ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
গুচ্ছ ভর্তি বহাল রাখতে জরুরি নির্দেশনা

বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ২৪ উপাচার্যকে (ভিসি) একটি জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত একটি চিঠিতে স্ব স্ব উপাচার্যের (ভিসি) বিশ্ববিদ্যালয়কে গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতিতে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) এ চিঠি দেয়া হয়। তবে এর আগে সার্বিক পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যকে (ভিসি) চিঠি পাঠিয়েছে। এমনকি শিক্ষা উপদেষ্টা তার অফিসিয়াল প্যাডে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিগুলো তুলে ধরে আধা-সরকারি একটি পত্রও পাঠিয়েছেন। তবুও গুচ্ছে ফিরতে নারাজ ওই সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি।
গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের উদ্দেশে জরুরি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার সুষ্ঠু উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য ২০২০ সাল থেকে দেশের সরকারি সাধারণ, কৃষি, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের আর্থিক ও মানসিক চাপ কমানো, ভর্তি প্রক্রিয়ার সময় সাশ্রয় করা এবং মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ ও সমন্বিত পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন নিশ্চিত করা।
ফলে উচ্চশিক্ষার উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীবান্ধব একটি কার্যক্রম হিসেবে গুচ্ছ পদ্ধতি ইতোমধ্যে জনমনে আস্থা অর্জন করেছে। এ পদ্ধতিতে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথকভাবে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, আবাসন, এবং অন্যান্য খরচ বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। গুচ্ছ পদ্ধতির মাধ্যমে একটি মানসম্মত প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতে মেধাভিত্তিক ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকরা একাধিক ভর্তি পরীক্ষার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
এতে আরও বলা, গত ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় এ পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব উদ্যোগে পৃথকভাবে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের এবং অভিভাবকদের জন্য তা বাড়তি আর্থিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং জনমনে শিক্ষা প্রশাসনের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের পুনরায় গুচ্ছ পদ্ধতির সুফল বিবেচনা করে এ পদ্ধতি বজায় রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে এ সংক্রান্ত একটি সভা করার পাশাপাশি গুচ্ছ পদ্ধতি বহাল রাখার বিষয়ে একটি পত্র জারি করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা উপদেষ্টা স্বাক্ষরিত একটি আধা-সরকারি পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। এ অবস্থায় উপাচার্যদের নেতৃত্বে তার বিশ্ববিদ্যালয়টি যেন গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রাখে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
প্রসঙ্গত, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও খরচ কমাতে চালু করা হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতি। এবার দুটি গুচ্ছ থেকে এ পর্যন্ত সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় বেরিয়ে গেছে। আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বেরিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা গুচ্ছ ভর্তি বহাল রাখতে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তারা এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে স্মারকলিপিও দিয়েছেন।
তবে গত ১ ডিসেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা একটি চিঠিতে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তির ব্যবস্থা অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ জানান। এরপর ১০ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয় থেকে গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে আরেকটি চিঠি দেওয়া হয়। এর আগে গত ২৭ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তিতে গুচ্ছ পদ্ধতির বিষয়ে জরুরি বৈঠক করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই বৈঠকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বেশি এমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এবং তুলনামূলক নতুন প্রতিষ্ঠিত ও জনবল কম থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুচ্ছ পদ্ধতি রাখার পক্ষে অবস্থান নেন। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়েছিল।
২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়া চালু হয়। সবশেষ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ গুচ্ছভুক্ত ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় একসঙ্গে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ভর্তি করেছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ৭টি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে গেছে। এরই মধ্যে জগন্নাথ, কুমিল্লা, খুলনা, বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভর্তি পরীক্ষা নিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
এছাড়া, প্রকৌশল গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), রাজশাহী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে, কৃষি গুচ্ছ থেকেও বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। এছাড়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষক সমিতি গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে যেতে প্রশাসনকে চাপ দিচ্ছেন। একই দাবিতে সেখানে শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে নেমেছেন।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
এসএসসি পাসে সিটি গ্রুপে চাকরির সুযোগ

সম্প্রতি জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বহুজাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ‘ইলেক্ট্রিশিয়ান/সিনিয়র ইলেক্ট্রিশিয়ান’ পদে জনবল নিয়োগ দেবে। আগ্রহীরা আগামী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।
প্রতিষ্ঠানের নাম: সিটি গ্রুপ
বিভাগের নাম: ঢাকা সল্ট অ্যান্ড সিরামিকস লিমিটেড
পদের নাম: ইলেক্ট্রিশিয়ান/সিনিয়র ইলেক্ট্রিশিয়ান
পদসংখ্যা: ০২ জন
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এসএসসি
অভিজ্ঞতা: ০৫ বছর
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
চাকরির ধরন: ফুল টাইম
প্রার্থীর ধরন: পুরুষ
বয়স: ২৫-৪০ বছর
কর্মস্থল: মুন্সীগঞ্জ (গজারিয়া)
আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা City Group এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের শেষ সময়: ২১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।
সূত্র: বিডিজবস ডটকম
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের নিয়মে পরিবর্তন আনছে এনটিআরসিএ

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) প্রতি বছর একটি করে নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থাকে। সেই হিসেবে চলতি বছর ১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার কথা। কিন্তু কবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে, তা জানাতে পারেনি সংস্থাটি।
এনটিআরসিএ কর্মকর্তারা বলছেন, ১৮তম নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষা চলছে। শিগগির এ মৌখিক পরীক্ষা শেষ হবে। এরপর ১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে কাজ শুরু হবে।
সংস্থার সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় বেশ কিছু পরিবর্তন আসবে। সেগুলো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে নিবন্ধন পরীক্ষার পরিবর্তিত হতে যাওয়া নিয়মগুলো চূড়ান্ত করা হবে। তারপর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
জানতে চাইলে এনটিআরসিএ সচিব এ এম এম রিজওয়ানুল হক বলেন, আমাদের নীতিমালায় প্রতিবছর একটি করে নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা উল্লেখ রয়েছে। সে অনুযায়ী চলতি বছরের মধ্যে আরেকটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। কবে বিজ্ঞপ্তি হবে, তা এখনো বলার মতো অগ্রগতি হয়নি।
দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা অর্জন করতে হয় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত ১৮টি নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে এনটিআরসিএ। এ নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে ১ লাখেরও বেশি প্রার্থীকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
কর্মচারীদের মাঝে ইবি ছাত্রশিবিরের ঈদ উপহার প্রদান

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীদের মাঝে ঈদ সামগ্রী উপহার প্রদান করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ইবি শাখা। গত বুধবার (২৬ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলে বিকাল ৪টায় এ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। এতে প্রায় ১২০ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীর মাঝে ঈদ সামগ্রী উপহার প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইবি শিবির সভাপতি মু. মাহমুদুল হাসান বলেন, পবিত্র রমজান মাস শেষে একরাশ আনন্দ আর খুশির বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত হয়েছে ঈদ-উল-ফিতর। দীর্ঘ এক মাস আত্মসংযম, ত্যাগ ও ইবাদতের মাধ্যমে আমরা নিজেদেরকে পরিশুদ্ধ করেছি। ঈদ সেই সিয়াম সাধনার পরিসমাপ্তি এবং আনন্দের দিন। ঈদ মানেই উৎসব, ঈদ মানেই মিলনের বার্তা। এই দিনে ধনী-গরিব, ছোট-বড় সকলের ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে শামিল হই, একে অপরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করি। আমাদের চারপাশে অনেক সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় ও দুস্থ মানুষ রয়েছেন, যারা হয়তো ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত। এই দিনে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। ঈদ শুধু ব্যক্তিগত উৎসব নয়; বরং এটি সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের প্রতীক।
তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন কর্মচারীরা, যারা প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের জন্য নিরলস পরিশ্রম করেন- তাদের জন্য এই আয়োজন। সবার মুখে হাসি ফোটানোর মাধ্যমে ঈদের আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলতেই আমাদের এই প্রচেষ্টা। ছাত্রশিবির প্রতিবছরই বিভিন্ন স্তরের জনসাধারণের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো সবার মাঝে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা। আসুন, আমরা সবাই মিলেমিশে ঈদ আনন্দে মেতে উঠি এবং একই সাথে সমাজের অবহেলিত মানুষগুলোর প্রতি আমাদের সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিই।
অর্থসংবাদ/সাকিব/এসএম
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কর্পোরেট সংবাদ
ইসলামী ব্যাংকিং ইসলামের মৌলিক আকিদার সাথে সম্পর্কিত: ঢাবি ভাইস চ্যান্সেলর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেছেন, ইসলামী ব্যাংকিং ইসলামের মৌলিক আকিদার সাথে সম্পর্কিত। ইসলামী ব্যাংকব্যবস্থাকে সমাজে ছড়িয়ে দিতে হলে মানবসেবার ব্রত নিয়ে কাজ করতে হবে।
রবিবার (২৩ মার্চ) ইসলামিক ব্যাংকস কনসালটেটিভ ফোরামের (আইবিসিএফ) উদ্যোগে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং-এ শরীয়াহ গভর্নেন্স: প্রয়োগ ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাবি ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং নিয়ে গবেষণার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এই খাতের উন্নয়নে তাত্তি¡ক ও বাস্তবিক জ্ঞানের সম্মিলন প্রয়োজন। ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাক্ষরতার জন্য জ্ঞানভিত্তিক বড় প্রচারণা দরকার। এই প্রচারণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ব্যাংকিং প্রফেশনালদের সাথে থাকতে চায়। আইবিসিএফ এর উদ্যোগে জাতীয় পর্যায়ে ইসলমী ব্যাংকখাতের অংশীজনদের যে সমাবেশ ঘটেছে তা জাতির বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে অব্যাহত রাখতে হবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইবিসিএফ ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মান্নান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভাইস চ্যান্সেলর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হাসিনা শেখ। সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইবিসিএফর টাস্ক কমিটির চেয়ারম্যান ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা।
সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও আইবিসিএফর সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন, আল-আরাফাহ
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও আইবিসিএফ-এর ভাইস চেয়ারম্যান খাজা শাহরিয়ার, ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও আইবিসিএফ-এর অ্যাডভাইজার মু. ফরীদ উদ্দিন আহমদ এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান ও আইবিসিএফ এর মেম্বার ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ।
মোহাম্মদ আবদুল মান্নান সভাপতির ভাষণে বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, আমানত সংগ্রহ, বিনিয়োগ বিকেন্দ্রীকরণ, কল্যাণধর্মী প্রোডাক্ট উদ্ভাবন, বৈদেশিক বাণিজ্য ও
রেমিট্যান্স সেবার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি জনকল্যাণ ও জীবনমানের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ৭০০টি শাখা, প্রচলিত ১৬টি ব্যাংকের ৩৪টি শাখা এবং ১৯টি ব্যাংকের ৮২৫টি উইন্ডোর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে যা দেশের সার্বিক ব্যাংকিং খাতের প্রায় এক তৃতীয়াংশ।
মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ে স্বতন্ত্র একটি বিভাগ প্রতিষ্ঠার ফলে দীর্ঘদিনের অভাব পূরণ হয়েছে। দেশের ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য স্বতন্ত্র ব্যাংকিং আইন দীর্ঘদিনের দাবী, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে খসড়া আইন হিসেবে প্রণয়ন করে স্টেকহোল্ডারদের মতামতের জন্য প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, আইবিসিএফ-এর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এই আইন দেশে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকখাতে সরাসরি ৫৩ হাজার ব্যাংকার ইসলামী অর্থায়ন সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ইসলামী ব্যাংকিং পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল যোগান দিতে তিনি শিক্ষা কারিকুলামে ইসলামী ব্যাংকিং বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দেন। এছাড়া শরীয়াহ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির জন্য ব্যাংকার, গ্রাহক, শিক্ষাবিদদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আইবিসিএফ-এর অ্যাডভাইজার একেএম নূরুল ফজল বুলবুলের সঞ্চালনায় সেমিনারে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আইবিসিএফর সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু নাসের মোহাম্মদ আব্দুজ জাহের। এ সময় বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উদ্যোক্তা, সিনিয়র ব্যাংকার, শিক্ষাবিদ, শরীয়াহ বিশেষজ্ঞসহ এই খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ইবিতে যথাযথ মর্যাদায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আনন্দ শোভাযাত্রা, বেলুন উড়ানো, শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনসহ যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবন চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী। এ সময় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে পতাকা উত্তোলন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আনন্দের প্রতীক বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এরপর উপাচার্যের ডিনবৃন্দসহ সব অনুষদ, হল, বিভাগ, সব পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রী, বিভিন্ন সমিতি, পরিষদ ও ফোরাম, বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন এবং সাংবাদিক সংগঠনের অংশগ্রহণে প্রশাসন ভবন চত্বর থেকে এক শোভাযাত্রা বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্মৃতিসৌধে সমবেত হয়। এসময় মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন উপাচার্য, উপ উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষ।
এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সমিতি, পরিষদ, আবাসিক হল, বিভাগ, ছাত্রসংগঠন এবং সাংবাদিক সংগঠন পর্যায়ক্রমে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরবর্তীতে শহীদ জিয়াউর রহমান কর্তৃক স্থাপিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। এসময় পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ ছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের রুহের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে বাদ জোহর কেন্দ্রীয় মসজিদ, আবাসিক এলাকার মসজিদ এবং হল মসজিদসমূহে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, গতকাল ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে রাত সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতীকী ব্লাক আউট করা হয়।
অর্থসংবাদ/সাকিব/এসএম