ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ইবি সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ছাত্র সংগঠনগুলোর নিন্দা ও প্রতিবাদ

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃসেশন ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের একাংশ মারামারিতে জড়ান। এসময় মারামারির ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের দফায় দফায় মারধর করেন তারা।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, খেলাফত ছাত্র মজলিস ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলন।
শনিবার (১২ জুলাই) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ইবি শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাফিজ আহমেদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ইবি শাখার দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন স্বাক্ষরিত দুইটি পৃথক বিবৃতিতে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়।
এদিকে রোববার (১৩ জুলাই) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ইবি শাখার দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ আবসার নবী হামযা, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ইবি শাখার প্রচার সম্পাদক হাবিবুর রহমান জুনাঈদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সহ সমন্বয়ক পঙ্কজ রায়, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র আন্দোলন তথ্য, গবেষণা ও প্রচার সম্পাদক হাবিব আল মিসবাহ স্বাক্ষরিত পৃথক বিবৃতিতে নিন্দা ও বিচারের দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে ইবি ছাত্রদল নেতৃবৃন্দরা বলেন, আমরা মনে করি, আজকের যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তা অনভিপ্রেত ও অনিচ্ছাকৃত ভুল মাত্র। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী ও সংবাদ কর্মীদের সহনশীল ও সহানুভূতিশীল আচরণের আহ্বান জানাই। আমরা মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মীরা একে অপরের পরিপূরক। ভুলত্রুটি ভুলে গিয়ে আমরা সকলেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠনমূলক ভূমিকা প্রত্যাশা করি। প্রজ্ঞাপনে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শান্তির দাবি জানানো হয়।
ইবি ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দরা নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিতে বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এই নির্মম হামলা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটে, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা সকলের দায়িত্ব।
অপর এক বিবৃতিতে ইবি ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের আন্তঃসেশন খেলাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে এবং একজন সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নেয়া হয়েছে; যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। শিক্ষাঙ্গনে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। গণমাধ্যম হলো রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। দেশে সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য স্বাধীন সাংবাদিকতা অপরিহার্য। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর আঘাত। আমরা অবিলম্বে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। আমরা আহত সকলের আশু সুস্থতা কামনা করছি। সেই সাথে ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সকল ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।
বিবৃতিতে ইবি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতৃবৃন্দ বলেন, খেলায় সংঘটিত বিশৃঙ্খলার খবর সংগ্রহের জন্য উপস্থিত সংবাদকর্মীরা ভিডিও ফুটেজ ধারণ করতে গেলে, অর্থনীতি বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী তাঁদের উপর হামলা চালায় এবং মোবাইল ফোন জোরপূর্বক কেড়ে নেয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায় এবং সাংবাদিকদের প্রতি সহিংস আচরণের প্রতিবাদ জানায়। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের কাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা কেউ কারও প্রতিপক্ষ নয়, বরং তারা একে অপরের পরিপূরক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও সৌহার্দ্য রক্ষায় সবার সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন। আমরা এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সকলের পক্ষ থেকে সচেতনতা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি।
বিবৃতিতে ইবি খেলাফত ছাত্র মজলিস নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ১২ জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃসেশন ফুটবল ম্যাচ চলাকালে সংবাদ সংগ্রহের সময় অর্থনীতি বিভাগের কিছু শিক্ষার্থীর হাতে সাংবাদিকদের লাঞ্ছনা ও পেশাগত কাজে বাধা প্রদানের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাই।সাংবাদিকদের ওপর হামলা শুধু দুঃখজনক নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা এ ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের অন্যতম স্তম্ভ। এর স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। ছাত্র মজলিস আহত সাংবাদিকদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতার প্রত্যাশা করে।
বিবৃতিতে ইবি ইসলামী ছাত্র আন্দোলন নেতৃবৃন্দ বলেন, গতকাল বিকাল ৫:০০টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের আন্তঃসেশন খেলাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে কতিপয় শিক্ষার্থীর সংঘর্ষ হয়। এতে বেশ কয়েকজন হতাহতের ঘটনা ঘটে। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাঁধা দেয়ার ঘটনায় আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানাই এবং এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষার্থীসহ সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হয় এমন সকল কাজ থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। আমরা আহত সকলের আশু সুস্থতা কামনা করছি এবং সকল ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সবার সচেতনতা ও আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।
অর্থসংবাদ/সাকিব/এসএম

ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে মোবাইল জার্নালিজম: উমামা

ডিজিটাল মোবাইল জার্নালিজম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পুরো নির্বাচনের পরিবেশকে নষ্ট করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ডাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী (সহসভাপতি) উমামা ফাতেমা।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।
উমামা ফাতেমা লিখেছেন, ক্যাম্পাসের ডাকসু নির্বাচনে ডিজিটাল মোবাইল জার্নালিজম পুরো নির্বাচনের পরিবেশকে নষ্ট করছে। প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটারদের কথা বলার সহজ স্বাভাবিক প্রসেসকে কঠিন করে দিচ্ছে। প্রার্থীদের পেছনে প্রতিটা পদক্ষেপ ভিডিও করতে থাকা কতটা সমীচীন দেখায় সেটা আমার প্রশ্ন!
তিনি আরও লিখেছেন, বারবার নিষেধ করার পরও সাংবাদিকদের এ ধরনের নীতি বহির্ভূত কার্যক্রম থামানো যাচ্ছে না। ব্যক্তির কনসেন্টের বাইরে গিয়ে ভিডিও করা, ক্রপ করে ভিডিও ভিন্ন এঙ্গেলে প্রদর্শন করার কাজ থামানো যায় না।
সবশেষে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের এই ভিপি প্রার্থী লিখেছেন, সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ থাকবে আপনারা প্রার্থী ও ভোটারের প্রাইভেসি মেনে চলুন। ভোটার ও প্রার্থীর সম্মতির বাইরে অযাচিতভাবে ভিডিও করে ভোটের পরিবেশটা নষ্ট করবেন না।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে নতুন বিধিমালা জারি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার। এতে আগের কোটা পদ্ধতি বাতিল করে ৭ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। এছাড়া নারীদের জন্য কোটাও বাতিল করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সংগীত এবং শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য ২০ শতাংশ এবং অন্যান্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য ৮০ শতাংশ পদ রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিধিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা।
এর আগের বিধিমালা অনুযায়ী- সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নারীদের জন্য ৬০ শতাংশ কোটা ছিল। বাকি ৪০ শতাংশের মধ্যে ২০ শতাংশ পোষ্য এবং ২০ শতাংশ পুরুষ কোটা ছিল।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ বিধিমালা ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ নামে অভিহিত হবে। বিধিমালার অধীনে সরাসরি ও পদোন্নতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ করা যাবে।
বিধিমালার বিশেষ বিধান হিসেবে বলা হয়েছে, অন্য কোনো বিধি বা সরকারি সিদ্ধান্তে যা কিছুই উল্লেখ থাকুক না কেন, শিক্ষক নিয়োগ উপজেলা ও ক্ষেত্রবিশেষে থানাভিত্তিক হবে।
নতুন এ বিধিমালার অধীন সরাসরি নিয়োগযোগ্য ৯৩ শতাংশ পদ মেধাভিত্তিক এবং ৭ শতাংশ কোটা রাখা হবে। ৭ শতাংশ কোটার মধ্যে ৫ শতাংশ পদ বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
এছাড়া ১ শতাংশ পদ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রার্থী এবং ১ শতাংশ পদে শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হবে। তবে কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে।
নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, অবিলম্বে এ বিধিমালা কার্যকর হবে। আর ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ কার্যকর হওয়ার পর আগের বিধিমালা, অর্থাৎ ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯’ রহিত বলে বিবেচিত হবে।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা

তিন দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনরত প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা আজ বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তবে জনদুর্ভোগ এড়াতে শাহবাগ অবরোধ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
বুধবার (২৭ আগস্ট) শিক্ষার্থীদের পক্ষে প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সাকিবুল হক লিপু এই কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, আগামীকাল দেশের সকল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা সব বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
জনদুর্ভোগ হয় এমন কর্মসূচি এড়িয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমাদের ৩ দফা দাবির কোনোটাই পূরণ হয়নি। পলিসি মেকার যারা বসে আছেন তারা কেউ আমাদের আন্দোলনের বিষয় সম্পর্কে কিছুই জানে না। এ সময় চার উপদেষ্টা ও ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটিতে শিক্ষার্থীদের মনোনীত সদস্য যোগ দেবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে, তিন দফা দাবিতে পূর্বঘোষিত ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেওয়া প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার দিকে রওয়ানা হলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়। পরে সন্ধ্যায় প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রেলপথ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নামের আগে প্রকৌশলী লিখতে না দেওয়া, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের কাউকে পদোন্নতি দিয়ে নবম গ্রেডে উন্নীত না করা এবং দশম গ্রেডের চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্নাতক প্রকৌশলীদের সুযোগ দেওয়া।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
বুয়েট শিক্ষার্থীদের ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ আজ

তিন দফা দাবিতে রাজধানীতে আজ ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় শাহবাগ মোড়ে এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাত ৮টায় শাহবাগ থেকে এ কর্মসূচি দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সাকিবুল হক লিপু।
তিনি বলেন, আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে শাহবাগে জমায়েত শুরু হবে। এদিন সারা দেশের সব প্রকৌশল এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো—
১. ইঞ্জিনিয়ারিং ৯ম গ্রেড বা সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে প্রবেশের জন্য সবাইকে নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং ন্যূনতম বিএসসি ডিগ্রিধারী হতে হবে। কোটার মাধ্যমে কোনো পদোন্নতি নয়, এমনকি অন্য নামে সমমান পদ তৈরি করেও পদোন্নতি দেওয়া যাবে না।
২. টেকনিক্যাল ১০ম গ্রেড বা উপসহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদের নিয়োগ পরীক্ষা ডিপ্লোমা ও বিএসসি ডিগ্রিধারী উভয়ের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
৩. ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি ব্যতীত প্রকৌশলী পদবি ব্যবহারকারীদের বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। নন-অ্যাক্রিডেট বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সগুলোকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আইইবি-বিএইটিই অ্যাক্রিডেশনের আওতায় আনতে হবে।
এর আগে, মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) পোনে ৪টার দিকে বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান রোকনকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে এবং তিন দাবিতে শাহবাগ অবরোধ করেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। এর ফলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ইবিতে শহীদ আব্দুল মালেক’র স্মরণে আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ইবি শাখা। শহীদ আব্দুল মালেকের স্মরণে ১৫ আগস্ট ইসলামী শিক্ষা দিবস উপলক্ষে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন তারা।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বরে এই উদ্বোধনী সেশনে অংশগ্রহণ করেন শহীদ জিয়াউর রহমান হল ও শাহ্ আজিজুর রহমান হলের বিতার্কিকেরা।
বিতর্কে ‘একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা ব্যতীত শিক্ষা অধিকার নিশ্চিত সম্ভব নয়’ বিষয়ে পক্ষ ও বিপক্ষ দলের বিতার্কিকেরা তাদের যুক্তিসমূহ তুলে ধরেন।
বিচারক হিসেবে ছিলেন সাবেক টিভি বিতার্কিক মো. খালিদ হাসান, আইইউডিএস এর সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য সাইফুর রহমান ও স্পিকার হিসেবে ছিলেন আইইউডিএস সদস্য-সচিব দিদারুল ইসলাম।
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহা. মাহমুদুল হাসান বলেন, এটা মূলত ইসলামী শিক্ষাদিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে ভিত্তিপ্রস্তর কেমন হওয়া উচিত এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট শহীদ আব্দুল মালেক একটি বক্তব্য রেখেছিল। সেখানে তিনি যুক্তির মাধ্যমে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন যে শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি ইসলাম হওয়া দরকার। যার মাধ্যমে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত একটি ভালো জাতি তৈরি করা সম্ভব হবে। তার যুক্তিপূর্ণ বক্তব্যে সবাই উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। আব্দুল মালেকের বক্তব্যের কাছে যুক্তিতে হেরে যায় বামদল সহ সবাই। পরবর্তীতে ১৫ আগস্ট তাকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি ইটের উপর মাথা রেখে অন্য ইট দিয়ে আঘাত করে মাথা থেতলে হত্যা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, তাকে স্মরণের উদ্দেশ্যে মূলত আজকের এই আয়োজন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন করা অপরিসীম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে জায়গা থেকে শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা কী হবে, ভিত্তি কী হওয়া দরকার সেটা সামনে নিয়ে আসার জন্য এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি।
অর্থসংবাদ/কাফি/সাকিব