Connect with us

অন্যান্য

বাজার মূলধন বেড়েছে ২৩৪৯ কোটি টাকা, কমেছে লেনদেন

Published

on

ডিএসই

বিদায়ী সপ্তাহে (২৩ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন হয়েছে। এতে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ২ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা। তবে আলোচ্য সপ্তাহে টাকার অংকে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।

পুঁজিবাজারের সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৭১ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা। আর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহ ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ২ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা বা ০ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

সমাপ্ত সপ্তাহে বেড়েছে ডিএসইর সব কয়টি সূচক। প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১৭ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট বা ০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ২৬ দশমিক ৮১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪২ শতাংশ। আর ডিএসইএস সূচক বেড়েছে ১০ দশমিক ০৯ পয়েন্ট বা ০ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

আলোচ্য সপ্তাহে সূচকের উত্থানের পরও ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬২৭ কোটি ১১ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে মোট লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৩৮৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এক সপ্তাহে লেনদেন কমেছে ৭৫৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৭০ কোটি ৯ লাখ টাকা বা ১৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। চলতি সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪০৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছিল ৪৭৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ৩৯৬টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৯৩টি কোম্পানির, কমেছে ১৬১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

এসএম

শেয়ার করুন:-
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

অন্যান্য

আগে দেশের গণতন্ত্র সংস্কার করুন

Published

on

ডিএসই

গণতন্ত্রের মূল দর্শন হচ্ছে জনগণের ক্ষমতায়ন, বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন, স্বচ্ছ নির্বাচন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু বাংলাদেশে এই মৌলিক নীতিগুলোর কোনো বাস্তব প্রয়োগ নেই। গণতন্ত্রের নামে এখানে দলীয় স্বৈরতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র এবং দুর্নীতিবাজ শাসনের এক অপ্রতিরোধ্য দৃষ্টান্ত গড়ে উঠেছে। ফলে, জনগণের ভোটাধিকার কার্যত একটি নাটকে পরিণত হয়েছে, যেখানে নির্বাচনের ফল টাকার বিনিময়ে, ক্ষমতার দম্ভে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্ধারিত হয়।

এটি কেবল বাংলাদেশে নয়, বরং অধিকাংশ দরিদ্র দেশে গণতন্ত্রের নামে যে শাসনব্যবস্থা চলছে, তা মূলত ক্ষমতালিপ্সু গোষ্ঠীর শোষণের হাতিয়ার। প্রশ্ন ওঠে—গণতন্ত্র কি আদৌ দরিদ্র দেশের জন্য কার্যকর? আর যদি কার্যকর করতে হয়, তাহলে কোন কোন দিক সংস্কার করতে হবে?

গণতন্ত্রের প্রকৃত রূপ বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে দেখা যায়, যেখানে জনগণের অধিকার সুরক্ষিত, ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এবং রাজনৈতিক নেতারা জনসেবার জন্য কাজ করেন। অথচ বাংলাদেশসহ অনেক দরিদ্র দেশে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা সম্পূর্ণ বিকৃত হয়ে গেছে। এখানে বাকস্বাধীনতা মানে দলীয় আনুগত্য। বিরোধী মত প্রকাশ করা মানে রাষ্ট্রদ্রোহী বা ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত হওয়া। সত্য বলা মানে মামলা, গুম, বা নির্যাতনের শিকার হওয়া। সংবাদমাধ্যম দলের নিয়ন্ত্রণে, ফলে জনগণ কখনোই প্রকৃত সত্য জানতে পারে না।

দলীয় গডফাদারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা। যে দল ক্ষমতায় থাকবে, তাদের নির্দেশই চূড়ান্ত। প্রশাসন, পুলিশ, বিচারব্যবস্থা—সব দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হয়। বিচারব্যবস্থা দলীয় হস্তক্ষেপে দুর্বল হয়ে পড়েছে, ফলে অপরাধীদের বিচার হয় না। একনায়কতন্ত্র ও পরিবারতন্ত্রের ছায়ায় গণতন্ত্রের নামে ব্যক্তি বা পরিবারের শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন কেবলমাত্র ক্ষমতা ধরে রাখার নাটক, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনো সুযোগ নেই। জনগণের ভোটাধিকার একটি রীতিগত আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। দুর্নীতিই রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। করের টাকায় চলে লুটপাট ও ক্ষমতাসীনদের সম্পদ বৃদ্ধি। প্রশাসন থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী—সবাই দুর্নীতিতে জড়িত। ক্ষমতাসীনদের স্বার্থ রক্ষা করাই রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গণতন্ত্রের শর্ত হলো শিক্ষিত জনগণ, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা। কিন্তু দরিদ্র দেশে এই শর্তগুলো অনুপস্থিত থাকার কারণে গণতন্ত্র কার্যত ক্ষমতাশালীদের জন্য একটি সুবিধাজনক শাসনব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

গণতন্ত্রের ব্যর্থতা দরিদ্র দেশে এর বাস্তব চিত্র স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। ভোটাধিকার বিক্রি হয়। দরিদ্র জনগণ অর্থ বা সামান্য সুবিধার বিনিময়ে ভোট দেয়। রাজনৈতিক দলগুলো চাল, টাকা, কিংবা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে ভোট কিনে নেয়। ভোটকেন্দ্র দখল, ভুয়া ভোট এবং কারচুপি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেতাদের জবাবদিহিতা নেই। নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে না। জনগণের দারিদ্র্য ও অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বারবার ক্ষমতায় ফিরে আসে। নমিনেশন বাণিজ্য ও টাকার খেলা, নির্বাচনের আগে দলীয় মনোনয়ন কেনাবেচা হয়। ক্ষমতাবান ও দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। রাজনীতি মানে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি। রাজনৈতিক নেতারা সন্ত্রাসী বাহিনী পুষে রাখে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাঁদাবাজি, হামলা, ও হত্যা করা হয়।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হলে কেবল ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার। নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন করতে হবে। ইলেকট্রনিক ভোটিং ও ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ চালু করতে হবে। সুশিক্ষিত জনগণ ছাড়া কার্যকর গণতন্ত্র সম্ভব নয়, শিক্ষার মাধ্যমে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থাকে দলীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করতে হবে। দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য কঠোর আইন ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিতে হবে।

দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় তহবিলে ফিরিয়ে আনতে হবে।

বাংলাদেশের বর্তমান গণতন্ত্র আসলে ক্ষমতাবানদের শাসন টিকিয়ে রাখার একটি পদ্ধতি। এটি জনগণের কল্যাণ নয়, বরং রাজনৈতিক মাফিয়াদের স্বার্থ রক্ষা করে। গণতন্ত্র যদি সত্যিকার অর্থে কার্যকর করতে হয়, তাহলে প্রথমেই নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার করতে হবে, শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে হবে, এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিতে হবে। অন্যথায়, আমরা যতই গণতন্ত্রের বুলি আওড়াই না কেন, বাস্তবতা হবে একই—একটি ফাঁপা কাঠামো, যেখানে জনগণ শোষিত হবে, আর শাসকগোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। সুতরাং, গণতন্ত্রের নামে যদি দুর্নীতির রাজত্বই কায়েম থাকে, তবে সেটি গণতন্ত্র নয়, বরং জনগণের দাসত্বেরই আরেকটি রূপ।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র বর্তমানে একচ্ছত্র ক্ষমতার খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে। এখানে গণতন্ত্র মানে জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা ন্যায়বিচার নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার একটি কৌশল। ভোটাধিকার থাকলেও তা কার্যত অর্থ, ভয়ভীতি এবং প্রতারণার জালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক নেতারা জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা অনুভব করেন না, বরং নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিচারব্যবস্থাকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে। এর ফলে, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে বাংলাদেশে পরিবারতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র এবং দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক দুষ্টচক্র গড়ে উঠেছে।

রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের দৌরাত্ম্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একই পরিবারের সদস্যরা বছরের পর বছর ধরে দলীয় পদ, সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। ভোটের মাধ্যমে জনগণ নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে পারে না, কারণ রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নেই। দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত; নতুন নেতৃত্ব গড়ে ওঠা প্রায় অসম্ভব। যারা দেশপ্রেম এবং জনসেবার মানসিকতা নিয়ে রাজনীতিতে আসতে চায়, তারা দলীয় বলয়ের বাইরে ছিটকে পড়ে। অন্যদিকে, যারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতার দম্ভ দেখাতে সক্ষম, তারাই দলে জায়গা পায় এবং দ্রুত শীর্ষে উঠে আসে।

রাজনৈতিক দুর্নীতির আরেকটি ভয়াবহ দিক হলো নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বিকৃত হয়ে যাওয়া। দরিদ্র জনগণের ভোটাধিকার থাকলেও তা কার্যত মূল্যহীন হয়ে পড়েছে, কারণ ভোট কেনাবেচা এখন ওপেন সিক্রেট। রাজনৈতিক দলগুলো চাল, টাকা, বা প্রতিশ্রুতির লোভ দেখিয়ে ভোট সংগ্রহ করে, আর জনগণ নিরুপায় হয়ে সেই ফাঁদে পা দেয়। ভোটকেন্দ্র দখল, ভুয়া ভোট প্রদান এবং নির্বাচনী কারচুপি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে, গণতন্ত্রের নামে চলে ক্ষমতার বৈধতা অর্জনের প্রহসন, যেখানে জনগণের মতামতের কোনো বাস্তব মূল্য নেই।

এর চেয়েও ভয়ংকর বিষয় হলো, রাষ্ট্রীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। বিরোধী মত দমন করতে বিচারব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়, যাতে ক্ষমতাসীনরা নির্বিঘ্নে লুটপাট চালাতে পারে। আদালত থেকে শুরু করে পুলিশ—সবাই কার্যত দলীয় নির্দেশের বাইরে যেতে পারে না। ফলে দুর্নীতিবাজ নেতারা কোনো জবাবদিহিতা ছাড়াই রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করতে পারে, এবং জনগণ কিছুই করতে পারে না।

দুর্নীতি, দুঃশাসন এবং লুটপাটের এই চক্র যদি ভাঙা না যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গণতন্ত্র কেবল একটি ইতিহাসের পাতায় পড়ে থাকার মতো ধারণা হয়ে যাবে। জনগণ বারবার প্রতারিত হতে হতে একসময় গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে, এবং তখনই স্বৈরতন্ত্র আরও গভীর শেকড় গেড়ে বসবে। তাই, এই দুষ্টচক্র ভাঙতে হলে শুধু নির্বাচন বা আইনের সংস্কার যথেষ্ট নয়; দরকার রাজনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন এবং জনগণের মধ্যে সঠিক শিক্ষা ও সচেতনতা সৃষ্টি করা। অন্যথায়, বাংলাদেশে গণতন্ত্র শুধু একটি প্রতারণামূলক শাসনব্যবস্থা হয়ে থাকবে, যা ক্ষমতাসীনদের সুবিধা নিশ্চিত করতেই ব্যবহৃত হবে।

গণতন্ত্রের নামে প্রতারণা, লুটপাট এবং সন্ত্রাসের এই চক্র যদি বন্ধ করতে হয়, তবে প্রথমেই রাষ্ট্রকে রাজনীতি শব্দের প্রকৃত অর্থ নির্ধারণ করতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে “রাজনীতি” বলতে বোঝায় দুর্নীতির আখড়া, গুন্ডামি, লুটপাট, চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতার জন্য হিংস্র প্রতিযোগিতা। যারা এই অপরাধচক্রের নেতৃত্ব দেয়, তাদের “রাজনীতিবিদ” বলা আদৌ যৌক্তিক নয়। কারণ, প্রকৃত রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনসেবা, ন্যায়বিচার এবং নৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা—যা বর্তমান রাজনৈতিক গোষ্ঠী সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। তাই, আমি রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানাই, রাজনীতিবিদ বা রাজনীতি শব্দের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং জনগণের প্রকৃত সেবকদের নেতৃত্বে নিয়ে আসতে হবে।

আমরা “Politics” এবং “Politician” শব্দ ব্যবহার করি না, বরং “রাজনীতি” এবং “রাজনীতিবিদ” শব্দ ব্যবহার করি। কেন? কারণ “Politics” শব্দটি কৌশলগত ক্ষমতার খেলা বোঝায়, যেখানে প্রধান লক্ষ্য হলো ক্ষমতা অর্জন ও টিকিয়ে রাখা। এর মধ্যে জনসেবার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, বরং এটি ক্ষমতার এক দুঃসাহসিক খেলা মাত্র। কিন্তু “রাজনীতি” শব্দটির শাব্দিক অর্থ রাজ্যের নীতি, অর্থাৎ যে নীতির ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। এখানে জনকল্যাণ, ন্যায়বিচার ও সুশাসনই প্রধান। তেমনি, “Politician” হলো একজন পেশাদার ক্ষমতাকেন্দ্রিক ব্যক্তি, যার মূল কাজ হলো রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করা। কিন্তু “রাজনীতিবিদ” মানে এমন ব্যক্তি, যিনি রাজ্যের নীতি রচনা ও বাস্তবায়নে নিয়োজিত থাকেন, যার কাজ শুধু ক্ষমতা অর্জন নয়, বরং জনসেবাকে মূল লক্ষ্য হিসেবে নেওয়া।

ড. ইউনূস দেখিয়েছেন কীভাবে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে হয় এবং কীভাবে একজন দক্ষ নেতা তার দেশের জন্য কাজ করতে পারেন। ছিল কি এমনটি গত ৫৪ বছরে? তাহলে কীভাবে নিজেদেরকে রাজনীতিবিদ বলে দাবি করবেন?

এক্ষেত্রে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো ব্যক্তিত্বই প্রকৃত রাজনীতিবিদের উদাহরণ হতে পারেন। তিনি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেননি, জনগণের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। ক্ষুদ্রঋণ আন্দোলনের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে স্বাবলম্বী করেছেন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন এবং সর্বোপরি, নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জনগণের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। তিনি রাজনীতির প্রচলিত গণ্ডির বাইরেও প্রমাণ করেছেন যে, সত্যিকারের নেতৃত্ব মানে ক্ষমতা নয়, বরং মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ।

যেদিন বাংলাদেশে ড. ইউনূসের মতো মানুষদের রাষ্ট্র পরিচালনায় দেখতে পাবো, সেদিনই আমরা নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতে পারবো। সেদিন জনগণের সেবকরা “রাজনীতিবিদ” উপাধি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন। আর তার আগ পর্যন্ত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্র দুর্নীতিবাজদের কব্জায় বন্দি থাকবে, যেখানে রাজনীতি মানে হবে প্রতারণা, লুটপাট, ক্ষমতার লড়াই আর জনগণকে ব্যবহারের এক অনন্ত খেলা।

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুরো সংবাদটি পড়ুন

অন্যান্য

সোনার মুদ্রার জাদু

Published

on

ডিএসই

অনেক দূরের এক দেশে, যেখানে মানুষ স্বপ্ন দেখে, কিন্তু বাস্তবতা তাদের স্বপ্নকে বারবার গলা টিপে ধরে। সেখানে জন্ম নিল এক শিশু, যার চোখে ছিল সমুদ্রের গভীরতা আর মন ছিল আকাশের মতো বিস্তৃত। তার নাম ছিল “নুরান”—অর্থাৎ, যিনি আলো ছড়ান।

নুরান বড় হলো এমন এক সমাজে, যেখানে ধনী আরও ধনী হয়, আর গরিবেরা দিন গোনে কখন ভাতের থালায় ভাত উঠবে। কিন্তু সে থেমে থাকল না। তার মনে হলো, যদি আলো এক জায়গায় থাকে, তবে অন্ধকার কখনোই দূর হবে না। আলো ছড়িয়ে দিতে হবে।

সে জানতো, সে একা কিছু করতে পারবে না, তবে যদি একে একে হাজারো মানুষ একে অপরকে সাহায্য করতে শুরু করে, তবে সে সমাজ বদলে যেতে পারে। নুরান একদিন এমন এক সোনার মুদ্রা তৈরি করল, যা ছিল জাদুর মুদ্রা। এই মুদ্রার শক্তি ছিল এমন—যদি এটি একজন গরিব মানুষের হাতে পড়ে, তবে তা তার জীবনের পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবে। তবে, শর্ত ছিল একটাই- যদি সে এই সাহায্য নিয়ে অন্য কাউকে সাহায্য না করে, তবে মুদ্রাটি তার কাছে কোনো মূল্যহীন হয়ে যাবে।

ধীরে ধীরে, এই মুদ্রার জাদু ছড়িয়ে পড়তে লাগল। একে একে শত শত, হাজার হাজার মানুষ নিজেদের ভাগ্য বদলাতে থাকল, কিন্তু তারা সবাই আরও কাউকে সাহায্য করতে থাকল। ফলস্বরূপ, সমাজের চেহারাই বদলে গেল। একে অপরকে সাহায্য করার এই প্রক্রিয়া ক্রমেই একটি আন্দোলনে পরিণত হলো, যার শেকড় গেড়ে নিল মানবতার আদর্শ।

এই খবর ছড়িয়ে পড়ল রাজ্যের বাইরে, মহাদেশের বাইরে, গোটা বিশ্বে। বড় বড় রাজারা নুরানের এই জাদুর মুদ্রার রহস্য জানতে চাইল, কিন্তু সে শুধু বলল, এটি কোনো জাদু নয়, এটি শুধু বিশ্বাসের শক্তি।

একদিন, নুরানের সম্মানে এক বিশাল স্বর্ণমুদ্রা তৈরি করা হলো, যা শুধু তার অর্জনকেই নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য এক অনুপ্রেরণা হিসেবে রইল। আর সেই মুদ্রার একপাশে লেখা রইল—আলো একা নয়, আলো ছড়াতে জানলে তবেই তা সত্যিকারের আলো।

এই রূপকথা কোনো কল্পকাহিনি নয়, এটি আমাদের সময়ের এক সত্য গল্পের প্রতিচ্ছবি। এটির সাথে গভীর সম্পর্ক রয়েছে আমাদের সমাজের বর্তমান চিত্রের। এটি একটি মূর্ত প্রতীক—একটি আদর্শ, যা বিশ্বকে দেখাচ্ছে যে, শুধুমাত্র প্রতিটি ব্যক্তি নিজের উন্নতি নয়, বরং ঐক্যবদ্ধভাবে মানবতার কল্যাণে কাজ করলেই আসবে পরিবর্তন।

ঠিক সেই সোনার মুদ্রার মতোই, মানবতার ইতিহাসে খোদাই করে রাখা হয়েছে এক বিশেষ স্বর্ণমুদ্রা—যার গায়ে জ্বলজ্বল করছে আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতি। এটি কেবল ধাতুর নয়, এটি একটি আদর্শের প্রতীক, একটি পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি।

আর এই বিজয়ের মুদ্রাটি অর্জন করেছেন আমাদেরই একজন, যিনি অর্থনীতিকে কেবল সংখ্যার খেলা হিসেবে দেখেননি, বরং সেটিকে ব্যবহার করেছেন মানবতার কল্যাণে, দারিদ্র্যমোচনের এক অনন্য হাতিয়ার হিসেবে। তিনি কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং একটি নতুন যুগের স্থপতি, যার দর্শন বিশ্বকে দেখিয়েছে “সম্ভাবনার অর্থনীতি”—একটি এমন কাঠামো যেখানে অর্থ কেবল শক্তি নয়, বরং মুক্তির পথ।

এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি এক বৈশ্বিক আন্দোলনের সূচনা, যা হতে পারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার প্রথম পদক্ষেপ। একটি মানবিক সমাজ, একটি সত্যিকারের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য যে সংগ্রাম, তার মশাল হাতে তুলে নিয়েছেন তিনি।

বলছি নোবেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কথা—যিনি অর্থনীতিকে দাঁড় করিয়েছেন মানবকল্যাণের পক্ষে, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে, এবং পেয়েছেন শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার।

আমরা পেয়েছি তাকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর হতভাগ্য মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর এক অগ্রদূত হিসেবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—আমরা কী সত্যিই তার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেই লড়াইয়ে শতভাগ নিষ্ঠা নিয়ে এগিয়ে চলেছি? নাকি আমরা নিজেরাই বাধা ও কাঁটা হয়ে সেই চলার পথকে আরও কঠিন করে তুলছি?

তিনি দেখিয়েছেন যে দারিদ্র্য কোনো অভিশাপ নয়, বরং এটি একটি অব্যবস্থাপনার ফল। তিনি দেখিয়েছেন, অর্থনীতির সঠিক ব্যবহারে সমাজের প্রান্তিক মানুষও নিজের ভাগ্য গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু আমরা কী তার সেই শিক্ষাকে গ্রহণ করছি? নাকি সংকীর্ণ স্বার্থ আর বিভক্তির রাজনীতির ফাঁদে পড়ে সেই পরিবর্তনের গতিকে রুদ্ধ করে দিচ্ছি?

এই অর্জন কেবল একজন মানুষের নয়, এটি আমাদের সবার। এটি শুধু সম্মানের নয়, এটি দায়িত্বেরও। এখন সময় এসেছে আত্মজিজ্ঞাসার—আমরা কি সত্যিই ন্যায়ের পক্ষে? নাকি অজান্তেই অবিচারের শিকলে নিজেদের বন্দি করে ফেলেছি?
—জাগো বাংলাদেশ, জাগো!

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুরো সংবাদটি পড়ুন

অন্যান্য

প্রত্যাবাসী অভিবাসী কর্মীদের সহায়তায় ইউসিবি ও রেইজ প্রকল্পের চুক্তি

Published

on

ডিএসই

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসি এবং ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের (ডব্লিউইডব্লিউবি) অধীনে রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (রেইজ) প্রকল্প, উদ্যোক্তা উন্নয়নে প্রত্যাবাসী অভিবাসী কর্মীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ভবনে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।

ইউসিবির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদনান মাসুদ এবং রেইজ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্ম সচিব ড. এটিএম মাহবুব-উল করিম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিদেশফেরত কর্মীদের ব্যবসা শুরু বা সম্প্রসারণের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। যা তাদের অর্থনীতিতে পুনরায় একীভূত হতে সাহায্য করবে। ইউসিবি তাদের স্ব-কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষায়িত আর্থিক সেবা প্রদান করবে।

এসময় আদনান মাসুদ বলেন, এই উদ্যোগ বিদেশফেরত অভিবাসীদের ক্ষমতায়ন করবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।

ড. মাহবুব-উল করিম বলেন, টেকসই ব্যবসা গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডব্লিউইডব্লিউবি পরিচালিত রেইজ প্রকল্প প্রত্যাবাসী অভিবাসী কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে কাজ করে। ইউসিবির সাথে এই সহযোগিতা তাদের সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করবে।

শেয়ার করুন:-
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুরো সংবাদটি পড়ুন

অন্যান্য

স্টার্লিংক বনাম বাংলাদেশ স্যাটেলাইট: ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা

Published

on

ডিএসই

রাতের আকাশে যখন তাকানো হয়, তখন অসংখ্য তারা দেখা যায়। কিন্তু কিছু তারা যেন অন্যদের চেয়ে আলাদা—তারা স্থির নয়, বরং পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে চলেছে নিরন্তর। এগুলো আসলে সাধারণ তারা নয়, স্যাটেলাইট। মানুষ এখন তথ্য আদান-প্রদানের জন্য মহাকাশের এই ছোট্ট ধাতব বস্তুগুলোর উপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

একদিকে স্টার্লিংক, যা সারা বিশ্বে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পরিষেবা দিতে মহাকাশে বিশাল এক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১, বাংলাদেশের প্রথম নিজস্ব কৃত্রিম উপগ্রহ, যা দেশের সম্প্রচার এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।

কিন্তু প্রযুক্তির জগতে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আসছে। স্টার্লিংক ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, এবং এতে প্রশ্ন ওঠে—বাংলাদেশে স্টার্লিংকের বিস্তার কি বাংলাদেশ স্যাটেলাইটের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলবে? নাকি এই দুটি প্রযুক্তি পাশাপাশি টিকে থাকতে পারবে?

স্টার্লিংক: উচ্চগতির ইন্টারনেটের নতুন দিগন্ত
স্টার্লিংক মূলত একটি স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা, যা স্পেসএক্স কোম্পানি পরিচালনা করছে। এটি পৃথিবীর কক্ষপথে হাজার হাজার লো-আর্থ অরবিট (LEO) স্যাটেলাইট স্থাপন করে, যা ব্যবহারকারীদের দ্রুতগতির ইন্টারনেট সরবরাহ করে। স্টার্লিংকের ইন্টারনেট সংযোগ তৈরি হয় খুবই সহজভাবে—সিগন্যাল প্রথমে মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইট থেকে ব্যবহারকারীর ডিশ অ্যান্টেনার মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়, তারপর সেই সংকেত রাউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগে রূপান্তরিত হয়। এর ফলে দূরবর্তী কিংবা দুর্গম স্থানেও সহজেই ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

এই প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান সুবিধা হলো বিশ্বব্যাপী কাভারেজ। যেখানে ভূ-ভিত্তিক ইন্টারনেট অবকাঠামো পৌঁছাতে পারে না, সেখানে স্টার্লিংক পৌঁছে যায়। তাছাড়া, এটি প্রচলিত ভূ-স্থির কক্ষপথের স্যাটেলাইটের তুলনায় অনেক কম উচ্চতায় থাকে, ফলে ইন্টারনেট সেবার গতি বেশি এবং ল্যাটেন্সি কম হয়। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এটি অত্যন্ত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে—স্পেসএক্স ক্রমাগত নতুন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করছে, যা নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করছে।

বাংলাদেশ স্যাটেলাইট: সংকট ও সম্ভাবনা
২০১৮ সালে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয়, যা বাংলাদেশের প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ। এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক দূরে, Geostationary Earth Orbit (GEO)-তে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। এই স্যাটেলাইট মূলত টেলিভিশন সম্প্রচার, টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা, সরকারি ও সামরিক যোগাযোগ এবং দুর্যোগকালীন জরুরি সেবা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশি টিভি চ্যানেলগুলো বিদেশি স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার চালাতে পারে, এবং দূরবর্তী এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনের জন্য এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো, স্টার্লিংক যদি বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশ স্যাটেলাইটের ভবিষ্যৎ কী হবে?

স্টার্লিংক যেহেতু উচ্চগতির ইন্টারনেট পরিষেবা সরবরাহ করে এবং এতে ল্যাটেন্সি কম, তাই যারা দ্রুতগতির সংযোগ চায়, তারা সহজেই এটি বেছে নিতে পারে। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ যেহেতু একটি GEO স্যাটেলাইট, তাই এর উচ্চ ল্যাটেন্সি একটি বড় সীমাবদ্ধতা। স্টার্লিংক যদি বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং সহজলভ্য হয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশ স্যাটেলাইটের ইন্টারনেট পরিষেবা থেকে আয় কমে যেতে পারে।

তবে, বাংলাদেশ স্যাটেলাইটের গুরুত্ব পুরোপুরি হারিয়ে যাবে না। কারণ এটি শুধু ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার জন্য নয়, বরং সামরিক ও সরকারি নিরাপদ যোগাযোগ, টেলিভিশন সম্প্রচার, এবং দুর্যোগকালীন ব্যাকআপ পরিষেবা দেওয়ার জন্যও ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামরিক বাহিনী এখনও এই স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া, স্টার্লিংকের সেবার খরচ তুলনামূলক বেশি, যা বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জন্য সহজলভ্য নাও হতে পারে।

বাংলাদেশ স্যাটেলাইট: অর্থনৈতিক বাস্তবতা
এই স্যাটেলাইট নির্মাণে বাংলাদেশ প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তবে এখন পর্যন্ত এটি প্রত্যাশিত পরিমাণে রাজস্ব আয় করতে পারেনি। বাংলাদেশের বেশিরভাগ টিভি চ্যানেল এখনও বিদেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে, এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্যাটেলাইটের ব্যান্ডউইথ বিক্রির পরিকল্পনা থাকলেও তেমন সাফল্য আসেনি। ফলে, এটি এখনো লাভজনক হতে পারেনি, বরং এটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আরও অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে, যা সরকারের জন্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। যদি নতুন বাণিজ্যিক পরিকল্পনা তৈরি করা না হয়, তাহলে এটি দীর্ঘমেয়াদে ঋণের বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নামের রাজনীতি ও বাস্তবতা
শুধু বাংলাদেশ স্যাটেলাইট নয়, বাংলাদেশের অনেক বড় প্রকল্পই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নামে নামকরণ করা হয়। এটি শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই দেখা যায়। মূলত, সরকার বা ক্ষমতাসীন দল তাদের কৃতিত্বকে জনগণের মনে গেঁথে রাখতে চায়। তবে প্রকল্পের নামের চেয়ে এর কার্যকারিতা এবং টেকসই পরিকল্পনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ স্যাটেলাইট প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে শুধু নাম নয়, কার্যকর নীতিমালার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। নামের চেয়ে কর্মদক্ষতা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ—সেটিই হতে হবে মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কি টিকে থাকতে পারবে?
শেষ পর্যন্ত, স্টার্লিংক ও বাংলাদেশ স্যাটেলাইট একে অপরের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, তবে স্টার্লিংকের জনপ্রিয়তা বাংলাদেশ স্যাটেলাইটের কিছু পরিষেবা থেকে রাজস্ব কমিয়ে দিতে পারে। তাই, সরকার যদি বাংলাদেশ স্যাটেলাইট প্রকল্পকে লাভজনক করতে চায়, তাহলে—
• দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এর পরিষেবা গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে।
• আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যান্ডউইথ বিক্রির কৌশল তৈরি করতে হবে।
• দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের আগে প্রথম স্যাটেলাইটকে লাভজনক করার পরিকল্পনা নিতে হবে।

প্রশ্ন হলো- বাংলাদেশ কি বাংলাদেশ স্যাটেলাইটকে লাভজনক করতে পারবে, নাকি এটি কেবলমাত্র একটি রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবেই থেকে যাবে?

রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন। rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুরো সংবাদটি পড়ুন

অন্যান্য

নীতি সহায়তা চেয়ে এনবিআরকে বিজিবিএর পাঁচ প্রস্তাব

Published

on

ডিএসই

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনায় বেশ কয়েকটি নীতি সহায়তা চেয়ে প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশন (বিজিবিএ)।

বিজিবিএর সহসভাপতি এ কে এম সাইফুর রহমান এ সহায়তা চেয়ে পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছেন। এগুলো হলো- অগ্রিম আয়কর (এআইটি) সাড়ে ৭ শতাংশ করা, নমুনার জন্য একটি পৃথক পাস বই চালু, লোকাল সোর্স ফ্যাব্রিক ও ট্রিমস ব্যবহার করে রপ্তানির অনুমতি, রপ্তানির পর শুল্ক প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক ট্রেড মেলার জন্য ভর্তুকি।

এ ছাড়াও পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে এমন কিছু সহায়তা চেয়েছেন সাইফুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে এ আলোচনায় বিভিন্ন সংগঠনের ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এনবিআর সভাপতিকে উদ্দেশ করে বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহদাত হোসেন সোহেল বলেন, ব্যবসায়ীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। আপনি দুর্নীতি বন্ধ করুন। ব্যবসায়ীরা আপনাদের সবকিছু দেবে। চট্টগ্রাম পোর্টের বিভিন্ন জায়গায় অনেক কিছু ঘটে। আমার কাছে অনেক তথ্য রয়েছে। ভয়েস ম্যাসেজসহ আপনাকে পাঠিয়েছিলাম। এখনও বন্ধ হয়নি। আপনার কাছে আবারও অনুরোধ করবো, আপনার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তারা অনেক শক্তিশালী। মেম্বার সাহেবও আপনার থেকে শক্তিশালী।

অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জানিয়ে বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কে এম ইকবাল বলেন, কদিন আগে পানগাঁও স্টেশনে দুটি কন্টেইনার আটকানো হয় আমান প্ল্যাস্টিকে। দুটির ডিউটি সাত কোটি টাকা দাবি করা হয়। ওই ছেলেটা এক সময় আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল। আমি ওকে ফিরিয়ে এনেছি। সরকার পরিবর্তনের পর সেই কনটেইনার ছেলেটি কোটি টাকা দিয়ে ছাড়িয়েছে।

আলোচনায় বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিলেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন উৎসে কর্তনের হার হ্রাস, নগদ প্রণোদনা থেকে উৎসে কর কর্তনের হার কমানো এবং ১০ কাউন্ট ও ২০ কাউন্ট সুতায় শুল্ক ও কর কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সরকারের নীতি সহায়তা চায় বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ)। পাশাপাশি আসন্ন বাজেটে রপ্তানির বিপরীতে প্রযোজ্য উৎসে কর অর্ধেক কমানোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটি আগামী ৫ বছরের জন্য উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫০ শতাংশ করার, ব্যক্তি পর্যায়ে করমুক্ত আয়ের সীমা সাড়ে ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার, কোম্পানির ক্ষেত্রে সঞ্চয়ী আমানত, স্থায়ী আমানত ইত্যাদির সুদ/মুনাফার ওপর উৎসে কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে।

বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রদান, নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ)। বাংলাদেশ বিস্কুট, ব্রেড ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি কেক, বিস্কুট ও কনফেকশনারি পণ্যে শুল্ক অব্যাহতি চেয়েছে।

তথ্য প্রযুক্তিখাতে কর অব্যাহতি ২০৩১ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে বেসিস। পাশাপাশি ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে ওঠার আগে ক্যাশলেস ট্রানজেকশনের শর্ত শিথিল করার, দেশি সফটওয়্যার ও তথ্য প্রযুক্তির ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার, সফটওয়্যার রপ্তানিতে প্রণোদনা ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে।

প্লাস্টিকের খেলনা প্রস্তুতে ২৪ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে করছাড় চেয়েছে বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ)।

বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারসন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এলপিজি অটোগ্যাস সেক্টরকে ট্যাক্স হলিডে সুবিধা প্রদান, এলপিজি কনভারসন কিট, সিলিন্ডার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়েছে। পাশাপাশি ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সংযোজিত মূসক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছে।

আমদানি করা ১৪টি কাঁচামালে কর ছাড় চেয়েছে বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতি। রপ্তানির উদ্দেশে উৎপাদিত পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাঁচামাল বাবদ আরোপযোগ্য শুল্ক ও করের বিপরীতে শতভাগ ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে বন্ড সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।

দি বাংলাদেশ জুয়েলারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন হিরা আমদানির রপ্তানিতে মূসকের ওপর ২০ শতাংশ ভর্তুকি ও স্বর্ণের গহনার ক্ষেত্রে তিন বছরের জন্য মূসকের ওপর ৫০ শতাংশ ভর্তুকি প্রদানের প্রস্তাব করেছে। আর বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশন ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে এআইটি ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএম) ২০৩০ সাল পর্যন্ত ১৫ শতাংশ হারে আয়কর দেওয়ার দাবি জানায় সংগঠনটি।

বিটিএমএর পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, ভারতীয় সুতার প্রভাবে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ৭-৮ কোটি টাকার সুতা অবিক্রিত রয়েছে। আমরা মুনাফা করতে পারছি না।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, করপোরেট কর যেটা নেই সেটা আয়ের ওপর পারসেন্টেজ। গত ৫-৭ বছরে করপোরেট কর অনেক কমিয়েছি। কমাতে কমাতে ২৫ শতাংশে এনেছি। ১০০ টাকা লাভ হলে ২৫ টাকা সরকারকে দেবেন। আপনাদের লাভ হয় না বলছেন। তাহলে সরকারকে টাকা দেওয়ার দরকার নেই। সেক্ষেত্রে আপনার রিডিউস রেট যেটা আছে ১৫ শতাংশ সেটা আপনাদের কেন দরকার। আমাকে বোঝান। এই ১২-১৫ শতাংশ কার দরকার, যার অনেক লাভ হয়। ২৫ শতাংশ হলে হাজার কোটি টাকা ট্যাক্স দেয়। রেগুলার ট্যাক্স রেট হলে সমস্যা কী। পাশাপাশি ভারতীয় সুতা এত কম দামে আসে কীভাবে?

তবে ১৫ শতাংশ কর হার রাখার যুক্তিতে নানান বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্যরা। এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আপনার ১৫ শতাংশ কেন হবে। এটার কোনো লজিক দেখি না। এটাতে আপনাদের বদনাম হচ্ছে। বলা হচ্ছে টেক্সটাইল খাতে কর হার কম। আপনারা রেগুলার রেটে চলে আসেন। ট্যাক্স হলে দেবেন, না হলে দেবেন না।

তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে আমরা অনেক কর অব্যাহতি বাতিল করেছি। সে সব অব্যাহতি এ বছরের জুনে শেষ হবে, একটাও আর নতুন করে বাড়বে না। সবচেয়ে বেশি আপনাদের কথা শুনেছি। আপনারা বোঝাতে পারছেন না কেন। আরও বোঝান। দরকার হলে আজকে সারাদিন শুনবো। আমরা কেউ বুঝবো না এটা তো হয় না।

শেয়ার করুন:-
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুরো সংবাদটি পড়ুন

পুঁজিবাজারের সর্বশেষ

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার17 hours ago

কলম্বো ও পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে ডিএসইর সমঝোতা

অর্থসংবাদ whatsapp চ্যানেল ফলো করুন দক্ষিণ এশিয়ার এক্সচেঞ্জগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার জন্য একটি কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকা স্টক...

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার2 days ago

সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড

অর্থসংবাদ whatsapp চ্যানেল ফলো করুন বিদায়ী সপ্তাহে (২৩ মার্চ-২৮ মার্চ) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর...

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার2 days ago

সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির শীর্ষে এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড

অর্থসংবাদ whatsapp চ্যানেল ফলো করুন বিদায়ী সপ্তাহে (২৩ মার্চ-২৭ মার্চ) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া...

Orion Infusion Orion Infusion
পুঁজিবাজার2 days ago

সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষে ওরিয়ন ইনফিউশন

অর্থসংবাদ whatsapp চ্যানেল ফলো করুন বিদায়ী সপ্তাহে (২৩ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে...

ডিএসই ডিএসই
অন্যান্য3 days ago

বাজার মূলধন বেড়েছে ২৩৪৯ কোটি টাকা, কমেছে লেনদেন

অর্থসংবাদ whatsapp চ্যানেল ফলো করুন বিদায়ী সপ্তাহে (২৩ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের...

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার4 days ago

গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন

অর্থসংবাদ whatsapp চ্যানেল ফলো করুন গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ৩৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা আজ বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনলাইন...

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার4 days ago

আইপিও অনুমোদনের প্রাথমিক ক্ষমতা স্টক এক্সচেঞ্জকে দেওয়ার সুপারিশ

অর্থসংবাদ whatsapp চ্যানেল ফলো করুন পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি আসার ক্ষেত্রে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও অনুমোদনের প্রাথমিক ক্ষমতা স্টক এক্সচেঞ্জের হাতে...

Advertisement
Advertisement

Advertisement

সোশ্যাল মিডিয়া

২০১৮ সাল থেকে ২০২৩

অর্থসংবাদ আর্কাইভ

তারিখ অনুযায়ী সংবাদ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
ডিএসই
সারাদেশ39 minutes ago

আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ও ইফতার মাহফিল

ডিএসই
জাতীয়2 hours ago

যেসব এলাকায় ৪৮ ঘণ্টা গ্যাসের চাপ কম থাকবে

ডিএসই
অর্থনীতি2 hours ago

ঈদযাত্রায় প্রতি মিনিটে যমুনা সেতু পাড়ি দিয়েছে ২৯ গাড়ি

ডিএসই
সারাদেশ2 hours ago

সব রেকর্ড ভেঙে শোলাকিয়ায় ৬ লাখের বেশি মুসল্লির অংশগ্রহণ

ডিএসই
সারাদেশ2 hours ago

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ঝরলো ৫ প্রাণ

ডিএসই
অর্থনীতি3 hours ago

ইতিহাসে প্রথমবার স্বর্ণের দাম ৩১শ ডলার ছাড়ালো

ডিএসই
জাতীয়3 hours ago

বায়তুল মোকাররমে ঈদের ৫ জামাত অনুষ্ঠিত

ডিএসই
অর্থনীতি4 hours ago

যমুনা সেতুতে একদিনে টোল আদায় দুই কোটি ২৫ লাখ টাকা

ডিএসই
জাতীয়4 hours ago

মোঘল আমলের কায়দায় ঢাকায় ঈদ আনন্দ মিছিল

ডিএসই
জাতীয়5 hours ago

জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

ডিএসই
সারাদেশ39 minutes ago

আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ও ইফতার মাহফিল

ডিএসই
জাতীয়2 hours ago

যেসব এলাকায় ৪৮ ঘণ্টা গ্যাসের চাপ কম থাকবে

ডিএসই
অর্থনীতি2 hours ago

ঈদযাত্রায় প্রতি মিনিটে যমুনা সেতু পাড়ি দিয়েছে ২৯ গাড়ি

ডিএসই
সারাদেশ2 hours ago

সব রেকর্ড ভেঙে শোলাকিয়ায় ৬ লাখের বেশি মুসল্লির অংশগ্রহণ

ডিএসই
সারাদেশ2 hours ago

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ঝরলো ৫ প্রাণ

ডিএসই
অর্থনীতি3 hours ago

ইতিহাসে প্রথমবার স্বর্ণের দাম ৩১শ ডলার ছাড়ালো

ডিএসই
জাতীয়3 hours ago

বায়তুল মোকাররমে ঈদের ৫ জামাত অনুষ্ঠিত

ডিএসই
অর্থনীতি4 hours ago

যমুনা সেতুতে একদিনে টোল আদায় দুই কোটি ২৫ লাখ টাকা

ডিএসই
জাতীয়4 hours ago

মোঘল আমলের কায়দায় ঢাকায় ঈদ আনন্দ মিছিল

ডিএসই
জাতীয়5 hours ago

জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

ডিএসই
সারাদেশ39 minutes ago

আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ও ইফতার মাহফিল

ডিএসই
জাতীয়2 hours ago

যেসব এলাকায় ৪৮ ঘণ্টা গ্যাসের চাপ কম থাকবে

ডিএসই
অর্থনীতি2 hours ago

ঈদযাত্রায় প্রতি মিনিটে যমুনা সেতু পাড়ি দিয়েছে ২৯ গাড়ি

ডিএসই
সারাদেশ2 hours ago

সব রেকর্ড ভেঙে শোলাকিয়ায় ৬ লাখের বেশি মুসল্লির অংশগ্রহণ

ডিএসই
সারাদেশ2 hours ago

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ঝরলো ৫ প্রাণ

ডিএসই
অর্থনীতি3 hours ago

ইতিহাসে প্রথমবার স্বর্ণের দাম ৩১শ ডলার ছাড়ালো

ডিএসই
জাতীয়3 hours ago

বায়তুল মোকাররমে ঈদের ৫ জামাত অনুষ্ঠিত

ডিএসই
অর্থনীতি4 hours ago

যমুনা সেতুতে একদিনে টোল আদায় দুই কোটি ২৫ লাখ টাকা

ডিএসই
জাতীয়4 hours ago

মোঘল আমলের কায়দায় ঢাকায় ঈদ আনন্দ মিছিল

ডিএসই
জাতীয়5 hours ago

জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার