রাজনীতি
দ্রুত জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে: তারেক রহমান

দ্রুততম সময়ের মধ্যে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বুধবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে হাজারো শহীদের রক্ত রঞ্জিত বিপ্লবের প্রথম ধাপ সফল হয়েছে মাত্র। ছাত্র-জনতার এই রক্তঝরা বিপ্লবের চূড়ান্ত লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। তাই বিপ্লবের লক্ষ্য বাস্তবায়নে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে।

রাজনীতি
প্রহসনের নাটকীয় নির্বাচন জনগণ প্রতিহত করবে: ড. হেলাল

পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ব্যতীত প্রহসনের নাটকীয় নির্বাচন জনগণ প্রতিহত করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. এডভোকেট হেলাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ব্যতীত প্রহসনের নাটকীয় নির্বাচন জনগণ প্রতিহত করবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট একটি দলকে প্রাধান্য দিয়ে যেই নির্বাচন হলে সেই নির্বাচন হবে একটি নাটকীয় নির্বাচন। বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটলে, মানুষ দাবি আদায়ে জীবন দিতেও দ্বিধা করে না। দেশের ৭১ শতাংশ জনগণ চায় পিআর পদ্ধতি নির্বাচন। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে একটি দলের প্রতিনিধিত্ব মূলক আচরণ করছে। সরকারের কর্মকান্ডে জনমনে সংশয় তৈরি হচ্ছে। এই সংশয় দূর করতে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মতিঝিল পূর্ব থানা আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি জামায়াতে ইসলামীর দলীয় দাবি নয়, এই দাবি গণমানুষের দাবি। যার প্রমাণ ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থার জরিপে উঠে এসেছে। জরিপে দেখা গেছে দেশের ৭১ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচন চায়। একটি মাত্র দল ব্যতীত অন্য সকল রাজনৈতিক দলও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়। তাহলে সরকার কার স্বার্থে পিআর পদ্ধতি এড়িয়ে গিয়ে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে, সেটি সরকারকে জাতির সামনে স্পষ্ট করতে তিনি আহ্বান জানান।
তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবস্থান জাতির সামনে স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি দলের ভাষায় কথায় কথায় সাংবিধানিক সংকটের দোহাই দিচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা কোন সংবিধানে কোথায় রয়েছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না দিলে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বৈধতা নিশ্চিত হবে না। যারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সাংবিধানিক সংকটে ভয় দেখাচ্ছে, তারা ক্ষমতায় বসতে পারলে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অসাংবিধান সরকার হিসেবে অবৈধ ঘোষণা করবে। এরফলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক যাবতীয় সংস্কার প্রস্তাব অনায়েসে বাতিল হয়ে যাবে। ফলে জুলাই চেতনার অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই সুযোগে ক্ষমতাসীনরা নতুন রূপে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েম করবে। তাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাংবিধানিক বৈধতার প্রয়োজনে এবং নতুন বাংলাদেশ গড়তে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি’ রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে দিতে না পারলে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করতে হবে। জনগণ যদি গণভোটের মাধ্যমে পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না চায়, তবে জামায়াতে ইসলামীও চাইবে না। কিন্তু জনগণ যদি চায় তাহলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিংবা কোনো দলের আপত্তি কেন?- তাহলে কী নতুন করে ফ্যাসিবাদের উত্থানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সহযোগিতা করছে বলে মনে হয় না?- যদি সরকার ফ্যাসিবাদের উত্থানে সহযোগিতা না করে, তাহলে অনতিবিলম্বে ‘পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি’ দিতে গণভোটের আয়োজন করতেই হবে। নতুবা জনগণ রাজপথে নেমে আসলে এর সকল দায় সরকারকে বহন করতে হবে।
মতিঝিল পূর্ব থানা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কমলাপুর শেরেবাংলা রেলওয়ে স্কুল এন্ড কলেজ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৮ নং ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থী জসিমুল হক পাটোয়ারী, মতিঝিল পূর্ব থানার আমির নুরুদ্দিন, থানা সেক্রেটারি খলিলুর রহমান, থানা অফিস সম্পাদক এডভোকেট দেলোয়ার হোসাইন মজুমদারসহ মতিঝিল পূর্ব থানা কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্যবৃন্দ।
রাজনীতি
উগ্রপন্থী রাজনীতি প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল

দেশে মধ্যপন্থা ও উদার পন্থার রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে সরিয়ে উগ্রবাদের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এটি বাংলাদেশের জন্য চরম ক্ষতিকর হবে।
সৈয়দা ফাতেমা সালামের লেখা ‘রক্তাক্ত জুলাই’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল। আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা ষড়যন্ত্র চলছে, সে ষড়যন্ত্রটা হচ্ছে, মধ্যপন্থা রাজনীতি, উদার পন্থার রাজনীতি, উদারপন্থী গণতন্ত্রকে সরিয়ে দিয়ে একটা উগ্রবাদের রাজনীতি নিয়ে আসার। এটি বাংলাদেশের জন্য চরম ক্ষতিকর হবে। সে জন্য উদারপন্থী গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি সব সময় যেটা বলি, নির্বাচন হবেই এবং যে সময়ের মধ্যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সে সময়ের মধ্যেই হবে। এ কারণেই যে, এর কোনো বিকল্প নাই। যদি নির্বাচন বন্ধ করা হয় তাহলে এ জাতি প্রচণ্ড রূপে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেক বাড়বে।’
গতকাল নির্বাচন কমিশন রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো, প্রতিষ্ঠান এবং সরকার সবাই মিলে যদি আমরা এটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, তাহলে আমরা একটি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাঝে মাঝে হতাশ হই যখন দেখি, কিছু দুর্বৃত্তের কারণে আমাদের এত দিনকার লড়াই, সংগ্রাম ও স্বপ্ন সেটা কেন জানি গ্ল্যান হয়ে যাচ্ছে।’
যা কিছু সংস্কার হয়েছে বিএনপির হাত ধরে হয়েছে বলে দাবি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। তিনি বলেন, ‘অনেকে বলে আমরা সংস্কার করছি না। আমাদের বিরুদ্ধে এমনভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে আমরা সংস্কার চাচ্ছি না, সংস্কারের কথা তো প্রথম বিএনপি বলেছে। বাংলাদেশের যা কিছু সংস্কার হয়েছে তা বিএনপির হাত ধরেই হয়েছে।’
কতগুলো রাজনৈতিক দল মিথ্যা ও ভুল প্রচারণা করে বিএনপিকে হেয় প্রতিপন্ন করতে চায় অভিযোগ বিএনপির মহাসচিবের। তিনি বিএনপি নেতা–কর্মীদের দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়ে এমন কাজ না করার আহ্বান জানান। নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এখন আপনারা ক্ষমতার কাছে আসেননি। অনেক চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র আছে। সেগুলোকে মোকাবিলা করে আপনাদের ভালো কাজ দিয়ে, ঐক্য নিয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সত্য কথা, জুলাই–আগস্টে ছাত্ররা বেরিয়ে এসেছিল। কিন্তু পরে সাধারণ মানুষ এতে যোগ দিয়েছেন বলে ফ্যাসিবাদ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
আজকে মানুষ একটা পরিবর্তন চায়, সে পরিবর্তনটা বিএনপির কাছে চায় বলে দাবি বিএনপির এই নেতার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বিএনপির ওপর তাকিয়ে আছে তারা কীভাবে গণতন্ত্রকে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা করবে।
মোড়ক উন্মোচনে সভাপতিত্ব করেন কবি, সাংবাদিক বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল হাই শিকদার।
সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। আরও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক জাহানারা লাইজু প্রমুখ।
রাজনীতি
ইসির রোডম্যাপে খুশি বিএনপি: মির্জা ফখরুল

এয়োদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা হওয়ায় বিএনপি ‘খুশি’ বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার বিকালে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘রোডম্যাপ ঘোষণা হয়েছে। আমরা এতে আশাবাদী হয়েছি। এ রোডম্যাপ থেকে বোঝা যায় যে, নির্বাচন কমিশন ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
রোডম্যাপ ঘোষণাকে জনগণের জন্য সুসংবাদ হিসেবে দেখছেন কিনা জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘জি।’’
বৃহস্পতিবার দুপুরে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ।
আগের দিন এ রোডম্যাপে অনুমোদন দেয় এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন। এতে দুই ডজন কাজের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপের কথাও রয়েছে।
মত বিনিময়, মিটিং, ব্রিফিং, প্রশিক্ষণ, মুদ্রণ, বাজেট বরাদ্দ, আইটিভিত্তিক প্রস্তুতি, প্রচারণা, সমন্বয় সেল, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক থেকে যাবতীয় কর্মপরিকল্পনা মাথায় রেখেই রোডম্যাপটি করেছে ইসি।
রোডম্যাপের ঘোষণাকে ‘সুসংবাদ’ হিসেবে দেখছেন বিএনপির আরেক নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকার বনানীতে এক অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, “রোডম্যাপ আজ এসেছে… এটা সুসংবাদ। আপনাদের সঙ্গে আমি শেয়ার করছি, আমাকে টেক্সট পাঠিয়েছে, আমি দেখলাম, ইলেকশনের রোডম্যাপ।
“মানুষ এখন নির্বাচনমুখী হয়ে যাচ্ছে এবং সবাই অপেক্ষা করছে দেশে একটা নির্বাচন হোক। এর মাধ্যমে দেশে একটা নির্বাচিত সরকার আসবে, সংসদ প্রতিষ্ঠা হবে, যে সরকার বা সংসদ জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে, জবাবদিহি থাকবে।”
আমির খসরু বলেন, “আমি বলতে চাই, জনগণ তাদের সিদ্ধান্ত, যেগুলো এখন স্থগিত রাখছে, সব সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছে, আমি এরই মধ্যে তা অনুভব করছি।
“নির্বাচনের পরে আমাদের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে, গুড স্কিল ডেভেলপমেন্ট হবে ইনশাআল্লাহ।”
কাফি
রাজনীতি
হাসপাতালে পৌঁছেছেন খালেদা জিয়া

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাতেই তার বাসায় ফেরার কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাত পৌনে ৮টার দিকে গুলশানের বাসভবনে ফিরোজা থেকে খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়ি হাসপাতালে উদ্দেশে রওনা হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টায় তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান।
বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার। তিনি বলেন, ম্যাডামকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বসুন্ধরা এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার গাড়িবহর হাসপাতালে এসে পৌঁছায়।
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জাহিদের বরাতে বিএনপির এ নেতা জানান, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে রাতেই ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) বাসায় ফেরার কথা রয়েছে।
এর আগে রাত ৮টায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান ঢাকা পোস্টকে জানান, ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বসুন্ধরা এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
খালেদা জিয়ার গাড়িবহর হাসপাতালে রওনা হওয়ার আগে তার বাসভবনে ফিরোজা গিয়েছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজনীতি
জুলাই সনদের আগে নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সামিল: এনসিপি

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপকে ইতিবাচকভাবে দেখছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে জুলাই সনদ চূড়ান্তের আগে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সামিল বলে মনে করছে তারুণ্য নির্ভর দলটি।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাচনী রোডম্যাপ সম্পর্কে প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা জানান দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।
এ সময় এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোহেলসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল বিচার ও সংস্কার। সেই লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করে, যেখানে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতো জাতীয় নাগরিক পার্টিও নিজেদের মতামত তুলে ধরে। এই সংস্কার কার্যক্রম চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ঐকমত্য কমিশন প্রণীত জুলাই সনদের খসড়া কিছুদিন আগে আমাদের কাছে এসে পৌঁছায় এবং এ বিষয়ে আমরা আমাদের মতামত তুলে ধরে তা কমিশনের কাছে জমা দিয়েছি। যদিও, জুলাই সনদের খসড়ায় সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার কোনো রোডম্যাপ না থাকা আমাদের হতাশ করেছে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ৬টি উপায় নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে মতামত পাওয়া গেছে, যার মধ্যে আমরা গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি। অন্যান্য দলের প্রস্তাবে গণভোট ও সংবিধান সংস্কার সভাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব রয়েছে। কোন প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করা হবে, তার সাথে নির্বাচনী প্রস্তুতির সম্পর্ক রয়েছে। এই আলোচনা চলাকালেই প্রধান উপদেষ্টার একপাক্ষিকভাবে নির্বাচনের সময় ঘোষণা আমাদের হতবাক করলেও, বৃহত্তর স্বার্থে আমরা তা মেনে নিয়েছিলাম। প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, ২০২৬ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহে নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেই সময়ের মধ্যে সংস্কার ও বিচারের বিষয়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জন করা প্রয়োজন হবে।
আরিফুল ইসলাম আদীব আরও বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, এর নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রকাশের পূর্বেই সরকার সংস্কার বিষয়ক পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জনের রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে। কিন্তু আমরা হতাশার সাথে লক্ষ্য করছি অজানা কারণে ঐকমত্য কমিশনের পরবর্তী দফার বৈঠক পেছানো হয়েছে এবং এখনো জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার উপায় নির্ধারণ হয়নি। জুলাই সনদ চূড়ান্ত না করে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত না হয়ে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা ঐকমত্য কমিশন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সামিল।
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, আমরা মনে করি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য নির্বাচন আয়োজন প্রয়োজন, আমরা কোনভাবেই নির্বাচন বিরোধী নই। সেদিক থেকে রোডম্যাপ ঘোষণা ইতিবাচক তবে, যতো দ্রুত জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি হবে, তত দ্রুত নির্বাচনের দিকে যাওয়া যাবে। সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না করে নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ ভবিষ্যতে সংকট তৈরি করতে পারে, যার দায় সরকারকেই নিতে হবে।