পুঁজিবাজার
এনআরবিসি ব্যাংকের পর্ষদ ভাঙার দাবিতে ৯ দপ্তরে চিঠি

বেসরকারি এনআরবি কমার্শিয়াল (এনআরবিসি) ব্যাংকের চেয়ারম্যান পারভেজ তমাল ও এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান আদনান ইমামের বিরুদ্ধে সংগবদ্ধ ব্যাংক লুটেরা চক্রের মাধ্যমে ব্যাংকের ৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকারও বেশি লুটপাট ও পাঁচারের অভিযোগ তুলেছে ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। সেই সঙ্গে ব্যাংকের এই লুটেরা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ ৯ দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক, পরিচালক, সাধারণ বিনিয়োগকারী ও সর্বস্তরের বৈষম্য ও নিপীড়নবিরোধী কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
গত রবিবার (১৮ আগস্ট) তাঁরা এ সংক্রান্ত চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, অর্থ উপদেষ্টা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, তথ্য উপদেষ্টা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মন্ত্রীপরিষদ সচিব বরাবর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পাঠিয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের চরম অনিয়ম, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনা ও দুঃশাসনের চরম নজির স্থাপন করেছে এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি। যার জন্য দায়ী ব্যাংকের একক কর্তৃত্ববাদী চেয়ারম্যান পারভেজ তমাল ও তার সকল অপকর্মের দোসর এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান আদনান ইমাম।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের বর্তমান কুখ্যাত চেয়ারম্যান আওয়ামী দালাল, তথাকথিত বঙ্গবন্ধু পরিষদ-রাশিয়ার সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী ডোনার, ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী বাহিনীর অর্থায়নকারী, ব্যাংক লুটেরা, সংগবদ্ধ ব্যাংক লুটেরা চক্রের মাধ্যমে ব্যাংকের ৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকারও বেশি লুটপাট ও পাচারকারী পারভেজ তমাল ও তার লুটেরা সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী এক্সিকিউটিভ কমিটির লুটেরা চেয়ারম্যান আদনান ইমাম। তারা সদ্য সাবেক আওয়ামীলীগ সরকারের উচ্চমহলের আনুকল্য গ্রহণের মাধ্যমে ব্যাংকের অভ্যন্তরে ২০১৮ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ঋণ জালিয়াতি, কমিশন বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, শেয়ার কারসাজি, মানিলন্ডারিং, নামে-বেনামে ভুয়া কোম্পানি সৃষ্টি করে ব্যাংকের টাকা তছরুপ ও বিদেশে পাঁচারকারী, ব্যাংকে টর্চার সেল খুলে নিরীহ কর্মকর্তাদের নির্যাতন, গ্রাহকের কোম্পানী দখলসহ বিবিধ আর্থিক দুর্নীতির অভয়ারন্য তৈরি করেছেন। তাদের এই লুটতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে ব্যাংকের সিনিয়র ম্যাজেনমেন্ট ও কতিপয় শাখা ব্যবস্থাপকের যোগসাজশে সংঘবদ্ধ আর্থিক দুর্নীতি চক্র বা অর্গানাইজড ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে।
এছাড়াও, চিঠিতে পারভেজ তমাল ও আদনান ইমামের সীমাহীন দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং, নিয়োগ বাণিজ্য, কমিশন বাণিজ্য, শেয়ার কারসাজি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যাংক কোম্পানী আইন ১৯৯১, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজ ল’ ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবিলম্বে এই দুর্নীতিগ্রস্থ, অবৈধ বোর্ড ভেঙ্গে দেওয়ার দাবি করেন তারা।
এর আগে, গত ১০ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর বরাবর শেয়ার কারসাজি-ব্যাংক লুটের কারিগর এনআরবিসি ব্যাংকের তমাল-আদনানের বিরুদ্ধে এসব তথ্য তুলে ধরে এক চিঠি পাঠায় ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতাদের কয়েকজন।
চিঠিতে বলা হয়, শেয়ার কারসাজি, গ্রাহকের কোম্পানি দখল, ব্যাংকিং কার্যক্রমে স্বজনপ্রীতি, চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা নিয়োগ, কমিশন বানিজ্য, কর্মকর্তা নিয়োগে অনিয়মেরও অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংকটির পছন্দের কর্মকর্তাদের অস্বাভাবিক ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। লুটতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে ব্যাংকের সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট ও একাধিক শাখা ব্যবস্থাপকের যোগসাজশে সংঘবদ্ধ আর্থিক দুর্নীতি চক্র গড়ে তুলেছেন তারা। এমনকি এর সঙ্গে সাবেক গর্ভনর আব্দুর রউফ তালুকদারের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন।
জানা গেছে, এখনো এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পারভেজ তমাল ও আদনান ইমাম বহাল তবিয়তেই রয়েছেন। তাদের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রেশন ও কাস্টমার সার্ভিসেস ডিভিশন (এফআইসিএসডি)। তদন্ত প্রতিবেদনে পরিচালকদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাংকের চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা নিয়োগসহ নানান অনিয়ম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে- নিয়ম বহির্ভূত ঋণ প্রদান, ঋণ বিতরণে কমিশন বানিজ্য, শেয়ার কারসাজি, অবৈধভাবে গ্রাহকের কোম্পানি দখল, কর্মকর্তা নিয়োগে অনিয়ম, চেয়ারম্যানের অবৈধভাবে দুটি কার্যালয় ব্যবহার, পছন্দের কর্মকর্তাদের অস্বাভাবিক ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতিসহ নানান অনিয়মের সত্যতা উঠে এসেছে। এছাড়া পরিদর্শন প্রতিবেদনে ব্যাংকের পর্ষদের সদস্যদের উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে ব্যাংকের আয় হ্রাসসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আউটসোর্সিং নীতিমালা লঙ্ঘনের পাশাপাশি ব্যাংকের নিজস্ব প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার ম্যানেজমেন্ট পলিসির গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এছাড়া পরিচালকেরা ব্যাংকের কর্মকর্তাকে ডেপুটেশনে নিজেদের মালিকানাধীন এনআরবিসি ম্যানেজমেন্টের সিইওর দায়িত্ব পালন করে সুস্পষ্ট ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত পরিদর্শন ও বিশেষ তদন্ত রিপোর্টেও এনআরবিসি ব্যাংকের শীর্ষ এই দুই কর্তার বিরুদ্ধে অর্থপাচারসহ এসব অনিয়ম ও লুটতরাজের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও পারভেজ তমাল ও আদনান ইমামের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গুঞ্জন রয়েছে, আওয়ামীলীগ সরকারের উচ্চমহলের একাধিক সদস্যের সহযোগিতায় তারা অবাধে এসব অপকর্ম চালিয়ে গেছেন। ব্যাংকের এই লুটপাটের ঘটনায় বেশ আতঙ্কে রয়েছেন শেয়ারধারী ও আমানতকারীরা।
সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এনআরবিসি ব্যাংকের ৪০তম পর্ষদ সভায় পরিচালকদের ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার ও ব্যাংক দখলের উদ্দেশ্যে অস্ত্রসহ বহিরাগত নিয়ে মিটিংয়ে প্রবেশ করে প্রথম আলোচনায় আসেন তারা। এরপর শুরু হয় ব্যাংক থেকে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নামে অবৈধ ঋণ বিতরণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অর্নিতা এগ্রোর নামে ৩ কোটি, পূবালী কন্সেন্ট্রেশনের নামে ৯ কোটি, এনইএস ট্রেডিং এর নামে ১৯ কোটি ও লান্তা সার্ভিসেসের নামে ৩ কোটিসহ মোট ৬৪ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করে তারা।
সূত্র মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুসারে কোন ব্যক্তি একত্রে ব্যাংক ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদের শীর্ষে পদে থাকতে পারবেন না। কিন্তু পারভেজ তমাল নিয়মকে পাত্তা না দিয়ে একইসাথে এনআরবিসি ব্যাংকের ও এনআরবিসি ম্যানেজমেন্টের চেয়ারম্যান ছিলেন। চেয়ারম্যান থাকাকালীন গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ৭৮তম বোর্ড সভায় এনআরবিসি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের অনুকূলে ৬০ কোটি টাকার কম্পোজিট ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি অনুমোদন করা হয়। যার মধ্যে ২০ কোটি টাকার অমনিবাস ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি ও ৪০ কোটি টাকার লিজ ফাইন্যান্স ফ্যাসিলিটি অন্তর্ভুক্ত ছিলো। এভাবে ঋণ অনুমোদন ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার পরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এছাড়াও, তাদের দুজনের মালিকাধীন এনআরবিসি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিতে ব্যাংকের নিয়মিত কর্মকর্তা ল্যাফটেন্যান্ট কমান্ডার (অবঃ) ফরহাদ সরকারকে ডেপুটেশনে নিয়োগ দেয়া হয়। পাশাপাশি ব্যাংকের অর্থ খরচ করে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষন দেওয়ার নামে বিদেশ ভ্রমণে নেওয়া হয়। যা ব্যাংকের স্বার্থবিরোধী কাজ।
এদিকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ব্যাংকের গ্রাহকের কোম্পানি দখল করার অভিযোগ উঠেছে তমাল-আদনান সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। নিজেদের পদপদবীর অপব্যবহার, প্রভাব খাটানোর মাধ্যমে ইক্সোরা এ্যাপারেলস লিমিটেড নামের একটি রপ্তানীমুখী সোয়েটার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান দখল করেছে তারা। এই কোম্পানির নাম ভাঙিয়ে শতকোটি টাকার ঋণ জালিয়তি ও বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের প্রমান পাওয়া গেছে। যার মামলা বর্তমানে দুদকে চলমান রয়েছে। শুধু ইক্সোরা নয়, পলিগন ফ্যাশন, রিল্যাক্স ফ্যাশন, ইনসাইড নিট কম্পোজিট, সাফি নিট, ফাইভ এফ এ্যাপারেলস, ব্লেসিংস নিটওয়্যার ও সিলভার এ্যাপারেলসসহ প্রায় ১৫টি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২ হাজার কোটি টাকার অবৈধ ঋণ অনুমোদন, ঋণ জালিয়াতি এবং এর আড়ালে বৈদেশিক মুদ্রা পাচারে তমাল ও আদনান প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, শেয়ারবাজারের কারসাজিতেও বেশ সরব তমাল ও আদনান। এসব কাজে পরিবারের সদস্যদেরও ব্যবহার করতেন তারা। এছাড়াও এনআরবিসি ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় পরিচালিত পারভেজ তমালের মায়ের ব্যাংক হিসাব উম্মে বিলকিস (হিসাব নংঃ ০১০১৩১১০০০০৫৫২৫), পারভেজ তমালের ভাইয়ের ব্যাংক হিসাব সৈয়দ শাব্বির আহমেদ (হিসাব নংঃ ০১০১৩১১০০০০৫৭৩৬), সৈয়দ শাব্বিরের স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব আসমা রশীদ (হিসাব নংঃ ০১০১৩১১০০০০৫৫৩০), পারভেজ তমালের ছোট ভাইয়ের ব্যাংক হিসাব সৈয়দ শোয়েব (হিসাব নংঃ ০১০১৩১১০০০০৫৫২৬), আসিফ ইকবালের পিতার ব্যাংক হিসাব আব্দুর রশীদ (হিসাব নংঃ ০১০১৩১১০০০০৫৫৬৭), আসিফ ইকবালের মায়ের একাউন্ট মাকসুদা বেগম (হিসাব নংঃ ০১০১৩১১০০০০৫৫৬৪), আসিফ ইকবালের স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব তাকিয়া নিশি (হিসাব নংঃ ০১০১৩১১০০০০৫৫৩৩), আসিফ ইকবালের বোনের ব্যাংক হিসাব নাঈমা সুলতানা (হিসাব নংঃ ০১০১৩১১০০০০৫৫৬৬) এবং (হিসাব নংঃ ০১০১৩১১০০০০৫৫২২) তমাল ও আদনানের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। উল্লেখিত নামের অজ্ঞাতে খোলা এসব ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তারা শেয়ার কারসাজি ও অর্থপাচার করেছেন। এসবের সঙ্গে ব্যাংকের কর্মকর্তা জাফর ইকবাল হাওলাদার, জমির উদ্দিন ও কামরুল হাসানও জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র বলছে, ২০১৬ সালের নভেম্বরে অর্থপাচারের অপরাধে এবিএম আব্দুল মান্নানের ৪ কোটি ৭০ লাখ ১ হাজার ৮৮৬টি শেয়ার বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়। এসব শেয়ারের মধ্যে গত বছরের ৩১ অক্টোবর পারভেজ তমালের ব্যবসায়িক পার্টনার শফিকুল আলম ৬৫ লাখ ৭২ হাজার ৯৯২টি, আদনান ইমামের স্ত্রী নাদিয়া মোমিন ইমাম ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার ৯০৪টি এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল আহসানের মেয়ে রেহনুমা আহসান ১ কোটি ৪৫ লাখ ৮০ হাজার ৬১৫টি শেয়ার ব্লক মার্কেট থেকে অবৈধভাবে নিজেদের নামে কিনে নেন। অবৈধ এসব শেয়ার হস্তান্তরে ব্যাংকের চেয়ারম্যান পারভেজ তমাল, এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান আদনান ইমাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম আউলিয়া ও কোম্পানী সচিব ও সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের ভগ্নিপতি আহসান হাবিব জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের ভগ্নিপতি মেজর (অবঃ) আহসান হাবিবকে এনআরবিসি ব্যাংকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। ব্যাংকিং পেশায় অভিজ্ঞতাহীন এই সেনা কর্মকর্তাকে নিয়োগের ৭ মাস পরেই ব্যাংকটির কোম্পানি সচিবের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়। এমনকি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের একবছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিশেষ বিবেচনায় তার চাকরি স্থায়ী করা হয়। একই সঙ্গে তাকে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। মূলত গভর্নরকে বশীকরণের মাধ্যমে তমাল-আদনান চক্রের সব অপকর্ম ধামাচাপা দেওয়াই এই নিয়োগের একমাত্র উদ্দেশ্য বলে অভিযোগ উঠেছে। গভর্নরের ব্যক্তি স্বার্থ সংশ্লিষ্টতার কারণে এনআরবিসি ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি এবং গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় বাংকের এফআইসিএডির পর্ষদ ভাঙ্গার সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি।
জানা যায়, এনআরবিসি ব্যাংকের ঋণ অনিয়মে পদে পদে জড়িত ছিলেন ব্যাংক ও ব্যবস্থাপনার এই দুই চেয়ারম্যান। পারভেজ তমালের ব্যবসায়িক অংশীদার শফিকুল আলমের মালিকানাধীন রিলায়েবল বিল্ডার্সের অনুকূলে এনআরবিসি ব্যাংকের হাতিরপুল শাখার গ্রাহক হিসেবে মাত্র ৩ কোটি টাকা জামানতের বিপরীতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন দেয় এই চক্রটি। যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ অনুমোদনের নীতিমালা পুরোপুরি লঙ্ঘন করা হয়েছে। এছাড়া একই শাখা থেকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফরচুন সুজকে ২০০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। বিনিয়োগের নাম করে নেওয়া এ ঋণের মাধ্যমে বিপিএলে ক্রিকেট টিম ক্রয় করেছে ফরচুন বরিশাল। সেখানে আবার বেনামে শেয়ার ধারণ করেছে পারভেজ তমাল। এর মাধ্যমে শেয়ার কারসাজি এবং রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার করেছে এনআরবিসির বর্তমান চেয়ারম্যান।
এদিকে এসকেএস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নিয়ম বর্হিভূত উপশাখা স্থাপন ও নীতি লঙ্ঘন করে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করছে পারভেজ তমাল ও তার সহযোগী রাসেল আহমেদ লিটন। এসব ঋণ থেকে তমাল বড় অঙ্কের কমিশন পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসকেএস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে ১৩১টি পার্টনারশিপ উপশাখাসহ প্রায় ৮০০ শাখা-উপশাখা চালু করা হয়। এসব শাখা-উপশাখার ডেকোরেশন ও আসবাবপত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে তমাল-আদনানের বেনামী প্রতিষ্ঠান লানতা সার্ভিসেস, টিএসএন ট্রেড এন্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড এবং এনআরবিসি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির মাধ্যমে ওপেন টেন্ডার ও কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। ফলে তাদের ইচ্ছে মতো অর্থ ব্যয় করে ব্যাংকের খরচ বাড়ালেও দরপত্রে নিজেদের কোম্পানির সংশ্লিষ্টতা থাকায় মূলত লাভবান হয়েছে পারভেজ তমাল ও আদনান ইমাম।
সূত্র মতে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এসকেএস ফাউন্ডেশনের সাথে যৌথভাবে ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকার মাইক্রো ক্রেডিট ঋণ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া কোম্পানিটির ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য রিসোর্ট, হাসপাতাল, স্কুল ও কলেজ স্থাপনের নামে নির্দিষ্ট জামানত ছাড়াই দুই শতকোটি টাকার ঋণ দিয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক। স্বার্থহাসিল ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে প্রায়ই নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন করেছেন তমাল-আদনান চক্র। এছাড়া ২০২২ সালের এপ্রিলে ট্রেইনি অফিসার নিয়োগেও এই চক্রের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এসএম
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আন্তর্জাতিক
ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কের ঘোষণায় বিশ্ব পুঁজিবাজারে ধস

২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অর্থাৎ বিশ্বের সব দেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি।
স্বাভাবিকভাবেই পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে। ধস নেমেছে এশিয়ার পুঁজিবাজারে। দেখা যাচ্ছে, প্রায় সব ধরনের বাজারেই প্রভাব পড়েছে। সোনার মূল্য বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রসহ চীন, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনামের মতো দেশের পুঁজিবাজারে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণার আগের দিন চাঙা ছিল এশিয়ার পুঁজিবাজারগুলো। লাভের মুখ দেখেছিল যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার সূচক সেনসেক্স ও নিফটি। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্স’র।
বৃহস্পতিবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার সূচক দ্রুত নামতে শুরু করে। যদিও ডলারের তুলনায় জাপানের মুদ্রা ইয়েনের দর বেড়েছে।
ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার সূচক নাসডাক ফিউচার্সের পতন হয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রযুক্তি খাতের বৃহৎ ৭টি প্রতিষ্ঠানের বাজার মূলধন কমেছে ৭৬০ বিলিয়ন বা ৭৬ হাজার কোটি ডলার। অ্যাপলের আইফোনের সিংহভাগ উৎপাদিত হয় চীনে। ফলে অ্যাপলের শেয়ারের দাম কমেছে সবচেয়ে বেশি বা ৭ শতাংশ।
এ ছাড়া এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ; এফটিএসই ফিউচার্স কমেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ; ইউরোপিয়ান ফিউচার্স কমেছে প্রায় ২ শতাংশ।
সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, ট্রাম্পের ঘোষণার জেরে টোকিওর নিক্কেই (টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের স্টক মার্কেট সূচক) প্রাথমিকভাবে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে যায়, যদিও পরে তা কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। পতনের হার শেষমেশ ২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়ায়। জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ এবং আমেরিকার অন্যতম ‘বন্ধু’ দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সে দেশের পুঁজিবাজারেও। হংকং ও সাংহাইয়ে একই প্রভাব পড়েছে। কোথাও পতনের হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ, কোথাও আবার ১ দশমিক ৪ শতাংশ।
ট্রাম্পের ঘোষণায় বিশ্ববাজারে সোনার দামেও প্রভাব পড়েছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সোনার দাম আবারও নতুন রেকর্ড গড়েছে। আউন্স প্রতি ৩ হাজার ১৬০ ডলারে উঠে গেছে।
শুধু সোনা নয়, প্রভাব পড়েছে তেলের দামেও। অপরিশোধিত তেলের ব্র্যান্ড ব্রেন্ট ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৫৬ ডলারে পৌঁছেছে।
গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় (বাংলাদেশের দিবাগত রাত দুইটা) ‘পাল্টা’ বা ‘পারস্পরিক শুল্ক’ নিয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বাংলাদেশের পণ্যে ৩৭ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুঁজিবাজার
কলম্বো ও পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে ডিএসইর সমঝোতা

দক্ষিণ এশিয়ার এক্সচেঞ্জগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার জন্য একটি কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের (পিএসএক্স) মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
গত ২৭ মার্চ শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে এক অনুষ্ঠানে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান দিলশান উইরসেকারা, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অব পাকিস্তানের চেয়ারম্যান আকিফ সাইদ সহ প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিচালক ও উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
সমঝোতা স্মারকটিতে ৩টি দেশের স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর ডিজিটাল রূপান্তরে যৌথ উদ্যোগ,নতুন আর্থিক পণ্য ও বাজার উন্নয়নে এক্সচেঞ্জগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়, বাজার তদারকি এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা কাঠামোর সমন্বয়,মানবসম্পদ উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ,ক্রস-এক্সচেঞ্জ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং নলেজ শেয়ারিং উদ্যোগগুলো সংগঠিত করার বিষয়ে সহযোগিতার অঙ্গীকার প্রদান করা হয়। এই সমঝোতা স্যারকের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হল বিনিয়োগকারীদের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের জন্য আন্তঃসীমান্ত তালিকাভুক্তির সুযোগ অনুসন্ধান করা,ব্রোকার অংশীদারিত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগের সুবিধা প্রদান করা।
এই উদ্যোগ সম্পর্কে ডিএসই’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন,আকারে ছোট হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ব্যতীত অন্যান্য দেশের স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর প্রযুক্তিগত এবং প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে এসকল অত্যন্ত সম্ভাবনাময় স্টক এক্সচেঞ্জগুলো কাক্ষিত সক্ষমতা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। সম্পদ ও অভিজ্ঞতার পারস্পরিক বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে আমাদের স্টক এক্সচেঞ্জগুলো নিজ নিজ দেশে দক্ষ ও শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠনে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। একত্রে কাজ করে,আমরা আমাদের আর্থিক ইকোসিস্টেমে সমৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের সুযোগ উন্মুক্ত করতে পারব,যা বিনিয়োগকারী এবং অংশীদারদের জন্য সুফল বয়ে আনবে।
ডিএসই’র চেয়ারম্যান উক্ত প্রোগ্রামে ‘নাভিগেটিং ফ্রন্টিয়ার ক্যাপিটাল মার্কেটস: হাউ এভোল্ভিং মার্কেট রেগুলেশন এন্ড এক্সচেঞ্জেস ফস্টার এফিসিয়েন্ট ক্যাপিটাল মার্কেট ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি তার বক্তব্যে ডিএসই, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এবং অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা, ডিএসই’র ডিমিউচুয়ালজেশন পরবর্তী অভিজ্ঞতা, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন।
পরবর্তীতে ডিএসই’র প্রতিনিধিবৃন্দ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অব পাকিস্তানের চেয়ারম্যান, কমিশনার, পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি সিস্টেমের সিইও ও সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টির সিইও এবং কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জ এর সিইও, সিআরও ও উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে পৃথকভাবে বৈঠক করেন। বৈঠকে ডিএসই’র চেয়ারম্যান বর্তমান কার্যক্রম, রিজিওনাল পণ্যের বাজার উন্নয়ন,প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি নিজস্বভাবে তৈরী,অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। উপস্থিত সকলে তার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন করেন এবং একসাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত রোড শোতে ডিএসই’র প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ হলেন পরিচালক মো. শাকিল রিজভী, মিনহাজ মান্নান ইমন, রিচার্ড ডি’রোজারিও এবং মহাব্যবস্থাপক এবং কোম্পানি সচিব মোহামাদ আসাদুর রহমান।
এসএম
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুঁজিবাজার
সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড

বিদায়ী সপ্তাহে (২৩ মার্চ-২৮ মার্চ) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দরপতনের শীর্ষে উঠে এসেছে ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।
ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
সূত্র মতে, সপ্তাহজুড়ে ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারদর কমেছে ১২ দশমিক ১২ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ারের মূল্য কমেছে ৮০ পয়সা।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির শেয়ারদর কমেছে ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমেছে ১ টাকা ১০ পয়সা। আর তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের শেয়ারদর কমেছে ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমেছে ১ টাকা।
তালিকায় উঠে আসা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে- প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড,বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিক, বিডি থাই ফুডস, এস আলম কোল্ড অ্যান্ড রোল্ড, আরএসআরএম স্টিল, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস এবং উসমানীয়া গ্লাস।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুঁজিবাজার
সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির শীর্ষে এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড

বিদায়ী সপ্তাহে (২৩ মার্চ-২৭ মার্চ) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড।
ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
সূত্র মতে, সমাপ্ত সপ্তাহে এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ারদর আগের সপ্তাহের তুলনায় ৭০ পয়সা বা ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়েছে।
দরবৃদ্ধির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেডের শেয়ারদর বেড়েছে ৫০ পয়সা বা ১৪ দশমিক ৭১শতাংশ। আর ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ শেয়ারদর বাড়ায় তালিকার তৃতীয়স্থানে অবস্থান করেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।
সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় উঠে আসা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে এক্সিম ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ইস্টার্ন ল্যাবরেটরিজ ব্যালেন্ডার্স, শ্যামপুর সুগার মিল, মাইডাস ফাইন্যান্স, ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড, প্রোগ্রেস লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং সিভাও পেট্রোকেমিক্যাল।
কাফি
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুঁজিবাজার
সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষে ওরিয়ন ইনফিউশন

বিদায়ী সপ্তাহে (২৩ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯৬ কোম্পানির মাঝে লেনদেনর তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড।
সপ্তাহজুড়ে কোম্পানটির প্রতিদিন গড় ২৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা ছিল ডিএসইর মোট লেনদেনের ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ।
ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এই তথ্য জানা গেছে।
লেনদেনের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানটির প্রতিদিন গড়ে ২৩ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা ছিল ডিএসইর মোট লেনদেনের ৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
সাপ্তাহিক লেনদেনের তৃতীয় স্থানে থাকা শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেড সপ্তাহজুড়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করেছে। যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
এছাড়াও, গড় লেনদেনে সাপ্তাহিক শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলো হলো- ২০ওয়াই বিজিটিবি, বিচ হ্যাচারি, স্কয়ার ফার্মা, লাভেলো আইসক্রিম, সান লাইফ ইন্স্যুরেন্স, কেডিএস এ্যাসোসরিজ এবং বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন।
কাফি