জাতীয়
সচিবালয়ে পিআইডি ভবনে আগুন

প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে ৯ নম্বর ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ভবনে রয়েছে সচিবালয় ক্লিনিক ও তথ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ভবনের নিচতলায় এ আগুনের ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি।
খবর পেয়ে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসে এবং ৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার লিমা খানম বলেন, সচিবালের আগুনটি লাগে একটি ইলেকট্রিক বোর্ডে। ছোট আগুন ছিল। আমাদের পানি ব্যবহার করতে হয়নি। ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে চারটা ৩৫ মিনিটে আমরা আগুন নিভিয়ে ফেলি।
কাফি

জাতীয়
পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ১ হাজার ৫১৫ জন

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৮২ জন মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং বাকি ৫৩৩ জন অন্যান্য ঘটনায় জড়িত।
শুক্রবার (২৯আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ.এইচ.এম. শাহাদাত হোসেন এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, দেশব্যাপী পরিচালিত এই অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, রিভলভার ১টি, ১২ বোর একনলা বন্দুক ১টি, এলজি বন্দুক ১ টি, পিস্তল ১ টি, জি-৩ রাইফেল ১টি, এমএ-১ভেরিয়েন্ট রাইফেল ১টি, এলএম-১৬ ভেরিয়েন্ট রাইফেল ১টি, দেশীয় এলজি ১টি, পাইপগান ১টি, ম্যাগাজিন ৯টি, কার্তুজ ৭ রাউন্ড, গুলি ৫১১ রাউন্ড, চাপাতি ৩টি, চাইনিজ কুড়াল ২টি।
জাতীয়
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সমস্যা হতে যাচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি আগামীতে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সমস্যা হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (দায়রা) আয়োজিত বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্সের উদ্বোধনকালে এই মন্তব্য করেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, সংকটের আট বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা এখনো কোনো সমাধানে আসতে পারিনি।
রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে কাজ চলছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বিশ্বনেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তৌহিদ হোসেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের নতুন শুল্ক আরোপের ঘটনা ভৌগলিক রাজনীতিতে নতুন ধারণা আনলেও তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও দুয়েক বছর সময় দরকার বলেও মনে করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
জাতীয়
ডিএসসিসি এলাকায় টাইফয়েড টিকাদান শুরু ১২ অক্টোবর

আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলকায় শিশুদের টাইফয়েড প্রতিরোধে টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হবে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ডিএসসিসির নগর ভবনে ‘টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫’ বাস্তবায়নে এক সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
সভায় জানানো হয়, দেশব্যাপী ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী সকল শিশুকে এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিবি) টিকা প্রদানের অংশ হিসেবে ডিএসসিসি এলাকায় ১২ অক্টোবর থেকে এই টিকা প্রদান শুরু হবে।
টাইফয়েড ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত একটি রোগ যেটি দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। টাইফয়েড টিকা গ্রহণের মাধ্যমে টাইফয়েড জ্বর ও জ্বরজনিত জটিলতা প্রতিরোধ করা যায়। ১২ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ডিএসসিসি এলাকায় প্রায় ১০ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়া হবে। দুই হাজার ২৫২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ওয়ার্ড কার্যালয়ের ৭৫টি স্থায়ী কেন্দ্র এবং প্রায় ৪৫০টি অস্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে দুই পর্যায়ে এই টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন হবে।
প্রথম পর্যায়ে, ১২ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের টিকাদান করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত অস্থায়ী কেন্দ্রসমূহের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানবহির্ভূত কমিউনিটির শিশু এবং প্রান্তিক পর্যায়ের সকল শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া ১২ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিটি ওয়ার্ড কার্যালয়ের স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র থেকে এই টিকা নেওয়া যাবে।
টিকা গ্রহণের জন্য শিশুর অনলাইনে বিদ্যমান ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে টিকাকার্ড ডাউনলোড করতে হবে। যাদের জন্ম নিবন্ধন নম্বর অনলাইনে নেই বা পূর্বে জন্ম নিবন্ধন করা হয়নি তাদের নিজ নিজ ওয়ার্ড কার্যালয়ে যোগাযোগ করে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, টাইফয়েড টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক পরীক্ষিত। সবার সহযোগিতায় আমরা শিশুদের টিকাদান কার্যক্রমকে একটি উৎসবে পরিণত করতে চাই।
তিনি বলেন, টিকা গ্রহণের জন্য জন্ম নিবন্ধন প্রয়োজন বিধায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জন্ম নিবন্ধন সেবা প্রদানের জন্য ডিএসসিসির আঞ্চলিক কার্যালয়সমূহে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জাতীয়
পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের আহ্বান সিইসির

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক কর্মশালায় এ আহ্বান জানান তিনি।
সিইসি বলেন, পেশাদারিত্ব এবং নিরপেক্ষতার সঙ্গে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নৈতিকতা ঠিক থাকে যেন সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আইনকানুনের বাইরে যাওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, আগে অনেক নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু বর্তমানে নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এআই এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মতো আরও নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, যেটা আমরা এখনো জানি না। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
এসময় নির্বাচনের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে নির্বাচনী কর্মকর্মতাদের নির্দেশ দেন সিইসি।
এদিকে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচন খারাপ হবার এবার সুযোগ নেই। নির্বাচনের দায় এড়াতে পারবে না ইসি।’
তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এই প্রশিক্ষণ জরুরি। নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা নির্বাচন কমিশনের কাজ। সেই দায়িত্ব থেকে সরে যাবার সুযোগ নেই কমিশনের।’
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের জায়গা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হবে। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ভালো নির্বাচন করতে হবে, এর বিকল্প নেই।’
তিনি আরও বলেন, ঘরে ফেরার কোনো পথ নেই। ভালো নির্বাচন না হলে শুধু কমিশনের দায় থাকবে না, এর দায় নির্বাচনী কর্মকর্তাদেরও নিতে হবে। জীবন চলে যেতে পারে, তবুও নির্বাচনে ফাঁকিবাজি করা যাবে না।
জাতীয়
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে ভারত

কোনো আইনি সুরক্ষা ছাড়াই ভারত গত মে মাস থেকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে শত শত রোহিঙ্গা শরণার্থীকে জোরপূর্বক পাঠিয়ে দিয়েছে। অনেককে আটক ও নির্যাতন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার পরিচালিত কয়েকটি রাজ্যে রোহিঙ্গা ও বাংলাভাষী মুসলমানদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ আখ্যা দিয়ে অভিযান শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে অন্তত ১৯২ জন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যদিও তারা জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরে নিবন্ধিত ছিলেন। এছাড়া আরও ৪০ জনকে নৌকায় তুলে মিয়ানমারের উপকূলের কাছে ফেলে দেওয়া হয়। অনেকে অভিযানের ভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।
এইচআরডব্লিউয়ের এশিয়া পরিচালক ইলাইন পিয়ারসন বলেন, ভারত সরকারের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনকে অগ্রাহ্য করার উদাহরণ।
সংস্থাটি কক্সবাজারে নতুন আগত নয়জন রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাদের অভিযোগ, আটক অবস্থায় পুলিশ মারধর করেছে, টাকা-পয়সা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়েছে। অনেকে কাশ্মীর, অন্ধ্রপ্রদেশ ও দিল্লি থেকে পালিয়ে এসেছে গ্রেফতার এড়াতে।
ভারতে আনুমানিক ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বাস করছে। তাদের অন্তত ২০ হাজার ইউএনএইচসিআর নিবন্ধিত। যদিও ভারত ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষর করেনি, আন্তর্জাতিক আইনে শরণার্থীদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো নিষিদ্ধ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে দিল্লি থেকে আটক ৪০ রোহিঙ্গাকে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে পাঠিয়ে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে দেওয়া হয়। পরে মিয়ানমারের উপকূলে নিয়ে গিয়ে সমুদ্রে নামতে বাধ্য করা হয়।
এক শরণার্থী বলেন, আমাদের সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধীর মতো ব্যবহার করা হয়েছিল। এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, আমরা সবাইকে মেরে ফেললেও কেউ জবাব চাইবে না।
এছাড়া হায়দরাবাদ থেকে পালানোর পথে পুলিশ চার বছরের শিশুসহ এক রোহিঙ্গা পরিবারকে বেদম প্রহার করেছে। সীমান্তে পুরুষদের লাঠিপেটা করে ভিডিও বানাতে বাধ্য করা হয়, যেখানে তাদের দিয়ে স্বীকার করানো হয় যে তারা বাংলাদেশি।
এখন ভারতে থাকা রোহিঙ্গারা তীব্র অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। জম্মুতে অন্তত ৩০ রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, শিবির ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অনেকে অভিযোগ করেছেন, তাদের ইউএনএইচসিআর কার্ড বা মিয়ানমারের জাতীয়তা নথি কোনো কিছুকেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আমলে করছে না।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর শুনানি করে ঠিক করবেন রোহিঙ্গারা শরণার্থী নাকি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তবে গত মে মাসে আদালত বহিষ্কার ঠেকাতে অস্বীকৃতি জানায় এবং সমুদ্রে রোহিঙ্গাদের ফেলে আসার অভিযোগকে সুন্দরভাবে সাজানো গল্প বলে উড়িয়ে দেন।
ইলাইন পিয়ারসন বলেন, ভারত সরকারকে অবিলম্বে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভয় দেখানো, আটক ও অবৈধ বহিষ্কার বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্যাতনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হবে।’