ব্যাংক
যুক্তরাজ্যে পোস্টিং নিয়ে চাকরি ছাড়লেন সোনালী ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা

সোনালী ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি সোনালী বাংলাদেশ ইউকে লিমিটেডে কাজ করার সুবাদে ৪ বছর আগে পোস্টিং নিয়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান ব্যাংকটির ২ কর্মকর্তা। সেখানে গিয়ে সে দেশের পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট স্ট্যাটাস (স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা) লাভের পর এক কর্মকর্তা চলতি বছরের এপ্রিলে এবং আরেক কর্মকর্তা জুনে সোনালী ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এরপরেও, ওই দুই কর্মকর্তাকে এখন একই শাখায় বিদেশি কর্মী হিসাবে পুনরায় নিযুক্ত করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল করিমের কাছে জুলাই মাসের প্রথম দিকে এসব নিয়োগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। তবে সোনালী ব্যাংক এ ব্যাপারে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সোনালী ব্যাংকের অন্যান্য বিদেশি শাখা ও প্রতিনিধি অফিসে কর্মরত পদায়ন ও নিয়োগ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এসব কারণে ব্যাংকের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকের শতভাগ মালিকানাধীন একটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি হলো সোনালী ব্যাংলাদেশ ইউকে লিমিটেড। ঢাকা থেকেই প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ মোট পাঁচজন কর্মকর্তাকে ঢাকা থেকে পাঠানো হয়। বাকি কর্মীরা যুক্তরাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা। এর পরিচালনা পর্ষদও ঢাকায় গঠিত।
সোনালী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চ মাসে সোনালী ব্যাংলাদেশ ইউকে লিমিটেডে দায়িত্বরত সোনালী ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) ফারজানা হক যুক্তরাজ্য থেকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দেওয়ার আবেদন পাঠান। গত ১ এপ্রিল থেকে তার ইস্তফা কার্যকর করেছে সোনালী ব্যাংক।
একইভাবে সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার সুজা উদ্দিন আল রেজা গত ২৬ জুন যক্তরাজ্যে চাকরি থেকে ইস্তফা চেয়ে আবেদন করেন। ১ জুলাই থেকে তাকে ইস্তফা দেওয়া হয়েছে। এই দুজন কর্মকর্তাকে ঢাকা থেকে যুক্তরাজ্যে পোস্টিং দেওয়া হয়েছিল।
সূত্র বলছে, উভয়ই এখন যুক্তরাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার পরেও ব্যাংকটিতে একই পদে নিযুক্ত আছেন।
সোনালী ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ঢাকা থেকে যাদেরকে যুক্তরাজ্যে পোস্টিং দেওয়া হয় দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে, এসব কর্মকর্তারা পরিবার অর্থাৎ, স্বামী বা স্ত্রী ও সন্তানদের ওই দেশে নিয়ে যেতে পারেন। কর্মকর্তার যাওয়া, থাকার খরচ বহন করে সোনালী ব্যাংক। কমপক্ষে তিন বছরের জন্য তাদেরকে যুক্তরাজ্যে পোস্টিং দেওয়া হয়ে থাকে।
সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পোস্টিংয়ের সুযোগে যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নিচ্ছেন কোনো কোনো কর্মকর্তা- এটি অনৈতিক। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হল এই কর্মকর্তারা আবার পরে বিদেশি কর্মী হিসেবে একই জায়গায় পুনরায় নিয়োগ পাচ্ছেন।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, সোনালী ব্যাংকের অন্যান্য বিদেশি শাখায়ও যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী পোস্টিং হচ্ছে না। এক্ষেত্রে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পছন্দের কর্মকর্তারা পোস্টিং পাচ্ছেন।
“যেকারণে ওইসব কর্মকর্তা ব্যাংকের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের সুবিধা বেশি প্রাধান্য দেন। এতে ব্যাংক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছে,” যোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জেনারেল ম্যানেজার (পারসোনাল ডিভিশন) মো. সাফায়েত হোসেন পাটোয়ারী বলেন, “যেকোনো কর্মীই চাকরি ছাড়তে পারেন। চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী কোনো আপত্তি না থাকলে চাকরি ছাড়ার আবেদন গ্রহণও করতে হবে।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তবে বর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় সোনালী বাংলাদেশ ইউকে লিমিটেডে পোস্টিং বা নিয়োগ বিধিমালায় কিছু পরিবর্তন আনার কথা ভাবা হচ্ছে।”
সোনালী বাংলাদেশ (ইউকে) লিমিটেড ছাড়াও সোনালী ব্যাংকের ভারতের কলকাতা ও শিলিগুড়িতে শাখা রয়েছে। এছাড়া প্রতিনিধি অফিস রয়েছে জেদ্দা ও কুয়েতে। এর আগেও শাখা ও প্রতিনিধি অফিসে পোস্টিংয়ে নিয়ম না মানার অভিযোগ করেন এই কর্মকর্তা।
তিনি জানান, “ব্যাংকের একজন সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার দুই ভাগ্নেকে জেদ্দা ও যুক্তরাজ্যে যোগ্যতা না থাকার পরও পদায়ন করেন । বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বললেও উনি ব্যবস্থা না নিয়ে তাদেরকে স্বপদে বিদেশে বহাল রেখেছেন।”
অতিরিক্ত লোকবল, আর্থিক চাপ
সূত্র জানায়, বছরের পর বছর আর্থিক ক্ষতির কারণে সোনালী ব্যাংক ইউকে লিমিটেডকে সোনালী বাংলাদেশ ইউকে লিমিটেডে রূপান্তর করা হয়। লন্ডনে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি সেখানে থাকা বাংলাদেশিদের বাণিজ্য-অর্থ সহায়তা প্রদান করে।
জানা গেছে, সোনালী বাংলাদেশ (ইউকে) লিমিটেড মুলধন ঘাটতিতে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় আমানত সংগ্রহ করতে পারছে না। যেকারণে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ৩.৫০ শতাংশ সুদে ৫৮.৭৬ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে রেখেছে। ২০২৩ সালে সহায়ক এই প্রতিষ্ঠান লাভ করে ১.৯ মিলিয়ন পাউন্ড।
তবে সামগ্রিকভাবে কর্মকর্তাদের দক্ষতার ঘাটতি, দায়িত্বপালনে আন্তরিকতার অভাবে বিদেশে থাকা এই সাবসিডিয়ারি কোম্পানি সোনালী ব্যাংকের জন্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
সোনালী ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, ২০০১ সালে ২৪ জন কর্মী নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় সোনালী ব্যাংক ইউকে লিমিটেড। এরপর থেকেই ক্রমাগত লোকসান হতে থাকায় এটি বন্ধ হয়ে যায় এবং এর পরিবর্তে ২০২২ সালের আগস্টে চালু হয় সোনালী বাংলাদেশ ইউকে লিমিটেড।
এমন ধারাবাহিক লোকসানের একটি অন্যতম কারণ হলো অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের কাঠামো— যা অবশ্য পরবর্তীতেও বহাল থাকে। নতুন প্রতিষ্ঠান আমানত সংগ্রহ বা বিনিয়োগে জড়িত না থাকলেও বিদেশি বিল এবং বন্ড সমন্বয় করে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে, ২৪ জন কর্মী সেখানে কাজ করছেন। এরমধ্যে ঢাকা থেকে অতিরিক্ত দুই কর্মকর্তাকে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ১৩ মে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ দুই নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য সাক্ষাৎকার (ভাইভা) নিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সোনালী ব্যাংকের বিদেশি শাখা ও প্রতিনিধি অফিসগুলো ব্যাংকিং কার্যক্রমের চেয়ে তাদের সফরের সময় ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা, ঢাকা থেকে আগত বোর্ড সদস্য এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রটোকল সেবা প্রদানে বেশি ব্যস্ত থাকে।
এছাড়া, সোনালী ব্যাংক ইউকেতে সোনালী পে নামে আরেকটি এনটিটি রয়েছে, যেটি ২০২২ সালে রেমিট্যান্স হাউস হিসাবে লাইসেন্স পেয়েছিল। ওই কোম্পানিতে ৫ জন নিয়োগ পেয়েছেন এবং কোম্পানিটি লোকসানের ওপরেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বেতন এবং অন্যান্য খরচ বাবদ কোম্পানির ১ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রাথমিক মূলধন ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। ফলে সোনালী পে এখন অতিরিক্ত আরও ১ মিলিয়ন পাউন্ড মূলধন পেতে অনুরোধ জানিয়েছে।
এদিকে, সোনালী ব্যাংক এই অতিরিক্ত অর্থায়নের অনুমোদন নিতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে বলেও সূত্র জানায়।
এমআই
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

ব্যাংক
যেসব এলাকায় ব্যাংক খোলা আজ

তৈরি পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি বিল সংক্রান্ত লেনদেন এবং পোশাক কারখানার কর্মীদের বেতন, বোনাস পরিশোধের সুবিধার্থে শিল্পঘন এলাকায় আজ শনিবার (২৯ মার্চ) ব্যাংক খোলা থাকবে।
ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত পোশাকশিল্প এলাকার ব্যাংকের নির্দিষ্ট কিছু শাখা আজ খোলা থাকবে।
এর আগে গতকাল শুক্রবারও সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এসব এলাকায় ব্যাংকের শাখা খোলা ছিল। তবে লেনদেন চলে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত, বাকি সময় লেনদেন পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
আজ শনিবার শিল্প এলাকায় ব্যাংকের শাখা খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এর মধ্যে লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। যেসব শাখা খোলা থাকবে সেসব শাখায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিধি মোতাবেক ভাতা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ব্যাংক
শুক্রবার রাষ্ট্রায়ত্ত ৪ ব্যাংক খোলা, লেনদেন ২ ঘণ্টা

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ঈদুল-ফিতরের আগে বেতন ভাতাদি উত্তোলনের সুবিধার্থে শুক্রবার (২৮ মার্চ) রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে- সােনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক এবং রূপালী ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, ‘মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ঈদুল ফিতরের আগে বেতন-ভাতাদি উত্তোলনের জন্য রাষ্ট্রীয় চার ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শুক্রবার সীমিত সংখ্যক লােকবলের মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলাে।
ব্যাংক লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। আর অফিস সূচি হবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। লেনদেন পরবর্তী বাকি সময় অফিসের আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনা হবে। এ সময়ের মধ্যে জুমাতুল বিদার বিরতি থাকবে দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত। ছুটির দিন দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিধি অনুযায়ী ভাতা পাবেন বলে জানানো হয় নির্দেশনায়।
শিল্প এলাকায় খোলা ব্যাংক
ঈদুল ফিতরের আগে তৈরি পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি বিল বিক্রির জন্য এবং ওই শিল্পে কর্মরতদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে শিল্পঘন এলাকায় ২৮ ও ২৯ মার্চ ব্যাংক শাখা খোলা রাখতে হবে। যেসব এলাকায় ব্যাংকের শাখা খোলা থাকবে তার মধ্যে রয়েছে- ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত পোশাকশিল্প এলাকা।
এসব এলাকায় ২৮ মার্চ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ব্যাংকের শাখা খোলা রাখতে হবে। লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত, বাকি সময় লেনদেন পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা হবে। শনিবার ব্যাংক শাখা খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত, এর মধ্যে লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত। যেসব শাখা খোলা থাকবে, এই শাখাগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বিধি মোতাবেক ভাতা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে নির্দেশনায়।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
অর্থনীতি
ঈদের আগে শেষ ব্যাংকিং লেনদেন আজ

আসন্ন ঈদের ছুটিতে টানা ৯দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক। ছুটির আগে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) শেষ হচ্ছে স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন। শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে সাপ্তাহিক, ঈদের ও বিশেষ ব্যবস্থার ছুটি। তবে এর মধ্যে আগামী শুক্র ও শনিবার বিশেষ ব্যবস্থায় গার্মেন্ট এলাকাগুলোয় সীমিত সময়ের জন্য ব্যাংকগুলোর কিছু শাখা খোলা থাকবে। এছাড়াও ঈদের ছুটিতে এটিএম বুথ, অনলাইন ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবা সার্বক্ষণিকভাবে খোলা থাকবে।
ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তোলা, ঋণের অর্থ ছাড় করা, রেমিট্যান্সের ডলার ভাঙানো, সঞ্চয়পত্র ভাঙানো, মুনাফা উত্তোলনসহ সব ধরনের ব্যাংকিং কাজ আজ করা যাবে। এজন্য ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। কলমানিসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার নিয়ে টাকার জোগান বাড়িয়েছে। ঈদের আগে গ্রাহকদের টাকা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তারল্যের জোগান দেওয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর তদারকির কারণে বরাবরের মতো এবারও কলমানি মার্কেটে সুদের হার বেশি বাড়তে পারেনি। এখনো সুদের হার ১০ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
আজ ব্যাংকগুলোয় নগদ টাকার বেশি চাহিদা থাকলেও কলমানির সুদের হার আগের মতোই স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যবস্থাপকরা। কারণ, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের নগদ টাকার চাহিদা মেটাতে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রেখেছে।
এদিকে ঈদের আগে ২৮ মার্চ শুক্রবার ও ২৯ মার্চ শনিবার বিশেষ ব্যবস্থায় কিছু এলাকায় ব্যাংকের শাখা সীমিত সময়ের জন্য খোলা থাকবে। এর মধ্যে শুক্রবার লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। শনিবার লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত। এ দুইদিন ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় ব্যাংকের শাখা খোলা থাকবে। এ ছাড়া শনিবার বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী শাখাগুলোও বিশেষ ব্যবস্থায় আগের নিয়মে খোলা থাকবে। এ সময়ে শুধু টাকা তোলা, স্থানান্তর, চেক নগদায়ন করা যাবে। রপ্তানিকারকরা তাদের রপ্তানি বিল ভাঙিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে পারবেন। ঋণবিষয়ক কোনো কাজ করা যাবে না।
আগামী শনিবারের পর ৬ এপ্রিল রোববার ব্যাংক খুলবে। তখন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংক লেনদেন চলবে।
কাফি
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
অর্থনীতি
লভ্যাংশ বিতরণের শর্ত শিথিলতার দাবি বিএবি’র

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নির্দেশনায় বলা হয়েছে ২০২৪ সালে ডেফারেল সুবিধা নেওয়া কোনো ব্যাংক লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড দিতে পারবে না। তবে ব্যাংকগুলো যেন আগের নিয়ম অনুসারে ডিভিডেন্ড বিতরণ করতে পারে সে দাবি জানিয়েছে বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংক (বিএবি)।
সংগঠনটির মতে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ শর্ত শিথিল করা উচিত। নতুন নিয়ম ২০২৫ সাল থেকে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে দেখা করেন বিএবি চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলে কয়েকটি ব্যাংকের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় তারা শর্ত শিথিল করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে অনুরোধ জানান। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের চার ডেপুটি গভর্নর, সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্বাহী পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ১৩ মার্চ একটি সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যেখানে বলা হয়েছে- ২০২৪ সালের সমাপ্ত বছরে ডিভিডেন্ড বিতরণের জন্য ২০২১ সালের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। ওই নির্দেশনায় ডেফারেল নেওয়া ব্যাংকগুলোকে ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। ফলে ডেফারেল সুবিধা নেওয়া ব্যাংক ২০২৪ সালে কোনো ডিভিডেন্ড বিতরণ করতে পারবে না।
বিএবির নেতারা জানান, শর্তশিথিল হলে ডেফারেল সুবিধা নেওয়া ব্যাংকগুলো ২০২৪ সালে ডিভিডেন্ড বিতরণ করতে পারবে। এতে ব্যাংকগুলোকে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের কাছে আরও টানতে সহায়তা করবে।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ব্যাংক
সিটি ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ে দুই নতুন নিয়োগ

সিটি ব্যাংক সম্প্রতি ব্যাংকের ডিএমডি ও চিফ রিস্ক অফিসার মেসবাউল আসীফ সিদ্দিকীকে হোলসেল ব্যাংক প্রধান হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছে। একই সাথে মোহাম্মদ মাহমুদ গনি ব্যাংকটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে কর্পোরেট ব্যাংকিং প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।
আসীফ ১৯৯৯ সালে ইস্টার্ন ব্যাংকে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ২০০৪ সালে কমার্শিয়াল ব্যাংক অফ সিলনে যোগ দেন এবং পরবর্তীকালে ২০০৬ সালে এইচএসবিসি ব্যাংকে যোগ দিয়ে ব্যাংকটির বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর অফিসে দীর্ঘ ৯ বছর কর্পোরেট ব্যাংকিংয়ের নানা শাখায় কাজ করেন। ২০১৫ সালে তিনি এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে সিটি ব্যাংকের কর্পোরেট ব্যাংকিংয়ে যোগ দেন।
মেসবাউল আসীফ সিদ্দিকী গত টানা চার বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে সিটি ব্যাংকের শীর্ষ টেকসই ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং সাসটেনেবিলিটি ও গ্রিন ফাইন্যানসিংয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক উদ্যোগ ‘নেট-জিরো ব্যাংকিং অ্যালায়েন্স’-এ সিটি ব্যাংককে অন্তর্ভুক্তিকরণে অবদান রাখেন।
হোলসেল ব্যাংক প্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্বের আওতায় পড়বে কর্পোরেট ব্যাংকিং, ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট, স্ট্রাকচার্ড ফাইন্যান্স, অফশোর ব্যাংকিং ব্যবসা ইত্যাদি। আসীফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্সে এমবিএ এবং বিআইবিএম থেকে এমবিএম সম্পন্ন করেন।
মাহমুদ গনি ২০০১ সালে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে সিটি ব্যাংকে যোগদান করেন। ২০০৭ সালে সিটি ব্যাংকের সামগ্রিক ট্রান্সফরমেশন প্রজেক্ট টিমের অন্যতম সদস্য হিসেবে তিনি কর্পোরেট ব্যাংকিংকে পূনর্গঠন করে বর্তমান উৎকর্ষে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখেন। ২০১০ সালে স্বল্প সময়ের জন্য তিনি দেশের অন্য একটি ব্যাংকে যোগ দিয়ে ২০১৭ সালে কমার্শিয়াল ব্যাংকিং প্রধান হিসেবে আবার সিটি ব্যাংকে ফিরে আসেন।
২৪ বছরের ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে মাহমুদ গনি কমার্শিয়াল ব্যাংকিংয়ে ব্যবসার প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন যার অন্যতম অভিমুখ ছিল ব্যাংকটির বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধি। মাহমুদ গনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিংয়ে এমবিএ সম্পন্ন করেন।