অর্থনীতি
অপ্রচলিত বাজারে বেড়েছে রপ্তানি, নতুন বাজারে নজর দেওয়ার পরামর্শ

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি খাতে ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে এ খাতে দেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশে অতিরিক্ত ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে যখন বিশাল চ্যালেঞ্জ তৈরি করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তখন বাংলাদেশকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে অপ্রচলিত বাজার। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বলছে, অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। অবশ্য সার্বিকভাবে অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বাড়লেও রাশিয়া, ইউএই, মালয়েশিয়ার মতো বাজারে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। আর তাই, নতুন বাজারে আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা।
ইপিবির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এখনও বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে এই বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ১৯ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের মোট আরএমজি রপ্তানির ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ।
অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানি আয় এসেছে ৭ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির ১৯ দশমিক ১৮ শতাংশ। কানাডা ও যুক্তরাজ্যে রপ্তানি হয়েছে যথাক্রমে ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার এবং ৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।
আলাদাভাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইইউ বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ১০ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং কানাডায় ১২ দশমিক ০৭ শতাংশ। এছাড়া যুক্তরাজ্যে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার জার্মানি, যেখান থেকে রপ্তানি আয় এসেছে ৪ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। এরপর তালিকায় যথাক্রমে রয়েছে স্পেন (৩ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার), ফ্রান্স (২ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার), নেদারল্যান্ডস (২ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার), পোল্যান্ড (১ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার), ইতালি (১ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার) এবং ডেনমার্ক (১ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার)।
কিছু ইউরোপীয় দেশে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যেমন নেদারল্যান্ডসে ২১ দশমিক ২১ শতাংশ, সুইডেনে ১৬ দশমিক ৪১ শতাংশ, পোল্যান্ডে ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং জার্মানিতে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
এদিকে নন-ট্র্যাডিশনাল বা অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের সার্বিক আরএমজি রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৬১ শতাংশ; মোট রপ্তানি আয় এসেছে ৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এই বাজারে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ভারত। এর মধ্যে তুরস্কে রপ্তানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশ, ভারতে রপ্তানি বেড়েছে ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং জাপানে রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।
তবে, উদ্বেগ তৈরি হয়েছে রাশিয়া, কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মালয়েশিয়ায় বাজার ঘিরে। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে এ বাজারগুলোতে। এর মধ্যে রাশিয়ায় রপ্তানি আয় ১০ দশমিক ২৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২৩২ মিলিয়ন ডলারে এবং মালয়েশিয়ায় ১১ দশমিক ২১ শতাংশ কমে ১৮৯ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে রপ্তানি আয়। তবে এসব অঞ্চলে আবারও প্রবেশের সুযোগ রয়েছে যদি বাংলাদেশ সুনির্দিষ্ট কৌশল গ্রহণ করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু কম দামে পোশাক সরবরাহ করে এ বাজারে টিকে থাকা যাবে না। বরং উচ্চ মানসম্পন্ন ও নতুন ডিজাইনের পোশাক, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী অথচ পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়া— এসবই হতে হবে ভবিষ্যতের মূল প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারের চাহিদা ও বাস্তবতা দ্রুত বদলে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ট্র্যাডিশনাল বাজারগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে, যেখানে মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ৮৪ শতাংশই এই বাজার থেকে আসে। তবে, নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারের অংশীদারিত্ব এখনো তুলনামূলক কম, যা মাত্র ১৬ শতাংশ।
ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের (আইটিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক পোশাক বাজারের আকার ছিল প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারের আকার ছিল প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারে ৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব ধরে রেখেছে, যেখানে আরও বিস্তারের সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৪ সালে জাপানের মোট পোশাক আমদানির ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার মোট আমদানির ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ হয়েছে বাংলাদেশ থেকে; যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে হলে নতুন বাজার ও নতুন পণ্যের দিকে মনোযোগী হতে হবে। নতুন বাজারে প্রবেশ এবং উদ্ভাবন শুধু কৌশলগত বিষয় নয়, এটি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে একটি অপরিহার্যতা। আমাদের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাজার বৈচিত্র্য এবং সম্প্রসারণের দিকে এগোতে হবে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, অগ্রগতি ধরে রাখতে আমাদের পণ্য উদ্ভাবন, বৈচিত্র্য ও চাহিদা অনুযায়ী বাজারভিত্তিক নতুন ডিজাইন এবং পণ্য উন্নয়নে মনোযোগ দিতে হবে। এছাড়া অপ্রচলিত দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণে এফটিএ বা পিটিএ চুক্তি করা যেতে পারে। বাংলাদেশি পোশাককে ‘গুণগত মান ও ন্যায্যমূল্যের প্রতীক’ হিসেবে তুলে ধরতে হবে।

অর্থনীতি
চড়া সবজির বাজার, বাড়লো আটা-ময়দা ও ডালের দাম

বাজারে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সবজির দাম বেশ চড়া। এরমধ্যে বেড়েছে মুরগি, ডিম ও পেঁয়াজের দাম। নতুন করে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে মুদি পণ্যের দামে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে মসুর ডাল ও আটা-ময়দার। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ভোক্তাপর্যায়ে আলুর দামও বাড়তে পারে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে তিন-চারদিন আগেও প্যাকেটজাত এক কেজি আটা কোম্পানিভেদে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হতো। এখন দাম বেড়ে হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। অন্যদিকে, খোলা আটার দাম কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। একইভাবে কোম্পানিভেদে ময়দার দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়।
বাজারে ভালো মানের মসুর ডালের দাম ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা বিক্রি হলেও এখন দাম উঠেছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। অর্থাৎ, প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। একইভাবে বড় দানার মসুর ডালের দাম বেড়ে ১২৫-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, চড়া দামে আটকে থাকা সবজির দামে গত সপ্তাহের ব্যবধানে খুব একটা হেরফের নেই। এক কেজি বেগুন এখনো ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। করলা প্রতি কেজি ৯০-১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০-১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৭০-৮০ টাকা, কচুর মুখি ৮০-৯০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, চিচিংগা-ঝিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়। কাঁচামরিচ ২০০-২৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
পেঁয়াজ আমদানি বাড়লেও বাজারে দাম তেমন কমেনি। এখনো প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকা কেজি দরে।
তালতলা বাজারের বিক্রেতা বুলু মিয়া বলেন, ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দামও বেশি। এই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে দেশি পেঁয়াজের সমান দামে। ফলে আমদানি থাকলেও তা দাম কমার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারছে না।
কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ ৬০-৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যেখানে দেশি পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭২ টাকায়।
এছাড়া উচ্চমূল্যে আটকে রয়েছে ডিম ও মুরগির দাম। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকার মধ্যে। যেখানে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৩৩০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহেও একই দামে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে মুরগির প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫-১৫০ টাকা দরে।
চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ার ফলে গত কয়েকমাস ধরে লোকসানে আলু বিক্রি করছিলেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার আলুর দাম হিমাগার পর্যায়ে ন্যূনতম মূল্য ২২ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। তবে এখনো আলুর দাম সেভাবে বাড়েনি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
তারা বলছেন, এতদিন ১২-১৫ টাকা কেজি দরে হিমাগারে আলু বিক্রি হয়ে আসছিল। এখন হিমাগার পর্যায়ে ৭-১০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে যাবে। এর প্রভাব পড়বে খুচরা বাজারে। বর্তমানে খুচরায় যেখানে ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হচ্ছে সেই দামে হয়তো ভোক্তারা আর আলু কিনতে পারবেন না।
গত ২৭ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয়ের নীতি শাখা থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে আলুর হিমাগার গেটে মূল্য নির্ধারণ করা হয়। তবে খুচরায় সর্বোচ্চ কত টাকা দরে আলু বিক্রি হবে সেটা ঠিক করে দেয়নি সরকার। ফলে বাজারেই আসলে নির্ধারণ হবে আলুর দাম।
কারওয়ান বাজারের আলুর আড়তদার জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সরকার দাম নির্ধারণের পরও সামান্য একটু বেড়েছে। আমরা এখন সাড়ে ১৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করছি। যখন হিমাগার গেটে ২২ টাকায় আলু বিক্রি হবে তখন আমাদের এটা পাইকারি থেকে কিনতে হবে কমপক্ষে ২৪ টাকায়। অন্যসব খরচ মিলিয়ে এটি আমাদের তখন বিক্রি করতে হবে ২৭-২৮ টাকা কেজি দরে। এর প্রভাব খুচরায় পড়বে এবং দাম কিছুটা বেড়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, খুচরায় ৩৫-৪০ টাকা উঠে যেতে পারে আলুর দাম। তবে সরকার যদি সরবরাহ চেইনে ঠিকঠাক মনিটরিং করে তবে খুচরা পর্যায়ে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।
রাজধানীর খুচরা বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, আলুর দাম এখনো সেভাবে বাড়েনি। এখনো আগের দাম ২৫-৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
অর্থনীতি
জুলাইয়ে বিদেশি ঋণ পরিশোধ ৪৪৬.৬৮ মিলিয়ন ডলার

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে ৪৪৬.৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে আসল ও সুদের প্রায় ৪৪৬.৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে।
গত অর্থবছরের (অর্থবছর-২৫) জুলাই মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৩৮৫.৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে সরকার আসল বাবদ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের পরিশোধ করেছে ৩২৭.৭২ মিলিয়ন ডলার। যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই মাসে ছিল ২৬৪.৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে সরকার সুদ বাবদ পরিশোধ করেছে ১১৮.৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই মাসে ছিল ১২০.৭৯ মার্কিন ডলার।
তবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে একই সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পেয়েছে ২০২.৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে নতুন প্রতিশ্রুতি এসেছে ৮৩.৪৬ মিলিয়ন ডলার। যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই মাসে ছিল ১৬.৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
গত অর্থবছরে বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে ৪.০৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছিল।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪.৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি।
ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নতুন ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ৮.৩২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আগের বছরের ১০.৭৩৯ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় কম।
একইভাবে ঋণ বিতরণও কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৫৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরে ছিল ১০.২৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সর্বাধিক ঋণ বিতরণ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৭৭.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এরপর রয়েছে বিশ্বব্যাংক ৫৯.০৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া জাপান ১৭.২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারত ১৩.৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরা ৩৫.৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ বিতরণ করেছে।
অর্থনীতি
২৭ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২০৮ কোটি ডলার

চলতি মাসের প্রথম ২৭ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২০৮ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ৭ কোটি ৭৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আগস্টের প্রথম ২৭ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২০৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৯৭ কোটি ১০ লাখ ডলার। বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ।
এছাড়া গত ২৭ আগস্ট এক দিনে প্রবাসীরা দেশে ৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত দেশে এসেছে ৪৫৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।
গত জুলাইয়ে দেশে এসেছিল ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৪ কোটি ৭৬ লাখ ডলার ৩০ হাজার ডলার। এছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২২ কোটি ৯২ লাখ ২০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৬৮ কোটি ৯৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার ও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ১৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।
অর্থনীতি
ছয় মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে: বিডা

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত মোট ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (বিডা) সরকারের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির পঞ্চম সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
এসময় বলা হয়, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রাপ্ত বিনিয়োগ প্রস্তাবের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ মোট ৪৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। স্থানীয় বিনিয়োগ মোট ৭০০ মিলিয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে মোট ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ, যা প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব এসেছে চীনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে।
এছাড়া সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে বলে সভায় জানান বিডার প্রতিনিধি।
প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
সভায় বিডার প্রতিনিধি আরও জানান, ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে ২৩১ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব। এক্ষেত্রে প্রাথমিক প্রস্তাব থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ে রূপান্তরের হার প্রায় ১৮ শতাংশ।
বিশ্বজুড়ে রূপান্তরের এই হার গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশের কাছাকাছি বলে সভায় জানানো হয়।
অর্থনীতি
প্রবাসী আয় বেশি ঢাকায়, কম লালমনিরহাটে

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে ২৪৭ কোটি ডলার (২ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এই অর্থের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় এসেছে ঢাকা জেলায়, ১৩৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার। আর সবচেয়ে কম প্রবাসী আয় এসেছে লালমনিরহাটে, মাত্র ১৩ লাখ ডলার।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের প্রবাসী কর্মসংস্থান বেশি হওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহেও তার প্রতিফলন ঘটেছে। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ তুলনামূলকভাবে দুর্বল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুলাই মাসে ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলা থেকে এসেছে ১৩৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এর মধ্যে শুধু ঢাকা জেলাতেই ১০২ কোটি ৭২ লাখ ডলার, যা দেশের যেকোনো জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে টাঙ্গাইল, ৪ কোটি ৩১ লাখ ডলার; তৃতীয় অবস্থানে নারায়ণগঞ্জ, ৪ কোটি ৫০ হাজার ডলার। বিভাগটির মধ্যে সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে রাজবাড়ী থেকে ৮৯ লাখ ডলার।
চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ জেলার প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৫৯ কোটি ৮১ লাখ ডলার। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা শীর্ষে ১৬ কোটি ৫৪ লাখ ডলার এবং দ্বিতীয় অবস্থানে কুমিল্লা ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এছাড়া নোয়াখালী থেকে এসেছে ৭ কোটি ২৮ লাখ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৬ কোটি ৩০ লাখ, ফেনী থেকে ৬ কোটি ১৯ লাখ এবং চাঁদপুর থেকে ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার। বিভাগটিতে সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে রাঙ্গামাটি ও বান্দরবন থেকে—প্রতিটি জেলা থেকে ১৭ লাখ ডলার।
সিলেট বিভাগের চার জেলায় মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর মধ্যে সিলেট জেলা একাই দিয়েছে ১০ কোটি ২৬ লাখ ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মৌলভীবাজার ৩ কোটি ৯২ লাখ ডলার, হবিগঞ্জ ২ কোটি ৬৭ লাখ ও সুনামগঞ্জ ২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার।
খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় এসেছে মোট ৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার। এর মধ্যে যশোর জেলা শীর্ষে ১ কোটি ৮২ লাখ ডলার, কুষ্টিয়া ১ কোটি ৫০ লাখ, খুলনা ১ কোটি ২১ লাখ এবং ঝিনাইদহ ১ কোটি ২০ লাখ ডলার। সবচেয়ে কম এসেছে বাগেরহাট থেকে—৭১ লাখ ডলার।
রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৭ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। এর মধ্যে বগুড়া ১ কোটি ৫৬ লাখ ডলার ও পাবনা ১ কোটি ৫১ লাখ ডলার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে এসেছে ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার, সিরাজগঞ্জ থেকে ৯৪ লাখ ডলার এবং রাজশাহী জেলা থেকে ৮৯ লাখ ডলার। সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে জয়পুরহাট থেকে—৪৫ লাখ ডলার।
বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় এসেছে ৬ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। বরিশাল জেলা একাই দিয়েছে ২ কোটি ৪১ লাখ ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে ভোলা ৯৮ লাখ ডলার, পিরোজপুর ৭৭ লাখ ডলার, বরগুনা ৫৪ লাখ ডলার, পটুয়াখালী ৫৯ লাখ ডলার এবং সর্বনিম্ন ঝালকাঠি থেকে এসেছে ৪৭ লাখ ডলার।
ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় এসেছে ৪ কোটি ২৫ লাখ ডলার। এর মধ্যে সর্বাধিক এসেছে ময়মনসিংহ জেলা থেকে ২ কোটি ১১ লাখ ডলার। জামালপুর থেকে এসেছে ১ কোটি ২৮ লাখ ডলার, নেত্রকোনা থেকে ৫৪ লাখ ডলার এবং সবচেয়ে কম শেরপুর থেকে ৩২ লাখ ডলার।
রংপুর বিভাগের আট জেলায় মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ কোটি ১৯ লাখ ডলার। এর মধ্যে সর্বাধিক গাইবান্ধা ৮৬ লাখ ডলার, রংপুর ৫৯ লাখ ডলার এবং দিনাজপুর ৫২ লাখ ডলার। আর সর্বনিম্ন এসেছে লালমনিরহাট থেকে, মাত্র ১৩ লাখ ডলার। এছাড়া পঞ্চগড় থেকে এসেছে ১৮ লাখ ডলার।