আন্তর্জাতিক
কবুতরকে খাবার দেওয়ায় নারীকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা
বন্য কবুতরকে খাবার খাওয়ানোর অপরাধে এক নারীকে জরিমানা করেছে সিঙ্গাপুরের আদালত। দণ্ডিত আসামির নাম শানমুগামনাথন শামলা। ৭১ বছর বয়সী এ নারী একাধিক বার বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করায় তাকে এমন শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে এক ঝাঁক বন্য কবুতরকে খাবার দেওয়ায় শামলাকে ৩ হাজার ২০০ সিঙ্গাপুরি ডলার তথা প্রায় ৩ লাখ ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমান মুদ্রাবাজার অনুযায়ী, ১ সিঙ্গাপুরি ডলার সমান ৯৫ দশমিক ৯২ টাকা ধরে হিসাব করে এ পরিমাণ পাওয়া গেছে।
অবসরজীবন যাপন করা শামলা সিঙ্গাপুরের সেন্ট্রাল অঞ্চলের তোয়া পায়োহ এলাকায় থাকেন। তবে তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত বলে জানিয়েছে দ্য ইকোনমিকস টাইমস ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।
শামলা বন্যপ্রাণী আইনের অধীনে চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং আদালত তার আরো পাঁচটি একই ধরনের ঘটনা বিবেচনায় নিয়েছে। এটিই প্রথমবার নয় যে, ওই নারী তার এমন অভ্যাসের জন্য আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন।
এর আগে, ২০২৫ সালের মে মাসে একই অপরাধ এবং একটি পাখি ধরার অভিযানে বাধা দেওয়ার জন্য তাকে ১ হাজার ২০০ সিঙ্গাপুর ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। সে সময় তিনি আদালতকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, তিনি আর এ কাজের পুনরাবৃত্তি করবেন না। তবে মাত্র এক মাস পরেই তিনি তার পুরনো অভ্যাসে ফিরে যান।
আদালতে উপস্থাপিত প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে ওই নারী অন্তত ৯ বার কবুতরকে শস্যদানা এবং পাউরুটি খাইয়েছিলেন।
আদালতে প্রদর্শিত ভিডিও ফুটেজে দেশটির তোয়া পায়োহ এলাকায় তার বাসভবনের কাছে তাকে একঝাঁক কবুতরের মাঝে দেখা যায়। আদালতকে জানানো হয় যে, তিনি তার নির্বাচনি এলাকার সংসদ সদস্যের সঙ্গে দেখা করে অনুশোচনা প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু তার মাত্র তিন দিন পরেই তাকে আবার পাখিদের খাবার খাওয়াতে দেখা যায়।
প্রসিকিউশন তার এ আচরণকে আইনের ধারাবাহিক লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং যুক্তি দিয়েছে যে, একটি কার্যকর শাস্তি প্রয়োজন। ওই নারী আদালতকে জানান, তিনি বেকার এবং তার কোনো চিকিৎসা বীমাও নেই।
শামলা জরিমানা কমানোর অনুরোধ করেন এবং এর পরিবর্তে সমাজসেবামূলক কাজের প্রস্তাব দেন। তবে বিচারক ৩ হাজার ২০০ ডলার জরিমানা করার পর তিনি সঙ্গেই পুরো অর্থ পরিশোধ করতে রাজি হন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, একই অপরাধ বারবার করার কারণে প্রতিটি অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ১০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারত।
আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধের কারণে দারিদ্র্যের মুখে ৩ কোটির বেশি মানুষ: জাতিসংঘ
ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে বিশ্বব্যাপী ৩ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারে, যেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিয়ে সন্দেহের মধ্যে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বলেছে, জ্বালানি, খাদ্য ও দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি-সংক্রান্ত এক ‘ত্রিমুখী ধাক্কা’র সম্মুখীন হচ্ছে বিশ্ব।
দারিদ্র্য মোকাবিলায় কাজ করা সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সংঘাত আন্তর্জাতিক উন্নয়নের অগ্রগতি পিছিয়ে দিচ্ছে এবং এর প্রভাব অঞ্চলভেদে অসমভাবে অনুভূত হবে।
ইউএনডিপি’র প্রশাসক এবং বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেছেন, ‘এ ধরনের সংঘাত উন্নয়নের বিপরীতমুখী প্রক্রিয়া। যুদ্ধ বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতিকে অবশ্যই স্বাগত। কিন্তু এর প্রভাব ইতোমধ্যেই দেখা দিয়েছে।’
তিনি বলেন, আপনি এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব দেখতে পাবেন, বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোতে, যেখানে মানুষকে আবার দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এটাই সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক। যাদের দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, তারা প্রায়শই সেইসব মানুষ, যারা একসময় দারিদ্র্যের মধ্যে ছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসেছিল এবং এখন আবার দারিদ্র্যের কবলে পড়ছে।
তেহরানে প্রথম মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলার পর থেকে গত ছয় সপ্তাহে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে, কারণ ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে সার সরবরাহ এবং বৈশ্বিক নৌপরিবহনের ওপর যে ধারাবাহিক প্রভাব পড়ছে, তার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য একটি ‘খাদ্য নিরাপত্তা টাইমবোমা’ তৈরি হয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই শান্তি বজায় রাখা গেলেও, এই সংঘাতের ‘ক্ষতচিহ্ন’ বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
আইএমএফ-এর বসন্তকালীন বৈঠকে যোগ দিতে বিশ্ব নেতারা ওয়াশিংটনে সমবেত হওয়ার প্রেক্ষাপটে নিজেদের প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইউএনডিপি বলেছে, অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা করার জন্য একটি বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তারা বলছে, উন্নয়নশীল দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দিতে লক্ষ্যভিত্তিক ও সাময়িক নগদ সহায়তা প্রয়োজন, যার জন্য প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে, যাতে দারিদ্র্যসীমার নিচে পড়ে যাওয়া মানুষদের সুরক্ষা দেয়া যায়।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন ব্যাংকগুলো এই আর্থিক সহায়তা দিতে পারে উল্লেখ করে ডি ক্রু বলেন, ‘মানুষকে আবার দারিদ্র্যে পড়া থেকে রক্ষা করতে স্বল্পমেয়াদি নগদ সহায়তা দেয়ার ইতিবাচক অর্থনৈতিক ফল রয়েছে। বিকল্প হিসেবে সাময়িক বিদ্যুৎ বা রান্নার গ্যাসের জন্য ভর্তুকি বা ভাউচার দেয়া যেতে পারে।’
তবে ইউএসডিপি সতর্ক করে বলেছে, সার্বজনীন ভর্তুকি দেয়া উচিত নয়, কারণ এতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ধনী পরিবারগুলোও সুবিধা পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি আর্থিকভাবে টেকসই নয়।
যুদ্ধের তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে– যেখানে ছয় সপ্তাহ ধরে তেল ও গ্যাস উৎপাদনে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে এবং আট মাস ধরে উচ্চ ব্যয় অব্যাহত থাকবে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের কবলে পড়তে পারে।
প্রতিবেদনটিতে বিশ্বব্যাংকের নির্ধারিত উচ্চ-মধ্যম আয়ের দারিদ্র্যসীমা ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রতিদিন মাথাপিছু ৮.৩০ ডলারের কম আয়কে নির্দেশ করে।
বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বৃদ্ধির অর্ধেকই কেন্দ্রীভূত হবে ৩৭টি নিট জ্বালানি আমদানিকারক দেশের মধ্যে, যেগুলো মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, এশিয়া এবং ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোতে অবস্থিত।
ইউএনডিপি জানিয়েছে, ধনী দেশগুলো যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব সামাল দেয়ার ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও, বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলোর অবস্থান শুরুতেই দুর্বল ছিল এবং তারা আগে থেকেই গুরুতর আর্থিক সংকটে ভুগছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো ঋণের চাপ ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির কারণে তাদের সহায়তা ব্যয় কমাচ্ছে।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সংস্থাটির উন্নয়ন সহায়তা কমিটির সদস্য দেশগুলো ২০২৫ সালের জন্য সহায়তা ব্যয় ১৭৪.৩ বিলিয়ন ডলার কমিয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ কম।
ডি ক্রু বলেন, ধনী দেশগুলোর ওপর চাপ তিনি বুঝতে পারেন, তবে সহায়তা কমানোর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব থাকবে। তার ভাষ্য, সামরিক পরিভাষায় বলতে গেলে, উন্নয়নে বিনিয়োগ হলো চূড়ান্ত প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক বা প্রতিরোধমূলক আক্রমণ। আপনি কেন প্রতিরোধমূলক আক্রমণ করেন? একটি সংঘাত শুরু হওয়া এড়ানোর জন্য। উন্নয়ন ঠিক সেটাই করে।
তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি দারিদ্র্য বিমোচনে, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমন ও তার সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেন, তবে এই উপাদানগুলোই বিশ্বকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আন্তর্জাতিক
মার্কিন অবরোধ ‘অমান্য’ করে হরমুজ প্রণালি পার হলো চীনা জাহাজ
ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি অবরোধ করার ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এই অবরোধের আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা-যাওয়া করছে এমন প্রত্যকটি জাহাজকে মার্কিন নৌবাহিনী আটকে দেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী সেই অবরোধ কার্যকরও হয়েছে।
তবে মার্কিন এই অবরোধ অমান্য করে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার খবর প্রকাশ পেয়েছে। পার হয়েছে একটি চীনা তেলবাহী জাহাজ। অবরোধ ভেঙে প্রণালি পার হওয়া এই জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালী দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নৌ অবরোধকে পরীক্ষা করছে।
জাহাজটির নাম রিচ স্টারি, যা পূর্বে ফুল স্টার নামে পরিচিত একটি মাঝারি পাল্লার ট্যাংকার, তেহরানকে জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করার জন্য ২০২৩ সালে ওয়াশিংটনের কালো তালিকাভুক্ত হয়েছিল। এই ক্ষেত্রে, এটি ট্রানজিটের আগে ইরানের বন্দরে গিয়েছিল কিনা, বা এটি কোনো পণ্য বহন করছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।
২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো পার হয় পারস্য উপসাগর। অবরোধ কার্যকর হওয়ার ঠিক পরেই, রিচ স্টারি ইরানের কেশম দ্বীপের কাছের সংকীর্ণ জলপথে প্রবেশ করছিল এবং ফিরে আসে — কিন্তু মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই এটি আবার প্রস্থান শুরু করে এবং প্রচার করে যে এর মালিক ও নাবিকদল চীনা।
এদিকে, ট্রাম্পের হুমকি এবং অবরোধ শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও জ্বালানি রপ্তানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল এশীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
সোমবার বেইজিং থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে শান্তি আলোচনার জন্য বৈশ্বিক অংশীদারদের চাপ দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, রিচ স্টারি জানিয়েছে, এটি মালাউইয়ের পতাকার অধীনে চলাচল করছে, কিন্তু স্থলবেষ্টিত এই আফ্রিকান দেশটি বলেছে যে সমুদ্রগামী জাহাজের জন্য তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন নেই।
সামুদ্রিক ডেটাবেস ইকুয়াসিস অনুযায়ী, রিচ স্টারির মালিক হলো ফুল স্টার শিপিং লিমিটেড, যার যোগাযোগের বিবরণ সাংহাই জুয়ানরান শিপিং কোং লিমিটেডের সাথে মিলে যায়।
তবে, সাংহাই জুয়ানরানকে ফোন করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি, এবং মন্তব্যের জন্য ইমেইলে পাঠানো অনুরোধেও কোম্পানিটি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। সাংহাই-ভিত্তিক এই সংস্থাটি স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক নিষেধাজ্ঞার আওতায়ও রয়েছে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ
আন্তর্জাতিক
৮০টির বেশি তেল ও গ্যাস স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে : আইইএ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল সোমবার এক বিবৃতিতে জানান, ইরান যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।
আইইএ জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে ৮০টির বেশি তেল ও গ্যাস স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়, ফলে এর অচলাবস্থা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে বিপর্যস্ত করছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইইএ সদস্য দেশগুলোকে দ্রুত জ্বালানির ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। কিছু দেশ ইতোমধ্যে জরুরি পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে বলেও জানান ফাতিহ বিরোল। তিনি বলেন, কৌশলগত তেলের মজুত (স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ) থেকে সরবরাহ বাড়ালেও এটি স্থায়ী সমাধান নয়; বরং সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকর হওয়ার ফলে সংকট আরও জটিল হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে এবং উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানও সতর্ক করে বলেছে, তাদের বন্দর লক্ষ্যবস্তু করা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না। সূত্র : শাফাক নিউজ
আন্তর্জাতিক
অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে প্রথমবার নারী সেনাপ্রধান নিয়োগ
অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে একজন নারী নিয়োগ পেয়েছেন। দেশটির সরকার জানিয়েছে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কইল আগামী জুলাই থেকে অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন।
তিনি বর্তমানে জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন দায়িত্বে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন। এই সিদ্ধান্তকে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর বড় ধরনের নেতৃত্ব পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকার বলেছে, এই নিয়োগ নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর একটি অংশ। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নারীদের অংশগ্রহণ প্রায় ২১ শতাংশ। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ২৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়ার ১২৫ বছরের সেনা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী সেনাবাহিনী প্রধান হচ্ছেন, যা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস বলেন, সুসান কইলের এই অর্জন নারীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হবে, বিশেষ করে যারা ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চান।
সুসান কইল ১৯৮৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদিকে সরকার একই সঙ্গে নৌবাহিনীর প্রধানকে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে নিয়োগ দিয়েছে। পাশাপাশি নৌবাহিনীর বর্তমান উপপ্রধান নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।
সূত্র : রয়টার্স
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর তেলের দাম বাড়ল প্রায় ৮ শতাংশ
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের সংলাপ ব্যর্থ হওয়া এবং তারপর হরমুজ প্রণালিতে ট্রাম্পের অবরোধ জারির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোঅধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দুই ব্র্যান্ড ব্রেন্ট ক্রুড এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিই) উভয়েরই দাম বেড়েছে।
বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, আজ সোমবার আন্তর্জাতিক বাজার প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হচ্ছে ১০১ দশমিক ৯১ ডলারে, যা গতকাল রোববারের তুলনায় ৬ দশমিক ৭১ ডলার এবং শতকরা হিসেবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।
আর প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিই বিক্রি হচ্ছে ১০৪ দশমিক ১৬ ডলারে, যা গতকাল রোববারের তুলনায় ৭ দশমিক ৫৯ ডলার এবং শতকরা হিসেবে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি।
ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের সংলাপে ব্যর্থতা এবং হরমুজ প্রণালিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবরোধ জারির ঘোষণা তেলের দামের এই উল্লম্ফনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে জানিয়েছেন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক বাজার পর্যাবেক্ষক সংস্থা এমএসটি মারকুই’র জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সাউল কাভোনিক রয়টার্সকে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার দেখা দেওয়ার পর তেলের দাম কমে আসছিল, কিন্তু ইসলামাবাদে সংলাপে ব্যর্থতা এবং হরমুজ প্রণালিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবরোধ জারির ঘোষণার পর থেকে জ্বালানি তেলের বাজার আবার যুদ্ধাবস্থায় ফিরে গেছে।”
ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।
তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হন আয়তুল্লাহ খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী, কন্যা, নাতি, এবং ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রীও নিহত হন, এবং মোজতবা নিজে হন গুরুতর আহত।
কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারই ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সংলাপে বসেছিলেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা; কিন্তু ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর কোনো সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই শেষ হয়েছে সেই বৈঠক।
সূত্র : রয়টার্স



