সারাদেশ
জেলা জামায়াত আমিরের হার্ট অ্যাটাক, সিসিইউতে ভর্তি
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৭৪ লাখ টাকাসহ আটক হওয়া ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানকার হৃদরোগ বিভাগের সিসিইউ-১ এ চিকিৎসাধীন রয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের দিকে তাকে ভর্তি করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন করোনারি কেয়ার ইউনিট-সিসিইউ ১ এর নার্সিং ইনচার্জ সোহেলা পারভীন।
এর আগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে টাকাসহ আটক করে। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অসুস্থ জামায়াত নেতার বিষয়ে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আজহারুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে বোঝা যাচ্ছে জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন হার্ট অ্যাটাক করেছে। উনার ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাওয়ায় হার্টের হার্টবিট কমা-বাড়া করছে। উনাকে এই মুহূর্তে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইসিজি করা হয়েছে, সেখানে সমস্যা আছে। ইকোসহ ব্লাডের কিছু টেস্ট করা হয়েছে। রিপোর্ট আসলে বোঝা যাবে উনার সমস্যা কী পর্যায়ে। তিনি আশঙ্কামুক্ত নন।
রংপুর মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি কেএম আনোয়ারুল হক কাজল বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ। উনি রাজনীতির পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত। উনি কিছু টাকা-পয়সা নিয়ে ঢাকা থেকে আসছিলেন। যে টাকার কথা বলা হচ্ছে, যেটা প্রশাসন বা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়মকানুন মেনে, সেখানে এনডোর্সমেন্ট করেই নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে তাকে আটকিয়ে আজকে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ বা সুন্দর পরিবেশটাকে ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রশাসন যেখানে অবহিত ছিল। কিন্তু একটা বিশেষ বিভাগ তাকে আটক করেছে এবং তার বিভিন্ন প্রহসন করার কারণে, বিভিন্নভাবে তাকে মানসিক টর্চারের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। প্রায় ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে তার বয়স। আগে থেকেই তিনি শারীরিকভাবে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। হার্টের অসুস্থতার কারণে ডাক্তাররা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছেন। তার বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টগুলো আসলে বোঝা যাবে।
এদিকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন বেলাল উদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন জেলা জামায়াতের দফতর সম্পাদক আবদুল মান্নান। সেখানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের তল্লাশি করে ব্যাগে থাকা টাকা জব্দ করে এবং তাদের হেফাজতে নেয়।
সৈয়দপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল আলম রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেলাল উদ্দিন জানান তার ব্যাগে প্রায় ৫০ লাখ টাকা রয়েছে। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে টাকা গণনা শেষে তার ব্যাগে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া যায়।
ওসি বলেন, বেলাল উদ্দিন গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং ব্যবসায়িক কাজেই টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন। তার এ বক্তব্য যাচাই-বাছাই করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বেলাল উদ্দিন সালন্দর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষক। তিনি ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম দবিরুল ইসলাম।
এমএন
সারাদেশ
সেচ সুবিধা নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে সিলেট সদর উপজেলায় ‘জাঙ্গাইল সুরমা নদী হতে বলাউরা জিলকার হাওড় পর্যন্ত বংশীখাল খনন’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সিলেট অঞ্চলের অনেক কৃষিজমি শুকনো মৌসুমে সেচের পানির অভাবে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জাঙ্গাইল থেকে বলাউরা পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বংশীখাল খনন করা হবে।
তিনি জানান, খালটি খনন সম্পন্ন হলে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর কৃষিজমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। এর ফলে কৃষকরা অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সুযোগ পাবেন, তাদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নবনির্বাচিত সরকার জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২১ দিনের মধ্যেই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় জনগণের সামনে যে উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে সিলেটসহ সারা দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাবে সরকার।
পরে বাণিজ্যমন্ত্রী বংশীখাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সরওয়ার আলম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াত এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এমএন
সারাদেশ
জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার, আটক ২২ জন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর (ছিন্নমূল/আলীনগর) এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অবৈধ অস্ত্র মজুদ ও পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি এবং অপরাধীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে যৌথবাহিনী বিশেষ অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ অভিযান পরিচালিত হয়। এই অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), এপিবিএন ও আরআরএফসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ৩ হাজার ১৮৩ সদস্য অংশ নেন। পাশাপাশি সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন।
যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনায় তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি, র্যাব ও সিএমপির তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একযোগে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেন যৌথবাহিনীর সদস্যরা।
অভিযানটি চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. আহসান হাবীব পলাশ, বিপিএম-সেবা এর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। এ সময় র্যাব-৭ এর সিও লে. কর্ণেল মো. হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন সরেজমিনে উপস্থিত থেকে সার্বিক অভিযান তদারকি ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় যৌথ বাহিনী কর্তৃক তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র (একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় পিস্তল ও একটি এলজি), ২৭টি পাইপগান, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ, ৬১টি কার্তুজ এবং বিভিন্ন ধরনের ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ১১টি ককটেল, পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে আরও উদ্ধার করা হয় ১৯টি সিসি ক্যামেরা, তিনটি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স এবং দুটি বাইনোকুলার। এসব সরঞ্জাম অপরাধীদের নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
যৌথবাহিনী জানায়, আলীনগর এলাকার বিভিন্ন পাহাড়ে অবস্থিত সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও অস্ত্র তৈরির কারখানাসহ অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি আলীনগরের বিভিন্ন প্রবেশ পথ ও পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত ওয়াচ টাওয়ারগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত।
অভিযান চলাকালে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং সার্বিক পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত ও গ্রেফতাকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অভিযান শেষে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জঙ্গল সলিমপুরে দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পে জেলা পুলিশ ও এপিবিএনের ১৩০ জন সদস্য এবং আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পে আরআরএফ, এপিবিএন ও র্যাব-৭ এর ২৩০ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত চেকপোস্ট ও পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানের ফলে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন এবং যৌথবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ অভিযানের মাধ্যমে এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, অপরাধীদের নেটওয়ার্ক দুর্বল করা এবং দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও জানান, সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এমএন
সারাদেশ
কৃষকদের ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ মওকুফের ঘোষণা: অর্থমন্ত্রী
কৃষকদের ১২ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, কৃষকদের দুর্দশা লাঘব এবং নতুন করে কৃষিকাজে উৎসাহ দিতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম নগরের এয়ারপোর্ট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পেয়েছে এবং সেই দায়িত্ব থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের নৈতিক কর্তব্য।
কৃষকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষকদের কথা চিন্তা করে আমরা প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মাফ করেছি। কারণ আমরা জানি, অনেক কৃষকের কাছে সেই ঋণ পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য ছিল না। তাদের হতাশা দূর করতে এবং নতুন করে কৃষিকাজে উৎসাহ দিতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক। একটি পরিবারকে শক্তিশালী করা গেলে সমাজ শক্তিশালী হয়, আর সমাজ শক্তিশালী হলে দেশ এগিয়ে যায়। সে চিন্তা থেকেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের কোটি কোটি পরিবারকে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য।
নারীদের অবদান প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা চাই নারীরা নিজেদের মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে সামনে এগিয়ে আসুক। একজন নারী প্রতিদিন পরিবারের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেন, পরিবারের সব কাজ শেষ করে পরিবারে সেবা দেন— সে অবদানকে কখনো অবহেলা করা যায় না। তারেক রহমান সবসময় বলেছেন, মানুষের মর্যাদা বাড়াতে হবে, নারীর সম্মান বাড়াতে হবে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সেই চিন্তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এখানে কোনো দলীয় বিভাজন নেই। ধর্ম-বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সবাই এই সুবিধা পাবে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের জন্য ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে এবং প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। একটি পরিবারে ২৫০০ টাকা হয়তো কারও কাছে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু অনেক পরিবারের জন্য এটি বড় সহায়তা। এই অর্থ দিয়ে তারা প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন তার কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, কারণ এটি সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সাধারণ মানুষের জন্য একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। আমরা ইতোমধ্যে টিসিবির কিছু কার্ড বিতরণ করেছি এবং সেখানে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্টে পণ্য দেওয়া হয়েছে। একটি ফ্যামিলি কার্ডে যে ২৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে— অনেক পরিবারের জন্য এটি বড় সম্পদ। এটি তাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, বিএনপি কখনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয় না। আমরা যা বলি, তা করার চেষ্টা করি। এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি তারই একটি উদাহরণ। অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মাত্র এক মাসেরও কম সময়ে খাল খনন, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। এগুলো মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সব সময় তা বাস্তবায়ন হয় না। তবে তারেক রহমান যেসব প্রতিশ্রুতি দেন, সেগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। এটাই নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি, যেখানে কথা দেওয়া হলে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়।
চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, বিএনপি কখনো মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দেয় না। আমরা যা বলি, তা করার চেষ্টা করি। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি তারই প্রমাণ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তারা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সরাসরি উপকৃত হবে এবং মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ বিপিএম, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ।
সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় এ অনুষ্ঠানে। জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের আয়োজনে এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এসময় প্রধান অতিথি প্রতীকীভাবে কয়েকজন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এই কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারগুলো নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাবে।
এমএন
আইন-আদালত
শরীয়তপুরের আশিনগরে কেমিক্যাল মিশিয়ে শিশু খাদ্য তৈরি: ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার আশিনগর ইউনিয়নে কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর রং ব্যবহার করে শিশুদের বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত ঘোষ। অভিযানে সার্বিক সমন্বয় করেন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুব্রত ভট্টাচার্য্য।
অভিযান চলাকালে সহায়তায় ছিলেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক এইচ. এম. আকতার এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি দল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশিনগর এলাকায় আইস ললি, চকলেটসহ শিশুদের জন্য তৈরি বিভিন্ন খাদ্যপণ্য কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই উৎপাদন করা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এসব খাদ্য তৈরিতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও রং ব্যবহার করা হচ্ছিল।
এছাড়া উৎপাদনকারী ব্যক্তিদের কাছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর কোনো অনুমোদন নেই। এমনকি কোনো সরকারি নিবন্ধন বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই এসব খাদ্যপণ্য স্থানীয় বাজার ও বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছে, শিশুদের জন্য তৈরি খাবারে নিম্নমানের কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর রং ব্যবহার করা হলে তা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।
বিশেষ করে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরুরি তদারকি কামনা করেছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে যদি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা হোক।
সারাদেশ
জঙ্গল সলিমপুরে বসবে পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প
সন্ত্রাস দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে ভোর থেকে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে অভিযান শেষে সলিমপুরের প্রবেশমুখে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাধ) নাজমুল হাসান।
এর আগে ভোর ৬টা থেকে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি’র সমন্বয়ে এই অভিযান শুরু হয়। যৌথ বাহিনীর ৪ হাজার সদস্য অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
পাহাড়ি ও দুর্গম এ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের অবস্থান, অবৈধ অস্ত্র মজুদ এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের আত্মগোপনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অভিযান প্রসঙ্গে অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা উচ্ছেদ এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এমএন




