পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজারে হঠাৎ নিয়ম পরিবর্তনে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয়: ডিএসই চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজারের নিয়ম-কানুনগুলো হঠাৎ পরিবর্তন করার কারণে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের সাধারন বিনিয়োগকারীদের গবেষণা করার সুযোগ না থাকায় তারা বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই পুঁজিবাজার মধ্যস্থতাকারীদের গবেষনা বৃদ্ধি করতে হবে। যা বাজার উন্নয়নে সহায়ক হবে।
বুধবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৪ উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিনিয়োগ এবং বিনিয়োগকারীদের স্থিতিস্থাপকতার মূল বিষয়’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেমিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম এবং সিএসইর চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডিএসইর মহাব্যবস্থাপক এবং প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ছামিউল ইসলাম।
ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা অনেক গবেষণার মাধ্যমে বিনিয়োগ করে থাকেন। আর তাদের গবেষণা মূলত আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে। কিন্তু আর্থিক প্রতিবেদনগুলোতে অনেক সময় সঠিক তথ্য উপস্থাপিত হয় না। তাই আর্থিক প্রতিদেবনের উপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ করা কঠিন হয়ে যায়। তাই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও এ বাজার বিনিয়োগে তেমন আগ্রহী হচ্ছে না। এজন্য অডিটর, ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে তাদের দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের নিয়ম-কানুনগুলো হঠাৎ পরিবর্তন করার কারণে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয়। এছাড়া মন্দ কোম্পানিগুলোকে শাস্তির পাশাপাশি ভালো কোম্পানিগুলোকেও তাদের কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে। যার যা কাজ তা সঠিকভাবে পালন করে পুঁজিবাজারকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইসিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, আমি সব সময় ভালোকে ভালো এবং খারাপকে খারাপ বলি। তাই আমি ফ্লোর প্রাইস আরোপের সময় ফ্লোর প্রাইস নিয়ে কথা বলেছি। ফ্লোর প্রাইস থাকলে শেয়ারের প্রাইস কীভাবে নির্ধারিত হবে। এছাড়াও ডিএসইকে আরও ক্ষমতায়ন করতে হবে এবং তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। বিশেষ করে আইপিওর ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে পুঁজিবাজারে ভাল মানের শেয়ারের সংখ্যা খুবই কম। এজন্য সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বাজারে নিয়ে আসতে হবে। এর ফলে বিনিয়োগকারীগণ বিনিয়োগের জন্য ভাল শেয়ার পাবেন। সরকারি কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত হলে বিনিয়োগকারীগণ উপকৃত হবেন এবং সরকার উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অর্থ পাবে। এজন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পাবলিক ইন্টারেস্টের চেয়ে বড় কিছু নেই। সাম্প্রতিক সময়ে বিএসইসি কিছু গ্রুপের সাথে আলোচনা করেছে। ভাল কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনার জন্য কিছু আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে। তা না হলে পারিবারিক কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসবে না।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের পূর্বে বিভিন্ন ঝুঁকিসমূহ বিবেচনা করে থাকেন। এর মধ্যে প্রধান হলো রাজনৈতিক ঝুঁকি ও নতুন করে অন্তভুর্ক্ত হয়েছে পরিবেশ, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন (ইএসজি) ঝুঁকি। কিছুদিন আগে আমরা দেখেছি বেশ কিছু ব্লুচিপ কোম্পানি থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ প্রত্যাহার করেছে। পরে আমরা জানতে পেরেছি সেসব বিনিয়োগকারী ইএসজি চার্টারে স্বাক্ষর করেছে। তাই ইএসজি বিষয়ে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। ইনভেস্টমেন্ট রেজিলেন্সের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের তথ্যের উপর এক্সেস নিশ্চিত করতে হবে। আর বিনিয়োগকারীদের সচেতন করতে হবে। এছাড়াও আমাদের গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে প্রাইমারি রেগুলেটর হিসেবে ক্ষমতায়ন করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার জন্য ডিএসইর ক্ষমতায়ন জরুরি। আইপিও এর গুণগতমান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ডিএসইর মতামতকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা উচিত। এছাড়াও বিনিয়োগকারীকে ঋণ দেয়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোকে খেয়াল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে বাজার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আমাদের বিবেচনা করে ঋণ দেয় আবশ্যক। তিনি সরকারি কোম্পানিগুলোকে দ্রুত তালিকাভুক্তির ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করার অনুরোধ জানান।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতি বছর বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ পালনের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে শিক্ষা এবং সচেতনতার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এবারের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের অন্যান্য সেক্টরের ন্যায় পুঁজিবাজারেও ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছে। যদিও আমাদের পুঁজিবাজার একটি দীর্ঘ পথ পরিক্রমার মধ্য দিয়ে এসেছে। আমরা এর কাঙ্ক্ষিত কাঠামো তথা উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারিনি। এখন সময় এসেছে যথাযথ সংস্কারের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের জন্য একটি আধুনিক এবং সময়োপযোগী আইনগত কাঠামো তৈরি করা। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন সংস্কারের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। আমরা যার যার জায়গা থেকে সহযোগিতার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার নিশ্চিত করতে চাই। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সংস্কারের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ কাঠামো তৈরি করা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এজিএম সাত্ত্বিক আহমেদ শাহ। তিনি বলেন, এই সপ্তাহটি হলো বিনিয়োগকারীদের শিক্ষা ও সুরক্ষা প্রচার এবং ব্যক্তি ও সম্প্রদায়ের মধ্যে বিনিয়োগ শিক্ষা বৃদ্ধির জন্য একটি বিশ্বব্যাপী উদ্যোগ। আমরা আমাদের বাজারে স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করি। আমরা সুশাসন ও জবাবদিহিতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো অধিক শক্তিশালীর করার জন্য কাজ করছি।
এমআই

পুঁজিবাজার
সাপ্তাহিক দর পতনের শীর্ষে এফএএস ফাইন্যান্স

বিদায়ী সপ্তাহে (২৪ আগস্ট-২৮ আগস্ট) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দর পতনের শীর্ষ তালিকায় সবচেয়ে বেশি দর কমেছে এফএএস ফাইন্যান্স ও ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির দর কমেছে ৩৩.৩৩ শতাংশ।
ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে।
সপ্তাহের পতনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফারইস্ট ফাইন্যান্স। আগের সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে প্রতিষ্ঠানটির দর ছিল ২ টাকা ৯০ পয়সা। বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে ক্লোজিং দর দাঁড়িয়েছে ২ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির দর কমেছে ৯০ পয়সা বা ৩১.০৩ শতাংশ।
তালিকার তৃতীয় স্থানে ২৮ শতাংশ পতন নিয়ে অবস্থান করছে প্রিমিয়ার লিজিং। আগের সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে প্রতিষ্ঠানটির দর ছিল ২ টাকা ৫০ পয়সা। বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে যার ক্লোজিং দর দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৮০ পয়সায়। সপ্তাহের ব্যবধানে কোম্পানিটির দর কমেছে ৭০ পয়সা।
এছাড়া, সাপ্তাহিক পতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ২৬.৯২ শতাংশ, প্রাইম ফাইন্যান্সের ২৬.৩২ শতাংশ, বিআইএফসির ২৫.৪৫ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের ২১.০৫ শতাংশ, জিএসপি ফাইন্যান্সের ১৮.৬০ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ১৪.৮১ এবং সুহ্নদ ইন্ডাষ্ট্রিজের ১৪.৪৯ শতাংশ দর কমেছে।
পুঁজিবাজার
সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির শীর্ষে ইনফরমেশন সার্ভিসেস

বিদায়ী সপ্তাহে (২৪ আগস্ট-২৮ আগস্ট) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক (আইএসএন)।
ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে আইএসএনের দর বেড়েছে ৪৫.৫৯ শতাংশ। আগের সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে কোম্পানিটির দর ছিল ৭২ টাকা ৬০ পয়সা। বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে যার ক্লোজিং দর দাঁড়িয়েছে ১০৫ টাকা ৭০ পয়সায়।
দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।আগের সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে প্রতিষ্ঠানটির দর ছিল ৬২ টাকা ৭০ পয়সা। বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে ক্লোজিং দর দাঁড়িয়েছে ৮৩ টাকা ২০ পয়সায়। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির দর বেড়েছে ২০ টাকা ৫০ পয়সা বা ৩২.৭০ শতাংশ।
তালিকার তৃতীয় স্থানে ৩২.৩৫ শতাংশ দর বৃদ্ধি নিয়ে অবস্থান করছে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার। আগের সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে কোম্পানিটির দর ছিল ১৭ টাকা। বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে যার ক্লোজিং দর দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৫০ পয়সায়। সপ্তাহের ব্যবধানে কোম্পানিটির দর বেড়েছে ৫ টাকা ৫০ পয়সা।
এছাড়া, সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে প্রোগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২৯.১৩ শতাংশ, মুন্নু ফেব্রিকের ২৩.৯০ শতাংশ, সোনালী পেপারের ২২.৩৬ শতাংশ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল-পিটিএলের ২১.১০ শতাংশ, সিনোবাংলার ১৮.৮১ শতাংশ, শাহাজীবাজার পাওয়ারের ১৮.৭৮ শতাংশ, এবং জাহিন টেক্সটাইলের ১৮ শতাংশ।
পুঁজিবাজার
সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষে সিটি ব্যাংক

বিদায়ী সপ্তাহে (২৪ আগস্ট-২৮ আগস্ট) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষ তালিকার শীর্ষে উঠেছে সিটি ব্যাংক। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড়ে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার।
ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মালেক স্পিনিং। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড়ে ২৪ কোটি ৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা ছিল ডিএসইর লেনদেনের ২.১০ শতাংশ।
লেনদেনের তৃতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)। সপ্তাহজুড়ে প্রতিদিন গড়ে কোম্পানিটির ২২ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা ছিল ডিএসইর লেনদেনের ২.০১ শতাংশ।
এছাড়া, সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় উঠে আসা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে সোনালী পেপারের ২১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ফার্মার ২১ কোটি ১৮ লাখ টাকা, বিচ হ্যাচারির ২০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, বিকন ফার্মার ২০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, আলিফ ইন্ডাষ্ট্রিজের ১৯ কোটি টাকা, ওরিয়ন ইনফিউশনের ১৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং সী পার্ল রিসোর্টের ১৪ কোটি ১০ লাখ টাকার।
কাফি
পুঁজিবাজার
ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়লো ১০ হাজার কোটি টাকা

বিদায়ী সপ্তাহে (২৪ আগস্ট থেকে ২৮ আগস্ট) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন হয়েছে। এতে এতে সপ্তাহ ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ১০ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।
পুঁজিবাজারের সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সমাপ্ত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এ মূলধন ছিল ৭ লাখ ৮ হাজার ১৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহ ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ১০ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
চলতি সপ্তাহে বেড়েছে ডিএসইর সব কয়টি সূচকও। প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১৪২.৯৯ পয়েন্ট বা ২.৬৬ শতাংশ। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ৬৭.৫৫ পয়েন্ট বা ৩.২৩ শতাংশ। আর ডিএসইএস সূচক বেড়েছে ২৬.৮৬ পয়েন্ট বা ২.২৮ শতাংশ।
সূচকের উত্থানের পাশাপাশি ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৫ হাজার ৭২৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে মোট লেনদেন হয়েছিল ৪ হাজার ৫৩৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এক সপ্তাহে লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ১৯৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ২৩৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বা ২৬.৩২ শতাংশ। চলতি সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৪৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছিল ৯০৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ৩৯৬টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ২৬৮টি কোম্পানির, কমেছে ১০৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
এসএম
পুঁজিবাজার
ডিএসইর ফিক্স সার্টিফিকেশন পেলো ১৩ ব্রোকারেজ হাউজ

এপিআই সংযোগের মাধ্যমে নিজস্ব ওএমএস চালু করণের লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি আরও ১৩টি ব্রোকারেজ হাউজকে ফিক্স সার্টিফিকেশন প্রদান করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই ট্রেনিং একাডেমিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রোকারহাউজগুলোর কর্মকর্তাদের কাছে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ফিক্স সার্টিফিকেশন প্রদান করেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম। এসময় তিনি বলেন, আজ যে ১৩টি ব্রোকারেজ হাউজ ফিক্স সার্টিফিকেশন গ্রহণ করেছে, তাদের প্রতি আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আর যে সকল ব্রোকারেজ হাউজগুলো তাদের বিভিন্ন সমস্যার কারণে এখন পর্যন্ত ফিক্স সার্টিফিকেশনের আওতায় আসতে পারছে না, তাদেরকে কিভাবে ডিএসইর পক্ষ থেকে সহযোগিতার মাধ্যমে ফিক্স সার্টিফিকেশনের আওতায় আনা যায় তার চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজার উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি। যার ইতিবাচক প্রভাব ধীরে ধীরে বাজারে প্রতিফলিত হচ্ছে। আমরা আশা করি, চলমান পরিবর্তনের ধারা পুঁজিবাজারে টেকসই উন্নয়ন বয়ে আনবে। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে আমাদের সকলকেই সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
১৩টি ব্রোকারেজ হাউজের পক্ষে ফিক্স সার্টিফিকেশন গ্রহণ করেন- এপেক্স ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক এন্ড হেড অব আইটি মো. আবু বকর সিদ্দিক, ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন দাস, ইবিএল সিকিউরিটিজ পিএলসির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম. শাহরিয়ার ফায়েজ, গ্রীনডেল্টা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের হেড অব বিজনেজ ফকরুদ্দিন আলী আহমেদ রাজিব, আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান, ইসলামি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান, এফসিএ, সিআইপিএ, এনএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহা. শাহেদ ইমরান, এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম, ওয়ান সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম, এসবিএসি ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম নাছির উদ্দিন, শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিষ্ণু পদ কুন্ডু, স্মার্ট শেয়ার অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদ এবং ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রহমত পাশা।
তার আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুর রহমান। এছাড়াও বক্তব্য প্রদান করেন- ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাহমাত পাশা। পরিশেষে, অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য প্রধান করেন ডিএসইর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আসিফুর রহমান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, রিচার্ড ডি রোজারিও, আইসিটি ডিভিশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক এএনএম হাসানুল করিম, প্রোডাক্ট এন্ড মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের সহ ডিএসই ও ব্রোকারেজ হাউজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
উল্লেখ্য যে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম ইন্টারফেস) ভিত্তিক BHOMS চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেন ২০২০ সাল থেকে। এরই প্রেক্ষিতে ৬৫টি ব্রোকারেজ হাউজ নাসডাক ম্যাচিং ইঞ্জিনে এপিআই সংযোগ নিয়ে নিজস্ব অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে লেনদেন করার জন্য ডিএসইতে আবেদন করেন। আজকে ১৩টি সহ মোট ৩৯টি ব্রোকার হাউজকে ফিক্স সার্টিফিকেশন প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২টি ব্রোকার হাউজ ফিক্স সার্টিফিকেশন পাওয়ার পর তারা এপিআই সংযোগের মাধ্যমে নিজস্ব ওএমএস চালু করেছে।