আইন-আদালত
চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিনা ভোটে ২১ প্রার্থীই জয়ী

চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে ২১ প্রার্থীই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনী কার্যক্রমে ২১ পদে ২১ জন প্রার্থী থাকায় রোববার ১৩ এপ্রিল তাদের সবাইকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।
জয়ী সবাই বিএনপি জামায়াত সমর্থিত। এর মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ১৪ পদে বিএনপি অনুসারী এবং একটি সহ-সভাপতি পদ ও দুটি সম্পাদকীয় পদসহ মোট ৭ পদে জামায়াত অনুসারীরা জয়ী হন।
তবে নির্বাচনে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের মনোনয়ন ফরম কিনতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি নির্বাচনকে অস্বচ্ছ আখ্যা দিয়ে আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ আনোয়ার হোসেন পদত্যাগ করেছেন। চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির ১৩২ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সবকটি পদে নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
নির্বাচনে জয়ীরা হলেন- সভাপতি পদে আবদুস সাত্তার, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সিরাজ, সহ-সভাপতি আলমগীর মোহাম্মদ ইউনূস, সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ হাসান আলী চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুল বারী, অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন, লাইব্রেরি সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফী বিনতে মোতালেব, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মনজুর হোসাইন এবং তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে আবদুল জব্বার, নির্বাহী সদস্য পদে- আহসান উল্লাহ মানিক, আসমা খানম, বিবি ফাতেমা, হেলাল উদ্দিন, মেজবাহ উল আলম আমিন, মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী, মো. রোবায়তুল করিম, মো. শাহেদ হোসাইন, মোহাম্মদ মোরশেদ, রাহেলা গুলশান ও সাজ্জাদ কামরুল হোসাইন।
এর মধ্যে সহ-সভাপতি আলমগীর মোহাম্মদ ইউনূস, সহ-সাধারণ সম্পাদক ফজলুল বারী, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক আবদুল জব্বার এবং নির্বাহী কমিটির চার সদস্য হেলাল উদ্দিন, মো. শাহেদ হোসাইন, মো. রোবায়তুল করিম ও মোহাম্মদ মোরশেদ জামায়াত অনুসারী।
এদিকে ঘোষিত তফসিলে গত ১০ এপ্রিল মনোনয়নপত্র কেনার শেষ দিনে মনোনয়নপত্র কিনতে গিয়ে বাধার মুখে ফরম কিনতে পারেননি আওয়ামী লীগ, এলডিপি ও বাম ঘরানার আইনজীবীরা। তারা আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটি ও নির্বাচন কমিশনের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ দিলেও কোনো সমাধান হয়নি।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত সভাপতি প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে চেয়েছিলেন সাবেক মহানগর পিপি আবদুর রশীদ। মনোনয়ন ফরম কিনতে দেওয়া হয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বারের ১৩২ বছরের ইতিহাসে পুরো কমিটির সবাই ভোটবিহীনভাবে জয়ী হয়নি। বারের সব সদস্যরা রাজনীতি করেন না। সাধারণ সদস্যরা রয়েছেন। তারা আজকের এই ভোটারবিহীন নির্বাচন প্রত্যক্ষ করেছেন। অতীতে চট্টগ্রাম বারের সব দলমতের আইনজীবীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, জয়ীও হয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘এবার বারের গুটিকয়েক আইনজীবী পুরো নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২১ পদের বিপরীতে ২১ জন ফরম কিনেছেন। আমরা ফরম কিনতে গিয়ে কিছু আইনজীবী ও দুর্বৃত্তদের বাধার মুখে পড়েছি। চট্টগ্রাম বারের জন্য এটি কলঙ্কের ইতিহাস হয়ে থাকলো। বিএনপি-জামায়াতের সাধারণ সমর্থকরাও ভোটারবিহীন এ নির্বাচন আশা করেননি। সুযোগ থাকলেও আমরা আইনি মোকাবিলায় যাচ্ছি না। আমরা সাধারণ সদস্যদের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। সাধারণ সদস্যরাই একদিন এটির বিচার করবেন।’
এদিকে বারের এ নির্বাচনকে অস্বচ্ছ আখ্যা দিয়ে পদত্যাগ করেছেন অ্যাডহক কমিটির সদস্য সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। ১২ এপ্রিল অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ককে দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় এবং প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে মর্মপীড়ায় ভুগছি। যা চট্টগ্রামবারের ইতিহাস ঐতিহ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে মর্মে আমি মনে করি। এ পরিস্থিতিতে বিবেকের তাড়নায় দায়িত্বপালন থেকে বিরত থাকা এবং পদ থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করাকে আমি বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি সম্মান ও দায়িত্বশীলতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছি।’
এ বিষয়ে কথা হলে অ্যাডভোকেট সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম বারের এবারের নির্বাচন নিয়ে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়েছে। সবশেষ ঘোষিত তফসিলে আমরা চেয়েছিলাম সবার অবাধ অংশগ্রহণ। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। ২১ পদের সবাই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। মানে এখানে ভোটারদের কোনো সম্মান করা হয়নি। বিনাভোটের নির্বাচন হয়েছে। একজন সচেতন আইনজীবী হিসেবে আমাকে পীড়া দিচ্ছে। আমি তিনদিন আগেও অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ককে বলেছি, নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ না হলে আমি পদত্যাগ করবো।’
তিনি বলেন, ‘অনেককে নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম কিনতে দেওয়া হয়নি। আওয়ামীপন্থিদের দেওয়া হয়নি। এমন কী এলডিপির অ্যাডভোকেট শাহাদাতকেও মনোনয়ন ফরম কিনতে দেওয়া হয়নি। আমরাতো এ ধরনের নির্বাচন চাইনি। তাই মর্মপীড়া থেকে অ্যাডহক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি।’
এ বিষয়ে কথা হলে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা তারিক আহমদ বলেন, ‘আমরা একুশ পদের সবাইকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছি।’
নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম কিনতে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এ ধরনের অভিযোগ কেউ করেনি।’ ২১পদে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেউ ফরম না কিনলেতো আমার কিছু করার নেই।’
অ্যাডহক কমিটির এক সদস্যের পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি (সৈয়দ আনোয়ার হোসেন) আগে কোথায় ছিলেন। তিনি কেন পদত্যাগ করেছেন, তার ব্যক্তিগত বিষয়। কাউকেতো আমরা জোর করে নির্বাচনে আনতে পারবো না। প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় আমরা সবাইকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করেছি।
এ ব্যাপারে কথা বলতে সভাপতি নির্বাচিত হওয়া বিএনপিপন্থি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তারকে ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ মার্চ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন গঠন করে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটি। এতে মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা করা হয় অ্যাডভোকেট তারিক আহমেদকে। আর আইনজীবী মো. মাসুদুল আলম, মুহাম্মদ কবির হোসাইন, মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন এবং মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন শাহীনকে নির্বাচনী কর্মকর্তা করা হয়।
এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচন উপলক্ষে গেলো বছরের ৩০ ডিসেম্বর প্রথম দফায় নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। পরে ওই নির্বাচন কমিশন বাতিল করে ফের চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন গঠন করে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটি।
নির্বাচনে ২১টি পদের জন্য ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল। ভোটাধিকার প্রয়োগের কথা ছিল মোট ৫ হাজার ৪০৪ আইনজীবীর। এ নির্বাচন পরিচালনার জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের মাত্র চারদিন আগে পদত্যাগ করে। যার পরিপ্রেক্ষিতে সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাধারণ সভা করে নির্বাচনের লক্ষ্যে ১৬ ফেব্রুয়ারি ৫ সদস্যের চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়।

আইন-আদালত
জামিন চাইবো না, আদালতের জামিন দেওয়ার ক্ষমতা নেই: লতিফ সিদ্দিকী

সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে আদালতে আইনজীবী হিসেবে দাঁড়াতে তার স্বাক্ষরের জন্য যান অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম। তখন লতিফ সিদ্দিকী তাকে বলেন, আদালতের জামিন দেওয়ার ক্ষমতা নেই, এজন্য ওকালতনামায় স্বাক্ষর করবো না।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
এদিন রাজধানীর শাহবাগ থানায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠান আদালত।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না, মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু, মো. জাকির হোসেন, মো. তৌছিফুল বারী খাঁন, মো. আমির হোসেন সুমন, মো. আল আমিন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, দেওয়ান মোহম্মদ আলী ও মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম।
এদিন সকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। তাদের ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাদের এজলাসে তোলা হয়। এসময় আসামিদের হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট ও গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল। এজলাসে নিয়ে তাদের আসামির কাঠগড়ায় রাখা হয়।
এসময় শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন) পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ভয়াবহ অবস্থা। বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলি। এসময় পুলিশ সদস্যরা তাদের জ্যাকেট খুলে দেন। কাঠগড়ায় হাস্যেজ্জ্বল ছিলেন লতিফ সিদ্দিকী।
পরে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এজলাসে ওঠেন। তখন আদালতের অনুমতি নিয়ে আইনজীবীরা ওকালতনামায় আসামিদের স্বাক্ষর নেন। লতিফ সিদ্দিকী বাদে অধিকাংশ আসামিই ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেন। লতিফ সিদ্দিকীর কাছে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম সাইফ স্বাক্ষর নিতে গেলেও তিনি ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেননি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখিসহ অন্য আইনজীবীরা জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের প্রত্যেকের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে নেওয়ার পথে সাংবাদিকরা লতিফ সিদ্দিকীর নিকট জানতে চান তার কিছু বলার আছে কি না? তখন লতিফ সিদ্দিকী মাথা নাড়িয়ে জানান, তিনি কিছু বলবেন না।
শুনানি শেষে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম সাইফ জানান, লতিফ সিদ্দিকীর জামিনের আবেদন করতে যখন তার কাছে ওকালতনামা নিয়ে স্বাক্ষর করতে যাই, তখন তিনি বলেন, আদালতের জামিন দেওয়ার ক্ষমতা নেই, তার কাছে কেন জামিন চাইবো? আমি ওকালতনামায় স্বাক্ষর করবো না, জামিন চাইবো না।
আইন-আদালত
লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে

রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ (শুক্রবার) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক এ আদেশ দেন। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক তৌফিক হাসান আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া অন্য আসামিরা হলেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, মঞ্জুরুল আলম, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু, মো. জাকির হোসেন, মো. তৌছিফুল বারী খাঁন, মো. আমির হোসেন সুমন, মো. আল আমিন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, দেওয়ান মোহম্মদ আলী ও মো.আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম।
গতকাল ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত গোল টেবিল ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার পর সেখান থেকে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত লতিফ সিদ্দিকী ও কয়েকজনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক মো. আমিরুল ইসলাম মামলা দায়ের করেন।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২৮ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে মামলার বাদী দেখতে পান, বেশকিছু লোকজন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির অডিটোরিয়ামে কিছু লোককে ঘেরাও করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে স্লোগান দিচ্ছে এবং আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বক্তব্য দিচ্ছেন। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধে গত ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ওই সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, গোলটেবিল বৈঠকে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরাসহ আরও ৭০-৮০ জন অংশ নেন। পরে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।
উপস্থিত লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, লতিফ সিদ্দিকী মঞ্চ ৭১ এর ব্যানারকে পুঁজি করে প্রকৃতপক্ষে দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করে অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র ও উপস্থিত অন্যদের প্ররোচিত করে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যের জন্য উপস্থিত লোকজন সমবেতদের ঘেরাও করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে স্লোগান দেয়।
আইন-আদালত
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে রিভিউ আবেদনের শুনানি আজ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে দায়ের করা চারটি আবেদনের শুনানি বুধবার (২৭ আগস্ট) আবারও শুরু হচ্ছে।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাত বিচারকের বেঞ্চ এ শুনানি গ্রহণ করবেন।
এর আগে, মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) আবেদনগুলোর ওপর প্রাথমিক শুনানি হয়।
আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। এরপর আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ২৭ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বৈধতা নিয়ে প্রথম আইনি চ্যালেঞ্জ আসে ১৯৯৬ সালে। ওই বছরই সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়। পরে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন। হাইকোর্ট সেই রিট খারিজ করে সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করে। তবে ২০০৫ সালে রায়টির বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। দীর্ঘ শুনানির পর ২০১১ সালের ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ওই রায় দেন।
যদিও রায়ে বলা হয়েছিল, অবিলম্বে এই ব্যবস্থা বাতিল না করে দশম ও একাদশ জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হতে পারে। তবে তার জন্য সংসদে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রয়োজন বলে আদালত মত দেন।
এরপর দীর্ঘদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নতুন কোনো আইনি উদ্যোগ না থাকলেও, চলতি বছরের ২৫ আগস্ট বিষয়টির পুনরায় বিবেচনা চেয়ে প্রথম রিভিউ আবেদনটি করা হয়। সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ আরও চার বিশিষ্ট ব্যক্তি এই আবেদন করেন। বাকি চারজন হলেন— তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজ উদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া এবং জাহরা রহমান। তাদের পক্ষে আবেদন দাখিল করেন অ্যাডভোকেট শরীফ ভূঁইয়া ও ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন।
এরপর ১৬ অক্টোবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে রিভিউ আবেদন করা হয়। আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। সর্বশেষ ২৩ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার দাবিতে আরেকটি রিভিউ আবেদন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষে আবেদন দায়ের করেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এই আবেদনও দায়ের করেন আইনজীবী শিশির মনির।
আইন-আদালত
রিজার্ভ চুরি: প্রতিবেদন জমার তারিখ পেছালো ৮৮ বার

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়ে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে। এনিয়ে ৮৮ বারের মতো তারিখ পেছানো হলো।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এ দিন ধার্য করেন।
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়। পরে ওই টাকা ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। দেশের অভ্যন্তরের কোনো একটি চক্রের সহায়তায় হ্যাকার গ্রুপ রিজার্ভের অর্থপাচার করে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওই ঘটনায় একই বছরের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে অজ্ঞাতানামাদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) এর ৪ ধারাসহ তথ্যপ্রযুক্তি আইন-২০০৬ এর ৫৪ ধারায় ও ৩৭৯ ধারায় একটি মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে।
আইন-আদালত
শপথ নিলেন নবনিযুক্ত ২৫ বিচারপতি

নবনিযুক্ত অতিরিক্ত ২৫ বিচারপতিকে শপথ পড়িয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুর দেড়টায় সুপ্রিম কোর্ট জাজেজ লাউঞ্জে তাদের শপথ পড়ানো হয়।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ২৫ বিচারপতি নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপ্রধানের আদেশক্রমে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে ২৫ (পঁচিশ) জন ব্যক্তিকে শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে অনধিক ২ (দুই) বছরের জন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৫ অতিরিক্ত বিচারপতি হলেন- সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীন, আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলাম, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার জেনারেল আজিজ আহমেদ ভূঞা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাজিউদ্দিন আহমেদ, ফয়সাল হাসান আরিফ, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব এস এম সাইফুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসিব হাসান, মো. জিয়াউল হক, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দিহিদার মাসুম কবির, হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সচিব মুরাদ-এ-মাওলা সোহেল, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন, সলিসিটর মো. রফিকুল ইসলাম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুর আলম, মো. লুৎফর রহমান, রেজাউল করিম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাতেমা আনোয়ার, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদ হাসান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুর রহমান, সৈয়দ হাসান যুবাইর, ডেপুটি জেনারেল এ এফ এম সাইফুল করিম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উর্মি রহমান এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ।
কাফি