অর্থনীতি
সিআইবি রিপোর্টে গোঁজামিল বন্ধের নির্দেশ

একটি কোম্পানির একাধিক পণ্য ও সেই পণ্য তৈরির জন্য একাধিক কারখানা থাকতে পারে। কিন্তু কোন পণ্যের কোন কারখানার জন্য ঋণ নেওয়া হয়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করছে না অনেক ব্যাংক। এখন থেকে সবকিছু ঠিকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে রিপোর্ট করার নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, দেশে কার্যরত বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পৃথক পৃথক স্থানে একই বা ভিন্ন খাতের পণ্যের জন্য একাধিক ঠিকানায় স্থাপিত একটি কোম্পানির বিভিন্ন ইউনিটের নামে ঋণ দিয়েছে। সিআইবি রিপোর্টিং এ স্বচ্ছতা আনার জন্য ঋণগুলো রিপোর্টিং করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) তে নিবন্ধিত একটি কোম্পানি একই বা ভিন্ন খাতের পণ্য বা সেবা উৎপাদনের জন্য একাধিক ঠিকানায় ইউনিট বা কারখানা স্থাপন করলে সেই ইউনিট বা কারখানাগুলোকে আরজেএসসির যে নামে নিবন্ধন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে হুবহু সেই নামেই সিআইবি ডাটাবেজে রিপোর্ট করতে হবে।
উদাহরণ হিসাবে বলা হয়, ‘ক লিমিটেড’ নামক একটি কোম্পানি আরজেএসসিতে নিবন্ধিত। এই কোম্পানি বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন পণ্য বা সেবা উৎপাদনের জন্য ইউনিট/কারখানা স্থাপন করলে যেমন ‘ক লিমিটেড (ইউনিট-১)’, ‘ক লিমিটেড (ইউনিট-২)’, ‘ক লিমিটেড (ইউনিট-৩)’, ‘ক লিমিটেড (গার্মেন্টস ইউনিট)’ ইত্যাদি নামীয় ইউনিটগুলোকে ‘ক লিমিটেড’ কোম্পানির আওতাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে গণ্য করে তদনুযায়ী সিআইবি ডাটাবেইজে রিপোর্ট করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয় ‘এক্স ইউনিট ২ লিমিটেড’ এবং ‘এক্স লিমিটেড ইউনিট ২’ দুইটি ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানি হিসেবে আরজেএসসি তে নিবন্ধিত হলে ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানি হিসেবেই সিআইবি ডাটাবেইজে রিপোর্ট করতে হবে।
সিআইবি এর পূর্ণরূপ ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো। সিআইবি হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রণীত একটি নীতিমালা, যার মাধ্যমে কোনো গ্রাহকের ঋণ গ্রহণের সময় ওই গ্রাহক পূর্বে কোনো ঋণ নিয়েছিল কি না তা দেখা হয়। ঋণ নিয়ে থাকলে সময়মতো ঋণের কিস্তি বা পুরো ঋণ পরিশোধ করেছে/করছে কি না তাও দেখা হয়। যাতে ঋণখেলাপি না হয় এবং ঋণের প্রবাহ যথাযথ থাকে। এতে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ হ্রাস পায়। কোনো গ্রাহক নতুন কোনো ঋণ নিতে চাইলে ঋণের আবেদনের তথ্যাবলী সিআইবি-এর ওয়েবসাইটে ঢুকে পূরণ করলে গ্রাহকের অতীত ইতিহাস পাওয়া যায়। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি বা এক মালিকানা ব্যবসায়, বা অংশীদারি ব্যবসায় অথবা কোম্পানির বেলায় ঋণ সম্পর্কিত রিপোর্ট পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান খুব সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে, ঋণ গ্রহীতার আবেদন অনুমোদন করা হবে, না কি বাতিল করা হবে। খেলাপি ঋণ কমানোর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৯৯২ সালের ১৮ আগস্ট সিআইবি সিস্টেম চালু করে। ২০১১ সালের ১৯ জুলাই থেকে এটি অনলাইনে কার্যক্রম শুরু করে।

অর্থনীতি
বিদেশি সফটওয়্যার ছাড়াই কার্ড ইস্যু করতে পারবে দেশের ব্যাংকগুলো

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র জন্য কোনা কার্ড পারসোনালাইজেশন সিস্টেম (কোনা-সিপিএস) সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে পেমেন্ট ও সিকিউরিটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কোনা সফটওয়্যার ল্যাব লিমিটেড।
কোনা-সিপিএস-এর প্রথম গ্রাহক হিসেবে বিশ্বমানসম্পন্ন ইএমভি কার্ড পারসোনালাইজেশন সিস্টেমের মাধ্যমে স্থানীয় ন্যাশনাল কার্ড স্কিম ‘টাকা পে’সহ ভিসা, মাস্টারকার্ড ও ইউনিয়নপে ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক স্কিমে ইএমভি ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ড ইস্যু করতে পারবে ইসলামী ব্যাংক।
দেশের পেমেন্ট ও ফিনটেক খাতের এ সাফল্য উদযাপনে সম্প্রতি দ্য ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা হোটেলে এক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের প্রতিনিধিরাসহ শিল্পখাত সংশ্লিষ্ট শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা।
কোনা সফটওয়্যার ল্যাবের বাংলাদেশি সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো এমন একটি আধুনিক ও সম্ভাবনাময় কার্ড পারসোনালাইজেশন সিস্টেম চালু হয়েছে। এ অর্জনের ফলে বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমবে, সময় বাঁচবে এবং সাশ্রয় হবে বৈদেশিক মুদ্রার।
এ বিষয়ে কোনার চিফ বিজনেস অফিসার সিরাজ সিদ্দিকী বলেন, কোনা-সিপিএস-এর মাধ্যমে কোনা সফটওয়্যার ল্যাব প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ আর কেবল বিদেশি প্রযুক্তির ভোক্তা নয়। আমরা এখন দেশীয় উদ্ভাবন ও সহায়তার মাধ্যমে বিশ্বমানের সমাধান তৈরি করছি। এ অর্জন নিয়ে আমরা আশাবাদী। মনে করি, এ উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল পেমেন্টের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের প্রথম সিপিএস বাস্তবায়নে কোনা, ইসলামী ব্যাংক ও অন্যান্য অংশীদারদের অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, এ অর্জন আমাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। পাশাপাশি নগদ অর্থবিহীন (ক্যাশলেস) বাংলাদেশ গড়ার পথে শক্তিশালী ভিত্তিস্থাপনে ভূমিকা রেখেছে।
অনুষ্ঠানে ইসলামী ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ডিজিটাল ব্যাংকিং উইং মোশাররফ হোসেন কোনা এসএল-এর সমাধান তাদের অভিজ্ঞতায় কেমন প্রভাব ফেলেছে, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় কার্ড উৎপাদন কারখানা ও পারসোনালাইজেশন ব্যুরো স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে কোনা সফটওয়্যার ল্যাব। এর পাশাপাশি তারা নিজস্ব কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ও আন্তর্জাতিকভাবে মানসম্মত টোকেনাইজেশন সেবা চালু করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে।
কোনা সফটওয়্যার ল্যাব বিশ্বাস করে, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের পেমেন্ট ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করবে, সুরক্ষিত উপায়ে ডিজিটাল কার্ড ইস্যু নিশ্চিত করবে এবং ব্যাংকগুলোকে আধুনিক পেমেন্ট সেবা দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
কোনা সফটওয়্যার ল্যাব বাংলাদেশের নেক্সাসপে, নগদ ও রেইনবোসহ আরও কয়েকটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত সমাধান সরবরাহে কাজ করছে।
অর্থনীতি
বাংলাদেশ ব্যাংকে নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি পেলেন ৪ কর্মকর্তা

বাংলাদেশ ব্যাংকের চার কর্মকর্তা পরিচালক পদ থেকে নির্বাহী পরিচালক (ইডি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন- গভর্নর অফিসের পরিচালক মো. সরোয়ার হোসেন, ব্যাংক পরিদর্শন-৩ বিভাগের পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদার, চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পরিচালক মো. মফিজুর রহমান খান চৌধুরী।
রবিবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১ এর পরিচালক মো. জবদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক অভ্যন্তরীণ আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পদোন্নতি নীতিমালা-২০২২ এর বিধান অনুসারে এই পদোন্নতি কার্যকর হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নতুন নির্বাহী পরিচালক পদে উন্নীত কর্মকর্তাদের দপ্তর পরবর্তী নির্দেশনার মাধ্যমে বণ্টন করা হবে।
অর্থনীতি
আগস্টের ৩০ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৭ হাজার কোটি টাকা

চলতি আগস্ট মাসের ৩০ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২২২ কোটি ৯০ লাখ (২.২৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ২৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে)।
রবিবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো এ রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি ফিরিয়েছে। হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ, প্রণোদনা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতির ফলেই রেমিট্যান্সে এ ধারাবাহিকতা এসেছে।
সব শেষ জুলাই মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২৪৮ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ হাজার ২৩০ কোটি টাকা।
সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবাহ এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই অংক এক অর্থবছরে দেশে আসা সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। প্রবাসী আয়ের এমন ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ও ডলারের জোগানে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
অর্থনীতি
চড়া সবজির বাজার, বাড়লো আটা-ময়দা ও ডালের দাম

বাজারে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সবজির দাম বেশ চড়া। এরমধ্যে বেড়েছে মুরগি, ডিম ও পেঁয়াজের দাম। নতুন করে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে মুদি পণ্যের দামে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে মসুর ডাল ও আটা-ময়দার। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ভোক্তাপর্যায়ে আলুর দামও বাড়তে পারে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে তিন-চারদিন আগেও প্যাকেটজাত এক কেজি আটা কোম্পানিভেদে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হতো। এখন দাম বেড়ে হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। অন্যদিকে, খোলা আটার দাম কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। একইভাবে কোম্পানিভেদে ময়দার দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়।
বাজারে ভালো মানের মসুর ডালের দাম ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা বিক্রি হলেও এখন দাম উঠেছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। অর্থাৎ, প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। একইভাবে বড় দানার মসুর ডালের দাম বেড়ে ১২৫-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, চড়া দামে আটকে থাকা সবজির দামে গত সপ্তাহের ব্যবধানে খুব একটা হেরফের নেই। এক কেজি বেগুন এখনো ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। করলা প্রতি কেজি ৯০-১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০-১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৭০-৮০ টাকা, কচুর মুখি ৮০-৯০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, চিচিংগা-ঝিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়। কাঁচামরিচ ২০০-২৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
পেঁয়াজ আমদানি বাড়লেও বাজারে দাম তেমন কমেনি। এখনো প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকা কেজি দরে।
তালতলা বাজারের বিক্রেতা বুলু মিয়া বলেন, ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দামও বেশি। এই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে দেশি পেঁয়াজের সমান দামে। ফলে আমদানি থাকলেও তা দাম কমার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারছে না।
কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ ৬০-৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যেখানে দেশি পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭২ টাকায়।
এছাড়া উচ্চমূল্যে আটকে রয়েছে ডিম ও মুরগির দাম। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকার মধ্যে। যেখানে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৩৩০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহেও একই দামে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে মুরগির প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫-১৫০ টাকা দরে।
চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ার ফলে গত কয়েকমাস ধরে লোকসানে আলু বিক্রি করছিলেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার আলুর দাম হিমাগার পর্যায়ে ন্যূনতম মূল্য ২২ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। তবে এখনো আলুর দাম সেভাবে বাড়েনি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
তারা বলছেন, এতদিন ১২-১৫ টাকা কেজি দরে হিমাগারে আলু বিক্রি হয়ে আসছিল। এখন হিমাগার পর্যায়ে ৭-১০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে যাবে। এর প্রভাব পড়বে খুচরা বাজারে। বর্তমানে খুচরায় যেখানে ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হচ্ছে সেই দামে হয়তো ভোক্তারা আর আলু কিনতে পারবেন না।
গত ২৭ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয়ের নীতি শাখা থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে আলুর হিমাগার গেটে মূল্য নির্ধারণ করা হয়। তবে খুচরায় সর্বোচ্চ কত টাকা দরে আলু বিক্রি হবে সেটা ঠিক করে দেয়নি সরকার। ফলে বাজারেই আসলে নির্ধারণ হবে আলুর দাম।
কারওয়ান বাজারের আলুর আড়তদার জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সরকার দাম নির্ধারণের পরও সামান্য একটু বেড়েছে। আমরা এখন সাড়ে ১৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করছি। যখন হিমাগার গেটে ২২ টাকায় আলু বিক্রি হবে তখন আমাদের এটা পাইকারি থেকে কিনতে হবে কমপক্ষে ২৪ টাকায়। অন্যসব খরচ মিলিয়ে এটি আমাদের তখন বিক্রি করতে হবে ২৭-২৮ টাকা কেজি দরে। এর প্রভাব খুচরায় পড়বে এবং দাম কিছুটা বেড়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, খুচরায় ৩৫-৪০ টাকা উঠে যেতে পারে আলুর দাম। তবে সরকার যদি সরবরাহ চেইনে ঠিকঠাক মনিটরিং করে তবে খুচরা পর্যায়ে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।
রাজধানীর খুচরা বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, আলুর দাম এখনো সেভাবে বাড়েনি। এখনো আগের দাম ২৫-৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
অর্থনীতি
জুলাইয়ে বিদেশি ঋণ পরিশোধ ৪৪৬.৬৮ মিলিয়ন ডলার

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে ৪৪৬.৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে আসল ও সুদের প্রায় ৪৪৬.৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে।
গত অর্থবছরের (অর্থবছর-২৫) জুলাই মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৩৮৫.৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে সরকার আসল বাবদ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের পরিশোধ করেছে ৩২৭.৭২ মিলিয়ন ডলার। যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই মাসে ছিল ২৬৪.৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে সরকার সুদ বাবদ পরিশোধ করেছে ১১৮.৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই মাসে ছিল ১২০.৭৯ মার্কিন ডলার।
তবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে একই সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পেয়েছে ২০২.৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে নতুন প্রতিশ্রুতি এসেছে ৮৩.৪৬ মিলিয়ন ডলার। যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই মাসে ছিল ১৬.৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
গত অর্থবছরে বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে ৪.০৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছিল।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪.৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি।
ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নতুন ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ৮.৩২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আগের বছরের ১০.৭৩৯ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় কম।
একইভাবে ঋণ বিতরণও কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৫৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরে ছিল ১০.২৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সর্বাধিক ঋণ বিতরণ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৭৭.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এরপর রয়েছে বিশ্বব্যাংক ৫৯.০৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া জাপান ১৭.২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারত ১৩.৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরা ৩৫.৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ বিতরণ করেছে।