জাতীয়
জাতির কাছে দেয়া ওয়াদা ওয়াদা পরিপূর্ণ করেছি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, জাতিকে যে ওয়াদা আমরা দিয়েছিলাম, সেই ওয়াদা পরিপূর্ণ করতে পেরেছি। আমরা সবাইকে দেখাতে চাই, আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের কোনো লুকোচুরি নেই। আমরা সম্পূর্ণ ট্রান্সপারেন্ট একটা নির্বাচন দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) রাতে নির্বাচন কমিশনের ফলাফল ঘোষণা অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সবাই মিলে অনেক দিনের একটি প্রত্যাশিত সুন্দর নির্বাচন হয়েছে। আমরা সবাই মিলে জাতিকে উপহার দিতে পেরেছি। পরম করুণাময়ের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। আমাদের যে চেষ্টা, যে কষ্ট, সেটা সার্থক হয়েছে বলে আমরা মনে করি।
তিনি আরো বলেন, সকাল থেকে আমরা বিভিন্ন মিডিয়ায় দেখছিলাম মোটামুটিভাবে এদেশের ইতিহাসের নির্বাচনের ইতিহাসে যেকোনো মানদণ্ডে যদি আপনি বিচার করেন, এটাকে একটা বেশ ভালো নির্বাচন হিসেবে গণ্য করা যায়। আমার খুবই ভালো লেগেছে। আমরা ওয়াদা করেছিলাম যে, একটা উৎসবমুখর পরিবেশে একটা নির্বাচন আমরা উপহার দেব জাতিকে। নিরপেক্ষ একদম সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং ক্রেডিবল একটা ইলেকশন উপহার দেব এবং আমরা বিশ্বাস করি, আমরা এটা পেরেছি উপহার দিতে পেরেছি। এটা সবাই স্বীকৃতি দিচ্ছে।
সিইসি বলেন, আমার খুবই ভালো লেগেছে। কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি সীমাবদ্ধতা থাকবেই। এটা ১৮ কোটি লোকের দেশ। ১২৭ মিলিয়ন ভোটারের দেশ।
আর রেফারেন্ডামসহ যদি ধরি ২৫৪ মিলিয়ন ব্যালট আমাদেরকে ছাপাতে হয়েছে, বিলি করতে হয়েছে। আপনাদের সহযোগিতা না হলে কিন্তু আমরা এই সুন্দর নির্বাচনটা উপহার দিতে পারতাম না। আমরা আপনাদের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। রাজনৈতিক নেতাদের কাছে কৃতজ্ঞ। রাজনৈতিক দলের কাছে কৃতজ্ঞ।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, একটা সুন্দর নির্বাচন আয়োজন আমরা করতে পেরেছি। আপনাদের সবার সহযোগিতা নিয়ে আমি আমাদের প্রত্যাশা থাকবে এই যে একটা সুন্দর নির্বাচন হলো, আমি বলব না যে, এটা পারফেক্ট নির্বাচন। পারফেক্ট নির্বাচন কোথাও হয় না। আমি আমেরিকার নির্বাচন দেখেছি, আপনারাও দেখেছেন অনেক ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। অতীতের ইতিহাস যদি আমরা দেখি ইনশাআল্লাহ যেকোনো মানদণ্ডে এটা অত্যন্ত ভালো নির্বাচন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।
জাতীয়
‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
পহেলা বৈশাখে কৃষকদের জন্য নতুন উদ্যোগ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার সুরুজ এলাকার কৃষকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেন তিনি।
এর আগে, সকাল ১১টার দিকে টাঙ্গাইলে পৌঁছান তিনি। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে বের হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন প্রণোদনা, ভর্তুকি ও সরকারি সহায়তা সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
সরকারের মতে, ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মধ্য দিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বর্তমান প্রশাসন। এর আগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘ক্রীড়া কার্ড’ এবং খাল খনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
জাতীয়
টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে কৃষকদের জন্য নতুন উদ্যোগ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে টাঙ্গাইলে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বেলা ১১টা ২২ মিনিটের দিকে জেলা স্টেডিয়ামে কৃষকদের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানের মঞ্চে পৌঁছান তিনি। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে বের হয়।
টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার সুরুজ এলাকার কৃষকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেবেন তারেক রহমান।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন প্রণোদনা, ভর্তুকি ও সরকারি সহায়তা সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
সরকারের মতে, ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মধ্য দিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বর্তমান প্রশাসন। এর আগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘ক্রীড়া কার্ড’ এবং খাল খনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
জাতীয়
কৃষক কার্ড বিতরণ আজ : পাবেন কারা, মিলবে যেসব সুবিধা
নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশের ১০টি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে দেশব্যাপী প্রি-পাইলটিং হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন এবং কৃষক সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।
গতকাল সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি ও কৃষিজাত শিল্পায়নে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় এ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষককে এ বিশেষ কার্ডের আওতায় আনা হবে।
টাঙ্গাইলে উদ্বোধনী দিনে ১৫০০ জন কৃষকের হাতে ব্যক্তিগতভাবে এ কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে এ যুগান্তকারী কর্মসূচির শুভ সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।’
প্রাক-পাইলট পর্যায়ে পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি ব্লক, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক, কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণাপুর ব্লক, টাঙ্গাইল জেলার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক, রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপঁচা ব্লক, মৌলভিবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ব্লক, পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার পাঁচপির ব্লক ও জামালপুর জেলার, ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লকে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হচ্ছে।
তিন ধাপে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব কৃষককে এ ‘কৃষক কার্ড’ দেবে সরকার। পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে দেওয়া হবে এই কার্ড। এর মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণসহ ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন কার্ডধারী কৃষকেরা।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, কৃষক কার্ড বিতরণ তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে। এগুলো হলো, প্রাক পাইলটিং (পরীক্ষামূলক), পাইলটিং ও দেশব্যাপী কার্যক্রম। প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্যচাষি বা আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি ও দুগ্ধ খামারিসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লবণচাষিও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
প্রাক-পাইলটিংয়ের জন্য ব্যয় হবে প্রায় আট কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রাক-পাইলটিংয় শেষ হওয়ার পর আগামী আগস্ট পর্যন্ত ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী চার বছরে সারা দেশে এই কার্ড বিতরণ ও তথ্য ভাণ্ডার তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ওই ১১টি ব্লকের কৃষক, মৎস্যচাষী, প্রাণিসম্পদ খামারি ও লবণ চাষীকে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে। এটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় পর্যায়ের শাখায় সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে এই কার্ডের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ভূমিহীন কৃষক ২ হাজার ২৪৬ জন, প্রান্তিক কৃষক ৯ হাজার ৪৫৮ জন, ক্ষুদ্র কৃষক ৮ হাজার ৯৬৭ জন, মাঝারি কৃষক ১ হাজার ৩০৩ এবং বড় কৃষক ৯১ জন। এর মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে বছরে আড়াই হাজার টাকাও নগদ দেওয়া হবে। ২২ হাজার ৬৫ জনের মধ্যে এই সংখ্যা ২০ হাজার ৬৭১ জন।
কার্ড পাওয়া কৃষকেরা ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। এগুলো হলো এক, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, দুই, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, তিন, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, চার, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি, পাঁচ. সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, ছয়, মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য, সাত. কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, আট, ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ, নয়, কৃষি বিমা সুবিধা এবং দশ, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা পাবেন কৃষকেরা।
জাতীয়
দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিদায় ১৪৩২। স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। পহেলা বৈশাখ – বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। এ উপলক্ষে আমি দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলাভাষী মানুষকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।
‘পহেলা বৈশাখের সঙ্গে আমাদের এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কৃষক তার ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়। বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং আমাদেরকে ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।’
‘দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবন মানোন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।’
‘নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু, ইমাম-মুয়াজ্জিন-খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষক, কৃষি এবং কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু হলো কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি। আগামী দিনগুলোতে এই কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষক এবং কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে, বাংলা নববর্ষে এটিই হোক আমাদের প্রত্যয় ও প্রত্যাশা।’
‘আমি আশা করি, বাংলাদেশের জনগণের যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। বিশ্ব আজ নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।’
‘নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি – এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।’
শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। দেশবাসীকে আবারও জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ ১৪৩৩।
জাতীয়
সেনাবাহিনীর কাছে থেকে ক্ষতিপূরণ পাননি গুম হওয়া আমান আযমী
অপহরণ বা গুম হওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাননি বলে আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় জানিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) সাক্ষী আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তাকে জেরা করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট রাতে রাজধানীর বড় মগবাজারের বাসা থেকে আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে অপহরণ করে গুম করা হয়েছিল বলে আগে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি গুম ছিলেন বলে জানান।
আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেন, অপহরণের পর তাকে যে কক্ষে বন্দী করে রাখা হয়েছিল, তার বর্ণনা তিনি কোর্ট অব ইনকোয়ারিতে দিয়েছেন। সেই কক্ষে ২০২৩ সালের ৬ জুন তিনি গুরুতর সুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে ২০২৩ সালের ৮ জুন ওই কক্ষে এসি (শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র) স্থাপন করা হয়। এর আগে প্রায় সাত বছর তিনি এসিবিহীন কক্ষে ছিলেন। তারা বলতেন, ‘আপনাকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’
জেআইসিতে গুম করে রাখার এই মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে ৩ জন গ্রেপ্তার আছেন। তারা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন পরিচালক-মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
মামলার বাকি ১০ আসামি পলাতক। তাদের মধ্যে আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।
পলাতক আসামিদের মধ্যে আরো আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক। এ ছাড়া পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক।



