Connect with us
৬৫২৬৫২৬৫২

মত দ্বিমত

প্রকৌশল খাতে বৈষম্য কাটাতে হবে লাইসেন্স ও জবাবদিহির মাধ্যমে

Published

on

সাপ্তাহিক

বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের এক সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে। শিল্পায়ন, অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রযুক্তি খাতে প্রকৌশলীরা মেরুদণ্ডস্বরূপ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রকৌশলীদের দুই শাখা—স্নাতক প্রকৌশলী এবং প্রকৌশলে ডিপ্লোমাধারীদের মধ্যে টানাপোড়েন আমাদের উন্নয়নযাত্রাকে অকারণে জটিল করে তুলেছে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

শাহবাগে স্নাতক প্রকৌশলীদের তিন দফা দাবির আন্দোলন, পুলিশের হামলা এবং পাল্টা আন্দোলনে ডিপ্লোমাধারীদের অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে প্রকৌশল খাত এখন এক অস্থির বাস্তবতার মুখোমুখি। তবে এ সংকট কেবল বাংলাদেশি বাস্তবতায় সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বজুড়ে প্রকৌশল পেশাকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ ও মানসম্মত করা হয়, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সমাধানের পথ খুঁজতে পারি। ইউরোপ ও আমেরিকায় ‘ইঞ্জিনিয়ার’ শব্দটি কেবল ডিগ্রি অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

যুক্তরাষ্ট্রে Professional Engineer (PE) লাইসেন্স ছাড়া কেউ সরকারি প্রকল্পে সই করতে বা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয় দিতে পারেন না। জার্মানিতে ‘Ingenieur’ উপাধি আইন দ্বারা সংরক্ষিত। শুধু ডিগ্রি থাকলেই চলবে না, প্রফেশনাল রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। যুক্তরাজ্যে Chartered Engineer (CEng) হতে হলে বহু বছরের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা যাচাই এবং নৈতিকতার শর্ত পূরণ করতে হয়। অর্থাৎ, উন্নত বিশ্বে প্রকৌশলীরা শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, নৈতিকতা এবং লাইসেন্স-এই চার ধাপ পেরিয়েই প্রকৌশলী পরিচয় পান। বাংলাদেশে এখনো এ ধরনের কাঠামো না থাকায় দ্বন্দ্ব ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

বাংলাদেশে স্নাতক প্রকৌশলীরা বলছেন, ডিপ্লোমাধারীরা কোটার মাধ্যমে তাদের পদ দখল করছে। এতে মেধাবী স্নাতকরা কর্মক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে ডিপ্লোমাধারীরা মনে করেন, তারাও প্রকৌশলী পরিচয়ের অধিকারী এবং তাদের জন্য বাড়তি পদায়ন দরকার। ফলে উভয়পক্ষেই তীব্র রেষারেষি তৈরি হয়েছে, অথচ বাস্তবে দুই দলের কাজই পরিপূরক।

প্রশ্ন হচ্ছে-এই বিভাজন কাটিয়ে কীভাবে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যায়? বাংলাদেশে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকৌশলীর সংখ্যা কম নয়। কেউ কোটি টাকার বালিশ সরবরাহে অনিয়ম করেন, কেউ সেতু নির্মাণে খরচ ফুলিয়ে দেন। ডিগ্রিধারী হওয়া সত্ত্বেও তারা দেশের ক্ষতির কারণ হন। অন্যদিকে ইতিহাস বলে, অনেক মহৎ স্থাপনা—যেমন তাজমহল—গড়ে উঠেছিল এমন মানুষের হাতে, যাদের আধুনিক অর্থে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ছিল না। তারা মেধা, সৃজনশীলতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন।

অতএব প্রশ্নটা ডিগ্রির নয়; প্রশ্নটা হচ্ছে নৈতিকতা, দায়বদ্ধতা ও দেশপ্রেমের। একজন মাঝারি মানের কিন্তু সৎ প্রকৌশলী দেশের জন্য অনেক বেশি মঙ্গলজনক, একজন উচ্চ ডিগ্রিধারী দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীর চেয়ে। প্রতিবছর হাজার হাজার বাংলাদেশি প্রকৌশলী ইউরোপ-আমেরিকায় পাড়ি দিচ্ছেন। বিদেশে কঠোর নিয়ম ও জবাবদিহির মধ্যেও তারা সফল হচ্ছেন, অথচ দেশে থাকলে দুর্নীতির জালে জড়িয়ে পড়তে হয় বা হতাশায় পেশা ছাড়তে হয়। এর ফলে বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তির সংকট তৈরি হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি ও উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রথমত প্রকৌশলীদের জন্য লাইসেন্স ও নৈতিকতা কোড চালু করতে হবে। প্রকৌশলী হতে হলে শুধু ডিগ্রি নয়, পরীক্ষিত দক্ষতা ও নৈতিক মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া কেউ ‘প্রকৌশলী’ পরিচয় ব্যবহার করতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত স্নাতক প্রকৌশলী ও ডিপ্লোমাধারীদের জন্য আলাদা কিন্তু মর্যাদাপূর্ণ ক্যারিয়ার পথ তৈরি করতে হবে। এতে রেষারেষি কমবে, কাজের দক্ষতা বাড়বে। তৃতীয়ত প্রশাসনিক ক্যাডার দিয়ে প্রকৌশল সংস্থা চালালে পেশাগত সমস্যা সমাধান হয় না, তাই প্রকৌশলীদের নেতৃত্বে আলাদা ক্যাডার গড়ে তুলতে হবে। চতুর্থত ডিপ্লোমাধারীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সেতুবন্ধন তৈরি করতে হবে-কারিগরি বোর্ডের আওতায় সমমান সনদ ও ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ দিলে দক্ষ ডিপ্লোমাধারীরা চাইলে দ্রুত স্নাতক হতে পারবেন।

অবশেষে সবার জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং দুর্নীতির দায়ে প্রকৌশলীদের লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। বাংলাদেশে আজ প্রকৌশল খাত এক সড়কবাঁকে দাঁড়িয়ে। দ্বন্দ্ব, কোটা, দুর্নীতি আর মেধাপাচারের এই সংকট কাটাতে হলে আমাদের বুঝতে হবে-শুধু ডিগ্রি বা পদবী নয়, প্রকৌশলীর প্রকৃত পরিচয় হলো মেধা, সততা, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেম। যেদিন বাংলাদেশ প্রকৌশল পেশাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে দাঁড় করাতে পারবে, সেদিনই আমাদের উন্নয়ন টেকসই হবে।

রহমান মৃধা
গবেষক ও লেখক
(সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন)
Rahman.Mridha@gmail.com 

শেয়ার করুন:-

মত দ্বিমত

নির্বাচনের প্রাক্কালে নুরুল হকের ওপর হামলা: রাজনৈতিক অস্থিরতার নতুন সংকেত

Published

on

সাপ্তাহিক

সারাদেশে যখন নানা অপ্রীতিকর ঘটনার পর প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে, তখন হঠাৎ করে নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনা দেশজুড়ে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। প্রত্যক্ষ ভিডিওচিত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় দেখা গেছে, হামলায় সেনা এবং পুলিশের সদস্যরাও সরাসরি অংশ নিয়েছে। নুর বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এ ঘটনা শুধু একটি রাজনৈতিক হামলা নয়, বরং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকেত বহন করছে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

সরকার সদ্য ঘোষণা করেছে যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। এই সময়সীমা নিয়ে আগে থেকেই নানা রাজনৈতিক বিতর্ক ছিল। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর আগে নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন। অপরদিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সময় নিয়ে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এই দ্বন্দ্বপূর্ণ প্রেক্ষাপটেই নুরের ওপর হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

হামলার ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় দফতর থেকে পাঠানো বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির সন্ত্রাসীদের দায়ী করা হয়েছে এবং এটিকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসরদের কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। জামায়াত গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে আহতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে এবং দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা বলছেন, এটি একটি পরিকল্পিত আক্রমণ যা তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিকে স্তব্ধ করার চেষ্টা।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস নুরুল হক নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন এবং তদন্ত করে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এছাড়া, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান নুরের ওপর হামলাকে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়কের মন্তব্যে জানা গেছে- “হামলার পরপরই প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নুরুল হক নুরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি নুরকে আশ্বাস দেন যে, ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ড. ইউনূসের এই ফোনালাপকে অনেকেই ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে রাজনৈতিক সহিংসতার পরিবেশে এটি একটি আস্থা ফেরানোর প্রতীকী বার্তা। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আশ্বাস কার্যকর প্রমাণিত হবে কি না তা নির্ভর করবে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। অতীতে বহুবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বিচার হয়নি—তাই এবার সত্যিকার অর্থে সেনা ও পুলিশের সদস্যরা যদি দায়ী প্রমাণিত হন এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবে এটি নতুন সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে। অন্যথায় এটি উল্টো ড. ইউনূসের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলবে।

এই ঘটনার সঙ্গে আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, সেনাপ্রধানের সদ্যসমাপ্ত চীন সফরের পরপরই এই অপ্রত্যাশিত হামলা সংঘটিত হলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রেক্ষাপট ঘটনার পেছনে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বার্তাও বহন করতে পারে। ফলে দেশীয় রাজনীতি যেমন অস্থিরতার মধ্যে পড়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এ ঘটনা নজর কাড়বে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, নির্বাচনের আগে দেশে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে কি না। নুরের ওপর হামলার মতো ঘটনা যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও অংশগ্রহণকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা এবং সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের আন্তরিকতা এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে।

রহমান মৃধা
গবেষক ও লেখক
(সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন)
Rahman.Mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

বাংলাদেশের নির্বাচন: এক অদৃশ্য গণতন্ত্রের গল্প

Published

on

সাপ্তাহিক

যেকোনো সময় নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতে পারে, কিন্তু নির্বাচন বাস্তবে অনুষ্ঠিত হবে না। রাজধানীর রাস্তায় দিনভর মানুষ, যানবাহন আর সন্ত্রাসের আতঙ্ক যেন এক অদৃশ্য যুদ্ধের ময়দান তৈরি করেছে। যে দেশের রাষ্ট্রনীতি ভেজাল, দুর্নীতি ও স্বার্থপরতার মিশ্রণে ভরা, সেখানে প্রকৃত গণতন্ত্রের জন্ম অসম্ভব। রাজনৈতিক দলগুলো চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি এবং একে অপরকে নিপীড়নের ওপর দাঁড়িয়ে দৌড়ায়—এমন দেশে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে ধারণা রাখা অমূলক। দূরপরবাসী হলেও আমি নিয়মিত দেশের পরিস্থিতি খুঁটিয়ে যাচাই করছি, সংবাদ খুঁটিয়ে দেখছি, তাই বলতে বাধ্য হচ্ছি—এবারের নির্বাচন সঠিক সময়ে হচ্ছে না।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দেখাচ্ছে, ড. ইউনূসকে দিয়ে হয়ত হুকুম চালানো হচ্ছে, পুলিশ বাহিনীকে দিয়ে দমন করা হচ্ছে এবং রাস্তায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। স্কুলফেরত যুবক থেকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বেকার—সবাই যেন সেই অন্ধকারের নৃশংস খেলার অংশ। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অরাজকতা ও অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর নির্বাচনের পথ ক্রমশ বাধাগ্রস্ত হয়ে উঠছে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

ড. ইউনূস আশা করেছিলেন, নতুন প্রজন্ম শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশের নেতৃত্ব নতুনভাবে গ্রহণ করতে পারবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন—রাস্তায় নামা অধিকাংশ মানুষ ছিল টোকাই, যুবলীগ, যুবদল, শিবিরসহ দিনমজুরি; এরা জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে, গুলির আঘাতের ভয় উপেক্ষা করে লড়েছে। স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর দেশের নেতৃত্ব এলিট সম্প্রদায়ের হাতে চলে গেছে—এভাবেই মূল সিদ্ধান্তগ্রহণ চলছে। নতুন দল গঠনের স্বপ্নের কর্মীরা এখন সীমিত সংখ্যক, তাদের শক্তি ও প্রভাব আগের মতো নেই। অন্যদিকে, তারেক জিয়ার যুবদলের সদস্যসংখ্যা দ্বিগুণ, কারণ এখানে যুবলীগও যোগ দিয়েছে। বিদেশে বসে গডফাদার হিসেবে তারেক জিয়া চাঁদাবাজি চালাচ্ছেন, কোনো প্রতিকূলতা ছাড়াই, আর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তার প্রভাব অদৃশ্যভাবে বিরাজ করছে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেনেড হামলার মামলা ছিল মূল অভিযোগ। যদি এটি সত্য হয়, তাহলে আরও স্পষ্ট—তিনি সন্ত্রাসীর সঙ্গে সম্পৃক্ততা বজায় রেখে বিদেশে অবস্থান করার সময়ও সেই প্রভাব ধরে রেখেছেন এবং প্রবাস থেকে দেশের রাজনৈতিক লড়াই নিয়ন্ত্রণ করছেন। ড. ইউনূস লন্ডনে তার সঙ্গে দেখা করেছেন এবং রাজনৈতিক কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। দেশে ফিরে, ড. ইউনূস একটি চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক রোডম্যাপ উপস্থাপন করেছেন। যদিও নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছিল, নির্বাচনের সময় নির্ধারিত হওয়ার পরও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য ও দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। সম্ভবত এটাই মূল উদ্দেশ্য—দেশে আপাতত নির্বাচন হওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আভাস যখন ঘনীভূত হয়, তখন সবার দৃষ্টি চলে যায় সশস্ত্র বাহিনীর দিকে। তাদের মূল দায়িত্ব হলো দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সন্ত্রাস দমন করা। কিন্তু বাস্তবতার চাপ ও রাজনৈতিক খেলার মধ্যে তাদের ভূমিকা হয়ে ওঠে অপেক্ষমাণ, আর নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর তাদের প্রভাবও অনিশ্চিত। তারা কি কেবল সীমান্ত রক্ষা করবে, নাকি দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় সক্রিয় হস্তক্ষেপ করবে—এই প্রশ্ন এখনও উন্মুক্ত, প্রতিটি মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।

অনেকে মনে করেন, ড. ইউনূস ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্ট করছেন। তিনি পুরনো জেনারেলদের অবসরের অপেক্ষা করছেন, যাতে নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় সহজ হয়। পাশাপাশি, তারেক জিয়ার গ্রেনেড হামলার মামলার গোপন তথ্য এবং রাজনৈতিক দরকষাকষির দিকে নজর রাখছেন। এভাবে, শর্তের ভিত্তিতে, তারেক জিয়ার রাজনৈতিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সম্ভবত তাকে নিরাপদভাবে দেশে ফেরার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

এদিকে, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে যুবসমাজ। বেকারত্ব, শিক্ষার অভাব ও সামাজিক সুযোগের ঘাটতি অনেক যুবককে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং অপরাধের পথে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে যুবলীগ, যুবদলসহ যারা দিনমুজুরি করে বা রাস্তায় ঘুরে সহিংস রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত, তারা শুধু রাজনৈতিকই নয়, সামাজিকভাবেও বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। একদিকে স্কুলফেরত ছাত্র, অন্যদিকে রাস্তায় অস্ত্র হাতে—এই চরম দৃশ্য প্রতিদিন শহরকে আতঙ্কিত করছে, আর সাধারণ মানুষ যেন নিরস্ত্র অবস্থায় এই অরাজকতার সাক্ষী হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

নিষিদ্ধ বা হিংসাত্মক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, অপকর্মকে রাজনৈতিকভাবে উৎসাহিত করা, এবং যুবসমাজকে কেবল অপরাধী হিসেবে আখ্যায়িত করা—এই সমস্ত প্রথা অবশ্যই বর্জনীয়। এগুলো রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

অন্যদিকে করণীয়গুলো স্পষ্ট। প্রথমে শিক্ষার ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে যুবসমাজ জীবিকার সন্ধানে অপরাধে না জড়িয়ে পড়ে। নৈতিক ও নাগরিক শিক্ষা দিতে হবে, শৃঙ্খলা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বোধের সঙ্গে পরিচিত করতে হবে। রাজনৈতিক দলের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি—যুবরাজনীতিতে চাঁদাবাজি ও সহিংসতা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হতে হবে। সামাজিক পুনর্বাসন ও মেন্টরশিপের মাধ্যমে অপরাধে জড়িত যুবকদের পুনর্গঠন করা এবং তাদের ইতিবাচক দিকনির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি মানসিক ও সামাজিক সহায়তা প্রদান করতে হবে, যাতে যুবকরা মানসিক চাপ ও বিভ্রান্তি থেকে বের হয়ে সচেতন ও সৎ পথে চলতে পারে।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সশস্ত্র বাহিনী অপেক্ষমাণ, ড. ইউনূস সময়ক্ষেপণ করছেন, তারেক জিয়া আড়ালে গডফাদার হিসেবে সক্রিয়, যুবসমাজ বেকারত্ব ও অরাজকতায় আক্রান্ত, আর সাধারণ জনগণ অস্থিরতার বন্দি। বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখনও ‘অদৃশ্য চুক্তি’ ও ‘গোপন আলোচনার’ ওপর নির্ভরশীল। রাষ্ট্র ভেজালে ভরা থাকলে নির্বাচন থেকে সংসদ পর্যন্ত খাঁটি গণতন্ত্রের জন্ম নেওয়া সম্ভব নয়।

ভবিষ্যতে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার সম্ভব, তবে এর জন্য প্রয়োজন সশস্ত্র বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা, নতুন নেতৃত্বের উত্থান যেখানে শিক্ষিত, নীতিনিষ্ঠ ও স্বার্থবিহীন প্রজন্ম দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করবে, আন্তর্জাতিক নজরদারি ও চাপের মাধ্যমে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করে দলগুলোকে পুনর্গঠন ও স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা এবং যুবসমাজকে পুনঃনির্দেশনা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক সুযোগের মাধ্যমে অপরাধ ও সহিংসতা থেকে দূরে রাখা। এই শর্তগুলো পূরণ হলে তবেই বাংলাদেশে খাঁটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন ও স্থিতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে; নাহলে নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া কেবল প্রতারণা ও অরাজকতার খেলা হয়ে থাকবে।

রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন। Rahman.Mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

চাঁদাবাজির লাইসেন্স: বাংলাদেশের রাজনীতির কালো খোলস

Published

on

সাপ্তাহিক

চাঁদাবাজি বাদ দিয়ে কাজ করুন, দেখবেন সংস্কার এমনিতেই হয়ে গেছে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

কেউ রাজনীতি করবে না বাংলাদেশে, যেদিন দেখবেন দুর্নীতি আর চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু এই বন্ধ করার জন্য যে সংস্কার প্রয়োজন, সেটি হলো রাজনীতি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা—মানে লাইসেন্স বাতিল করা। লাইসেন্সটা কী জানেন? রাজনীতি। সব চাঁদাবাজিই কোনো না কোনো রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় জন্ম নেয়। তার মানে কি বুঝাতে পারলাম?

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

স্বপ্ন দেখছেন এবং আপনাকে স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে—একজন দেশের বড় নেতা হবেন প্রধানমন্ত্রী। অথচ তিনি জীবনে কোনো কাজ করেননি! মানুষ হিসেবে তো আমাদের জন্ম হয়েছে কাজ করার জন্য। এখন যদি কাজ বলতে কেবল চাঁদাবাজির সংগঠন চালানো বোঝায়, তবে বন্ধ করে দেওয়া হোক সকল সৃজনশীল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প প্রতিষ্ঠান এমনকি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসহ দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ এগুলোর কিছুই ডিজার্ভ করে না।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

আশ্চর্য লাগে, এআই প্রযুক্তির যুগেও বাংলাদেশে দিনদুপুরে চাঁদাবাজি হয়, আর প্রতিটি রাজনৈতিক লাইসেন্সধারী সংগঠন বিদ্যমান আইন অনুযায়ী চলতে থাকে—এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে! এখন সবাই উঠে পড়ে লেগেছে পুরো দেশটিই যেন চাঁদাবাজদের নেত্রাধীন হয়ে যায়। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব যাকে দেওয়া হয়েছে, তিনি আর কেউ নন—তিনি হচ্ছেন নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভাবতেই গা শিউরে ওঠে!

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—কোথায় থামবে এই দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মহোৎসব? মানুষ কি সত্যিই রাজনীতি ছাড়া চলতে পারবে না? উত্তর হচ্ছে, পারবেই। শর্ত হচ্ছে, রাজনৈতিক লাইসেন্স বাতিল করে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে জনগণের সেবার জন্য খাঁটি পেশাগত নীতির ভিত্তিতে পুনর্গঠন করতে হবে। তখনই বোঝা যাবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কীভাবে আলোকিত মানুষ গড়তে পারে, শিল্প প্রতিষ্ঠান কীভাবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কীভাবে সত্যিকারের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

আমরা ভুলে গেছি—রাষ্ট্র হলো মানুষের জন্য, মানুষের শ্রম ও মেধার বিকাশের জন্য। অথচ এখানে রাষ্ট্র যেন কেবল একদল লুটেরার সম্পত্তি। প্রতিটি রাস্তায়, প্রতিটি বাজারে, প্রতিটি প্রশাসনিক দপ্তরে দেখা যায় চাঁদাবাজির অশুভ ছায়া। যে ছায়ার কারণে এক কৃষক তার ফসলের দাম পায় না, এক শিক্ষক তার প্রাপ্য সম্মান পায় না, এক যুবক তার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পায় না।

তাহলে পথ কী? পথ একটাই—রাজনীতির নামে চাঁদাবাজির বাজার বন্ধ করতে হবে। রাষ্ট্রকে এমন এক নতুন সামাজিক চুক্তির পথে হাঁটতে হবে যেখানে নাগরিকের কাজই হবে রাজনীতি, কিন্তু সেটা হবে কর্ম ও সৃজনশীলতার রাজনীতি। যেখানে ভোট মানে দলবাজি নয়, বরং কাজের হিসাব। যেখানে নেতা মানে ক্ষমতার আসনে বসা ব্যক্তি নয়, বরং সেবার মানদণ্ডে দাঁড়ানো একজন প্রকৃত মানুষ।

যদি এই সংস্কার না হয়, তবে বাংলাদেশ কখনোই দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কালো খোলস ভেদ করতে পারবে না। আমরা কেবল এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে হস্তান্তর করব হতাশা, ব্যর্থতা আর অচল রাজনীতির অভিশাপ।

কিন্তু যদি হই আমরা দৃঢ়, যদি সত্যিই চাই পরিবর্তন—তাহলে নতুন প্রজন্মকেই নেতৃত্ব নিতে হবে। রাজনীতির লাইসেন্স বাতিল করে নাগরিক সমাজকে করতে হবে জবাবদিহির আসল শক্তি। তখনই চাঁদাবাজি থামবে, দুর্নীতি ভাঙবে, এবং বাংলাদেশ তার প্রকৃত সম্ভাবনায় উন্মোচিত হবে।

অন্যথায়, একদিন মানুষ বলবে— “বাংলাদেশ ছিল এক সম্ভাবনার দেশ, কিন্তু তার সম্ভাবনা শেষ করে দিয়েছে রাজনীতির নামে চাঁদাবাজির লাইসেন্স।”

রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন। Rahman.Mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

সামান্য কিছু বালু আমেরিকা থেকে আনতে দিলো না, অথচ…

Published

on

সাপ্তাহিক

সামারে সুইডেনে পাকিস্তানি আম পাওয়া যায়, খেতেও বেশ ভালো। ছোটবেলায় বাংলাদেশে গ্রামেই বেশি সময় কেটেছে। আম, জাম, লিচু, কাঠাল, খেজুরের রস—এসব ছিলো সেই বেহেস্তের খাবারের মতো, যাকে বলে অমৃত। তো বহু বছর দেশের বাইরে থাকতে থাকতে দই-এর সাধ ঘোলে মেটাতে হয় মাঝেমধ্যে। যার ফলে সামারে আমদুধ দিয়ে মুড়ি খাওয়ার সাধ জাগে। আম যেমনই হোক, তা মেলে, তবে সেই মুড়ি কোথায়? শেষে স্টকহোমের একটি বাংলাদেশি দোকান থেকে মুড়ি কিনলাম। ওমা! মুড়ি তেলে ভেজেছে, কেমন একটা বিশ্রী গন্ধ! মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেল। দোকানে গিয়ে বিষয়টি বলতেই ভদ্রলোক বললেন, “বাংলাদেশ থেকে এগুলোই আসে।” আমি শুধু বললাম—ঘটনা কী? শাকসবজি, মাছ-ফলে ফরমালিন, মুড়িতে তেলের গন্ধ, মসলায় ইটের গুঁড়া—এসব সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে কীভাবে এলো? ভদ্রলোক হেসে বললেন, “যেভাবে আমরা এসেছি ভাই।” আমার আর বলার কিছু ছিল না।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

পরে বেশ কয়েক বছর কেটে গেছে। সম্ভবত ১৯৯৬ সালের দিকে ছুটিতে গিয়েছিলাম ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলসে। সাগরের বালু এত পরিষ্কার এবং সাদা দেখে মনে পড়ে গেলো ছোটবেলার কথা। মাকে দেখেছি পরিষ্কার বালু গরম করে চাল দিয়ে মুড়ি ভাজতে। ভাবলাম, কিছু বালু সুইডেনে নিয়ে যাবো। যে ভাবনা, সেই কাজ। ব্যাগ ভরে কয়েক কেজি বালু নিয়ে লস এঞ্জেলস বিমানবন্দরে হাজির। চলছে চেকিং—নানা ধরনের প্রশ্ন: ব্যাগে কী আছে, কে প্যাক করেছে, অস্ত্রপাতি আছে কি না ইত্যাদি। ব্যাগের ওজন একটু বেশি হয়ে গেছে। কিছু ওজন কমাতে হবে অথবা অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

আমি ডেস্কে জিঙ্গেস করলাম, “কত?”
উত্তরে বলল, “২০০ ডলার।”
ভাবলাম, তাহলে কিছু বালু রেখে যাই। একটু সাইডে গিয়ে বালু ঢালছি আরেকটি পলিথিনের ব্যাগে। হঠাৎ পুলিশ এসে হাজির। তারা জিজ্ঞেস করল, “এটা কী? কোথা থেকে এলো?” আমি সব বললাম। পুলিশ তো হতবাক! বলল, “জীবনে অনেক কিছু চোরাচালান হতে দেখেছি, কিন্তু বালু চোরাচালান এই প্রথম। তবে কী নিয়মকানুন আছে, সেটা জানা নেই। তোমাকে অপেক্ষা করতে হবে, তদন্ত করতে হবে।”

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

আমি বললাম, “আরে ভাই, এটা খাঁটি বালি, কোনো ভেজাল নেই। আমি নিজে হাতে সাগর থেকে তুলেছি।”
পুলিশ বলল, “তবুও পরীক্ষা করতে হবে। অন্য কিছু এর সঙ্গে জড়িত আছে কিনা তা জানতে হবে। রাষ্ট্রের প্রাকৃতিক সম্পদ পাচার—এটা তদন্তের বিষয়।”

আমি তো হঠাৎ অবাক! ঘাম ছুটে গেল শরীরে। এ যেন মহাবিপদ! এদিকে প্লেন ছেড়ে দেবে, ফ্লাইট মিস হবে, সাথে বালু চোরের খেতাব, জেল-জরিমানা—আর কত কী! আমি আছি আমার রাজ্যে—কে কী বলবে, কী হবে না হবে এসব নিয়ে। এরমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এল। হঠাৎ কোনো যান্ত্রিক সমস্যার কারণে প্লেন এক ঘণ্টা দেরিতে ছাড়বে—এটাও কেউ এসে জানিয়ে গেল। একটু স্বস্তি পেলাম, কিন্তু আমার কী হবে সেটা নিয়ে ভাবছি।

কর্তৃপক্ষের সাথে বেশ কিছুক্ষণ কথা হলো। আমার পরিচয়সহ সব ঘটনা জানার পর বিষয়টি বুঝতে পেরে আমাকে ছেড়ে দিলো, তবে বালু রেখে দিল। শুধু বললো, রাষ্ট্রের সম্পদ এভাবে নেওয়া উচিত নয়। যদিও বালুর বিষয়ে প্লেনে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই, তবুও নিতে পারবে না। আমি মনে মনে ভাবলাম—তুই তোর বালু নে, আমার আর মুড়ি ভাজার শখ নেই। বালু রেখে চলে এলাম।

ঘটনাটি পরে সুইডেনে এসে আলোচনা করেছি, কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আর ভাবিনি। যদিও সেদিন লস এঞ্জেলস বিমানবন্দরে আমার বারোটা বাজতে গিয়েছিল, ভাগ্যিস মানসিক চাপ, শ্বাসকষ্ট আর ঘাম ছাড়া অন্য কোনো বিপদ হয়নি। তবে আমদুধ দিয়ে মুড়ি খাওয়ার শখ সেদিন লস এঞ্জেলসের বিমানবন্দরে রেখে এসেছি।

ভেজাল খাবার এড়াতে এবং দেশি খাবারের টান মেটাতে আমি এখানে নিজের মতো কৃষিপণ্য উৎপাদন করি। তবে আম আর ধান এখনও উৎপাদন সম্ভব হয়নি। সময়-সুযোগ হলে চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ। আজ হঠাৎ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ—পাথর উত্তোলন আর সেগুলো রাতারাতি শেষ হয়ে যাওয়ার খবর পড়ে সেই দিনের ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল। মনে হলো, বেচারা দেশবাসীর হয়তো ঘর-দুয়ার সাজানোর শখ হয়েছিল পাথর দিয়ে—যেমনটি আমার হয়েছিল বালু দিয়ে মুড়ি ভাজার। প্রকৃতির সম্পদ লুট করে যেমন দেশ ফাঁকা হয়, তেমনি ভেজাল খাবারে মানুষের মনও শূন্য হয়ে যায়।

রহমান মৃধা
গবেষক ও লেখক
সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
Rahman.Mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

চব্বিশের শহীদদের ত্যাগ, গ্রামীণ সমাজের রূপান্তর এবং ভারতের প্রভাবমুক্ত এক স্বতন্ত্র বাংলাদেশের পথনকশা

Published

on

সাপ্তাহিক

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে ২০২৪ সাল কেবল একটি রাজনৈতিক বর্ষপঞ্জি নয়—এটি এক রক্তাক্ত অথচ গৌরবময় অধ্যায়, যা আমাদের জাতীয় চেতনায় স্থায়ীভাবে খোদাই হয়ে গেছে। এ বছর আমরা দেখেছি—কীভাবে এক তরুণ বুক চিতিয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছে, কীভাবে গ্রামীণ সমাজের নৈতিক ভিত্তি নড়ে গেছে, এবং কীভাবে জাতীয় রাজনীতি এখনও বিদেশি প্রভাবের ছায়ায় বন্দি। এই তিনটি প্রবাহ আলাদা হলেও, একসঙ্গে তারা আমাদের সামনে এক অনিবার্য প্রশ্ন তোলে—আমরা আসলে কতটা স্বাধীন?

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

১৬ জুলাই ২০২৪, রংপুর শহরে ছাত্রনেতা আবু সায়েদ পুলিশের সামনে দাঁড়ালেন—জেনে যে এর পরিণতি হতে পারে মৃত্যু। তবুও তিনি পিছু হটলেন না। মুহূর্তেই পুলিশের গুলিতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। সেই মুহূর্তে আন্দোলনের চরিত্র বদলে যায়—এটি আর কেবল কোটা সংস্কারের দাবি নয়; হয়ে ওঠে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও মানুষের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের লড়াই। গুলির শব্দ, ধোঁয়া, রক্তের গন্ধ উপেক্ষা করে মানুষ দাঁড়িয়ে ছিল—“মেরেছে একজন, দাঁড়িয়েছে দশজন।”

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

কিন্তু সেই রক্তের মূল্য এখনও পরিশোধ হয়নি। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিহত হয়েছে ৬০০ থেকে ১,৪০০-এর বেশি মানুষ।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

• জাত্রাবাড়ি গণহত্যা: এক দিনে ৫২ জন নিহত—পরিকল্পিত গুলিবর্ষণ।
• চাঁখারপুল হত্যাযজ্ঞ: খোলা রাস্তায় বেছে বেছে হত্যা।
• আশুলিয়া অগ্নিদগ্ধ হত্যাকাণ্ড: জীবন্ত মানুষকে আগুনে পোড়ানো।

এসব হত্যাকাণ্ড শুধু দমন নয়—এগুলো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের নগ্ন রূপ। আজ সেই শহীদ পরিবারগুলো কোথায়? অনেকেই চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে; বহু পরিবার এখনও ন্যায়বিচার পায়নি। আমরা কি ভুলে গেছি—তারা আমাদের জন্য দাঁড়িয়েছিল?

তাদের গল্প শুধু শহরের রাস্তায় গুলির শব্দে সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রতিধ্বনি পৌঁছেছে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত। এই গ্রামগুলোও বহন করছে সময়ের ক্ষতচিহ্ন—যেখানে ত্যাগ, আশা আর ভয়ের ইতিহাস নদীর মতো বয়ে চলেছে।

গ্রাম যেন এক উদার নদী—যার স্রোতে জন্ম নিয়েছে নানা চরিত্র ও স্বভাব। কোনো স্রোত ছিল স্বচ্ছ ও শান্ত, যা সমাজকে পুষ্ট করেছে; আবার কোনো স্রোত ছিল ঘোলা ও উত্তাল, যা শান্তিকে ভেঙে দিয়েছে। এক সময় এই গ্রাম থেকে উঠে এসেছিল আলোকবর্তিকা—যারা ধর্ম, সমাজসেবা ও শিক্ষার আলো ছড়িয়েছিল, দিয়েছে সুশাসন ও ন্যায়বিচারের স্বপ্ন। কিন্তু সময়ের স্রোত বদলেছে। সেবামুখী নেতৃত্বের জায়গা দখল করেছে ভয়, দমননীতি ও শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতি। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর এই গ্রাম তার সবচেয়ে বিপজ্জনক সৃষ্টিকে দেশের সামনে হাজির করেছে—যার উত্থান যেন শুকনো মাঠে দাবানল। আগুন স্থানীয়ভাবে শুরু হলেও, ধোঁয়া ও তাপ গ্রাস করতে পারে পুরো দেশকে।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও বাংলাদেশের রাজনীতি বহিরাগত প্রভাবের ছায়া থেকে মুক্ত হয়নি। ভারতের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা, রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তাদের আশীর্বাদ কামনা, এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি উদাসীনতা—আজকের প্রজন্মের জন্য এক গুরুতর হুমকি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অনস্বীকার্য হলেও, স্বাধীনতার পর প্রশ্ন থেকেই যায়—আমরা কি নিজেদের স্বার্থে স্বাধীন? বন্ধুত্ব মানে অনুগত হওয়া নয়; স্বাধীনতা মানে নিজের পথ নির্ধারণের ক্ষমতা। ২০২৪ সালের নির্বাচন দেখিয়েছে—রাজনীতিতে বিদেশি প্রভাব কতটা গভীরে ঢুকে গেছে। বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, সরকার ভারতের সমর্থন পেতে নির্বাচনকে কলুষিত করেছে। জনগণের স্লোগান ছিল স্পষ্ট—“দেশটা কারো বাপের নয়।” কিন্তু স্লোগান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন স্পষ্ট রোডম্যাপ—জনগণের স্বার্থকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আনা, বিদেশি প্রভাবমুক্ত স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা, সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে কূটনীতি চালানো, এবং বহুমুখী অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি।

২০২৪ সালের সাহসী সন্তানেরা প্রমাণ করেছেন—স্বাধীনতা একবার অর্জন করলেই চিরস্থায়ী হয় না; প্রতিদিন তা রক্ষা করতে হয়। গ্রামীণ সমাজের পরিবর্তন শিখিয়েছে—নৈতিক নেতৃত্ব হারালে স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতি সমানভাবে দূষিত হয়। এই দূষণ থেকে মুক্তি পেতে হলে গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করতে হবে, আর তার ভিত্তি শুরু হয় একটি সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হলে মাথা উঁচু রাখতে হবে—হাত পেতে নয়। এই মর্যাদা রক্ষার প্রথম ধাপ হলো একটি প্রকৃত স্বাধীন ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠন। বর্তমানে বাংলাদেশের বাস্তবতা হলো—ইসি প্রায়ই সরকারের ছায়াতলে পরিচালিত হয়, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্ষমতাসীন দলের প্রতি পক্ষপাত দেখায়, আর অভিযোগ তদন্তে কার্যকর ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে নির্বাচন হারায় বিশ্বাসযোগ্যতা, আর গণতন্ত্র তার মূল ভিত্তি হারায়।

সুইডেনসহ উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন কমিশন একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যা সরকার বা রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত। তাদের মূল দায়িত্বসমূহ হলো—

• ভোটার তালিকা নিয়মিত ও নিরপেক্ষভাবে হালনাগাদ করা
• ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা
• সব প্রার্থী ও দলের জন্য সমান সুযোগ দেওয়া
• নির্বাচন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা
• নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তি করা
• নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসন ও পুলিশ কমিশনের সরাসরি অধীনে রাখা
• ফলাফল ঘোষণার পুরো প্রক্রিয়া জনসাধারণের জন্য দৃশ্যমান রাখা

বাংলাদেশের জন্য করণীয় প্রস্তাব

বাংলাদেশে একটি প্রকৃত নিরপেক্ষ ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য নিচের নীতিমালা অবিলম্বে গ্রহণ করা উচিত—
১. সংবিধান সংশোধন করে ইসির পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
২. প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগে বহুদলীয় পরামর্শক কমিটি গঠন
৩. ইসির অর্থায়ন সংসদীয় অনুমোদনের মাধ্যমে, যাতে সরকার সরাসরি প্রভাব ফেলতে না পারে
৪. প্রশাসন ও পুলিশ নির্বাচনকালীন সময়ে ইসির অধীনে রাখা
৫. সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ও লাইভ স্ট্রিমিং ব্যবস্থা চালু করা
৬. ভোটার তালিকা ও ফলাফল অনলাইনে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা
৭. ভোট জালিয়াতি বা অনিয়মের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি—দল ও প্রার্থীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য

শেষ কথা
যদি এই কাঠামো গ্রহণ করা হয়, তাহলে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন শুধু একটি প্রশাসনিক সংস্থা নয়, বরং গণতন্ত্রের রক্ষক হয়ে উঠবে। সরকার তখন বলতে পারবে না—“আমরা জানতাম না”; বরং জনগণ নিশ্চিত হবে যে তাদের ভোট শুধু গণনা হয় না, গণ্যও হয়। কারণ, গণতন্ত্র তখনই সত্যিকারের বেঁচে থাকে—যখন মানুষের কণ্ঠস্বর ব্যালটের কাগজে প্রতিফলিত হয়।

রহমান মৃধা
গবেষক, লেখক ও সাবেক পরিচালক, ফাইজার সুইডেন
Rahman.Mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

পুঁজিবাজারের সর্বশেষ

সাপ্তাহিক সাপ্তাহিক
পুঁজিবাজার8 hours ago

সাপ্তাহিক দর পতনের শীর্ষে এফএএস ফাইন্যান্স

বিদায়ী সপ্তাহে (২৪ আগস্ট-২৮ আগস্ট) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দর পতনের শীর্ষ তালিকায় সবচেয়ে বেশি দর কমেছে এফএএস...

সাপ্তাহিক সাপ্তাহিক
পুঁজিবাজার9 hours ago

সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির শীর্ষে ইনফরমেশন সার্ভিসেস

বিদায়ী সপ্তাহে (২৪ আগস্ট-২৮ আগস্ট) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে ইনফরমেশন...

সাপ্তাহিক সাপ্তাহিক
পুঁজিবাজার9 hours ago

সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষে সিটি ব্যাংক

বিদায়ী সপ্তাহে (২৪ আগস্ট-২৮ আগস্ট) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষ তালিকার শীর্ষে উঠেছে সিটি ব্যাংক। সপ্তাহজুড়ে...

সাপ্তাহিক সাপ্তাহিক
পুঁজিবাজার1 day ago

ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়লো ১০ হাজার কোটি টাকা

বিদায়ী সপ্তাহে (২৪ আগস্ট থেকে ২৮ আগস্ট) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন হয়েছে।...

সাপ্তাহিক সাপ্তাহিক
পুঁজিবাজার2 days ago

ডিএসইর ফিক্স সার্টিফিকেশন পেলো ১৩ ব্রোকারেজ হাউজ

এপিআই সংযোগের মাধ্যমে নিজস্ব ওএমএস চালু করণের লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি আরও ১৩টি ব্রোকারেজ হাউজকে ফিক্স সার্টিফিকেশন প্রদান করেছে।...

সাপ্তাহিক সাপ্তাহিক
পুঁজিবাজার2 days ago

ব্লকে ২০ কোটি টাকার লেনদেন

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লকে মোট ৩৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিগুলোর মোট ৪১ লাখ ৮০ হাজার...

সাপ্তাহিক সাপ্তাহিক
পুঁজিবাজার2 days ago

এফএএস ফাইন্যান্সের সর্বোচ্চ দরপতন

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শেয়ার দর পতনের শীর্ষে উঠে এফএএস ফাইন্যান্স ও ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। ডিএসই সূত্রে এ...

Advertisement
AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

সোশ্যাল মিডিয়া

তারিখ অনুযায়ী সংবাদ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  
সাপ্তাহিক
রাজনীতি1 hour ago

পিআর ছাড়া নির্বাচন হলে বিপর্যয় সৃষ্টি হবে: ড. হেলাল উদ্দিন

সাপ্তাহিক
জাতীয়3 hours ago

১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই নির্বাচন হবে: প্রেস সচিব

সাপ্তাহিক
কর্পোরেট সংবাদ3 hours ago

ইসলামী ব্যাংক অফিসার কল্যাণ সমিতির দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা ও অভিষেক

সাপ্তাহিক
মত দ্বিমত4 hours ago

নির্বাচনের প্রাক্কালে নুরুল হকের ওপর হামলা: রাজনৈতিক অস্থিরতার নতুন সংকেত

সাপ্তাহিক
কর্পোরেট সংবাদ4 hours ago

কমনওয়েলথ বিজনেস এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডে সেরা ব্যাংকের সম্মাননা জিতল ব্র্যাক ব্যাংক

সাপ্তাহিক
রাজনীতি4 hours ago

আহত নুরকে দেখতে হাসপাতালে বিএনপি নেতা ড. মঈন খান

সাপ্তাহিক
জাতীয়5 hours ago

জরুরি বৈঠকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

সাপ্তাহিক
প্রবাস5 hours ago

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী এক্সচেঞ্জের প্রতারণা, রোমে প্রবাসীদের বাংলাদেশ দূতাবাস ঘেরাও

সাপ্তাহিক
রাজনীতি5 hours ago

আল্লাহ ছাড়া কেউ এই নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না: সালাহউদ্দিন

সাপ্তাহিক
জাতীয়6 hours ago

নুরের চিকিৎসার খোঁজ নিলেন প্রধান উপদেষ্টা, সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস

সাপ্তাহিক
রাজনীতি1 hour ago

পিআর ছাড়া নির্বাচন হলে বিপর্যয় সৃষ্টি হবে: ড. হেলাল উদ্দিন

সাপ্তাহিক
জাতীয়3 hours ago

১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই নির্বাচন হবে: প্রেস সচিব

সাপ্তাহিক
কর্পোরেট সংবাদ3 hours ago

ইসলামী ব্যাংক অফিসার কল্যাণ সমিতির দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা ও অভিষেক

সাপ্তাহিক
মত দ্বিমত4 hours ago

নির্বাচনের প্রাক্কালে নুরুল হকের ওপর হামলা: রাজনৈতিক অস্থিরতার নতুন সংকেত

সাপ্তাহিক
কর্পোরেট সংবাদ4 hours ago

কমনওয়েলথ বিজনেস এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডে সেরা ব্যাংকের সম্মাননা জিতল ব্র্যাক ব্যাংক

সাপ্তাহিক
রাজনীতি4 hours ago

আহত নুরকে দেখতে হাসপাতালে বিএনপি নেতা ড. মঈন খান

সাপ্তাহিক
জাতীয়5 hours ago

জরুরি বৈঠকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

সাপ্তাহিক
প্রবাস5 hours ago

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী এক্সচেঞ্জের প্রতারণা, রোমে প্রবাসীদের বাংলাদেশ দূতাবাস ঘেরাও

সাপ্তাহিক
রাজনীতি5 hours ago

আল্লাহ ছাড়া কেউ এই নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না: সালাহউদ্দিন

সাপ্তাহিক
জাতীয়6 hours ago

নুরের চিকিৎসার খোঁজ নিলেন প্রধান উপদেষ্টা, সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস

সাপ্তাহিক
রাজনীতি1 hour ago

পিআর ছাড়া নির্বাচন হলে বিপর্যয় সৃষ্টি হবে: ড. হেলাল উদ্দিন

সাপ্তাহিক
জাতীয়3 hours ago

১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই নির্বাচন হবে: প্রেস সচিব

সাপ্তাহিক
কর্পোরেট সংবাদ3 hours ago

ইসলামী ব্যাংক অফিসার কল্যাণ সমিতির দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা ও অভিষেক

সাপ্তাহিক
মত দ্বিমত4 hours ago

নির্বাচনের প্রাক্কালে নুরুল হকের ওপর হামলা: রাজনৈতিক অস্থিরতার নতুন সংকেত

সাপ্তাহিক
কর্পোরেট সংবাদ4 hours ago

কমনওয়েলথ বিজনেস এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডে সেরা ব্যাংকের সম্মাননা জিতল ব্র্যাক ব্যাংক

সাপ্তাহিক
রাজনীতি4 hours ago

আহত নুরকে দেখতে হাসপাতালে বিএনপি নেতা ড. মঈন খান

সাপ্তাহিক
জাতীয়5 hours ago

জরুরি বৈঠকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

সাপ্তাহিক
প্রবাস5 hours ago

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী এক্সচেঞ্জের প্রতারণা, রোমে প্রবাসীদের বাংলাদেশ দূতাবাস ঘেরাও

সাপ্তাহিক
রাজনীতি5 hours ago

আল্লাহ ছাড়া কেউ এই নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না: সালাহউদ্দিন

সাপ্তাহিক
জাতীয়6 hours ago

নুরের চিকিৎসার খোঁজ নিলেন প্রধান উপদেষ্টা, সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস