জাতীয়
বন্যাদুর্গত এলাকায় নেই বিদ্যুৎ, বন্ধ মোবাইল নেটওয়ার্ক

ফেনীতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ২০টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সীমান্তবর্তী ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারও মানুষ। এ দুই উপজেলার কিছু এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি, মিটার ও ট্রান্সফরমার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে প্রায় ৩১ হাজার ২০০ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রেখেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে বিপাকে পড়েছে বানভাসি মানুষ।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়ন, ফুলগাজী সদরের কিসমত ঘনিয়ামোড়া, উত্তর শ্রীপুর, পূর্ব ঘনিয়ামোড়া, উত্তর নিলক্ষ্মী, পশ্চিম ঘনিয়ামোড়া, দেড়পাড়া, নিলক্ষ্মী, গোসাইপুর, মন্তলা, গাবতলা, কহুমা, জগতপুর ও পরশুরাম উপজেলার ধনীকুন্ডা, শালধর, বেড়াবাড়িয়াসহ বেশকিছু এলাকায় বন্ধ হয়ে গেছে মোবাইল নেটওয়ার্ক। এতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পশ্চিম ঘনিয়ামোড়ার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে বিকল্প কিছু দিয়ে চলা যায় কিন্তু ইন্টারনেট বা মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকলে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ থাকে না। এ পরিস্থিতিতে দেশে-বিদেশে অবস্থান করা আত্মীয়স্বজনরা আতঙ্কিত হয়ে যান। গত বছরের বন্যায়ও একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি। কিন্তু সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি। তারা জেনারেটরের মাধ্যমে মোবাইল টাওয়ারগুলো সচল রাখলে মানুষের খুবই উপকৃত হতো।
এ নিয়ে পরশুরাম পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. সোহেল আকতার জানান, এ উপজেলায় ৩৩ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ৬০ শতাংশ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সংযোগ দেওয়া হবে। তবে বিদ্যুতের বিভিন্ন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সহসাই সংযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ফুলগাজী পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. হাবিবুর রহমান জানান, স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে উপজেলার ৩০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। এ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৩৮ হাজার।
কাফি

জাতীয়
দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৬৩ লাখ: ইসি সচিব

দেশে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৭০ হাজার ৫০৪ জনে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪১ লাখ ৪৫৫ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২২ লাখ ৫ হাজার ৮১৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩০ জন।
এই সংখ্যক ভোটারকে তালিকাভুক্ত করে হালনাগাদ সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই তালিকা প্রকাশ করলো সাংবিধানিক এই সংস্থাটি।
ররিবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, এর আগে গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়ায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৬১ লাখ ৭০ হাজার ৯০০ জন। এরপর নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৪২ জন। প্রকাশিত তালিকা থেকে মৃত ভোটার কর্তন হয়েছে ১ হাজার ৩৮ জন। অর্থাৎ খসড়া তালিকা থেকে মোট ভোটার বেড়েছে ১ লাখ ৩৬ আর ৬০৪ জন।
ইসি সচিব জানান, এছাড়া আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারাও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। ওই দিন আরেকটি তালিকা প্রকাশ করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাব তিনি বলেন, এই মুহূর্তে প্রতিবন্ধী ভোটার কতজন, সেই তালিকা তাদের হাতে নেই। তবে ভোটার তালিকার বিশ্লেষণ করে তথ্য উপাত্ত জানানো হবে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ভোট দানের বিষয়ে বাস্তব পদক্ষেপ নেবেন তারা।
তিনি বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এবং সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ চূড়ান্ত করার বিষয়ে ইসি কাজ করছে। এ বিষয়ে পরে সাংবাদিকদের অবহিত করা হবে।
জাতীয়
জাপানের অর্থায়নে ঢাকায় পাতাল রেলের নির্মাণ, সুফল আসবে ২০৩০ সালে

বিভিন্ন দেশের বড় শহরগুলোর নাগরিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জাপানের নজর থাকে মূলত মেট্রোরেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর। বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে মেট্রোরেল নির্মাণে বিনিয়োগ করেছে জাপান। তেমনি বাংলাদেশেও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে এমআরটি লাইন-১ বা বাংলাদেশের প্রথম পাতাল রেল। যা ২০৩০ সালে এটি চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী দিনে দেশের অন্যান্য বড় শহরে মেট্রোরেল নির্মাণের ব্যাপারে পরিকল্পনা গ্রহণ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এতে নগর জীবনে স্বাচ্ছন্দ আসবে বা যাতায়াতে প্রচুর সময় বাঁচাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাতাল রেল চালু হলে অল্প সময়ে অধিক সংখ্যায় যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। ছোট যানবাহনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় কমবে। জীবাশ্ম ও তরল জ্বালানির ব্যবহার কম হবে। যানজট অনেক কমবে। ঢাকা মহানগরীর জীবনযাত্রায় ভিন্ন মাত্রা ও গতি যোগ হবে। মহানগরবাসীর কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে। সাশ্রয়কৃত কর্মঘণ্টা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যবহার করা যাবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাথমিকভাবে তিন রুটে চলাচল করবে এমআরটি লাইন-১ বা বাংলাদেশের প্রথম পাতাল রেল। আগামী ২০৩০ সালে এটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চালু হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর যেতে পারবে। এমআরটি লাইন-১ আন্ডার গ্রাউন্ড প্যাকেজ সিপি-০৪ (রামপুরা-নতুন বাজার), সিপি-০৫ (নতুনবাজার-নর্দ্দা), সিপি-০৬ (নর্দ্দা-বিমানবন্দর)।
ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-১) সূত্র জানায়, প্রকল্পের সর্বমোট ১২টি প্যাকেজের মধ্যে ইতোমধ্যে ৯টির দরপত্র দাখিল হয়েছে, যার মধ্যে একটি প্যাকেজের নির্মাণকাজ প্রায় সমাপ্ত। অপর ৭টি প্যাকেজের আর্থিক দরপত্র উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং ১টি প্যাকেজের (সিপি-০৮) কারিগরি মূল্যায়ন চলমান রয়েছে। সামগ্রিকভাবে দর দাতাগণের উদ্ধৃত দর ডিপিপি মূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৯,৪৫০ দশমিক ৩২ কোটি টাকা হতে বৃদ্ধি পেয়ে বাস্তবায়নাধীন একটি প্যাকেজের চুক্তি মূল্য, ৭টি প্যাকেজের উদ্ধৃত দর ও ৪টি প্যাকেজ বিবেচনায় ৭৫,৬৪৯ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। প্রতি কিলোমিটার টানেল নির্মাণ ব্যয় ১২৫০ দশমিক ৭২ কোটি টাকা হতে বৃদ্ধি পেয়ে ২৩৯৮ দশমিক ৩৬ কোটি টাকা হতে পারে।
তারা আরো জানায়, শিল্ড টানেল সেগমেন্ট থেকে পানি লিকেজ এড়াতে সেগমেন্টাল লাইনিং (আস্তরণ) থেকে পানি লিকেজজনিত দুর্ঘটনা এড়াতে টানেল সেগমেন্ট স্থাপনের সময়ে বিশেষ করে দুটো সেগমেন্টের সংযোগস্থলে সেগমেন্টাল লাইনিং এর গুণগত মান সুনিশ্চিত করতে এবং শিল্ড টানেল সেগমেন্টের পৃষ্ঠতলে কোনরকম কোন ফাটল দৃশ্যমান না হওয়ার জন্য পানি নিরোধক জাপানি বিশেষ প্রযুক্তি ‘ওয়ান পাস জয়েন্ট’ ব্যবহার করা হবে। বালু নদীর উপর তিন স্প্যান বিশিষ্ট সেতুটি ১৪৯ মিটার দীর্ঘ এবং সেতু সংলগ্ন একটি আন্ডারপাস রয়েছে। সেতুটি অক্ষুন্ন রেখে তার উপর দিয়ে যথাযথ নির্মাণের সুবিধায় ১৭২ মিটার দীর্ঘ একক স্প্যান বিশিষ্ট সেতুর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৮ এর দরপত্র দলিলে ১৭২ মিটার দীর্ঘ একক স্প্যান বিশিষ্ট সেতুর প্রস্তাব রয়েছে। এত ব্যবহার করা হবে বিশেষভাবে উন্নতকৃত উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ইস্পাত। জাপানের বাইরে কোনো ইস্পাত উৎপাদককে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
প্যাকেজ সিপি-০৮ এর প্রিকোয়ালিফিকেশন সম্পন্ন হয়েছে যাতে চীন, জাপান, কোরিয়া, ভারত ও বাংলাদেশের মোট ৮টি প্রতিষ্ঠান উত্তীর্ণ হয়। পরবর্তীতে চীন-বাংলাদেশ, জাপান-বাংলাদেশ এবং জাপান- কোরিয়ার ৩টি প্রতিষ্ঠানে মূল দরপত্র দাখিল করে। বর্তমানে কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৮ এর কারিগরি মূল্যায়ন চলমান রয়েছে। কারিগরি মূল্যায়ন শেষে শুধুমাত্র উত্তীর্ণ দরদাতাগণের আর্থিক প্রস্তাব উন্মুক্ত করা হবে।
সম্প্রতি ভারতের ও অন্যান্য দেশের প্রকল্পগুলোর সাথে তুলনা করে ঢাকার মেট্রো রেল নির্মাণ প্রকল্পকে অতিরিক্ত ব্যয়বহুল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। প্রকল্পের পরিসর, নগরের ঘনত্ব, ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি এবং মুদ্রাস্ফীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিবেচনায় আনলে, ঢাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল নির্মাণ ব্যয় বিশ্বের অন্যান্য সমতুল্য মেট্রো ব্যবস্থার তুলনায় সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও তারা জানায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টানেলিং প্রযুক্তি, বিশেষায়িত সিস্টেম এবং সংশ্লিষ্ট নির্মাণ দক্ষতা প্রথমবারের মতো দেশে আনতে বড় অংকের প্রাথমিক মোবিলাইজেশন ব্যয়ের প্রয়োজন হবে। ঢাকার নরম মাটি, উচ্চ ভূগর্ভস্থ পানির স্তর এবং বন্যা-ঝুঁকি প্রকৌশলগতভাবে মোকাবেলার প্রয়োজনে নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। এমআরটি লাইন-১ এর ডিজাইনে অগ্নি নিরাপত্তা, বন্যা প্রতিরোধ, জরুরি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোরসহ উন্নত বিশ্বমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি টাকা ডলারের তুলনায় প্রায় ৪৪ দশমিক ৩ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয়েছে। আমদানিকৃত পণ্যের ও বৈদেশিক মুদ্রায় চুক্তিভিত্তিক ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মেট্রো রেলের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, রোলিং স্টক, সিগন্যালিং সিস্টেম এবং নির্মাণসামগ্রী বাংলাদেশে উৎপাদিত না হওয়ায়, বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক দরপত্রে ব্যবহৃত মার্কিন ডলার ও জাপানি ইয়েনের বিপরীতে টাকার দুর্বলতা ব্যয় আরও বাড়িয়েছে। এমআরটি-১ এর আন্ডারগ্রাউন্ড অংশের ব্যয় প্রতি কিলোমিটারে ১৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা সিঙ্গাপুর, সিডনি এবং মেলবোর্নের তুলনায় কম। ঢাকার প্রকৌশল ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় প্রতি কিলোমিটারে ১৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় যৌক্তিক ও আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী তুলনাযোগ্য। ঢাকার আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো ভবিষ্যৎমুখী এবং জনগণের জন্য নিরাপদ সেবা নিশ্চিতে নির্মিত প্রকল্প বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (লাইন-১) প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল কাসেম ভূঁঞা বলেন, প্রকল্পটির অর্থায়নে রয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির (জাইকা)। ২০১৫ সালে প্রণীত আরএসটিপি (রিভাইজড স্ট্রাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান) অনুসরণ করে এমআরটি লাইন-১ এর রুট এলাইনমেন্ট নির্ধারণ করে ২০১৭-১৮ সালে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়। জাইকার সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় আন্তর্জাতিক মান ও রীতিনীতি, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং ঢাকায় অবকাঠামো নির্মাণ উপযোগিতার বিষয়গুলো বিবেচনা করে এমআরটি লাইন-১ এর উড়াল এবং পাতাল পথ চূড়ান্ত করা হয়। ১৯ দশমিক ৮৭২ কি.মি দীর্ঘ পাতাল এবং ১১ দশমিক ৩৬৯ কি.মি উড়াল মেট্রোরেলসহ মোট ৩১ দশমিক ২৪১ কি.মি দৈর্ঘ্যরে এলাইনমেন্টের মধ্যে ১২টি পাতাল ও ৭টি উড়াল স্টেশন থকবে।
তিনি আরো বলেন, দেশের বৃহত্তর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গণপরিবহনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রাখবে। যানজটে নষ্ট হওয়া লাখ লাখ কর্মঘণ্টার আর্থিক মূল্যে নির্ণয়পূর্বক বিবেচিত হতে পারে। জনবহুল ঢাকা ও অন্যান্য নগরে সড়কপথে গন্তব্যে পৌছানোর ভ্রমণ সময়ের অনিশ্চয়তাকে মেট্রোরেল ইতিবাচক ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারে। পরিবেশ দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে তা নগর পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। উন্নয়নসহযোগী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিকট ইতিবাচক ভাব মর্যাদা রাখতে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখবে।
কাফি
জাতীয়
আওয়ামী লীগ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে এবং করবে। তাদের প্রতিহত করতে জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
রোববার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য ছিল, জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সেই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। ঐক্যে ফাটল ধরলে দোসররা নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।”
জাতীয় পার্টির অফিসে আগুন লাগানোর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “পুলিশকে আগেই অ্যাকশনে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আগুন ধরানোর পরই পুলিশ বাধা দিয়েছে। অথচ নিয়ম হচ্ছে, আগুন ধরার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া।”
তিনি অভিযোগ করেন, “পুলিশ অ্যাকটিভ হলে সবাই সমালোচনা করে বলে বেশি করে ফেলেছে। অথচ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ঢাকা ও আশপাশে ১৬০৪টি অবরোধ হয়েছে। ১২৩টি সংগঠন এসব করেছে। রাস্তা অবরোধের পরিবর্তে রাজনৈতিক কার্যক্রম মাঠ বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে করলেই জনদুর্ভোগ কমবে।”
নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “যে দলের কার্যকলাপ নেই, তারাই চায় নির্বাচন না হোক। তবে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে সবার সহযোগিতা জরুরি।”
এদিকে নির্বাচন ও সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ বিকেলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন।
জাতীয়
ফোন করে নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন রাষ্ট্রপতি

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ রোববার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টা ৭ মিনিটে তিনি ফোন করেন।
নুরুল হক নুরকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও আশ্বস্ত করেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন।
রাষ্ট্রপতি দ্রুত আরোগ্য কামনা করে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ জঘন্য হামলায় জড়িতদের ব্যাপারে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে মর্মেও আশ্বস্ত করেছেন।
গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতাকর্মীদের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। দুপক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। গুরুতর আহত হওয়ায় নুরকে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে রাত ১১টার দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক (আরএস) ডা. মোস্তাক আহমেদ বলেন, আঘাতের কারণে নুরুল হক নুরের নাক ও চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। এছাড়া তার চোখে রক্তজমাট আছে। হাসপাতালের নিউরো সার্জারি, নাক-কান-গলা বিভাগ, আইসিইউ বিভাগের প্রধানসহ আরও কয়েক বিভাগের সিনিয়র চিকিৎসকদের নিয়ে একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। নুরের আরেকটি সিটি স্ক্যান করে দেখা হবে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের অবস্থা বেড়েছে নাকি কমেছে।
জাতীয়
বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক আজ

বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে আজ রোববার বৈঠকে বসবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে দলগুলোর প্রতিনিধির সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে কথা বলবেন প্রধান উপদেষ্টা।
শনিবার (৩০ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার বাইরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, আগামী বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর। কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র নির্বাচন পেছাতে পারবে না।
এদিকে আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। নির্বাচন সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে রোডম্যাপও ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির রোডম্যাপ অনুযায়ী চলতি বছরের ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এরই মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন ও দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন চূড়ান্ত করাসহ ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি প্রাধান্য দিয়ে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে ইসি।