আরও বেশি অর্থ আয় হতে পারে। আমরা আরও বেশি অর্থ আদায় করব এবং আরও অনেক শক্তিশালী হব।’
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতোমধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করে ফেলা দেশগুলোর ওপরও এই নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ হবে। এসব দেশ এখন নিজেদের চুক্তিতে নির্ধারিত শুল্ক হারের বদলে সেকশন ১২২-এর অধীনে বৈশ্বিক ১০ শতাংশ শুল্ক দেবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ১০ শতাংশ শুল্ক হারের আওতাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য, ভারত, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রয়েছে। তবে তালিকাটি এখানেই শেষ নয়।
এর ফলে ট্রাম্পের করা অনেক চুক্তিতে শুল্কের হার আগের চেয়ে কমে যাবে। যেমন, আগের বাণিজ্য চুক্তিগুলোতে জাপানের ওপর ১৫ শতাংশ ও ভারতের ওপর ১৮ শতাংশ শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছিল।
হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ওই দেশগুলো যেসব ছাড় দিতে রাজি হয়েছিল, তারা সেটি মেনে চলবে।
সুপ্রিম কোর্টের ৯ জন বিচারপতির মধ্যে ৬ জন ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপকে অবৈধ ঘোষণার পক্ষে মত দিয়ে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
এই সিদ্ধান্তটি ওইসব এই শুল্কবিরোধী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোর জন্য বড় বিজয়। এর ফলে ইতিমধ্যে শুল্ক বাবদ দেওয়া শত শত কোটি ডলার ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে একইসঙ্গে এই রায় বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তারও জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, আইনি লড়াই ছাড়া এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না। তিনি আশা করছেন, বিষয়টি নিয়ে বছরের পর বছর আদালতে আইনি লড়াই চলতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, নিজের শুল্কনীতি এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি অন্য আইনের আশ্রয় নেবেন। তার মতে, এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে।
মূলত বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আরোপ করা আমদানি শুল্ক নিয়ে ছিল আদালতের এই লড়াই।
শুরুতে এই শুল্ক মেক্সিকো, কানাডা ও চীনের ওপর আরোপ করা হয়। পরে গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর পরিধি বাড়িয়ে আরও ডজনখানেক বাণিজ্য অংশীদারের ওপর তা প্রয়োগ করা হয়।
হোয়াইট হাউস ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট-এর (আইইইপিএ) বরাত দিয়ে দাবি করেছিল, এই আইন প্রেসিডেন্টকে জরুরি অবস্থায় বাণিজ্য ‘নিয়ন্ত্রণের’ ক্ষমতা দেয়।
কিন্তু এ পদক্ষেপের ফলে দেশে-বিদেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যেসব প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাতে হুট করে বাড়তি করের মুখে পড়েছিল, তারা প্রতিবাদ জানায়। এ শুল্কের কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে বলেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
গত বছর আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে প্রতিবাদকারী অঙ্গরাজ্য ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনজীবীরা বলেন, ট্রাম্প শুল্কারোপের জন্য যে আইন ব্যবহার করেছেন, সেখানে ‘শুল্ক (ট্যারিফ)’ শব্দটির কোনো উল্লেখই নেই।
তারা বলেন, কংগ্রেস তাদের কর আদায়ের ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায়নি। এমনকি বিদ্যমান অন্যান্য বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্ক বিধিগুলোকে ‘বাতিল করার জন্য প্রেসিডেন্টকে সীমাহীন ক্ষমতা’ দেওয়ার উদ্দেশ্যও কংগ্রেসের ছিল না।
রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তার মতামতে এই যুক্তির পক্ষেই অবস্থান নেন।
শুল্ক বাতিলের এই সিদ্ধান্তে আদালতের তিনজন উদারপন্থি বিচারপতির সঙ্গে যোগ দেন ট্রাম্পের মনোনীত দুই বিচারপতি—অ্যামি কোনি ব্যারেট ও নিল গোরসাচ। আর তিন রক্ষণশীল বিচারপতি—ক্ল্যারেন্স টমাস, ব্রেট কাভানাফ ও স্যামুয়েল আলিটো এই রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন।
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, আদালতে রিপাবলিকান দলের মনোনীত যেসব বিচারপতি তার বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন, তাদের নিয়ে তিনি ‘ভীষণ লজ্জিত’।
তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য সঠিক কাজটি করার সাহস দেখাতে না পারায় আদালতের নির্দিষ্ট কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে আমি লজ্জিত, ভীষণ লজ্জিত।’
ট্রাম্প আরও বলেন, এ রায়ের কারণে ‘যেসব বিদেশি রাষ্ট্র বছরের পর বছর আমাদের ঠকিয়ে আসছিল, তারা এখন উচ্ছ্বসিত। তারা এতটাই খুশি যে রাস্তায় নেচে বেড়াচ্ছে। তবে তারা বেশিদিন এই নাচ নাচতে পারবে না, এটুকু আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে পারি।’
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারের দাম বেড়ে যায়। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ০.৭ শতাংশ বেড়ে দিনের লেনদেন শেষ করে।
তবে শুল্কের খরচ থেকে মুক্তি ও অর্থ ফেরতের যে আশা করা হচ্ছে, তা হয়তো শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে যেতে পারে।
শুক্রবার ট্রাম্প সেকশন ১২২ নামক এক অব্যবহৃত আইনের আওতায় নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণাপত্রে সই করেছেন। এ আইন ব্যবহার করে ১৫০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কারোপের ক্ষমতা পাওয়া যায়। এরপর বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসকে পদক্ষেপ নিতে হয়।
আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।
এ আদেশে নানা ধরনের পণ্যে শুল্কছাড়ের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু খনিজ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও সার; কমলা ও গরুর মাংসের মতো কিছু কৃষিজাত পণ্য; ওষুধসামগ্রী; কিছু ইলেকট্রনিক পণ্য ও নির্দিষ্ট কিছু যানবাহন। ঠিক কোন কোন নির্দিষ্ট পণ্য এই ছাড় পাবে, আদেশে তা স্পষ্টভাবে বলা হয়নি।
উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ইউএসএমসিএ-র আওতায় কানাডা ও মেক্সিকো তাদের সিংহভাগ পণ্যের ওপর শুল্কছাড়ের সুবিধা অব্যাহত রাখবে।
বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, হোয়াইট হাউস হয়তো সেকশন ২৩২ ও সেকশন ৩০১-এর মতো অন্যান্য হাতিয়ারও ব্যবহারের চিন্তা করবে। এসব আইনের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি ও অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা মোকাবিলায় আমদানি শুল্ক আরোপের সুযোগ রয়েছে।
ট্রাম্প এর আগেও শুল্ক আরোপের জন্য এসব হাতিয়ার ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে গত বছর ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ির মতো খাতগুলোর ওপর আরোপ করা শুল্ক উল্লেখযোগ্য। আদালতের এই রায়ে সেই শুল্কগুলোর ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি।
আন্তর্জাতিক
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে সিরিয়া ছাড়ছে মার্কিন সেনারা!
আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সিরিয়ায় থাকা অবশিষ্ট সেনাদের প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেছেন, সিরিয়ার ভেতরে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের নেতৃত্ব এখন দেশটির সরকারই দেবে এবং ‘বৃহৎ পরিসরে’ মার্কিন সামরিক উপস্থিতির আর প্রয়োজন নেই।
২০১৫ সাল থেকে মার্কিন সেনারা সিরিয়ায় অবস্থান করছে। মূলত ইসলামিক স্টেটের (আইএসআইএস) প্রভাব মোকাবিলায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে দেশটিতে অবস্থান করছে মার্কিন সেনারা।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি যখন বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত এলে।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা আরও জানান, সিরিয়ায় থাকা প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনাকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি শর্তসাপেক্ষ রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ এবং যুক্তরাষ্ট্র এখনো অঞ্চলটির যেকোনো হুমকির জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবে।
এদিকে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার সময়সূচি নিয়ে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহান্তেই অর্থাৎ শনিবারের মধ্যেই ইরানে হামলা চালানোর জন্য সামরিক বাহিনী প্রস্তুত বলে শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। তবে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সূত্রগুলো বলছে, এ বিষয়ে আলোচনা এখনো চলমান এবং পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। হামলা হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিক্রিয়া—এসব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে হোয়াইট হাউস সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করছে।
সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ বা ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু মার্কিন সেনা ও কর্মীকে সাময়িকভাবে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নিচ্ছে বলে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এমএন



