জাতীয়
নির্বাচন ও গণভোট দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট—দুটিই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি প্রধান উপদেষ্টা সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও বাংলাদেশের মধ্যে সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তি (কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট) নিয়ে আলোচনা শিগগিরই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন ইইউ।
সাক্ষাতে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় সমন্বিত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা কাঠামো চুক্তি (পিসিএ) নিয়ে চলমান আলোচনা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট, অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
পাওলা পাম্পালোনি বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর সাধারণ অংশীদারিত্ব চুক্তির আওতায় সম্পর্ক পরিচালনার পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অধ্যাপক ইউনূস যে ‘অসাধারণ ও ব্যাপক’ সংস্কারমূলক কাজ করেছেন, তার জন্য তাকে অভিনন্দন জানান পাওলা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে এসব সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন তিনি।
ইইউ কর্মকর্তা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্কারের যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখা গেছে, তা ইউরোপীয় ইউনিয়ন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং প্রশংসা করেছে। তিনি পিসিএ চুক্তিতে অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই চুক্তি দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় সুযোগ তৈরি করবে।
জবাবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত ১৭ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারকে ইইউর ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, পিসিএ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি, যা বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।
পাওলা পাম্পালোনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইইউ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এরই প্রতিফলন হিসেবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ একটি উচ্চপর্যায়ের বড় নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি জানান, ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান চলতি সপ্তাহেই বাংলাদেশে আসবেন এবং রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্বৈরশাসনের কারণে গত ১৬ বছর মানুষ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। এবার মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবে।
পাওলা পাম্পালোনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সফল গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পর বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে, যা ঢাকা ও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক জোটের মধ্যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে সমর্থন দিয়েছে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তারা প্রচার চালাবে বলে তার বিশ্বাস। আমি মনে করি না কোনো দল ‘না’ ভোটের পক্ষে যাবে।
সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।
এমকে
জাতীয়
ইসি নির্বাচনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে: ইইউ
নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের সামনে থাকা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেছে এবং কমিশন তা যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের প্রধান ড. ইভার্স ইয়াবস।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এক সৌজন্য বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পর্যবেক্ষণে ইইউ-এর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে ড. ইভার্স ইয়াবস বলেন, “আমরা মাত্র আমাদের মিশন শুরু করেছি। আমাদের একটি দক্ষ দল রয়েছে, যারা পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়ার শেষ পর্যন্ত কাজ করবে। পর্যবেক্ষণ শেষে সব বিস্তারিত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, বাংলাদেশকে একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তাই এদেশের সম্পূর্ণ নির্বাচনি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের সুযোগকে ইইউ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
বহুমাত্রিক সমাজ ও দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং বাংলাদেশকে একটি সুন্দর ও বৈচিত্র্যময় সমাজ হিসেবে উল্লেখ করে মিশন প্রধান জানান, তাদের পর্যবেক্ষক দল কেবল নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সারা বাংলাদেশের ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে।
নির্বাচনে কোন কোন বিষয়ের ওপর ইইউ বিশেষ নজর দেবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানত প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলোই তাদের মূল ফোকাস। এর মধ্যে রয়েছে -সঠিক ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের সার্বিক আয়োজন ও পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে ইয়াবস বলেন, ইসি তাদের কাছে পুরো নির্বাচনি রূপরেখা ব্যাখ্যা করেছে। একই সঙ্গে কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও জানিয়েছে। বিশেষ করে একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আয়োজন করা একটি বড় কারিগরি ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। তবে ইইউ প্রতিনিধি দল বিশ্বাস করে, নির্বাচন কমিশন এই পরিস্থিতি দক্ষতার সাথে সামাল দিতে সক্ষম হবে।
বৈঠকে ইইউ’র নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন, মিশনের ডেপুটি চিফ অবজারভার ইনতা লেসি, লিগ্যাল অ্যানালিস্ট আইরিনি-মারিয়া গৌরানী এবং ইলেকশন অ্যানালিস্ট ভাসিল ভাসঙ্ক।
এমকে
জাতীয়
সরকারের ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার পথ বন্ধ করতেই গণভোট: আলী রীয়াজ
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ভবিষ্যতে যারা এই দেশ পরিচালনা করবেন, তারা যেন আর কখনোই ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এবারের গণভোট।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকায় এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সম্মেলনকক্ষে ‘আসন্ন গণভোট এবং এনজিওসমূহের করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান আলোচকের বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. দাউদ মিয়ার সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
দেশে নিবন্ধিত স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রায় সাড়ে ৪০০ এনজিওর প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশ নেন।
আসন্ন গণভোটে সরকারের তরফে প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ আরও বলেন, যারা দেশ চালান, আমাদের বিদ্যমান ত্রুটিপূর্ণ সাংবিধানিক এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্যই তারা ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সুযোগ পান। আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ ভোটকে জয়ী করে তাদের এই ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার পথ বন্ধ করতে হবে।
গণভোট আসলে কী বা কেন- এ নিয়ে কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই উল্লেখ করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, অন্য সব সাধারণ নির্বাচনের মতোই হবে গণভোট। তবে, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সিদ্ধান্ত দেবে যে, আগামীর বাংলাদেশ কীভাবে চলবে। আসন্ন নির্বাচনে সব ভোটার ভোটকেন্দ্রে দুটি ব্যালট পাবেন যার মধ্যে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যালটটি হবে সাদা ও গণভোটের ব্যালটটি হবে রঙিন।
গণভোটের বিষয়ে জনমত সৃষ্টি ও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বিগত সরকারের সময়ে যারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়েছেন, নিপীড়িত-নির্যাতিত হয়ে হাসপাতালে ধুঁকছেন, আত্মদানের মধ্য দিয়ে তারা এই দায়িত্ব আমাদের দিয়ে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সব থেকে বড় সংকটগুলোর একটা হলো রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব। গণভোটের জনগণের সম্মতির মধ্য দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে।
এ সময় স্বাধীন বাংলাদেশ পুনর্গঠন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভগ্যোন্নয়ন এবং সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সংকটে এনজিও এবং উন্নয়নকর্মীদের অবদানের কথা স্মরণ করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ উপস্থিত এনজিও প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের ওপর মানুষ আস্থা রাখেন, তাই প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষকে গণভোটের বিষয়ে সচেতন করতে আপনারা গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
কর্মশালার বিশেষ আলোচক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার বলেন, পাকিস্তানি শাসনামলে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন ছিল এমন একটি দেশ যেখানে নাগরিকদের অধিকার সমুন্নত থাকবে। যদি গণভোটে মাধ্যমে আমরা কাঙ্ক্ষিত সংস্কার করতে পারি তাহলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুন্দর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার পথ সুগম হবে। অন্যথায় দেশ আবার ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, জনগণ যদি হ্যা-ভোট দিয়ে সংস্কারের পক্ষে রায় দেয় তাহলে একটি কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠা পাবে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আসবে, বিচার বিভাগের সংস্কার ও বিকেন্দ্রীকরণের পাশাপাশি দেশ পরিচালনার সব ক্ষেত্রে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা আরও বাড়বে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এবং জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সাবেক সদস্য বদিউল আলম মজুমদার কর্মশালায় সুজনের পক্ষ থেকে ‘গণভোট কী ও কেন?’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা তুলে ধরে জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত সংস্কার ও গণভোট সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনা করেন।
এ সময় উপস্থিত এনজিওসমূহের ৫০-৬০ লাখ প্রত্যক্ষ উপকারভোগী, তাদের পরিবার ও পরোক্ষ উপকারভোগীদের মধ্যে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে এনিজওগুলো ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরো ঘনিষ্টভাবে কাজ করবে বলে জানান ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. দাউদ মিয়া।
এমকে
জাতীয়
প্রার্থিতা ফিরে পেতে ইসিতে ৪৬৯ আপিল, শুনানি শনিবার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ফেরত পেতে ও মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মোট ৪৬৯টি আবেদন জমা পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ইসি থেকে এই তথ্য জানা গেছে। আগামীকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) আপিলের সময় শেষ হবে। এর পর শনিবার থেকে শুরু হবে শুনানি। প্রতিদিন ৭০টি আবেদনের শুনানি করবে ইসি।
এর আগে, আজ সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আপিল দায়ের কেন্দ্রে অঞ্চলভিত্তিক ১০টি বুথে চতুর্থ দিনের আপিল দায়ের শুরু হয়।
জানা যায়, আপিল দায়েরের প্রথম দিন ৪২টি, দ্বিতীয় দিন ১২২, তৃতীয় দিন ১৩১ ও চতুর্থ দিন বৃহস্পতিবার ১৭৪টি আবেদন জমা পড়েছে। ইসিতে দায়ের করা আপিলের শুনানি করা হবে আগামী শনিবার (১০ জানুয়ারি) থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।
এমকে
জাতীয়
রাজধানীতে তীব্র গ্যাসের সংকট কেন, জানাল তিতাস
বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশে ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাস পাইপলাইন মেরামত করার সময় পাইপের ভেতরে পানি ঢুকে যায়। এতে বিপাকে পড়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এই জটিলতায় ঢাকা শহরে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। ফলে এই স্বল্প চাপে রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এক জরুরি বার্তায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এই তথ্য জানিয়েছে।
তিতাস কর্তৃপক্ষ জানায়, মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে আমিনবাজারে তুরাগ নদীর তলদেশে একটি বিতরণ গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। লাইনটি মেরামত করা হলেও মেরামতকালীন পাইপের ভেতরে পানি প্রবেশ করে। এতে ঢাকা শহরে গ্যাসের সামগ্রিক সরবরাহ কম থাকায় গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ শুরু হয়।
গ্যাসের এই স্বল্পচাপ সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গগত, কিছুদিন আগে একটি জাহাজের নোঙরের আঘাতে বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশে গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ হয়। এতে রাজধানীর গাবতলী থেকে মোহাম্মদপুরসহ আশপাশের বিশাল এলাকায় গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গতকাল বুধবার (৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএর সহযোগিতায় আমিনবাজার ডিআরএস (ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন) থেকে উৎসারিত বুড়িগঙ্গা নদীর অভ্যন্তরে ঢাকামুখী ১২ ইঞ্চি ব্যাসের এবং ৫০ পিএসআইজি চাপের লাইনের লিকেজস্থলে ‘লিক রিপেয়ার ক্ল্যাম্প’ স্থাপন সম্পন্ন করা হয়।
তবে মেরামতের সেই প্রক্রিয়ায় পানি ঢুকে পড়ায় নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে।
এমকে
জাতীয়
ভারতীয়দের পর্যটক ভিসা সীমিত করল বাংলাদেশ
ভারতীয়দের পর্যটক ভিসা দেওয়া সীমিত করেছে বাংলাদেশ। দেশটির একাধিক শহরে থাকা উপদূতাবাসগুলোতে ভিসা দেওয়া সীমিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ে বাংলাদেশের উপদূতাবাস থেকে ভারতীয়দের পর্যটক সেবা সীমিত করা হয়েছে। এর আগে দিল্লির দূতাবাস এবং আগরতলায় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনার অফিস থেকে ভিসা দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছিল। ফলে এখন কেবল গুয়াহাটির অ্যাসিস্ট্যান্ড হাইকমিশনার অফিস থেকে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশের ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
বাংলাদেশ উপদূতাবাসের সূত্র এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি। তবে বুধবার থেকে পর্যটক ভিসা দেওয়া ‘সীমিত’ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যটক ভিসা দেওয়া ‘সীমিত’ করা হলেও বাণিজ্যিক ভিসাসহ অন্যান্য ভিসা চালু রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে থাকা ৪টি ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রে ভাঙচুর করা হয়। সে সময় ঢাকায় ভিসা সেন্টারের সামনেও বিক্ষোভ হয়। এরপর কয়েকদিন ভারত সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রাখে।
বিবিসি জানিয়েছে, পরবর্তীতে ভিসা সেন্টারগুলো চালু হলেও ভারত মেডিকেল ভিসা এবং কিছু জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্যান্য ভিসা আপাতত ইস্যু করবে না বলে জানায়। তবে বর্তমানে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় পর্যটক ভিসা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
এমকে




