রাজনীতি
১৬ লাখ টাকা আয় কীভাবে হলো, ব্যাখ্যা করলেন নাহিদ
নির্বাচনি হলফনামায় নিজের বাৎসরিক আয় ১৬ লাখ টাকা দেখিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। হলফনামার এ তথ্য সামনে আসার পর থেকেই তার এই আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। একইসঙ্গে ওই পোস্টে ‘অপপ্রচারের’ জবাবও দিয়েছেন তিনি।
ফেসবুকের ওই এডমিন পোস্টে বলা হয়েছে, নির্বাচনি হলফনামায় নাহিদ ইসলামের আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই অপপ্রচার সত্য উদঘাটনের চেয়ে বরং একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদকে সন্দেহের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর একটি রাজনৈতিক প্রয়াস।
এতে বলা হয়, প্রথমত, বাৎসরিক আয় নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভুল ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। হলফনামায় যে ১৬ লক্ষ টাকার বাৎসরিক আয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা কোনো নির্দিষ্ট চাকরি ছাড়ার পর হঠাৎ করে অর্জিত অর্থ নয়; এটি ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত) মোট আয়ের হিসাব। এই অর্থবছরের বড় একটি সময় (সাত মাস) নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সেই দায়িত্বের বিপরীতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত বেতন–ভাতা পেয়েছেন।
বাস্তবতা হলো, এই ১৬ লক্ষ টাকার মধ্যে প্রায় ১১ লক্ষ টাকাই উপদেষ্টা হিসেবে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা, যা ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে পরিশোধিত, আয়করযোগ্য এবং সম্পূর্ণভাবে নথিভুক্ত। বাকি অংশ এসেছে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কনসালটেন্ট (পরামর্শক) হিসেবে বৈধ পেশাগত কাজের সম্মানী থেকে, যারও সুস্পষ্ট কর হিসাব রয়েছে।
মোট সম্পদ সংক্রান্ত তথ্যের বিষয়ে ওই ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, নাহিদ ইসলামের মোট সম্পদ ৩২ লক্ষ টাকা। মোট সম্পদ কোনো এক বছরের আয় নয়, এটি একজন মানুষের পুরো জীবনের সঞ্চয়ের সমষ্টি।
নাহিদ ইসলামের ক্ষেত্রে এই সম্পদ তার প্রায় ২৭ বছরের জীবনের জমাকৃত সঞ্চয়। এর মধ্যে রয়েছে উপদেষ্টা পদের বিপরীতে প্রাপ্ত বেতন থেকে সেভিংস, পূর্ববর্তী সেভিংস, পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে পাওয়া উপহার, স্বর্ণালংকারের মূল্য, ফার্নিচার এবং ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্যের সমষ্টি। পাশাপাশি উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর আয়কর পরিশোধিত ইনকামও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এখানে মোট সম্পদ যেটা একেবারেই সত্য ও একুরেট সেই তথ্যই দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ঘিরে যে অপপ্রচার চলছে, সেটিও তথ্যের অপব্যবহার ছাড়া কিছু নয়।
উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের সময় নাহিদ ইসলামের ব্যাংক একাউন্টে যে প্রায় ১০ হাজার টাকা ছিল, সেটি ছিল উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন মোট আয়ের পর অবশিষ্ট নগদ অর্থ—তার মোট সম্পদের প্রতিফলন নয়। পরবর্তীতে সরকারিভাবে মন্ত্রীদের আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ অর্থ একই অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ায় ব্যালেন্স বৃদ্ধি পায়, যা হলফনামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট মাত্র দুটি—একটি সোনালী ব্যাংকে এবং আরেকটি নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের জন্য ২৮ ডিসেম্বর সিটি ব্যাংকে খোলা। এর বাইরে তার আর কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। একই সঙ্গে এটিও পরিষ্কার যে উপদেষ্টা পদে থাকা অবস্থায় যেমন তার কোনো জমি, ফ্ল্যাট বা গাড়ি ছিল না, পদত্যাগের পরেও তা হয়নি—এই তথ্য হলফনামায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
পেশা সংক্রান্ত বিষয়ে বলা হয়েছে, পেশা সংক্রান্ত বিভ্রান্তিও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হলফনামার কোথাও নাহিদ ইসলামের পেশা হিসেবে শিক্ষকতা উল্লেখ করা হয়নি। তার পূর্ববর্তী পেশা সরকারের উপদেষ্টা এবং বর্তমান পেশা হিসেবে কনসালট্যান্সি উল্লেখ আছে, যা একটি স্বীকৃত ও বৈধ পেশা। তিনি একটি টেক ফার্মে স্ট্র্যাটেজিক ও পলিসি সিদ্ধান্তে পরামর্শ দেন—যে প্রতিষ্ঠানের নাম ইলেকশন কমিশনে দাখিল করা নথিতেই উল্লেখ রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠান কোনো সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং নাহিদ ইসলামের যুক্ত থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানটি কখনোই কোনো সরকারি সুবিধা পায়নি। তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি এই পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন—এতে অস্বাভাবিক বা গোপন কিছু নেই।
নাহিসের ওই ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়েছে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নাহিদ ইসলামের আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত প্রতিটি তথ্য আয়কর রিটার্ন ও নির্বাচনি হলফনামার মাধ্যমে আইনগতভাবে যাচাইযোগ্য। তিনি উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন আয়, পদত্যাগের পর পেশাগত আয় এবং জীবনের সামগ্রিক সম্পদ—সবকিছু আলাদা করে, স্বচ্ছভাবে ঘোষণা করেছেন। অথচ এই স্পষ্ট ও পৃথক ক্যাটাগরিগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুলিয়ে দিয়ে একটি অসৎ রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করার চেষ্টা চলছে। বাস্তবে, সীমিত সম্পদ ও স্বচ্ছ আয়ের ঘোষণা এই কথাই প্রমাণ করে যে নাহিদ ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার বা অবৈধ সম্পদ সঞ্চয়ের রাজনীতির বাইরে থেকেই দায়িত্ব পালন করেছেন—আর সেটিই এই অপপ্রচারের মূল অস্বস্তির জায়গা। দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এই দেশে সত্য বলা অনেক সময় অপরাধে পরিণত হয়। যত বেশি স্বচ্ছতা দেখানো হয়, তত বেশি কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। অথচ যেসব রাজনীতিবিদ বছরের পর বছর দেশে-বিদেশে বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন, যাদের হলফনামার তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না—তাদের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা প্রায় অনুপস্থিত। কারণ ক্ষমতার সঙ্গে আপস করা থাকলে প্রশ্ন ওঠে না।
এমকে
রাজনীতি
জাতীয়তাবাদী পুলিশ বাহিনী গঠনের চেষ্টা করছে বিএনপি
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনার সময়ে পুলিশ ধীরে ধীরে ‘পুলিশ লীগে’ পরিণত হয়েছিল। এখন বিএনপি সেই বাহিনীকে ‘জাতীয়তাবাদী পুলিশ বাহিনী’ বানানোর চেষ্টা করছে। তা না হলে তারা কেন পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করছে না? পুলিশ অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন করছে না কেন?
রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের বিএনপি নানা ভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে, কথা বলার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং বৈষম্য দূর করতে হবে। আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দুর্নীতি-লুটপাটের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে এবং পুরোনো ধারায় ফিরে যাচ্ছে। জুলাই যোদ্ধাদের নাম ব্যবহার করে সরকার তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কখনো একাত্তরের চেতনা, আবার কখনো জুলাই আন্দোলনের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে তারা এসব আদর্শ ধারণ করে না।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিএনপি দাবি করছে তারা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে, কিন্তু বাস্তবে তারা সেটিকে কলুষিত করেছে। শেখ হাসিনার আমলে বিচার বিভাগ যেভাবে দলীয়করণ হয়েছিল, বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিচারপতিদের নিরপেক্ষ নিয়োগের যে অধ্যাদেশ ছিল, সেটিও বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের দলীয়করণের মাধ্যমে দেশে স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেগুলোই আবার বহাল রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, সংস্কারের কথা বলা হলেও তা বাস্তবে ধারণ করা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, প্রকৃত সংস্কার ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের লক্ষ্যে আবারও আন্দোলনে নামতে হচ্ছে।
রাজনীতি
ফ্যাসিবাদ কায়েমের ইঙ্গিত দিচ্ছে সরকারঃ জামায়াত আমির
নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আবারও ফ্যাসিবাদ কায়েমের ইঙ্গিত দিচ্ছে সরকার। তবে নতুন করে সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। জুলাই জাদুঘর জনগণের, কিন্তু সেটাকেও তারা দলীয়করণের পথে নিয়ে গেছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, যতদিন সংসদে লড়াই করতে পারবো ততদিন থাকবো, এর বাইরে এক সেকেন্ডও নয়। রাজপথই আমাদের মূল ঠিকানা।
সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে বিএনপি জাতির সঙ্গে ধোঁকাবাজি ও গাদ্দারি করেছে অভিযোগ করে জামায়াত আমির বলেন, ক্রিকেট বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ—সব জায়গায় ক্যু করছে বিএনপি। এই অবৈধ হস্তক্ষেপ গণতান্ত্রিক পথসমূহ আবারও রুদ্ধ করছে। সরকারের এই অবৈধ হস্তক্ষেপ মানা হবে না; জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবেলা করা হবে।
অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। এবারের আন্দোলনে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা সামনে সারিতে থাকবেন। যদি বুলেট ছোড়া হয়, সেই বুলেট আগে আমাদের বুক ভেদ করবে। তবে এবার অর্ধেক সফলতা নয়; পরিপূর্ণ সফলতার জন্য রাজপথে নামবো।
রাজনীতি
বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন সেই সিথী
সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডার ঘটনায় আলোচনায় আসা ফারজানা সিথী বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে দলটির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ফারজানা সিথী।
এসময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি অফিসিয়ালি একটি ব্রিফ করবো, তখন বিস্তারিত জানাবো। নড়াইল-২ আসন থেকে আমি ফরম নিয়েছি। আমি আশাবাদী আমি চূড়ান্তভাবে মনোনীত হবো।’
জানা যায়, ফারজানা সিথীর বাড়ি যশোর। তিনি আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট, বাংলাদেশ’-এর বরগুনা সদরের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী।
রাজনীতি
তেল আছে শুধু সংসদে: জামায়াত আমির
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তেল আছে শুধু সংসদে। সংসদে সরকারি দলের মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের কথা শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায় শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ।
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, সংসদে যখন মন্ত্রীরা, সরকারি দলের সদস্যরা কথা বলেন, তখন মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে। অথচ সাধারণ মানুষ মাইলের পর মাইল লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছে না।
সংসদে সব আশা বিফলে না গেলেও ভালো কিছু মেলেনি এমন মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হওয়া উচিত জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়ন করা। কিন্তু শুক্রবারের ইভেন্টগুলো দেখলে বোঝা যায় বাস্তবতা ভিন্ন।
তিনি বলেন, আমি সংসদে দাঁড়িয়েও বলেছিলাম, আমরা নবীন সদস্য হলেও রাজনীতির সুস্থ চর্চা করতে চাই। জনগণের ট্যাক্সের প্রতিটি পয়সার হিসাব আমাদের দিতে হবে। আমি বলব না, যে সব আশা বিফলে যাচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত সংসদ থেকে জাতির জন্য খুব ভালো কিছু ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমানে গোটা সমাজ চলছে গোঁজামিল আর টপ-ড্রেসিংয়ের মাধ্যমে। ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে সব জায়গায় শুধু হিসাব মেলানোর চেষ্টা চলছে, যেখানে ক্যাশ নেই কিন্তু খাতায় লাভ দেখানো হচ্ছে। এই ‘গোঁজামিল’ দিয়ে দেশ চলতে পারে না। আমাদের উচিত মেরিটোক্রেটিক (মেধাভিত্তিক) সোসাইটি গড়ে তোলা, পলিটোক্রেটিক (রাজনীতিভিত্তিক) নয়।
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, শুনলাম এখানেও নাকি বিসিবির মতো ‘ক্যু’ ঘটানোর চেষ্টা হচ্ছে। কৃষিবিদদের মতো মেধাবী মানুষদের সংগঠনে কেন জোর করে নেতৃত্ব দখলের রাজনীতি থাকবে? উপযুক্ত লোককে উপযুক্ত জায়গায় বসানোই সরকারের সার্থকতা। এখানে দল, ধর্ম বা লিঙ্গ দেখার সুযোগ নেই। এই ব্যাড কালচারের কবর রচনা করতে হবে।
কৃষির বিপর্যয় মানেই দেশের বিপর্যয় এমন মন্তব্য করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, কৃষি বাঁচলে, দেশ বাঁচবে। এটি আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। কৃষির বিপর্যয় ঘটলে গোটা জাতির বিপর্যয় ঘটবে। কোনো বিদেশি ঋণ বা সহায়তা জাতিকে সোজা হয়ে দাঁড় করাতে পারবে না যদি আমাদের কৃষি ধ্বংস হয়ে যায়। অথচ জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষকরা সেচ দিতে পারছেন না, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাফার স্টক তৈরির জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, সরকারকে ডিমান্ড ম্যানেজমেন্টে স্বচ্ছ হতে হবে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৯০ দিনের বাফার স্টক (মজুত) গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সোলার এনার্জি বা অল্টারনেট জেনারেশনের দিকে নজর দিতে হবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি একই সিন্ডিকেট, ফ্যাসিজম আর গায়ের জোরের পথে হাঁটা হয়, তবে আমরা আল্লাহর দেওয়া শক্তি দিয়ে সে পথে বাধা হয়ে দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ।
এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর এটিএম মাহবুব ই ইলাহীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধে জানানো হয়, দেশের মোট জ্বালানির ১৮ শতাংশ কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয় এবং বর্তমান সংকটে বোরো চাষে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
রাজনীতি
বুড়িগঙ্গার সঙ্গে জিয়া সরণি খালের সংযোগে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ
ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে জিয়া সরণি খালকে যুক্ত করার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এই কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর জিয়া সরণি খাল, কোনাপাড়া খাল ও কুতুবখালী খাল পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের অবহেলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই খালটি দীর্ঘদিন সংস্কারহীন ছিল।
বর্তমানে সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে খালটির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ প্রাথমিক সংস্কারকাজ চলছে।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘সব খাল দখলমুক্ত করা হবে এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তাই জনস্বার্থে যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজ সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরো যোগ করেন, কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং জনকল্যাণই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি শুরু করেছে বিএনপি সরকার। গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়ায় খাল খননের মাধ্যমে একযোগে দেশের ৫৪টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জানা গেছে, কৃষি সেচ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে।
প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি জেলায় চলবে এই কর্মসূচি।



