আন্তর্জাতিক
শিক্ষার্থীদের সরকার বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরান
গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারির রক্তক্ষয়ী দমনের ক্ষত শুকানোর আগেই আবারও সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী তেহরানসহ দেশটির প্রধান প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের বিশাল মিছিল ও অবস্থান ধর্মঘট পালিত হয়েছে। একদিকে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার হুমকির মুখে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তেহরানের আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান ধর্মঘট পালিত হয়েছে এবং উত্তর-পূর্বে একটি সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীরা জানুয়ারিতে গণ-বিক্ষোভে নিহত হাজার হাজার ব্যক্তিকে সম্মান জানাচ্ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছাকাছি সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে এবং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি সীমিত সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের সন্দেহ ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যদিও ইরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এ অবস্থায় ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক চাপ আর সামরিক তৎপরতার মুখে তেহরান মাথা নত করবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, বিশ্বশক্তিগুলো আমাদের মাথা নত করাতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। কিন্তু তারা আমাদের জন্য যত সমস্যাই সৃষ্টি করুক না কেন, আমরা মাথা নত করব না।
এদিকে, সাম্প্রতিক দেশব্যাপী বিক্ষোভে হাজারো মৃত্যুর জন্য আবারও ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করেছে ইরান সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ৩ হাজারের বেশি নিহতের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২০০ জনই নিরাপত্তা সদস্য।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, প্রয়োজনে ইরানে সীমিত পরিসরে সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছে তারা। এরমধ্যেই, কাতারের আল উদেইদ মার্কিন বিমান ঘাঁটি থেকে শত শত মার্কিন সেনাকে সরিয়ে নিচ্ছে পেন্টাগন। ইরানের পাল্টা হামলা থেকে বাঁচতেই এমন পদক্ষেপ বলে ধারণা স্থানীয় গণমাধ্যমের।
এমএন
আন্তর্জাতিক
ডলারের বিকল্প গড়ে তুলতে হরমুজ ঘিরে চীন-ইরানের মহাপরিকল্পনা
ইরানের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে অস্থির করে তুলেছে। এমন সময়ে এসে আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার একটি পুরোনো বিতর্ককে সামনে এনে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে ইরান ও চীন।
ইরান ও চীনের অভিযোগ, বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের আধিপত্য বা ‘ডলার হেজেমনি’ শেষ হওয়া উচিত।
এ ছাড়া মার্কিনিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের প্রাধান্য ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিপক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে আসছে।
২০২৩ সালে জেপি মর্গান চেজের একটি অনুমান অনুযায়ী, বৈশ্বিক তেল বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ লেনদেন এখনো ডলারে নিষ্পত্তি হয়, যা এই মুদ্রার বৈশ্বিক আধিপত্যকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
হরমুজ প্রণালি ও ‘ইউয়ান’ ব্যবহারের উদ্যোগ
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো হরমুজ প্রণালি, যেখান দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণের অবস্থান কাজে লাগিয়ে চীনা মুদ্রা ইউয়ানকে বিকল্প হিসেবে সামনে আনতে চাইছে ইরান ও চীন।
বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান এখন কার্যত একটি ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থা চালু করেছে, যেখানে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ইউয়ানে ট্রানজিট ফি পরিশোধ করতে হচ্ছে। যদিও কতগুলো জাহাজ ইতিমধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করেছে তা স্পষ্ট নয়, তবে অন্তত দুটি জাহাজ ২৫ মার্চ পর্যন্ত ইউয়ানে অর্থ পরিশোধ করেছে বলে জানিয়েছে লয়েডস লিস্ট।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্যের ইঙ্গিতপূর্ণ স্বীকৃতি দিয়েছে।
এদিকে ইরানের জিম্বাবুয়ের দূতাবাস এক পোস্টে জানিয়েছে, বৈশ্বিক তেল বাজারে ‘পেট্রোইউয়ান’ যুক্ত করার সময় এসেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে বুধবার থেকে পরবর্তী দুই সপ্তাহ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার কথা বলেছে তেহরান। তবে এ বিষয়ে চীন বা ইরান কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ ও সাবেক আইএমএফ প্রধান অর্থনীতিবিদ কেনেথ রোগফ বলেন, ‘একদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে ইউয়ান ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আনছে, অন্যদিকে এটি নিষেধাজ্ঞা এড়ানো এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর করার কৌশল।’
‘বহু মেরুকেন্দ্রিক’ আর্থিক ব্যবস্থার ধারণা
ইরান ও চীনের মতে, ইউয়ানের ব্যবহার উভয় দেশের জন্যই লাভজনক। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা-নির্ভর আর্থিক ব্যবস্থাকে পাশ কাটানো সহজ হয় এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের খরচও কমে।
২০২১ সালে স্বাক্ষরিত ২৫ বছরের কৌশলগত অংশীদারি চুক্তির পর থেকে দুই দেশের বাণিজ্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাজ্যের কিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ বোলেন্ট গোকেই বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করার গুরুত্ব বোঝে এবং ইউয়ানের ব্যবহার সেই কৌশলের অংশ।
তিনি আরো বলেন, চীনের লক্ষ্য হলো একটি ‘মাল্টিপোলার বা বহুমেরুকেন্দ্রিক আর্থিক বিশ্ব’ গঠন করা, যেখানে ডলারের একক আধিপত্যের পরিবর্তে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা প্রভাব বিস্তার করবে।
বর্তমানে ইরানের রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি কিনে নেয় চীন। ইউয়ানের মাধ্যমে অনেক সময় ছাড় দেওয়া মূল্যে তা কিনে নেয় দেশটি। বিনিময়ে ইরান চীন থেকে যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স ও শিল্পপণ্য আমদানি করে।
ডলারের আধিপত্য কতটা শক্তিশালী
বিশ্লেষকদের মতে, ইউয়ানের ব্যবহার বাড়লেও বৈশ্বিক মুদ্রা হিসেবে ডলারের বিকল্প হওয়া এখনো অনেক দূরের বিষয়।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ২০২৪ সালে এক বক্তব্যে ইউয়ানকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সাধারণ মুদ্রা ও ভবিষ্যতের বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে দেখতে চান বলে আশা প্রকাশ করেন।
তবে বাস্তবতা হলো, চীনের কঠোর পুঁজি নিয়ন্ত্রণের কারণে ইউয়ান এখনো সম্পূর্ণভাবে বিনিময়যোগ্য নয়। ফলে বৈশ্বিক পর্যায়ে এর গ্রহণযোগ্যতা সীমিত।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বৈশ্বিক রিজার্ভের ৫৭ শতাংশ ছিল ডলারে, ২০ শতাংশ ইউরোতে এবং মাত্র ২ শতাংশ ইউয়ানে। এছাড়া ২০২৪ সালে আন্ত সীমান্ত বাণিজ্যের মাত্র ৩.৭ শতাংশ ইউয়ানে নিষ্পত্তি হয়েছে, যা ২০১২ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি (১ শতাংশেরও কম) হলেও এখনো সীমিত।
ন্যাটিক্সিসের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যালিসিয়া গার্সিয়া হিরেরো বলেন, ইউয়ানের ব্যবহার বৃদ্ধি ডলারের আধিপত্যকে কিছুটা চাপ দিলেও এটি ‘ডি-ডলারাইজেশন’ ঘটানোর মতো নয়।
ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ইঙ্গিত
ব্রাসেলসভিত্তিক ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্যাল ইকোনমির পরিচালক হসুক লি মাকিয়ামা মনে করেন, ইরান-চীন বাণিজ্য ডলারের বিকল্প গড়ে তুলতে পারে না, তবে এটি নির্দিষ্ট খাতে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে ডিফারেন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ড্যান স্টেইনকব বলেন, ডলারের আধিপত্য দ্রুত শেষ না হলেও ইউয়ানের ব্যবহার ধীরে ধীরে সেই আধিপত্যকে ‘ক্ষয়’ করতে পারে।
অর্থনীতিবিদ কেনেথ রগোফ আরো বলেন, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি নির্ভর করবে এই সংঘাতের ফলাফলের ওপর। যদি ইরান ও চীন কৌশলগতভাবে সফল হয়, তবে অনেক দেশ নিজেদেরকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে রক্ষা করতে ডলার নির্ভরতা কমাবে।
বিশ্লেষকদের মতে সার্বিক চিত্র
তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এটি তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন নয় বরং দীর্ঘমেয়াদে ধীরে ধীরে ডলারের প্রভাব কমার একটি প্রক্রিয়া।
চীনের সঙ্গে ইরানের এই আর্থিক সমন্বয়কে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একটি ‘সামান্য কিন্তু ধারাবাহিক চাপ’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা, যা ডলারের একক আধিপত্যকে সম্পূর্ণ ভাঙার চেয়ে ধীরে ধীরে বিকল্প ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে।
বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় ডলারের এই অবস্থান পরিবর্তন আদৌ কতটা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করছে আগামী বছরগুলোর ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও শক্তির ভারসাম্যের ওপর।
আন্তর্জাতিক
এক দিনের ছুটি ইউরোপের অর্থনীতির কতটা ক্ষতি করে?
বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত সময়জুড়ে ইস্টার মানডে, লেবার ডে ও হুইট মানডের মতো একাধিক সরকারি ছুটি ইউরোপের অর্থনীতির গতি অনেকটা ধীর করে দেয়। সাধারণ মানুষের জন্য এসব দিন আনন্দ ও বিশ্রামের উপলক্ষ হলেও ব্যবসা-বাণিজ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে এই বেতনভুক্ত ছুটিগুলোর প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা।
ইউরো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিতর্কের মধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ডেনমার্ক।
২০২৪ সালে দেশটি শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় ছুটি গ্রেট প্রেয়ার ডে বাতিল করে। প্রায় ৩৪০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ ছুটি বাতিলের পেছনে মূল কারণ ছিল প্রতিরক্ষা খাতে বাড়তি ব্যয় জোগাড় করা।
কোপেনহেগেনের হিসাব বলছে, একটি ছুটি কমালে বছরে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডেনিশ ক্রোনার, অর্থাৎ প্রায় ৪০ কোটি ইউরো অতিরিক্ত রাজস্ব অর্জন সম্ভব। সরকার জানিয়েছে, ন্যাটো নির্ধারিত জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয় নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত।
ডেনমার্কের এই উদ্যোগ নতুন নয়। এর আগে ২০১২ সালে পর্তুগাল অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় চারটি সরকারি ছুটি বাতিল করেছিল। যদিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ২০১৬ সালে সেগুলো পুনর্বহাল করা হয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি কোষাগারে চাপ তৈরি হলে ছুটির মতো বিষয়গুলোই আগে কাটছাঁটের তালিকায় আসে।
গবেষক লুকাস রোসো ও রদ্রিগো ওয়াগনার-এর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অতিরিক্ত প্রতিটি সরকারি ছুটি বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ০.০৮ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সব খাতে এর প্রভাব সমান নয়। উৎপাদন শিল্পে ছুটির প্রভাব বেশি পড়লেও কৃষি বা খনির মতো খাতে কাজ অনেক সময় চলমান থাকায় ক্ষতি তুলনামূলক কম। অন্যদিকে ছুটির দিনে মানুষের ভ্রমণ ও বিনোদনমূলক খরচ বাড়ায় পর্যটন ও সেবা খাতে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাবও দেখা যায়।
বড় অর্থনীতির দেশগুলোর ক্ষেত্রে একদিনের ছুটিও বড় অঙ্কের ক্ষতির কারণ হতে পারে। যেমন জার্মানির ২০২৪ সালের জিডিপি ৪.৩ ট্রিলিয়ন ইউরোর বেশি। সে হিসেবে দেশটিতে একটি কর্মদিবস কমে যাওয়া মানে প্রায় ৩৪০ কোটি ইউরো সমমূল্যের উৎপাদন হারানো।
আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানাল বাংলাদেশ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘর্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ বিরতিকে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা প্রশমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ঢাকা।
বুধবার (৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান দেখাবে এবং এই সুযোগকে ফলপ্রসূভাবে ব্যবহার করে একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের জন্য কাজ করবে। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হয় বিবৃতিতে।
যুদ্ধবিরতি সুবিধাজনক করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণকারী সব পক্ষকে সাধুবাদ জানানো হয়। সব বিবাদই শান্তিপূর্ণভাবে সংলাপ ও কূটনীতি মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব এবং করা উচিত বলে জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা ভয়াবহ আঞ্চলিক সংঘাতের পর বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এতে সম্মত হয়েছে তেহরানও।
আন্তর্জাতিক
ইরানে হামলা বন্ধ হলেও লেবাননে অভিযান চালাবে ইসরায়েল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মেনে ইরানি ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। তবে দেশটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানে হামলা বন্ধ হলেও লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই অবস্থান নিশ্চিত করেছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনা মেনে ইরানে সামরিক কার্যক্রম স্থগিত রাখলেও লেবাননে স্থল ও আকাশ অভিযান জারি রেখেছে ইসরায়েল। আইডিএফ-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “রাজনৈতিক নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ইরানি অভিযানে যুদ্ধবিরতি পালন করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের লঙ্ঘন মোকাবিলায় সেনাবাহিনী উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।” তবে একই সাথে তারা জানায়, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লেবাননের লড়াই ও স্থল অভিযান চলমান থাকবে।
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জানিয়েছিলেন যে, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননসহ সব জায়গায় কার্যকর হবে। কিন্তু ইসরায়েল সেই দাবি নাকচ করে দিয়ে নিজেদের সামরিক অবস্থান পরিষ্কার করল।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধবিরতির যেকোনো ধরনের লঙ্ঘনের ঘটনায় আত্মরক্ষামূলক জবাব দিতে তারা ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’ রয়েছে। এদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে আজ সকালেও ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চূড়ান্ত পরাজয়’ হয়েছে: রাশিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর ইরানের বিরুদ্ধে ‘একমুখী, আগ্রাসী ও বিনা উসকানিতে আক্রমণ’-এর পন্থাটি ‘চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা স্পুটনিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আরও আক্রমণাত্মক হওয়া, আরও আগ্রাসী হওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও সক্রিয় থাকা এবং ‘জয়’ খুব কাছেই- এই ধরনের যেসব বক্তব্য দেয়া হচ্ছিল, সেই অবস্থান আবারও চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে এমন একমুখী, আক্রমণাত্মক ও উসকানিহীন হামলার কৌশলও ব্যর্থ হয়েছে।’
জাখারোভা আরও বলেন, শুরু থেকেই রাশিয়া ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা এবং একটি ‘বাস্তব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান’ শুরু করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে। পাশাপাশি, এই পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই বলেও মনে করে মস্কো।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আক্রমণ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। প্রতিবেদন অনুসারে, এতে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ এক হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।
এর জবাবে, ইসরাইলের পাশাপাশি জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।
এছাড়া, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলেও সীমাবদ্ধতা আরোপ করে তেহরান।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি



