অর্থনীতি
সামিট সিন্ডিকেটের কবজায় দেশের ইন্টারনেট খাত!

বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার কারণে ইন্টারনেট সেবার একক কর্তৃত্ব হারিয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)। একসময় একক নিয়ন্ত্রণ থাকলেও বর্তমানে দেশের চাহিদার অর্ধেকেরও কম ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি। বাকি অর্ধেকের বেশি সরবরাহ করে বেসরকারি ৭টি কোম্পানি। যদিও দেশের চাহিদার চেয়ে বেশি সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানটির।
জানা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬ হাজার জিবিপিস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথের চাহিদা রয়েছে। আর বিএসসিপিএলসি দুটি সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৭০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করছে। অথচ কোম্পানিটির সক্ষমতা রয়েছে প্রায় ৭ হাজার ২০০ জিবিপিএস। অন্যদিকে, আইটিসির লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৭টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করছে ৩ হাজার ৩০০ জিবিপিএস। যার শুধু সামিটই সরবরাহ করে ৮০ শতাংশ। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে বিএসসিপিএলসির অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে প্রায় ৫ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ। সরকার হারাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব।
সক্ষমতা থাকার পরও কেন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যান্ডউইথ বিক্রি কমে যাচ্ছে—এর কারণ অনুসন্ধানে গিয়ে জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় এবং ‘কাছের লোকদের’ মালিকানাধীন কোম্পানিকে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়। ফলে সরকারি কোম্পানিটির সরবরাহের পরিমাণ অর্ধেকেরও নিচে নেমে আসে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে সামিট। আমদানি থেকে শুরু করে গ্রাহক পর্যায় পর্যন্ত ইন্টারনেট সরবরাহের সব ধরনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে আলোচিত এই কোম্পানিকে। সরকারি কর্মকর্তারাই এই সুযোগ করে দিয়েছেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে ব্যান্ডউইথ আমদানি করে ইন্টারনেট সেবা দিয়ে আসছিল বিএসসিপিএলসি। অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল টেরিসট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) লাইসেন্স নিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে ব্যান্ডউইথ আমদানি করে। কোনো কারণে সাবমেরিন কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু এর বিকল্প হিসেবে সামিটসহ ৭টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে আইটিসি লাইসেন্স দেওয়া হলেও বর্তমানে বেসরকারি কোম্পানিগুলোই নিয়ন্ত্রণ করছে দেশের ইন্টারনেট ব্যবসা।
এমনকি লভ্যাংশ প্রদানেও বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বিটিআরসির রেভিনিউ শেয়ারিং নীতিমালায় সাবমেরিন কেবল লাইসেন্সের ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে লভ্যাংশের ৩ শতাংশ রাজস্ব দেওয়ার বিধান থাকলেও বেসরকারি আইটিসিদের জন্য সেটা মাত্র এক শতাংশ। দেশের বেশিরভাগ ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী সামিটকে বিশেষ সুবিধা দিতেই এটা করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশের ইন্টারনেট ব্যবসা মূলত সামিটের নেতৃত্বাধীন বেসরকারি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের দখলে চলে যায়। এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএসসিপিএলসিকেও সামিটের ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছে। এই নির্ভরশীলতা কমাতে গত বছর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের অনুপাত ৭০:৩০ নির্ধারণের অনুরোধ জানায় বিএসপিএলসি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এ বিষয়ে এখানো কোনো অগ্রগতি হয়নি।
প্রয়োজন না থাকলেও বেসরকারি খাতে সাবমেরিনের লাইসেন্স: বিএসসিপিএলসির সক্ষমতা বাড়াতে নতুন করে হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ করে তৃতীয় সাবমেরিন কেবল সিমিউই-৬ প্রকল্প চলমান রয়েছে, যা ২০২৫ সালে শেষ হবে। এর মধ্য দিয়ে বিএসসিপিএলসি প্রায় ১৩ হাজার ২০০ জিবিপিএস অতিরিক্ত ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা অর্জন করবে। মোট ব্যান্ডউইথ ক্ষমতা দাঁড়াবে ২০ হাজার ৪২০ জিবিপিএসর বেশি, যা বর্তমান চাহিদার তিন গুণেরও বেশি।
এদিকে, সাবমেরিন কেবল পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণে বছরে ৫০-৬০ কোটি টাকা খরচ হয়। তৃতীয়টি চালু হলে খরচ হবে প্রায় শতকোটি টাকা। ব্যান্ডউইথ বিক্রি করে এই ব্যয় মেটানো হয়। ব্যান্ডউইথ বিক্রি না হলে পরিচালন ব্যয় উঠে আসাই চ্যালেঞ্জ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।
এর পরও সামিটসহ তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ব্যন্ডউইথ আমদানির জন্য সাবমেরিন কেবলের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। লাইসেন্স পাওয়া তিনটি কোম্পানি সামিট কমিউনিকেশন্স লিমিটেড, সিডিনেট কমিউনিকেশন্স লিমিটেড ও মেটাকোর সাবকম লিমিটেড। তৃতীয় সাবমেরিন কেবল চালু হলে যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাহিদার প্রায় তিন গুণ সক্ষমতা বাড়বে, সেখানে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন কেবলের লাইসেন্স দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
সাবমেরিন কেবলের লাইসেন্স পাওয়া কোম্পানির মধ্যে সামিট কমিউনিকেশন্সের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ফরিদ খান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খানের ছোট ভাই। মেটাকোর সাবকম কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক এবং সিডিনেটের পরিচালক হিসেবে আছেন চৌধুরী নাফিজ সারাফাত। বর্তমানে এই তিনটি কোম্পানির অনুকূলে বিএসসিপিএলসির কেপিআইভুক্ত নিজস্ব জমি এবং সাবমেরিন কেবলের পিভিসি ডাক্ট লিজ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বিএসসিপিএলসির সাবেক এবং বর্তমান কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই বিএসসিপিএলসির কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশনের জমি এবং সাবমেরিন কেবলের পিভিসি ডাক্ট লিজ নিতে আবদার করে চিঠি পাঠায় প্রাইভেট তিন সাবমেরিন কেবল কোম্পানি। কিন্তু কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই অনুমোদন করতে তড়িঘড়ি করে ৭ দিনের মধ্যে বিএসসিপিএলসির ২২৮তম পর্ষদ সভায় প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। যদিও সরকার পতনের পর সেটা আর সম্ভব হয়নি।
টেলিকম ও ইন্টারনেট খাতে সামিটের আধিপত্য
২০০৯ সালে আত্মপ্রকাশের পরে টেলিকম ও ইন্টারনেট অবকাঠামো খাতে দেশে সবচেয়ে বড় কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে সামিট কমিউনিকেশন। কোম্পানিটির হাতে রয়েছে টাওয়ারের ব্যবসা, আইআইজি, আইটিসি, এনটিটিএন আর সবশেষে সাবমেরিন কেবলের লাইসেন্স। সব ধরনের লাইসেন্স থাকায় সামিট গ্রাহককে আইটিসি থেকে ব্যান্ডউইথ কিনতে বাধ্য করছে। সামিট ব্যান্ডউইথ এবং অপটিক্যাল ফাইবারের মিশ্রণে প্যাকেজ সেবার সুযোগ নিচ্ছে। এনটিটিএন লাইসেন্স থাকায় আইটিসি থেকে আগত ব্যান্ডউইথ আইআইজি পর্যন্ত সামিট নিজেই নিয়ে যেতে পারে। বিএসসিপিএলসির এনটিটিএন লাইসেন্স না থাকার সুবিধা গ্রহণ করছে সামিট। এসবের মধ্য দিয়ে ইন্টারনেট সিস্টেমের প্রতিটি খাতের লাইসেন্স সামিটকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দিয়ে একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত নভেম্বরে বিএসসিপিএলসি পাওনা বকেয়া থাকার কারণে ১৯টি আইআইজি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যান্ডউইথ সীমিত করে। এ কারণে দেশের ব্যান্ডউইথের প্রায় ৫০ শতাংশ প্রভাবিত হয় এবং গ্রাহকদের প্রায় ৪ দিন সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আসলে এই পুরো বিষয়টি বিএসসিপিএলসি এবং বিটিআরসির যোগসাজশে ঘটানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইআইজি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যান্ডউইথ সীমিত করার পেছনে যৌথভাবে কাজ করেছেন আইসিটি সচিব ও সামিট। সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান বিগত সময়ের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী আজিজ খান এবং সামিট কমিউনিকেশন্সের চেয়ারম্যান ফরিদ খানের নির্দেশনা এবং পরামর্শে সামিটের প্রতিযোগী আইআইজিদের একটি তালিকা তৈরি করে সচিব বরাবর পাঠানো হয়। এরপর বিএসসিপিএলসি বোর্ড সভায় নিজ ক্ষমতাবলে সব আইআইজির ব্যান্ডউইথ সীমিত করার আদেশ দেন আইসিটি সচিব। মূলত সামিটের রাজনৈতিক চাপে ব্যান্ডউইথ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসিপিএলসি। এ ছাড়া সরকারি তিনটি প্রতিষ্ঠানের এনটিটিএন লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও কার্যত অকেজো করে রাখা হয়েছে। যাতে এনটিটিএন ব্যবসা সামিট এবং আরেক আইটিসি লাইসেন্সধারী ফাইবার এট হোম নির্দ্বিধায় করতে পারে।
ব্যক্তিস্বার্থে প্রাইভেট কোম্পানিকে বিশেষ সুবিধা: বিএসসিপিএলসির এবং বিটিআরসি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেদের স্বার্থে বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানির কাছে স্পর্শকাতর তথ্য পাচার করে বলে অভিযোগ উঠেছে। তথ্য পাচারের বিপরীতে কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে থাকে। বিএসসিপিএলসির এবং বিটিআরসি তথ্য পাচারের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির সাবেক এবং বর্তমান এমডির বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সামিট সিন্ডিকেটকে সাবমেরিন লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে বিটিআরসির কর্মকর্তারাও জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। লাইসেন্স দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে চলতি বছরের মার্চে বিটিআরসির চার কর্মকর্তা সামিট সিন্ডিকেটের অর্থে সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করেন।
জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই বিএসসিপিএলসির কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশনের জমি এবং সাবমেরিন কেবলের পিভিসি ডাক্ট লিজ নিতে আবদার করে চিঠি পাঠায় প্রাইভেট তিন সাবমেরিন কেবল কোম্পানি। কালবেলার হাতে আসা নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ল্যান্ডিং স্টেশনের ৩০-৩৩ শতাংশ জমি এবং একটি চার ইঞ্চির পিভিসি ডাক্ট লিজ নিতে চায় কোম্পানি তিনটি। এজন্য সুনির্দিষ্ট করে পিভিসি ডাক্টের অব্যবহৃত দুটি ডাক্টের কথা উল্লেখ করা হয়।
কিন্তু মাটির নিচে থাকা এই ডাক্টের কথা বিএসসিপিএলসি কর্তৃপক্ষ ছাড়া কেউ জানার কথা নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, সাবমেরিনের লাইসেন্স পাওয়া সামিট সিন্ডিকেটের আরেক কোম্পানি সিডিনেট কমিউনিকেশনের সিইও মশিউর রহমান ছিলেন বিএসসিপিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। তা ছাড়া প্রাইভেট খাতে সাবমেরিন কেবলের লাইসেন্স দেওয়ার অন্যতম ক্রীড়ানকও ছিলেন তিনি। লিজ চাওয়া চিঠিতেও কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে তার নাম রয়েছে।
কোম্পানি সূত্র জানায়, প্রাইভেট কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দিতে মশিউর রহমান তার মেয়াদকালে সিমিউই-৪ প্রকল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি অনুমোদন করতে চাননি। শুধু তাই নয়, চার বছরেরও অধিক সময় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে থাকায় বিএসসিপিএলসির সব তথ্যই তিনি জানেন। যার পুরস্কার হিসেবে অবসর গ্রহণের পরপরই তাকে সাবমেরিন কেবলের লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সিডিনেটের সিইও পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক এমডি মশিউর রহমান বলেন, যখন বেসরকারি কোম্পানিকে সাবমেরিনের লাইসেন্স দেওয়া হয় তখন তিনি ছিলেন না, এর সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তিনি বলেন, অবসর গ্রহণের পর সিডিনেটে তিনি নিয়োগ পান, তবে সেটা কোনো অনৈতিক সুবিধার কারণে নয়। বিএসসিপিএলসির জমি এবং ডাক্ট লিজে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন করে সাবমেরিন কেবল লাইন স্থাপনের জন্য অনেক টাকা খরচ হবে। সে ক্ষেত্রে আমরা সামিটের সঙ্গে মিশে বিএসসিপিএলসির জমি এবং ডাক্ট লিজ চেয়েছিলাম। যদিও এই প্রস্তাব ছিল সামিটের। সামিট তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রীকে দিয়ে এটা অনুমোদন করাতে চেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করলেও সামিটের একক আধিপত্যের কথা স্বীকার করে সিডিনেটের এই সিইও বলেন, সামিট একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যাদের ইন্টারনেটের সব ধরনের লাইসেন্স রয়েছে। যে কারণে এ খাতে এখন আর লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। সাবমেরিনেরও লাইসেন্স পাওয়ায় এখন তাদের আধিপত্য আরও বেড়ে গেছে। সব ধরনের লাইসেন্স থাকায় তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কেউ পারবে না। এটার দায় বিটিআরসিসিও এড়াতে পারে না।
ক্ষতির মুখে সরকারি প্রতিষ্ঠান
জানা গেছে, সিমিইউ-৪ এবং সিমিইউ-৫ এই দুই কেবলের বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় প্রায় ৫০-৬০ কোটি টাকা। আর সিমিইউ-৬ চালু হলে এই ব্যয় বেড়ে হবে ৯০-১০০ কোটি টাকা, যা বিএসসিপিএলসি ব্যান্ডউইথ বিক্রির আয় থেকে পরিশোধ করে। ব্যান্ডউইথ অব্যবহৃত রয়ে গেলে পরিচালন ব্যয় উঠে আসাই চ্যালেঞ্জ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। এ ছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত লাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠানটিতে শেয়ারের প্রায় ২৭ শতাংশের মালিকানায় রয়েছেন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। ব্যবসা ক্রমাগত হারাতে থাকলে কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতা কমবে।
এমআই
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

অর্থনীতি
কুয়েতে স্বর্ণের দামে রেকর্ড

বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কুয়েতে রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে স্বর্ণের মূল্য। গত এক মাসের ব্যবধানে গ্রাম প্রতি তিন থেকে চার দিনার বৃদ্ধি পেয়েছে স্বর্ণের দাম। অল্প সময়ের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় হতাশ সাধারণ ক্রেতারা। গত এক মাসের ব্যবধানেই গ্রাম প্রতি বেড়েছে তিন দিনার। আর ভরিতে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা বেশি।
কুয়েতে স্বর্ণের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতি মিনিটে পরিবর্তন হতে থাকে। দেশটির প্রত্যেকটি স্বর্ণের দোকানে কুয়েত সরকার নির্ধারিত অনলাইন মূল্য তালিকা রয়েছে। দিন দিন মূল্য বৃদ্ধির কারণে অনেক ক্রেতাই এখন স্বর্ণ কিনতে দ্বিধায় ভুগছেন।
তবে দাম আরও বাড়তে পারে এই আশঙ্কায় ভবিষ্যত প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে কেউ কেউ স্বর্ণ কিনে রাখছেন। ক্রেতারা বলেন, সপ্তাহ ব্যবধানে স্বর্ণের দাম অনেক বেড়েছে। সামনে আরও বাড়তে পারে। তাই ভবিষ্যতে বিয়ে, অনুষ্ঠান ও প্রিয়জনকে উপহার দেয়ার জন্য কিনে রাখতে হচ্ছে।
তবে স্বর্ণের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনাও বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, উৎসবের মৌসুম থাকায় স্বর্ণের দাম বাড়ার পরও বেড়েছে বেচাকেনা। তাছাড়া সামনে আরও দাম বাড়ার আশঙ্কায় মজুতও করছেন অনেকে।
কুয়েতে স্বর্ণ বিক্রি হয় গ্রাম হিসেবে। তারা ২১ ক্যারেট অথবা ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের অলংকার ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আর প্রবাসী বাংলাদেশিদের পছন্দের শীর্ষে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণে।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
অর্থনীতি
ক্রেতা কমলেও বেড়েছে গরু ও মুরগির মাংসের দাম

ঈদুল ফিতরে সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব পড়েছে বাজারে। যে কারণে ক্রেতা কমলেও কমেনি মাংস, সবজির দাম। কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা করে বেড়েছে গরুর মাংস ও মুরগির দাম। তবে দুটি বাজার খুঁজেও মেলেনি খাসির মাংস।
পেঁয়াজ রসুনে স্বস্তি মিললেও গরুর মাংস আর মুরগির দামে অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।
রাজধানীর মিরপুরের উত্তর ও মধ্য পীরেরবাগের একাধিক মাংসের দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেজিতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে গরুর মাংসের দাম। কোনো দোকানে আরেকটু বেশি।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-২ উত্তর পীরেরবাগ ছাপড়া মসজিদ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজি, মাছ ও গরুর মাংসের দোকানে ক্রেতাদের ভিড়।
মরিয়ম গোস্ত বিতানের বিক্রেতা বাবুল মিয়া বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে প্রচুর গরু কাটছি। চাহিদা অনুযায়ী বিক্রিও ছিল বেশি। আজকে আর গরু কাটি নাই। তবে চাহিদা থাকায় মিরপুর-১ থেকে একমণ মাংস এনেছি। আর ৫ কেজি বিক্রি বাকি আছে। তিনি বলেন, গতকালও ৭৮০ টাকায় মাংস বিক্রি করছি। আজ ৮০০ টাকা বিক্রি করছি।
তবে কাদের গোশত বিতানে গরুর মাংসের দাম আরও ২০ টাকা বেশি, অর্থাৎ সেখানে ৮২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। পাইকারি এই দোকানে মুরগি ডিমসহ নিত্যপণ্য বিক্রি করা হয়।
কাদের গোশত বিতানের বাদশা মিয়া বলেন, আজও সবচেয়ে বেশি মাংসের চাহিদা। ঈদের আগের দিন থেকে এখানে ৮২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। দেশি মুরগি ৬০০ টাকা, ব্রয়লার ২৩০ টাকা, লেয়ার মুরগি বাজারে নেই। পাকিস্তানি কক ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিম মিলছে কমেই, ১২০ টাকা ডজন।
উত্তর পীরেরবাগ এলাকার একটি আবাসিক ভবনের এক বাসিন্দা বলেন, হাসপাতালে চাকরি করি। এ ঈদে ছুটি মেলেনি। বাসায় রাতে কিছু অতিথি আসবে। গরুর মাংস কিনতে এসে দেখি কেজি প্রতি ৪০ টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে। গত ৩ দিন আগেও গরুর মাংসের কেজি ছিল ৭৮০ টাকা। আজকে নিলো ৮২০ টাকা।
নির্মাণ শ্রমিক ফরহাদ গরুর মাংসের দাম শুনে কপালে ভাঁজ নিয়ে মুরগির দাম জানতে চান। সেখানেও বাড়তি দাম। বাধ্য হয়ে ৩৩০ টাকায় একটি পাকিস্তানি কক কিনে ফেরার পথে ফরহাদ বলেন, গরুর মাংস আমগো নাগালের না, মুরগিও দেখতাছি দাম বাড়তাছে। খামু কি? ৩৩০ টাকায় কক কিনে আমগো পোষায় না। কি করমু। ব্রয়লার আর কতো! একটা দিন তো কক খাইতে মন চায়।
মরিয়ম গোশত বিতানের মালিক বাবুল শিকদার বলেন, গরুই বেচতেছিলাম, খাসির মাংসের বাড়তি দাম, তাই দোকানেই তুলি নাই।
ব্রয়লার মুরগি কিনে মুসলিমা বেগম বলেন, কক ৩৩০ টাকা কেজি। কেমনে খামু কন! ব্রয়লারও যে খুব কম তা না, তবে দেড় কেজি ব্রয়লার কিনে যা বাঁচবে তা দিয়ে কিন্তু সবজি কেনা যায়। তাই কক বাদ দিয়ে ব্রয়লারই কিনতে হলো।
মধ্য পীরেরবাগ বিসমিল্লাহ গোশত বিতানে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা ভিড় করেও ফিরে যাচ্ছেন। মাংস শেষ। মালিক মো. জাহাঙ্গীর বলেন, প্রতি রমজানের ঈদে অন্তত ২০টা গরু কাটি। গতকালও ২টা কাটছি। আজ একটা, তা সকাল সকালই শেষ হয়ে গেছে।
মাছের সরবরাহ কমেছে বাজারে। যা আছে তাও ক্রেতা কম।
নদীর চিংড়ির কেজি ৭০০ টাকা, তবে লাল ও অন্য সাদা চিংড়ি ৬৬০ টাকায় মিলছে। রুই মাছ যেন ছুলেই দাম। ৪৬০ টাকা কেজি হাঁকিয়ে বেচা হচ্ছে ৪২০ টাকায়। তেলাপিয়া ১৮০ টাকা। নলা মাছ ১৬০ টাকা। ইলিশ ৭৬০ থেকে ১৩০০ টাকার মধ্যে আকার অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে।
মাছ বিক্রেতা তরিকুল ইসলাম বাজারে মাছের সরবরাহ কম। ক্রেতাও কম। যা পাইছি তাই বেচতাছি। ক্রেতারা তো মাছের চেয়ে মাংসই বেশি কিনতাছে।
ছাপড়া মসজিদ কাঁচাবাজারে গিয়ে জানা যায়, কিছু সবজিতে বেড়েছে দাম। দামে কাঁচা মরিচের ঝাঁজ নেই। কেজিতে টমেটোর দাম বেড়েছে ২০ টাকা। টমেটো ৬০ টাকা ও গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। আলু ২০-২৫ টাকায় মিলছে। তবে পটল ও শশায় অসন্তুষ্ট ক্রেতারা।
ছাপড়া মসজিদ কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা সেলিম মিয়া বলেন, বেগুন গত সপ্তাহে কিনেছি ৮০ টাকায়। গত সপ্তাহেও ঢেঁড়শ ছিল ৫০ টাকা, আজ তা ৬০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে, কেজি বাড়তি ১০ টাকা। গত সপ্তাহেও শশার দাম ছিল ৬০টাকা, আজ ৮০ বেচতে হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা পিস, কচুরলতি ৮০ টাকা কজি, ১০ টাকা বাড়তিতে করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা। ৫০০ গ্রাম ওজনের ছোট পাতা কপির পিস ৫০ টাকা, ঝিঙা ৭০, চিচিঙ্গা ৭০, কাঁচা কলার হালি ৩০ টাকা। পেঁপে আর পটলে বিরক্ত ক্রেতারা। পটল ৮০, পেঁপে ৬০ টাকা।
হুসাইন আল মামুন নামে ক্রেতা বলেন, গরুর মাংসের সঙ্গে আলু আর পটল ভাল লাগে। আলুটার দাম ঠিক আছে। পটল যে ৮০! আর গরুর মাংসের দাম তো জানেনই ৮২০ টাকা! আমাদের মতো মধ্যবিত্তের ৬ সদস্যের পরিবারের জন্য এটা বেশিই।
ধনেপাতার ১০০ গ্রাম ২৫ টাকায় বিক্রি হলেও লেবুর দাম ফের বেড়েছে। ছোট ছোট লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।
সবজি বিক্রেতা আলমগীর বলেন, টমেটো ও গাজরের দাম বাড়তি। পেঁপে ও পটলে বিরক্ত ক্রেতারা। কিন্তু কিছু করার নাই। কেনাই তো বাড়তি আমাদের।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
অর্থনীতি
এপ্রিলে বাংলাদেশে আসছে আইএমএফ দল

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি থেকে কিস্তি পেতে বাংলাদেশ যে প্রথমবারের মতো হোঁচট খেয়েছে, এ দফায় তা থেকে উত্তরণ ঘটতে পারে। এ জন্য ভর্তুকি কমানো, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো, মুদ্রা বিনিময় হার বাজারের পর ছেড়ে দেওয়ার মতো অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে বাংলাদেশকে।
শর্ত পূরণে বাংলাদেশ ও আইএমএফ যদি নিজ নিজ অবস্থানে অনমনীয় থাকে, তাহলে আর কোনো কিস্তি না–ও মিলতে পারে। তখন বাংলাদেশের জন্য দেখা যাবে নতুন জটিলতা। অর্থাৎ অন্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোও তখন বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে রক্ষণশীল হয়ে যেতে পারে। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ নিজেও এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি থেকে দুই কিস্তির অর্থ একসঙ্গে পেতে বাংলাদেশের সামনে মোটাদাগে তিনটি বাধা রয়েছে। এসব বাধা অতিক্রম করতে না পারলে আইএমএফের কিস্তি পাওয়া কঠিন হবে। এগুলো হলো মুদ্রা বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়তি রাজস্ব আদায় ও এনবিআরের রাজস্ব নীতি থেকে রাজস্ব প্রশাসনকে আলাদা করা।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যদিও আইএমএফকে জানানো হয়েছে, এসব শর্ত বাস্তবায়ন করা হবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব নীতি থেকে রাজস্ব প্রশাসনকে আলাদা করার পদক্ষেপ ছাড়া বাকি দুটির বিষয়ে তেমন অগ্রগতি নেই।
আগামী জুনের মধ্যে বাজারভিত্তিক মুদ্রা বিনিময় হার বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি এক প্রাক্-বাজেট আলোচনায় বলেন, তা এখন বলব না। কারণ, মূল্যস্ফীতি আরও কত দিন থাকে, দেখতে হবে। হঠাৎ বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ায় পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো হয়ে গেলে তো বিপদ বাড়বে।
বর্তমানে ক্রলিং পেগ পদ্ধতিতে বিনিময় হার নির্ধারণ করা হচ্ছে। যার কারণে হঠাৎ ডলারের দাম খুব বেশি বেড়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ পদ্ধতিতে ডলারের দাম আপাতত ১২২ টাকায় স্থিতিশীল।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
অর্থনীতি
এপ্রিলেও অপরিবর্তিত থাকবে জ্বালানি তেলের দাম

এপ্রিল মাসেও জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে নির্ধারণ করা হচ্ছে না। মার্চে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের যে দাম ছিল, এপ্রিলেও তা অপরিবর্তিত থাকছে।
তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিদ্যমান মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছে।
সোমবার (৩১ মার্চ) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমা বা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতিমাসে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের জন্য বিদ্যমান মূল্য কাঠামো অনুযায়ী ডিজেলের বিক্রয়মূল্য প্রতি লিটার ১০৫ টাকা, কেরোসিন ১০৫, অকটেন ১২৬ টাকা এবং পেট্রোল ১২২ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
সর্বশেষ গত ১ ফেব্রুয়ারি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে এক টাকা বাড়িয়ে বর্তমান মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ মূল্য মার্চ মাসেও বহাল ছিল।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
অর্থনীতি
ঈদযাত্রায় প্রতি মিনিটে যমুনা সেতু পাড়ি দিয়েছে ২৯ গাড়ি

যমুনা সেতুতে ঈদের আগের তিন দিন এক লাখ ২৫ হাজার ২৭৮টি গাড়ি পারাপার হয়েছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ৮ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫০ টাকা। এই তিনদিন প্রতি মিনিটে গড়ে ২৯টি গাড়ি সেতু পারাপার হয়েছে।
সোমবার (৩১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, প্রত্যেক বছর ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকেই সেতুতে গাড়ির চাপ বাড়তে থাকে। তবে এবার কোনো প্রকার যানজট ছাড়াই উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ঘরে ফিরেছেন।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের শেষ তিন দিনের বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে পরদিন শুক্রবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার ৩৩৫টি গাড়ি সেতু পারাপার হয়। এতে টোল আদায় হয় তিন কোটি ৩৮ লাখ ৫২ হাজার ৯০০ টাকা। এর মধ্যে পূর্ব প্রান্ত থেকে উত্তরবঙ্গের দিকে ৩০ হাজার ৯৯৮টি গাড়ি এবং বিপরীত দিক থেকে ১৭ হাজার ৯৩৭টি গাড়ি পার হয়েছে। পরের দিন শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ৪৫ হাজার ৪৭৮টি গাড়ি পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে তিন কোটি ২১ লাখ ৬৪ হাজার ৬০০ টাকা।
একইসঙ্গে ঈদের আগের দিন শনিবার রাত ১২টা থেকে রোববার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সেতু দিয়ে গাড়ি পারাপার হয়েছে ৩১ হাজার ৪৬৫টি। এর মধ্যে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে ২১ হাজার ১২৬ ও উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকামুখী লেনে ১০ হাজার ৩৩৯ গাড়ি পারাপার হয়। এ থেকে টোল আদায় হয়েছে দুই কোটি ২৫ লাখ ২৬ হাজার ৮৫০ টাকা।