আন্তর্জাতিক
মেক্সিকোয় শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ২
মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি ও প্রশান্ত মহাসাগর উপকূলের একটি পর্যটন এলাকায় ৬.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত দুইজন নিহত এবং ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছের একটি ছোট শহরে মাঝারি মাত্রার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৮টার কিছু আগে আকাপুলকোর কাছে এই ভূমিকম্পটি ঘটে। আকাপুলকো একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত এলাকা।
ভূমিকম্পের কম্পন প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে উত্তরের মেক্সিকো সিটিতেও অনুভূত হয়। সেখানে সতর্কতামূলক অ্যালার্ম বেজে ওঠায় ছুটির সপ্তাহান্তে আতঙ্কে মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য রাস্তায় নেমে আসে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজধানীতে দ্বিতীয় তলার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হওয়ার সময় পড়ে গিয়ে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা যান।
মেক্সিকো সিটির মেয়র ক্লারা ব্রুগাদা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, আরও ১২ জন আহত হয়েছেন। তবে দেশের সবচেয়ে বড় শহরটিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের সময় প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাম তার নিয়মিত সকালবেলার সংবাদ সম্মেলন চলাকালে প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেস ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
মেক্সিকোর জাতীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানায়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল গুয়েরেরো অঙ্গরাজ্যের সান মার্কোস শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে।
প্রেসিডেন্ট শেইনবাম বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে বড় ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সান মার্কোস শহরে ভূমিকম্পের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
গুয়েরেরোর গভর্নর এভেলিন সালগাদো জানান, পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সী এক নারী তার বাড়ি ধসে পড়ায় প্রাণ হারান।
সান মার্কোসের মেয়র মিসায়েল লোরেনসো কাস্তিয়ো বলেন, প্রায় ৫০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং “প্রায় সব বাড়িতেই ফাটল দেখা দিয়েছে”।
স্থানীয় বাসিন্দারা এক এএফপি সাংবাদিককে তাদের বাড়ির দেয়ালে ফাটল ও ধসে পড়া অংশ দেখান।
নিজের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রোগেলিও মোরেনো বলেন, “সান মার্কোস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পুরোপুরি বিপর্যস্ত।
এমকে
আন্তর্জাতিক
বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড়তে রাজি যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র শনিবার জানিয়েছে, কাতারসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে আটক থাকা ইরানের সম্পদ ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে।
ইসলামাবাদে চলমান আলোচনায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে তেহরান।
সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র রয়টার্সকে জানায়, এই সম্পদ ছাড়ের বিষয়টি সরাসরি হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার সঙ্গে যুক্ত, যা আলোচনার একটি প্রধান ইস্যু হতে যাচ্ছে।
এই সম্পদের মোট পরিমাণ সম্পর্কে প্রথম সূত্রটি কিছু জানায়নি।
তবে আরেকটি ইরানি সূত্র দাবি করেছে, কাতারে রাখা ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
আট বছর আগে জব্দ করা অর্থ
প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের এই অর্থ প্রথমে ২০১৮ সালে জব্দ করা হয়।
২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে তা ছাড় দেওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন আবারও এই অর্থ স্থগিত করে।
সেসময় মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ইরান এই অর্থ ভবিষ্যতে ব্যবহার করতে পারবে না এবং প্রয়োজনে পুরো অর্থ আবারও পুরোপুরি জব্দ করার অধিকার ওয়াশিংটনের রয়েছে।
অর্থের উৎস
এই অর্থ এসেছে দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রি থেকে।
২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে এই অর্থ আটকে যায়। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তিও বাতিল করেন।
বন্দি বিনিময় ও শর্ত
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়।
এই চুক্তির আওতায় ইরানে আটক পাঁচজন মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাঁচজন ইরানিকেও মুক্তি দেওয়া হয় এবং অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়।
তখন যুক্তরাষ্ট্র জানায়, এই অর্থ কেবল মানবিক কাজে ব্যবহার করা যাবে। যেমন খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষিপণ্য কেনার জন্য এবং তা মার্কিন ট্রেজারির তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট সরবরাহকারীদের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে।
আন্তর্জাতিক
ব্যর্থ হলে দোষ ভ্যান্সের, সফল হলে কৃতিত্ব আমার: ট্রাম্প
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করতে এই মুহূর্তে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আর তার এই অতি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশন নিয়ে হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে বেশ মজার কিন্তু অর্থবহ মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সম্প্রতি ইস্টার লাঞ্চ চলাকালীন এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, যদি এই শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে আমি জেডি ভ্যান্সকে দায়ী করব। আর যদি এটি সফল হয়, তবে এর পুরো কৃতিত্ব আমি নিজে নেব।
প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যে উপস্থিত কর্মকর্তারা হাসিতে ফেটে পড়লেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন—এর মাধ্যমে ভ্যান্সের ওপর এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করেছেন ট্রাম্প।
ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেডি ভ্যান্সের জন্য এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় এবং চ্যালেঞ্জিং অ্যাসাইনমেন্ট। ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে তার এই আলোচনাকে বিশেষজ্ঞরা ‘পলিটিক্যাল মাইনফিল্ড’ বা রাজনৈতিক মাইনক্ষেত্র হিসেবে অভিহিত করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে গত ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের পর বিশ্ব অর্থনীতি যখন টালমাটাল, তখন এই শান্তি আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চ্যালেঞ্জের মুখে ভ্যান্স
এই আলোচনা সফল করা ভ্যান্সের জন্য মোটেও সহজ নয়। কারণ তাকে বেশ কিছু কঠিন পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যিনি কখনো শান্তির কথা বলেন, আবার কখনো ইরানকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এছাড়া তেহরান সরকার যারা বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ শক্ত হাতে ধরে রেখেছে। এদিকে ইসরাইল যারা কোনোভাবেই অসম্পূর্ণ বা দুর্বল যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে নিতে রাজি নয়। এবং ইউরোপীয় মিত্র যারা এই যুদ্ধের বিরোধী কিন্তু হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে আমেরিকাকে সরাসরি সামরিক সাহায্য করতে অনিচ্ছুক।
২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেডি ভ্যান্স একজন সম্ভাব্য প্রার্থী। ফলে ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক বা মাগা গোষ্ঠী তার এই সফরের দিকে কড়া নজর রাখছে। ইরাক যুদ্ধে অংশ নেওয়া সাবেক এই মেরিন সেনা ব্যক্তিগতভাবে বিদেশি যুদ্ধে মার্কিন হস্তক্ষেপের বিরোধী হিসেবে পরিচিত। এমনকি ইরানের ওপর হামলার আগেও তিনি ট্রাম্পের কাছে নিজের সংশয় প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভ্যান্সকে এই বৈঠক থেকে বড় কিছু অর্জন করে ফিরতে হবে। তা না হলে তার রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
সব মিলিয়ে পাকিস্তানের মাটিতে ইরানের সাথে এই আলোচনা জেডি ভ্যান্সের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
আন্তর্জাতিক
চরম অবিশ্বাস নিয়ে আলোচনায় বসছে ইরান : আরাগচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ইরান ‘চরম অবিশ্বাস’ নিয়ে অংশগ্রহণ করছে। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুলের সঙ্গে এক টেলিফোন সংলাপে তিনি তেহরানের এই অবস্থান স্পষ্ট করেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, আরাগচি তার জার্মান প্রতিপক্ষকে বলেছেন, ওয়াশিংটনের অতীত কর্মকাণ্ড এবং বারবার ‘কূটনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতার’ কারণে তাদের ওপর ভরসা করার কোনো সুযোগ নেই।
টেলিফোন আলাপে আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনের ইতিহাসের কারণে আমরা এই আলোচনায় অত্যন্ত সন্দিহান। তবে আমরা আমাদের দেশের মানুষের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় পূর্ণ শক্তি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাব।’
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই শান্তি আলোচনায় ইরান তাদের অনমনীয় অবস্থানের কথা আগেভাগেই জানিয়ে দিল। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, আরাগচির এই মন্তব্য মূলত আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যেখানে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে আলোচনার শুরুতেই ইরানের এই ‘অবিশ্বাসের’ বার্তা শান্তি প্রক্রিয়ায় কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
আন্তর্জাতিক
হরমুজে পাতা মাইন নিজেই খুঁজে পাচ্ছে না ইরান!
নিজেদের পাতা নৌ-মাইনের অবস্থান বের করতে না পারায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে পারছে না ইরান। একই সঙ্গে পাতা মাইনগুলো দ্রুত অপসারণের সক্ষমতাও দেশটির নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
নিউ ইউর্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থাকা সত্ত্বেও প্রণালিপথ দিয়ে বেশি জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে পারছে না তেহরান। একই বিষয়টি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনাতেও সামনে আসতে পারে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরুর পরপরই ছোট নৌযান ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে দেয় ইরান। এসব মাইনের পাশাপাশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় তেলবাহী ট্যাংকারসহ অন্যান্য জাহাজের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায় এবং যুদ্ধের সময় এটি ইরানের জন্য বড় কৌশলগত হাতিয়ার হয়ে ওঠে।
তবে পুরো প্রণালি বন্ধ না করে ইরান একটি নির্দিষ্ট পথ খোলা রেখেছে, যেখানে নির্ধারিত ফি দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে পারছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, যেকোনো সময় জাহাজ নৌমাইনের সঙ্গে ধাক্কা খেতে পারে। এমনকি আধা-সরকারি গণমাধ্যমগুলো নিরাপদ নৌপথের মানচিত্রও প্রকাশ করেছে।
কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরান এলোমেলোভাবে মাইন বসানোয় নিরাপদ পথ খুব সীমিত হয়ে গেছে। কোথায় কোন মাইন বসানো হয়েছে, তার সঠিক রেকর্ড ইরানের কাছে নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এমনকি যেগুলোর অবস্থান জানা ছিল, সেগুলোর কিছু পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে স্থান পরিবর্তন করেছে।
স্থলমাইনের মতোই নৌমাইন অপসারণ করা অত্যন্ত জটিল কাজ। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কাছেও উন্নত মাইন অপসারণ সক্ষমতা নেই; তারা মূলত মাইনসুইপিং প্রযুক্তিসম্পন্ন লিটোরাল কমব্যাট জাহাজের ওপর নির্ভরশীল। ইরানের ক্ষেত্রেও একই সীমাবদ্ধতা রয়েছে—তারা নিজেদের পাতা মাইন নিজেরাই দ্রুত সরাতে পারছে না।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালিকে ‘সম্পূর্ণ, তাৎক্ষণিক ও নিরাপদভাবে’ খুলে দিতে হবে।
এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ‘প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রেখে’ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য খোলা থাকবে। মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ‘প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা’ বলতে মূলত মাইন খুঁজে বের করা ও অপসারণের অক্ষমতাকেই বোঝানো হয়েছে।
বর্তমানে আরাগচি ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন, সেখানে আজ শনিবার তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখে প্রণালিপথ কত দ্রুত নিরাপদ করা যাবে, সেটিই আলোচনার প্রধান ইস্যু হতে পারে।
যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনীকে দুর্বল করতে একাধিক জাহাজ ডুবিয়ে দেয় এবং নৌঘাঁটিতে হামলা চালায়। তবে ইরানের শত শত ছোট নৌযান রয়েছে, যেগুলো দিয়ে তারা সহজেই জাহাজ আটকানো বা মাইন পাতা চালিয়ে যেতে পারে। এসব ছোট নৌযান পুরোপুরি ধ্বংস করা মার্কিন বাহিনীর জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাইন পাতা শুরুর আগেই ইরানের নেতাদের হুমকিতে বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলে প্রভাব পড়ে এবং তেলের দাম বেড়ে যায়। গত ২ মার্চ বিপ্লবী গার্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ এবং কোনো জাহাজ ঢুকলে তা ‘আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হবে।’
এর পরপরই ইরান মাইন পাতা শুরু করে, যদিও তখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌ সক্ষমতার ওপর হামলা জোরদার করেছিল। সেই সময় মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ইরান খুব দ্রুত বা দক্ষতার সঙ্গে মাইন বসাতে পারছে না।
ছোট নৌযান দিয়ে এসব মাইন বসানোয় সেগুলোর সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে প্রণালিতে মোট কতটি মাইন রয়েছে বা সেগুলো কোথায় রয়েছে—তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আন্তর্জাতিক
চ্যাটজিপিটির সিইও স্যাম অল্টম্যানের বাসভবনে হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেন এআই-এর প্রধান স্যাম অল্টম্যানের বাসভবনে মলোটভ ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। খবর আলজাজিরার।
পুলিশ জানায়, এক হামলাকারী বাড়ির বাইরে একটি মলোটভ ককটেল ছুড়ে মারলে গেটের একটি অংশে আগুন ধরে যায়। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি হেঁটে পালিয়ে যায়। তবে প্রায় এক ঘণ্টা পর তাকে সানফ্রান্সিসকো পুলিশ (এসএফপিডি) গ্রেফতার করে। আটক যুবকের বয়স ২০ বছর বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি শহরের নর্থ বিচ এলাকার একটি আবাসিক ভবনে ঘটে। এখনো হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
ওপেন এআই-এর এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, ঘটনাস্থলটি স্যাম অল্টম্যানের বাসভবন। তিনি বলেন, সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ঘিরে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও বিক্ষোভ বেড়েছে। এর আগেও হুমকির কারণে ওপেন এআই -এর সদর দপ্তরে সাময়িক লকডাউন জারি করা হয়েছিল।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও, ওপেন এআই দ্রুত সম্প্রসারণ চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন প্রায় ৮৫২ বিলিয়ন ডলার এবং চ্যাটজিপিটির সাপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারী সংখ্যা ৯০ কোটিরও বেশি।



