রাজনীতি
উদারতা দিয়ে মানুষের মন জয় করুন: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, শক্তি কিংবা ভয় নয়, ইনসাফ ও উদারতা দিয়ে মানুষের মন জয় করুন। জনগণের ভালোবাসা অর্জন করুন।
আজ রবিবার সকালে বিএনপির ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গণতন্ত্রকামী জনগণসহ দলের নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভলঘ্নে আমি বলতে চাই, স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ বেগম খালেদা জিয়া দেশের ৮৭ হাজার গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। সেই দলের পতাকা এখন আমার আপনার আমাদের হাতে। এই পতাকা এখন শুধু বিএনপির দলীয় পতাকাই নয়। এই পতাকা এখন দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সুতরাং, যারা এই পতাকার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে চান, তারা কোনো প্রকার অনৈতিক কিংবা অনধিকার চর্চায় লিপ্ত হবেন না।
বাংলাদেশের জাতীয়বাদী শক্তির সকল স্তরের সকল পর্যায়ের প্রতি নেতাকর্মী সমর্থক শুভাকাঙ্ক্ষীকে মনে রাখতে হবে জনগণ বিএনপিকে বিশ্বাস করে। বিএনপি জনগণকে বিশ্বাস করে। কারণ জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।
এর আগে, বিএনপির ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গণমাধ্যমে দেওয়া বাণীতে তারেক রহমান বলেন, আজকের দিনটি বাংলাদেশি মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার। ১৯৭৮ সালের এই দিনে এক শুভক্ষণে স্বাধীনতার ঘোষক সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীরউত্তম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাকশালী ব্যবস্থায় গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছিলো শুধুমাত্র একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার জন্য। সেই মৃত গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের আবারও পথচলা শুরু হয়। শহীদ জিয়ার সৃষ্টি বিএনপি বিগত ৪৬ বছরে কয়েকবার সকলের অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু নির্বাচনে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়ে দেশ ও জনগণের সমৃদ্ধি ও কল্যাণে কাজ করে গেছে। আমি স্বাধীনতার মহান ঘোষক, সফল রাষ্ট্রনায়ক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর প্রতি জানাচ্ছি গভীর শ্রদ্ধা।
তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের এই প্রিয় দল অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে। নির্বাসিত গণতন্ত্র আদায়ে নির্দ্বিধায় অকাতরে জীবন উৎসর্গ করেছে অসংখ্য নেতাকর্মী। ’৮০-র দশকে ৯ বছরের সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির রাজপথে আপসহীন ভূমিকা ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়। তার সেই অগ্রণী ভূমিকার জন্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়। আমি বেগম খালেদা জিয়াকে জানাই সশ্রদ্ধ সালাম।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বিএনপি ১৯৯১ সালে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালনকালে সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেছে। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন গণতন্ত্রের অনন্য প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা ও বিকাশসহ দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় বিএনপির বলিষ্ঠ ভূমিকা জনগণের কাছে সবসময় সমাদৃত হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র সমুন্নত ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিএনপির উদ্যোম ও উদ্যোগের ফলশ্রুতিতে দলটি দেশবাসীর কাছে এখন সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুন্ন রেখে দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করে বিএনপি আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে ইনশাআল্লাহ। জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত দলের যে সমস্ত নেতাকর্মী মৃত্যুবরণ করেছেন, দেড় দশকের আওয়ামী ফ্যাসিবাদের করাল গ্রাস ও সম্প্রতি ছাত্র-জনতার রক্তঝরা আন্দোলনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন এবং সম্প্রতি পূর্বাঞ্চলের বন্যায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন- তাদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর শ্রদ্ধা।
কাফি

রাজনীতি
আহত নুরকে দেখতে হাসপাতালে বিএনপি নেতা ড. মঈন খান

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিচার্জে গুরুতর আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিউতে ভর্তি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে দেখতে গেলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।
শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে নুরের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন এবং তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
পরে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ২৪-এর আগস্টের পূর্ব থেকে বিএনপিসহ দেশের ৬৩ রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে রাজপথে ছিলাম। সে আন্দোলনে নুরুল হক নুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশে গায়ের জোরে কারও মুখ বন্ধ করা যাবে না। বাংলাদেশে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। আমরা আগামীতে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আজকে নয়, হাজার বছরের ইতিহাস দেখলে দেখা যাবে এ দেশের মানুষ কখনও অত্যাচার-জুলুম সহ্য করে নাই। তারা প্রতিবাদ করেছে এবং স্বাধীনতার জন্য বারংবার যুদ্ধ করেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, আমাদেরকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী হতে হবে। সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছার স্পষ্ট প্রতিফলন হতে হবে। তারা নির্বাচনে তাদের মতামত দেবে এবং সেই মতামতের মাধ্যমে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে তারাই এ দেশ পরিচালনা করবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহ স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. পারভেজ রেজা কাকন এবং গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
রাজনীতি
আল্লাহ ছাড়া কেউ এই নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না: সালাহউদ্দিন

নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। স্বয়ং আল্লাহ ছাড়া এই নির্বাচন আর কেউ ঠেকাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে নেত্রকোনার মোক্তারপাড়া মাঠে আয়োজিত জেলা বিএনপির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চলছেই। তারপরও আগামী রমজানের আগেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে। আর নির্বাচনে অতন্দ্র পাহারা দেবে এই দেশের জনগণ।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন নির্বাচনমুখী। কেউ নির্বাচনের বিরোধিতা করলে বাংলাদেশের জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আমরা সাংবিধানিক সংস্কার করছি। রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করছি। একটি লক্ষ্য নিয়েই সংস্কার করছি, যাতে এই দেশে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদের জন্ম না হয়।
আগামী সংসদীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সংস্কার বাস্তবায়ন করবে জানিয়ে এই বিএনপি নেতা বলেন, যে সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন নেই তা বর্তমান সরকার এখনই বাস্তবায়ন করতে পারে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ আলমগীর, জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল আলম, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, সম্মেলনে নেত্রকোণার ১০ উপজেলা ও ৫টি পৌরসভা মিলিয়ে মোট ১৫টি ইউনিটের প্রতিটি থেকে ১০১ জন করে সর্বমোট ১ হাজার ৫১৫ জন কাউন্সিলর অংশ নিচ্ছেন। তারা প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচন করবেন।
রাজনীতি
নুরের ওপর হামলার ঘটনায় তারেক রহমানের তীব্র নিন্দা, তদন্তের আহ্বান

নুরুল হক নুরের ওপর হামলা এবং কাকরাইলে সংঘটিত সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই সঙ্গে ঘটনার আইনানুগ তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্ট এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রপন্থী অংশীদারদের, যার মধ্যে বিএনপি এবং তার মিত্ররাও রয়েছে, তাদের অবশ্যই সংযম ও সহনশীলতা বজায় রাখতে হবে। গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা অবশ্যই জয়ী হতে হবে। দেশকে অবশ্যই জনতার শাসন এবং বর্তমান অস্থিরতার শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
যদি আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে আমাদের জনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সতর্কতা বজায় রাখা উচিত, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা উচিত এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল দেশ গড়ে তোলা উচিত। কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক পথে জনগণকে ক্ষমতায়িত করার এবং সকলের জন্য ন্যায়বিচার, সাম্য এবং মর্যাদা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে সফল হতে পারি। আমি নুরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি এবং ঘটনার আইনানুগ তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।
কাফি
রাজনীতি
নুরের জ্ঞান ফিরেছে, শারীরিক অবস্থা নিয়ে যা জানা গেল

রাজধানীর কাকরাইলে হামলায় গুরুতর আহত গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের জ্ঞান ফিরেছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টা ৫ মিনিটে তার ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানানো হয়।
স্ট্যাটাসে জানানো হয়েছে, নুর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে লেখা হয়, নুরুল হক নুরের ওপর গতরাতে হামলার পর এখন পর্যন্ত তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এখন তার কিছুটা হুঁশ ফিরেছে। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।
স্ট্যাটাসের সঙ্গে নুরের দুটি ছবিও প্রকাশ করা হয়। তাতে দেখা যায়, তিনি হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছেন, নাকে ব্যান্ডেজ বাঁধা এবং মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো।
এর আগে, শুক্রবার রাতেই গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান জানান, নুরের মাথায় আঘাত লেগে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (৩০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় গুরুতর আহত হন নুর। রক্তাক্ত অবস্থায় সেখান থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, নুরের মুখ থেকে বুক পর্যন্ত রক্তাক্ত। তার নাক ফেটে যায় এবং তিনি স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছেন।
রাজনীতি
প্রহসনের নাটকীয় নির্বাচন জনগণ প্রতিহত করবে: ড. হেলাল

পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ব্যতীত প্রহসনের নাটকীয় নির্বাচন জনগণ প্রতিহত করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. এডভোকেট হেলাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ব্যতীত প্রহসনের নাটকীয় নির্বাচন জনগণ প্রতিহত করবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট একটি দলকে প্রাধান্য দিয়ে যেই নির্বাচন হলে সেই নির্বাচন হবে একটি নাটকীয় নির্বাচন। বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটলে, মানুষ দাবি আদায়ে জীবন দিতেও দ্বিধা করে না। দেশের ৭১ শতাংশ জনগণ চায় পিআর পদ্ধতি নির্বাচন। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে একটি দলের প্রতিনিধিত্ব মূলক আচরণ করছে। সরকারের কর্মকান্ডে জনমনে সংশয় তৈরি হচ্ছে। এই সংশয় দূর করতে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মতিঝিল পূর্ব থানা আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি জামায়াতে ইসলামীর দলীয় দাবি নয়, এই দাবি গণমানুষের দাবি। যার প্রমাণ ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থার জরিপে উঠে এসেছে। জরিপে দেখা গেছে দেশের ৭১ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচন চায়। একটি মাত্র দল ব্যতীত অন্য সকল রাজনৈতিক দলও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়। তাহলে সরকার কার স্বার্থে পিআর পদ্ধতি এড়িয়ে গিয়ে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে, সেটি সরকারকে জাতির সামনে স্পষ্ট করতে তিনি আহ্বান জানান।
তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবস্থান জাতির সামনে স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি দলের ভাষায় কথায় কথায় সাংবিধানিক সংকটের দোহাই দিচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা কোন সংবিধানে কোথায় রয়েছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না দিলে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বৈধতা নিশ্চিত হবে না। যারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সাংবিধানিক সংকটে ভয় দেখাচ্ছে, তারা ক্ষমতায় বসতে পারলে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অসাংবিধান সরকার হিসেবে অবৈধ ঘোষণা করবে। এরফলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক যাবতীয় সংস্কার প্রস্তাব অনায়েসে বাতিল হয়ে যাবে। ফলে জুলাই চেতনার অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই সুযোগে ক্ষমতাসীনরা নতুন রূপে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েম করবে। তাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাংবিধানিক বৈধতার প্রয়োজনে এবং নতুন বাংলাদেশ গড়তে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি’ রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে দিতে না পারলে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করতে হবে। জনগণ যদি গণভোটের মাধ্যমে পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না চায়, তবে জামায়াতে ইসলামীও চাইবে না। কিন্তু জনগণ যদি চায় তাহলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিংবা কোনো দলের আপত্তি কেন?- তাহলে কী নতুন করে ফ্যাসিবাদের উত্থানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সহযোগিতা করছে বলে মনে হয় না?- যদি সরকার ফ্যাসিবাদের উত্থানে সহযোগিতা না করে, তাহলে অনতিবিলম্বে ‘পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি’ দিতে গণভোটের আয়োজন করতেই হবে। নতুবা জনগণ রাজপথে নেমে আসলে এর সকল দায় সরকারকে বহন করতে হবে।
মতিঝিল পূর্ব থানা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কমলাপুর শেরেবাংলা রেলওয়ে স্কুল এন্ড কলেজ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৮ নং ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থী জসিমুল হক পাটোয়ারী, মতিঝিল পূর্ব থানার আমির নুরুদ্দিন, থানা সেক্রেটারি খলিলুর রহমান, থানা অফিস সম্পাদক এডভোকেট দেলোয়ার হোসাইন মজুমদারসহ মতিঝিল পূর্ব থানা কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্যবৃন্দ।