আন্তর্জাতিক
ইরানে হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে এমন খবর জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু বিভিন্ন উদ্ধার-সংস্থা ও হোম ফ্রন্ট কমান্ডকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থায় ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, ইরান ইস্যু নিয়ে গত বৃহস্পতিবারের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকটি হঠাৎ স্থগিত করে আগামী রবিবার নেওয়া হয়েছে। তবে এর কারণ জানানো হয়নি।
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানে খুব শিগগিরই যেকোনো সময় বড় হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধকে মার্কিনিরা যেমন ধারণা করছেন তার চেয়ে বড় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে আছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এ যুদ্ধ খুব দ্রুতই শুরু হতে পারে।
সংবাদমাধ্যমটি আরো জানায়, এবারের হামলা হবে অনেক বড়। যা কয়েক সপ্তাহব্যাপী চলবে। গত মাসে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র যে নির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছিল, ইরানের হামলা এমন হবে না। এটি হবে ব্যাপক ও বিস্তৃত।
আন্তর্জাতিক
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৮ ইসরায়েলি আহত
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন কেবল আগুনের লেলিহান শিখা আর সতর্ক সংকেতের (সাইরেন) শব্দে প্রকম্পিত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ত্রিমুখী সংঘাত এখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ইরানের পালটা হামলার জেরে অন্তত ১০৮ জন ইসরায়েলি নাগরিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সংঘাত শুরুর পর থেকে এটি ইসরায়েলের অভ্যন্তরে সাধারণ নাগরিকদের ওপর অন্যতম বড় মানসিক ও শারীরিক আঘাতের ঘটনা।
ইসরায়েলের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আহতদের তালিকা দেওয়া হলেও ঠিক কী কারণে তাঁরা আহত হয়েছেন, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় সাইরেন শুনে তড়িঘড়ি করে শেল্টার বা আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় হুড়োহুড়িতে অনেকেই মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। এছাড়া রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতেও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ ১৫ মার্চ সকাল পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ১৯৫ জন ইসরায়েলিকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের মধ্যে ৮১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাঁরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
সংঘাতের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি বিশেষ বিবৃতি। তারা সরাসরি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি প্রদান করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত কয়েকদিনের হামলার যোগ্য জবাব হিসেবে তারা ‘শীর্ষ নেতৃত্বকে’ লক্ষ্যবস্তু করার কৌশল নিয়েছে। এর ফলে ইসরায়েলি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পাল্টা হামলার অংশ হিসেবে আজ সকালেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শহর ইসফাহানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও চুপ বসে নেই। তারা দাবি করেছে, ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত তিনটি বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আজ এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, রাশিয়া এখন সরাসরি ইরানকে ড্রোন সরবরাহ করছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে। জেলেনস্কির মতে, রাশিয়া এই যুদ্ধের মাধ্যমে পশ্চিমাদের নজর ইউক্রেন থেকে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আবদ্ধ রাখতে চাইছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্রিটেন একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। লন্ডনের সূত্র অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন স্থাপন ও ড্রোন তৎপরতা মোকাবিলায় ব্রিটেন নিজস্ব ড্রোন বহর পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এটি যুদ্ধের ব্যাপ্তিকে ইউরোপীয় শক্তির দিকেও টেনে নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
১৫ মার্চের এই চিত্র প্রমাণ করছে যে, সংঘাত প্রশমনের কোনো লক্ষণ তো নেই-ই, বরং এটি এখন ‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ দিকে মোড় নিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া এক সপ্তাহের সময়সীমার মধ্যে ইসরায়েল এই সংঘাত বন্ধ করবে নাকি প্রতিশোধের নেশায় পুরো অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী অন্ধকারে ঠেলে দেবে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।
এমএন
আন্তর্জাতিক
নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যার অঙ্গীকার: আইআরজিসি
ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যার অঙ্গীকার করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
রোববার (১৫ মার্চ) আইআরজিসির এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মাঝে রোববার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে লক্ষ্যবস্তু করার অঙ্গীকার করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
আইআরজিসির পরিচালিত সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি এই শিশু হত্যাকারী অপরাধী বেঁচে থাকেন, তাহলে আমরা সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাড়া করে তাকে হত্যা করব।
অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ার সুত্রের বরাত দিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে নেতানিয়াহু ইরানের হামলায় নিহত হয়েছেন বলে প্রচার করা হচ্ছে।
সূত্র: এএফপি
আন্তর্জাতিক
তেহরানকে ফাঁসাতে ‘নকল ড্রোন’ ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল
তেহরানকে ফাঁসাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোনের আদলে তৈরি ‘লুকাস’ নামের ড্রোন ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান।
ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, এই ড্রোন ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হচ্ছে এবং পরে তার দায় ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তুরস্ক, কুয়েত ও ইরাকের মতো প্রতিবেশী এবং বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার দায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ওপর চাপানো হয়েছে বলে অভিযোগ তেহরানের।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই কৌশলের মাধ্যমে ইরানের সামরিক বাহিনীর ‘প্রতিরক্ষামূলক, আইনি ও বৈধ পদক্ষেপগুলোকে’ খাটো করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিবাদ ও বিভেদ সৃষ্টি করাই এর মূল উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছে ইরান।
আন্তর্জাতিক
ট্রাম্পের আহ্বানে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে কি ফ্রান্স?
হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখতে ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না এবং যে খবর ছড়িয়েছে সেটি নাকচ করেছে ফ্রান্স। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ফ্রান্সের যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে বলে খবর ছড়িয়েছিল। কিন্তু তা সঠিক নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়নি। ফরাসি নৌবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে ১০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে যে খবর ছড়িয়েছিল তা প্রত্যাখ্যান করছে মন্ত্রণালয় ।
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর ওই খবরটি সামনে এসেছিল। কিন্তু ফ্রান্স জানাল, রণতরি পূর্ব ভূমধ্যসাগরেই অবস্থান করছে। ফ্রান্সের অবস্থান অপরিবর্তিত। আত্মরক্ষামূলক ও সুরক্ষামূলক। তারা আপাতত যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে না।
এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধকারী ইন্টারসেপ্টরের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে শনিবার (১৪ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সময়ও ইসরায়েল ইন্টারসেপ্টরের সংকটে ছিল। এবার ইরানের ধারাবাহিক ও ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে দেশটির দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।
এদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার মিউনিশন ব্যবহার করছে। এতে ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক
পিছু হটেছে মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকন
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র দাবি করেছেন, ইরানি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। শনিবার এক বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবুলফাজল শেকারচি বলেন, ইরানের শক্তিশালী প্রতিরোধের কারণে ওই মার্কিন রণতরী কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং এলাকা ছেড়ে সরে যেতে বাধ্য হয়।
তার ভাষায়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির জন্য একটি ঐতিহাসিক পরাজয়, যা ভবিষ্যতে ইতিহাসে উল্লেখ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বহু বছর ধরে এই রণতরীকে মুসলিম বিশ্বের ওপর ভয় সৃষ্টি ও সম্পদ শোষণের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মুখপাত্র মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের উদ্দেশে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা না করে নিজেদের আঞ্চলিক শক্তি ও সহযোগিতার ওপর নির্ভর করা উচিত।
তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ঘটনার স্বতন্ত্র নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।




