জাতীয়
কাদের ও আসাদুজ্জামানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে বাইডেন প্রশাসনকে ছয় কংগ্রেস সদস্যের চিঠি

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ ও এর ধারাবাহিকতায় ছাত্র–জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতন, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও অর্থমন্ত্রী ইয়েলেনকে চিঠি লিখেছেন ছয়জন কংগ্রেস সদস্য।
চিঠিতে শেখ হাসিনা সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানান এ আইনপ্রণেতারা। একই সঙ্গে তাঁরা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন।
কংগ্রেস সদস্যরা বলেন, আন্দোলনে বেশির ভাগ সহিংসতার জন্য দায়ী দুই বাহিনী—পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এর দায়ভার আসাদুজ্জামান খানের। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা করতে ছাত্রলীগকে পাঠান। সেই সঙ্গে ‘দেখামাত্র গুলি’ করার নির্দেশ দেন তিনি।
গত বুধবার লেখা এ চিঠিতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ—সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের এই সদস্যরা বলেন, হাসিনা সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তাঁরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সরকারি চাকরিতে অন্যায্য কোটাব্যবস্থার প্রতিবাদে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে গত ১৫ জুলাই পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করে আওয়ামী লীগ। পরবর্তী সপ্তাহজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অসঙ্গতিপূর্ণ ও বেআইনি বলপ্রয়োগ করে। ছোড়ে রাবার বুলেট, ছররা গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও তাজা গুলি।
এ আইনপ্রণেতারা বলেন, এসব ঘটনা বিস্তৃত পরিসরে ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের চালানো দমনপীড়নেরই অংশ। নিজেদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দলটির নেতাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন, তবু তাঁদের জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তা রয়ে গেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে ‘গ্লোবাল ম্যাগনিটস্কি হিউম্যান রাইটস অ্যাকাউন্টিবিলিটি অ্যাক্ট’সহ প্রয়োগ উপযোগী সব আইনের আওতায় ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার আহ্বান জানান কংগ্রেস সদস্যরা।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৫ জুলাই সহিংস দমনাভিযানের পর শেখ হাসিনা দেশজুড়ে কারফিউ জারি করেন। বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট যোগাযোগ। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ এটিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন বলে মনে করে। আন্দোলনে বেশির ভাগ সহিংসতার জন্য দায়ী দুই বাহিনী—পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এর দায়ভার আসাদুজ্জামান খানের।
ইতিমধ্যে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা করতে ছাত্রলীগকে পাঠান। সেই সঙ্গে ‘দেখামাত্র গুলি’ করার নির্দেশ দেন তিনি। সহিংসতায় অন্তত ২০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হন কয়েক হাজার। নিহত ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা সম্ভবত আরও বেশি। এ ছাড়া, পুলিশ ছাত্র আন্দোলনের নেতাদেরসহ ১০ হাজারের বেশি মানুষকে আটক–গ্রেপ্তার করে; নানা অভিযোগে আসামি করে দুই লাখ লোককে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ভাষায়, এটি ছিল ‘উইচ হান্ট’। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ আরেকবার বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন ও জোরপূর্বক গুমে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করে দেয় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
কংগ্রেস সদস্যরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলে ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগ বিক্ষোভকারীদের ওপর নিষ্ঠুর দমনপীড়ন চালায়। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালাতে ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দেন। এর ফলে সৃষ্ট সহিংসতায় ওই দিন প্রায় ১০০ মানুষ নিহত হন। শেখ হাসিনা আবার দেশজুড়ে কারফিউ জারি করেন এবং বন্ধ করে দেওয়া হয় যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে বাংলাদেশি–আমেরিকানরা তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে আরও একবার যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে থাকা নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস জরুরিভিত্তিতে বিশ্বনেতাদের প্রতি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘অসম্মানজনক কাজে’ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে চলে গেলেও ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের কোনো পরিণামের মুখে পড়তে হয়নি।
এই আইনপ্রণেতারা বলেন, ‘র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপ বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধে সফলতা এনেছে। তবে, বর্তমান বাস্তবতায় এটাই যথেষ্ট নয়। ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামানের ওপর সুনির্দিষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে প্রয়োগযোগ্য সব ক্ষমতা খাটিয়ে আওয়ামী লীগের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় শক্ত জবাব দেওয়ার আহ্বান জানাই আমরা। ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’
চিঠিতে স্বাক্ষরকারী কংগ্রেস সদস্যরা হলেন লয়েড ডগেট, এডওয়ার্ড জে মার্কি, উইলিয়াম আর কিটিং, ক্রিস ভন হলেন, জেমস পি ম্যাকগভার্ন ও অল গ্রিন।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

জাতীয়
এক সপ্তাহে ঢাকা ছেড়েছেন ১ কোটি ৭ লাখ মানুষ, ফিরেছেন ৪৪ লাখ

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে এক সপ্তাহে ১ কোটি ৭ লাখ সিম ব্যবহারকারী ঢাকা ত্যাগ করেছেন। বিপরীতে ৪৪ লাখ মোবাইল সিম ব্যবহারকারী ঢাকায় প্রবেশ করেছেন।
আজ শনিবার (৫ এপ্রিল) টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সংস্থাটি গত ২৮ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ‘ঢাকায় আগমন’ ও ‘ঢাকা ত্যাগ’ করা মোবাইল ফোন গ্রাহকদের তথ্যের ভিত্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
গত ২৮ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত সাত দিনে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্ক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ সময় ঢাকায় প্রবেশ করেছেন ৪৪ লাখ ৪০ হাজার ২৭৯ জন, অথচ ঢাকা ছেড়েছেন ১ কোটি ৭২ লাখ ৯ হাজার ১৫৫ জন।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতিদিনই ঢাকায় আগত মানুষের চেয়ে বহুগুণে বেশি মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন। সবচেয়ে বেশি মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন ৩০ মার্চ। এ দিন ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৪৬১ জন ঢাকা ত্যাগ করেন। ওইদিন ঢাকায় এসেছেন মাত্র ৪ লাখ ৯১ হাজার ৮৮ জন।
অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি মানুষ ঢাকায় ফিরেছেন ৩ এপ্রিল। এ দিন ঢাকায় প্রবেশ করেছেন ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭৯ জন। কিন্তু একই দিনে ঢাকা ছেড়েছেন প্রায় ৮ লাখ।
নির্দিষ্ট অপারেটরভিত্তিক তথ্য বলছে, প্রতিদিনই গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও টেলিটকের গ্রাহকদের বড় একটি অংশ রাজধানী ত্যাগ করেছেন। ২৮ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত শুধুমাত্র গ্রামীণফোনের ৬৩ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি গ্রাহক ঢাকা ছেড়েছেন।
প্রসঙ্গত, এই তথ্য টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির সহায়তায় মোবাইল অপারেটরদের সাবস্ক্রাইবার লোকেশন ডেটা বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
জাতীয়
থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ড. ইউনূসের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা। তিনি শুক্রবার ব্যাংককের শাংগ্রি-লা হোটেলে সাক্ষাৎ করেন।
শনিবার (৫ এপ্রিল) প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এক বার্তায় তা জানান। সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক ইউনূস তার পুরোনো বন্ধু থাকসিনের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।
২০০১ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থাকসিন তার সহকর্মীদের সঙ্গে বাংলাদেশ এবং গ্রামীণ ব্যাংক পরিদর্শন করেন এবং গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির সাফল্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে থাইল্যান্ডের জন্য একটি ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির নকশা তৈরি করেন। সেই বছর জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অধ্যাপক ইউনূসকে মি. থাকসিন আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
তারা চিয়াং মাই এবং চট্টগ্রামের মধ্যে বিমান রুটের সম্ভাব্য পুনঃপ্রবর্তন নিয়েও আলোচনা করেছিলেন, যার ফলে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বিমানের সময় এক ঘণ্টায় নেমে এসেছিল। মি. থাকসিন উদ্বোধনী ফ্লাইটে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদ জিয়ার চট্টগ্রাম থেকে চিয়াং মাইতে একসঙ্গে উড়ানের কথা স্মরণ করেছিলেন।
অধ্যাপক ইউনূস এবং মি. থাকসিন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধান উপদেষ্টা আসিয়ান সদস্য হওয়ার জন্য বাংলাদেশের পরিকল্পনার জন্য থাকসিনের সমর্থন কামনা করেন।
অধ্যাপক ইউনূস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন থাই-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রচেষ্টার জন্য প্রাক্তন থাই প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় করার জন্য এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এবং সেই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য তার মূল্যবান সহায়তা কামনা করেন।
বৈঠকে তারা বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য সমস্যা এবং থাইল্যান্ডে ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যাবসা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা করেন। বাংলাদেশ সরকারের সিনিয়র সচিব এবং এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়কারী লামিয়া মোর্শেদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
জাতীয়
ঈদের ছুটি শেষে স্বস্তিতে ঢাকায় ফিরছে মানুষ

রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষজন। তবে বিগত কয়েকদিনের থেকে আজ একটু বেশি মানুষ ফিরছেন। কারণ, আগামীকাল (৬ এপ্রিল) থেকে খুলবে সব সরকারি অফিস।
শনিবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর সদরঘাট, বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গাবতলী বাস টার্মিনালে একের পর এক প্রবেশ করছে দূরপাল্লার বাস, সেখান থেকে নামছেন যাত্রীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ভিড় আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একইচিত্র যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদেও। তবে নেই তেমন কোনো অভিযোগ।
সপরিবারে সায়েদাবাদ জনপথ মোড়ে বাস থেকে নেমেছেন আল-আমিন। তিনি বলেন, গ্রামে বাবা-মায়ের সঙ্গে সপরিবারে ঈদ করতে গিয়েছিলাম। আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষণ বিভাগে কাজ করি। আজ থেকে আমার অফিস খুলছে। চেয়েছিলাম পরশু রওনা করে কাল ঢাকায় এসে পৌঁছাবো। পরে ভাবলাম এবারের ঈদযাত্রা তো স্বস্তির। তাছাড়া এখন পর্যন্ত চোখে কোনো ভোগান্তির খবর চোখে পড়েনি। তাই গতকাল রাতে রওনা হয়ে ভোরে এসে নামলাম। আলহামদুলিল্লাহ।
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে লঞ্চে মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। ভোর থেকেই যাত্রীবোঝাই যে সব লঞ্চ ঘাটে ভিড়েছে, সবগুলোতেই যাত্রীর চাপ রয়েছে।
যাত্রীরা জানান, এবারের ঈদযাত্রা ছিল ভোগান্তিহীন। এ ছাড়া ভাড়া নিয়েও তাদের কোনো অভিযোগ নেই।
কমলাপুর রেলস্টেশনে বিভিন্ন ট্রেন থেকে নামা যাত্রীরা জানান, এবারের ঈদযাত্রা স্বাচ্ছন্দ্যের হয়েছে। তাই বাড়ি ফেরার মতো কর্মস্থলে ফিরতেও তাদেরকে কোনো বেগ পোহাতে হয়নি।
এদিকে, দৌলতদিয়া ঘাটেও রয়েছে রাজধানীতে ফেরা মানুষের চাপ। তবে পাওয়া যায়নি কোনো ভোগান্তির খবর।
প্রসঙ্গত, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবার টানা ৯ দিনের ছুটি পান। সে অনুযায়ী, ছুটি শেষে আগামী ৬ এপ্রিল খুলবে অফিস-আদালত।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
জাতীয়
দেশে ফিরলেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দুই দিনের থাইল্যান্ড সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। তিনি ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট শুক্রবার রাত ১০টা ৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
সফরকালে অধ্যাপক ইউনূস বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি বিমসটেক ইয়ং জেনারেশন ফোরামে বক্তব্য রাখেন।
শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে তিনি সদস্য দেশগুলোর প্রতি পারস্পরিক স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে সবাই লাভবান হতে পারে।
এছাড়া তিনি থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েতংটার্ন সিনাওয়াত্রার কাছ থেকে আগামী দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেন।
সফরের সময় অধ্যাপক ইউনূস ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। তাছাড়া তিনি থাইল্যান্ড, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এবং বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্রা মণি পান্ডের সঙ্গে বৈঠক করেন।
থাইল্যান্ডের সামাজিক উন্নয়ন ও মানব সুরক্ষা মন্ত্রী ভারাউত শিলপা-আর্চা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংযুক্ত মন্ত্রী জিরাপর্ন সিন্ধুপ্রাই-ও অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
অধ্যাপক ইউনূস গত বৃহস্পতিবার বিমসটেক সম্মেলনে অংশ নিতে ব্যাংকক পৌঁছান।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
জাতীয়
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা ফেরাতে রাজি মিয়ানমার

বাংলাদেশে আশ্রিত আট লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে প্রত্যাবাসনের যোগ্য হিসেবে এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা চূড়ান্ত করেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।
কক্সবাজারে আশ্রিত এই জনগোষ্ঠীকে স্বদেশে ফেরানোর জন্য ২০১৮ থেকে ২০২০ সময়কালে ছয় ধাপে মিয়ানমারকে তালিকা দেয় বাংলাদেশ সরকার।
এর মধ্যে এক লাখ ৮০ হাজার জনের তালিকা মিয়ানমার চূড়ান্ত করেছে। আরও ৭০ হাজার রোহিঙ্গার চূড়ান্ত যাচাই চলমান। যাদের ছবি ও নাম যাচাই করার মধ্য দিয়ে তাদের ভাগ্যও নির্ধারণ হবে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ থান শেও বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ (বিশেষ দূত) ড. খালিলুর রহমানের কাছে প্রকাশ করেন।
এটি রোহিঙ্গা সঙ্কটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে প্রথম নিশ্চিতকৃত তালিকা।
মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, মূল তালিকার বাকি ৫ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গার যাচাইও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
বৈঠকের সময় হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খালিলুর রহমান মিয়ানমারে ভূমিকম্পে আক্রান্ত মানুষের জন্য সমবেদনা জানান এবং দুর্যোগকবলিত মানুষের জন্য আরও মানবিক সহায়তা পাঠাতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন।