অর্থনীতি
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত পাঁচটি সঞ্চয় কর্মসূচির মুনাফার হার কমানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। ফলে সঞ্চয়পত্রের আগের মুনাফার হার কার্যকর হবে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এর আগে ৩১ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার নতুন হার নির্ধারণ করা হয়। চার দিনের মাথায় সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হলো।
এর ফলে স্কিমের ধরন অনুযায়ী মুনাফার হার সর্বোচ্চ হার হবে ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত।
পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র
নতুন হার অনুযায়ী, প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়নের ক্ষেত্রে প্রথম বছরে ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১০ দশমিক ২১ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ১০ দশমিক ৭২ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।
অন্যদিকে দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীরা ৫ বছর বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়নের ক্ষেত্রে প্রথম বছরে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।
৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র
প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা ৩ মাস অন্তর মুনাফা সঞ্চয়পত্র মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়নের ক্ষেত্রে প্রথম বছরে ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১১ দশমিক ২২ শতাংশ এবং তৃতীয় বছরে ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।
অন্যদিকে দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীরা ৩ মাস অন্তর মুনাফা সঞ্চয়পত্র মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়নের ক্ষেত্রে প্রথম বছরে ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং তৃতীয় বছরে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।
পেনশনার সঞ্চয়পত্র
প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা পেনশনার সঞ্চয়পত্র মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়নের ক্ষেত্রে প্রথম বছরে ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১০ দশমিক ৩২ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ১১ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।
অন্যদিকে দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীরা পেনশনার সঞ্চয়পত্র মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়নের ক্ষেত্রে প্রথম বছরে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ১১ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।
পরিবার সঞ্চয়পত্র
প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা পরিবার সঞ্চয়পত্র মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়নের ক্ষেত্রে প্রথম বছরে ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১০ দশমিক ২৯ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।
অন্যদিকে দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীরা পেনশনার সঞ্চয়পত্র মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়নের ক্ষেত্রে প্রথম বছরে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।
পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিট
প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিটে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়নের ক্ষেত্রে প্রথম বছরে ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১১ দশমিক ২২ শতাংশ এবং তৃতীয় বছরে ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।
অন্যদিকে দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীরা এই সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়নের ক্ষেত্রে বছরে ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং তৃতীয় বছরে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।
অর্থনীতি
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও স্থিতিশীল রয়েছে ডলার-টাকার বিনিময় হার
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে বিশ্বব্যাপী উত্তেজনার মধ্যেও বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল এবং ভারসাম্যপূর্ণ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, টাকার বিনিময় হারের ওপর কোনো তাৎক্ষণিক চাপ নেই এবং বাজারে স্বাভাবিক ধারা বজায় রয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক এক বার্তায় এসব তথ্য জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার বর্তমানে স্থিতিশীল এবং ভারসাম্যপূর্ণ। টাকার বিনিময় হারের ওপর কোনো তাৎক্ষণিক অবমূল্যায়নের চাপ নেই।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৬ এপ্রিল ব্যাংকিং খাতে প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা তারল্য রয়েছে। এটি ২৬ ফেব্রুয়ারি ছিল ২.৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক মাসে বেড়েছে ১.৬ বিলিয়ন ডলার।
এ ছাড়া, ২৬ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকগুলোর নগদ বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ ছিল ৪৭.৬ মিলিয়ন ডলার, যা ৬ এপ্রিল বেড়ে ৪৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
ব্যাংকগুলোর হিসাব, নগদ মুদ্রা এবং অন্যান্য উৎস মিলিয়ে এই পর্যাপ্ত তারল্য দৈনন্দিন আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক লেনদেন নির্বিঘ্নে সম্পাদনে সহায়ক হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পাদনে একটি শক্তিশালী সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করছে।
ব্যাংকগুলোর নেট ওপেন পজিশন (এনওপি) আনুমানিক ৬০০-৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেলে সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার ক্রয় করে থাকে। তবে বর্তমানে ব্যাংকগুলোর নেট ওপেন পজিশন আনুমানিক ১ বিলিয়ন হলেও বাজার থেকে কোনো ডলার কেনা হয়নি। গত এক মাসেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার ক্রয় করেনি। বাজারে স্বাভাবিক তারল্য বজায় রেখে ডলার ক্রয় করা হলে রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়নের কাছাকাছি দাঁড়াতো।
রেমিট্যান্স প্রবাহেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। গেল মার্চ মাসে ৩.৭৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা পূর্ববর্তী যে কোনো মাসের তুলনায় বেশি। চলতি মাসের ১ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৬৬০ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০.৫ শতাংশ বেশি। এই প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়িয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অন্যদিকে, আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধও স্বাভাবিক ধারায় চলছে। গত মাসে ১.৩৭ বিলিয়ন ডলার আকু বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ সরকারি বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ সম্পন্ন হয়েছে। এতদসত্ত্বেও ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৪.৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে স্থিত রয়েছে।
সার্বিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও চাহিদা বর্তমানে ভারসাম্যপূর্ণ, রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী এবং বাজারে আস্থা ও শৃঙ্খলা বিদ্যমান। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে টাকার বিনিময় হারে অবমূল্যায়নের কোনো চাপ নেই এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।
তবে কিছু সংবাদমাধ্যমে ডলারের অবমূল্যায়ন হবে—এমন নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে, যা মোটেও সমীচীন নয় বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অর্থনীতি
দেশে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৬৫৯০ টাকা
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা।
এর আগে, সবশেষ গত ৬ এপ্রিল সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ১৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৫৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩১ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ২২ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
অর্থনীতি
শরিয়াহ বোর্ডকে স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ ও পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়া হবে: গভর্নর
ব্যাংকগুলোর শরিয়াহ বোর্ডের সদস্যদের স্বাধীনভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, শরিয়াহ বোর্ডের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা থাকা উচিত নয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তাদের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে শীর্ষস্থানীয় শরীয়াহ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (আইবিআরপিডি)।
সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নবগঠিত শরীয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্যবৃন্দ, দেশের প্রায় সব ইসলামী ব্যাংকের শরীয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা এবং খ্যাতিমান আলেম-উলামা, দাঈ ও শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন।
গভর্নর বলেন, অতীতে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে, যার অন্যতম কারণ ছিল যথাযথ তদারকির অভাব। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী ব্যাংকিং মূলত পণ্যভিত্তিক কাঠামোর ওপর পরিচালিত হওয়ার কথা। সঠিকভাবে এটি বাস্তবায়িত হলে এ ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবে ক্ষতি হয়েছে—যা গভীরভাবে পর্যালোচনার দাবি রাখে।
তিনি আরও বলেন, শরিয়াহ বোর্ডকে সর্বোচ্চভাবে ক্ষমতায়ন করতে হবে এবং তাদের সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এর মাধ্যমেই কার্যকর তদারকি পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে ইসলামী ব্যাংকিং সেবা প্রদানের আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং খাতকে টেকসই ও আস্থাশীল করতে এর মৌলিক ভিত্তি নিশ্চিত করা জরুরি। তারা সুদমুক্ত ব্যবস্থা, ধোঁকামুক্ত লেনদেন এবং লাভ-ক্ষতির ঝুঁকি ভাগাভাগির নীতির কঠোর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, খাতের সংকট নিরসনে ব্যাংকগুলোর শরীয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি, শরীয়াহ সেক্রেটারিয়েট ও শরীয়াহ অডিট ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। এসব কমিটিকে পরিচালনা পর্ষদের প্রভাবমুক্ত রেখে স্বাধীনভাবে কাজ করার আইনি নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি বড় বিনিয়োগ অনুমোদনে তাদের মতামত বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তারা বলেন, শরীয়াহ সুপারভাইজার বা মুরাকিবদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা কোনো চাপ ছাড়াই নিরপেক্ষভাবে অডিট রিপোর্ট দিতে পারেন। একই সঙ্গে একটি স্বতন্ত্র ইসলামী ব্যাংকিং আইন প্রণয়ন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকিং তদারকির জন্য পৃথক উচ্চপর্যায়ের পদ সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হয়।
বক্তারা ইসলামী ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পরিচালনা পর্ষদ ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য ন্যূনতম শরীয়াহ জ্ঞান বাধ্যতামূলক করার কথা বলেন। পাশাপাশি প্রতিটি ব্যাংকে কার্যকর শরীয়াহ কমপ্লায়েন্স, রিসার্চ ও অডিট বিভাগ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
স্বচ্ছতা বাড়াতে বছরে অন্তত একবার বহিঃস্থ শরীয়াহ নিরীক্ষা চালু, শরীয়াহ কমপ্লায়েন্স রেটিং প্রবর্তন এবং পৃথক কোর ব্যাংকিং সিস্টেম ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে আলেমদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গবেষণা ও কমপ্লায়েন্স খাতে যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া অর্থপাচার ও বড় ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয় এবং সংকটাপন্ন ইসলামী ব্যাংকগুলোকে সহজ শর্তে তারল্য সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। বক্তারা বলেন, তাত্ত্বিক নীতিমালার সঙ্গে বাস্তব প্রয়োগের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে পারলেই জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।
সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের শরীয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. আবু বকর রফিক, মুফতী শাহেদ রহমানী, ড. মোহাম্মদ মনজুরে ইলাহী, ড. মুফতী ইউসুফ সুলতান এবং মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ্।
অর্থনীতি
৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৬৬ কোটি ডলার
চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ৬ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৬ কোটি মার্কিন ডলার। প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৫১ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
এর আগে গত মার্চে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।
এ ছাড়া গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।
অর্থনীতি
দেশে কর্মরত ১৪৬৬৪ বিদেশি নাগরিক: বিবিএস
দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ইউনিটে (প্রতিষ্ঠান) কাজ করছেন ১৪ হাজার ৬৬৪ বিদেশি নাগরিক। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অর্থনৈতিক শুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিবিএস অডিটরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় প্রতিবেদনটি।
২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, মোট বিদেশি জনবলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নগরিক চীনের। এর সংখ্যা ৩ হাজার ৯৯১ জন; যা মোট বিদেশি কর্মীর ২৭ দশমিক ২২ শতাংশ।
এ ছাড়া রুশ নগরিক ২২ দশমিক ৭৩ শতাংশ, ভারতীয় ১৩ দশমিক ০১ শতাংশ, কাজাখস্তানের ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ, শ্রীলংকার ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক ৩ দশমিক ৬০ শতাংশ।
বিবিএসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠানে বিদেশি নাগরিক কর্মরত সেগুলোর ২৩ দশমিক ৩৬ শতাংশে কাজ করেন প্রশাসন বা হিসাব শাখায়।
এ ছাড়া ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের কারিগরি বা প্রকৌশল শাখায়, ১৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন শাখায় এবং ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের বিপণন শাখায় কর্মরত বিদেশিরা।



