আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশে সামরিক অবকাঠামো নির্মাণ করতে চায় চীন: যুক্তরাষ্ট্র

চীন হয়তো বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিয়ানমারসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে সামরিক স্থাপনা প্রতিষ্ঠার কথা বিবেচনা করছে। সম্প্রতি ‘২০২৫ ওয়ার্ল্ডওয়াইড থ্রেট এসেসমেন্ট’ বা ‘বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন দাবিই করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিআইএ)।
তবে এসব দেশে চীন ঠিক কী ধরনের সামরিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, তা নিয়ে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য উল্লেখ করেনি ডিআইএ। চীনের পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবির বিপরীতে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের হুমকি নিয়ে প্রতি বছর প্রতিবেদন প্রকাশ করে ডিআইএ। সম্প্রতি ২০২৫ সালের ১১ মে পর্যন্ত পাওয়া তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে তারা। প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়া অংশে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের বিভিন্ন হুমকির কথা বলা হলেও বাংলাদেশের কোনো উল্লেখ নেই। তবে চীনের যেসব পরিকল্পনা বা হুমকির বিষয়ে বলা হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারও রয়েছে।
চীনের বিষয়ে সতর্ক করে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার এই প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্ব এশিয়ায় প্রধান শক্তিধর দেশ হওয়ার কৌশলগত লক্ষ্য বজায় রেখেছে চীন। তাইওয়ানকে মূল ভূখণ্ড চীনের সঙ্গে একীভূত করা, চীনের অর্থনীতির উন্নয়ন ও স্থিতিস্থাপকতাকে এগিয়ে নেওয়া ও মধ্য শতাব্দীর মধ্যে প্রযুক্তিগতভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দেশটি বিশ্ব নেতৃত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জও জানাচ্ছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কূটনৈতিক, তথ্যগত, সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মোকাবিলা করার জন্য চীন তার বৈশ্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে চলেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইন্দো-প্যাসিফিক অর্থাৎ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও তার আশপাশের অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। এই প্রতিযোগিতায় চীনকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে তিনি নানা উদ্যোগ নিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন সামরিক জোট ও তার নিরাপত্তা অংশীদারত্বের জন্য যে সমর্থন রয়েছে, সেটিকে দুর্বল করা।
যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে চীন কোন কোন অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতির কার্যক্রম শুরু করেছে এবং কোন দেশগুলোতে শুরু করার চিন্তা করছে, তা মার্কিন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে চীনের ‘গ্লোবাল মিলিটারি অপারেশনস’ শীর্ষক অনুচ্ছেদে বলা হয়, চীনে থেকেই টানা লম্বা সময় কার্যক্রম চালানোর জন্য পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) বা গণমুক্তি বাহিনীর ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করছে দেশটি। এছাড়া আরও শক্তিশালী বিদেশি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করছে চীন।
ডিআই’র দাবি, পিএলএ সেনাদের আরও বেশি দূরত্বে মোতায়েন বজায় রাখার জন্য অবকাঠামোও তৈরি করছে জিনপিং সরকার। এই প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কার্যক্রম কিংবা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন সম্ভবত মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কিউবা, কেনিয়া, গিনি, সেশেলস, তানজানিয়া, অ্যাঙ্গোলা, নাইজেরিয়া, নামিবিয়া, মোজাম্বিক, গ্যাবন, বাংলাদেশ, পাপুয়া নিউগিনি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ও তাজিকিস্তানে পিএলএ’র সামরিক উপস্থিতির কথা বিবেচনা করছে।
গত ৫ এপ্রিল কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও চীনের পিএলএ বাহিনীর একটি প্রতিনিধিদল কম্বোডিয়ার রিম নৌ ঘাঁটিতে যৌথ লজিস্টিকস ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, চীনের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, কেন্দ্রটি সন্ত্রাসবাদ দমন, দুর্যোগ প্রতিরোধ, মানবিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণের মতো ক্ষেত্রে যৌথ অভিযান কার্যক্রমকে সহযোগিতা করবে।
চীনের এ ধরনের কার্যক্রম কেমন হতে পারে, এ নিয়েও প্রতিবেদনে ধারণা দেওয়া হয়। এতে জানানো হয়, চীন বিভিন্ন দেশে একটি মিশ্র ব্যবস্থায় এসব কার্যক্রম চালায়। এতে গ্যারিসন বাহিনী অর্থাৎ নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থানরত সেনা ও ঘাঁটি রাখা হয়। এছাড়া যেসব দেশে এসব কার্যক্রম চালানো হয়, সেসব দেশের বাহিনীও তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় ও সুবিধা পায়। এর বাইরে বাণিজ্যিক অবকাঠামোও থাকে এতে। গত বছর তানজানিয়ায় এমনই করেছে চীন।
ডিআইএ’র প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত বছর তানজানিয়ায় একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত মহড়া পরিচালনা করে পিএলএ, যা আফ্রিকায় চীনের সর্ববৃহৎ সামরিক মহড়া। এই মহড়ায় সমুদ্র ও আকাশপথে ১ হাজারেরও বেশি সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দেয় চীনের সামরিক বাহিনী।

আন্তর্জাতিক
ইউক্রেনে সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকারকে গুলি করে হত্যা

ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় লভিভে শহরে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন দেশটির সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার আন্দ্রি পারুবি। স্থানীয় সময় শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে অজ্ঞাত একজন বন্দুকধারী তাকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হামলাকারীকে ধরতে দেশজুড়ে অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (৩১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৪ বছর বয়সী পারুবি ২০১৬ সালের এপ্রিলে ইউক্রেনের পার্লামেন্ট স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ২০১৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩-১৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের দাবিতে অনুষ্ঠিত ইউরোমাইদান আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন তিনি।
এ ছাড়া ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিনি ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব ছিলেন। তার এ দায়িত্ব পালনের সময়কালেই রাশিয়া ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেয় এবং পূর্ব ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হয়।
সাবেক এই স্পিকারের নিহতের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি লিখেছেন, লভিভে অঞ্চলে ভয়াবহ এক হত্যাকাণ্ডে আন্দ্রি পারুবি নিহত হয়েছেন। তার পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি সমবেদনা জানাই। হত্যাকারীকে ধরতে ও তদন্তে সব ধরনের শক্তি-সরঞ্জাম কাজে লাগানো হচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয়ও বলছে, এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু হয়েছে। এখনও হত্যাকারীর পরিচয় কিংবা উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
এদিকে, এ হত্যাকাণ্ড সরাসরি রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের সঙ্গে কোনোভাবে সম্পর্কিত কিনা, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লভিভের মেয়র আন্দ্রি সাদোভিই বলেন, আমাদের দেশ যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। আর আমরা দেখছি, নিরাপদ জায়গা এখন আর কোথাও নেই। হত্যাকারীকে খুঁজে বের করা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আন্তর্জাতিক
ট্রাম্প আরোপিত অধিকাংশ শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করল মার্কিন আদালত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কের বেশিরভাগকেই অবৈধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আপিল আদালত।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দেওয়া রায়ে আদালত জানায়, ট্রাম্প আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) অপব্যবহার করেছেন।
রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে বর্ধিত শুল্ক প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হলেও, এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে রায় কার্যকর হবে।
শুক্রবার রায় ঘোষণার শুনানিতে অংশ নেওয়া ১১ জন বিচারকের মধ্যে সাতজন ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেন।
আদালত জানিয়েছে, নতুন ট্যারিফ আইনি সংঘর্ষ সৃষ্টি করতে পারে। জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার আওতায় আরোপিত এই শুল্ককে আইনবিরুদ্ধ আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন আদালত। বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের এমন কোনো এখতিয়ার নেই। শুল্কারোপের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের রয়েছে।
রায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “এই আদেশ কার্যকর হলে দেশ ও অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে পড়বে।” তিনি শুল্ক প্রত্যাহারকে ‘শতভাগ বিপর্যয়কর’ আখ্যা দিয়ে জানান, সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে।
আন্তর্জাতিক
ক্ষমতাচ্যুত হলেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত।
সম্প্রতি কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে তার একটি ফোনকলের রেকর্ড ফাঁস হয়। এরপর তার পদ স্থগিত করে আদালত। অবশেষে শুক্রবার (২৯ আগষ্ট) ওই ফোনালাপের জেরে পেতোংতার্নকে ক্ষমতা থেকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া হলো।
২০২৪ সালের আগষ্টে থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা। মাত্র এক বছর পার হতেই ক্ষমতাচ্যুত হতে হলো তাকে। সদ্য সাবেক এ নারী থাই রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী সিনাওয়াত্রা পরিবারের সদস্য।
ফাঁস হওয়া সেই ফোনকলে তাকে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলতে শোনা যায়। ওই সময় তিনি তার নিজ দেশের সেনাবাহিনীর সমালোচনা করেন এবং দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, তার সেনাদের কারণেই কম্বোডিয়ার এক সেনার প্রাণ গেছে।
তার এ ফোনকলের রেকর্ড ভাইরাল হলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয় থাইল্যান্ডজুড়ে। এর কয়েকমাস পর থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী এক সংঘাতও বেঁধে যায়; যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যার অবসান হয়।
গত ১৫ জুনের ওই ফোনকলে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে পেতোংতার্ন আরও বলেন, যে কোনোকিছু চাইলে, আমাকে বলবেন। আমি বিষয়টি দেখব।
তার এ কথাটি নিয়েই মূলত বেশি সমালোচনা হয়। ফোনকলটি ফাঁস হওয়ার সময় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল দুই দেশের সীমান্তে। ওই সময় থাইল্যান্ডের মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবাদও প্রচণ্ডরকমভাবে দেখা যাচ্ছিল। তখনই ফোনকলটি সামনে আসে। যা সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিরূপ প্রভাব ফেলে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে গোপনে থাইল্যান্ডের স্বার্থকে বিসর্জন দিচ্ছেন পেতোংতার্ন।
অবশ্য, ফোনালাপ ফাঁসের পর নিজ দেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চান পেতোংতার্ন এবং দাবি করেন, কম্বোডিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনের কৌশল হিসেবেই এভাবে কথা বলেছিলেন তিনি।
কিন্তু, গত ১ জুলাই থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত তার প্রধানমন্ত্রীর পদ স্থগিত করে দেয়। যদিও তিনি সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় রয়ে গিয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাজ্য থেকে ফেরত এলো ১৫ বাংলাদেশি

অভিবাসন আইন ভঙ্গের অভিযোগে ১৫ বাংলাদেশিকে দেশে পাঠিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) একটি বিশেষ চার্টার ফ্লাইটে তাদের দেশে পাঠানো হয়।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ফ্লাইট HFM851 বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) স্থানীয় সময় রাত ৯টায় লন্ডনের স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে ইসলামাবাদ হয়ে শুক্রবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের কনসুলার শাখা জানায়, ফেরত আসা যাত্রীদের জন্য ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে কেউ বৈধ পাসপোর্টধারী, কারো পাসপোর্টের মেয়াদোত্তীর্ণ। ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে নারীও আছেন।
যাত্রী তালিকা অনুযায়ী, তারা মূলত সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও ঢাকার বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। ট্রাভেল পারমিটের নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, ফেরত আসা ১৫ জনের মধ্যে অন্তত ছয়জনের কোনো পেশা উল্লেখ ছিল না। বাকিদের মধ্যে কেউ যুক্তরাজ্যে ওয়েটার হিসেবে কাজ করতেন, কেউবা ছিলেন শিক্ষার্থী।
যুক্তরাজ্যের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই ফেরত পাঠানোর এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অনেক বাংলাদেশি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থান করেন। যুক্তরাজ্য তাদের নিজস্ব আইনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিচ্ছে, আর ফেরত পাঠানো সেই ব্যবস্থারই অংশ।’
আন্তর্জাতিক
৮৫ বছর পর আজান হতে যাচ্ছে যে মসজিদে

এক সময় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কুপ্রেস পৌরসভার মানুষের হৃদয়স্পন্দন ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের প্রাণকেন্দ্র ছিল রাভনো মসজিদ। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতায় এর পাথরের গম্বুজ ভেঙে পড়ে, দেয়ালগুলো ধসে যায়, মিনার নিঃশব্দে স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
তবে প্রায় আট পর আবারও নতুন রূপে ফিরেছে ঐতিহাসিক মসজিদটি। ২০২৪ সালের ১৭ মে স্থানীয় মুসলমানদের অবিচল প্রচেষ্টা ও ঐকান্তিক প্রয়াসে শুরু হয় মসজিদ পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় নতুন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, পৌরসভা, বেসরকারি কম্পানি ও উদার ব্যক্তিগত দাতাদের পাশাপাশি ক্রোয়েশিয়া ও মন্টিনেগ্রোর মুসলিম সম্প্রদায়ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে এই মহৎ উদ্যোগে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মুসলিম ভ্রাতৃত্বের মিলিত সহায়তায় আজ ধ্বংসস্তূপের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে এক নবনির্মিত সৌধ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ইসলামিক কমিউনিটির সম্মানিত চেয়ারম্যান ড. হুসেইন কাভাজোভিচ। এদিন রাভনোর আকাশে আবারও ভেসে উঠবে আজানের সুমধুর ধ্বনি, যা হবে বহু বছরের আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত।
স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, এই পুনর্জাগরণ শুধু একটি মসজিদের নয়, বরং পুরো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, আস্থা ও ঐক্যের প্রতীক। ৮৫ বছরের দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে আবারও মিনার থেকে ধ্বনিত হবে ‘আল্লাহু আকবার’ প্রমাণ করে—ঈমানের আলো কখনও নিভে যায় না।