আন্তর্জাতিক
চীনের গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেইজিং সফর বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ককে গভীর করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে চীনের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। দেশটির প্রথম সারির প্রায় সব সংবাদমাধ্যম শেখ হাসিনার তিন দিনের বেইজিং সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
সফরের শেষ দিন গতকাল বুধবার বিকেলে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। তাঁদের বৈঠক শেষে চীনের আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম সিজিটিএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে একটি ‘বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বে’ উন্নীত করেছে। চীনের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে প্রাধান্য দিয়েই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
বৈঠকে সি বলেছেন, ১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে দুই দেশ সব সময় পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখেছে ও পরস্পরকে সমর্থন দিয়েছে। একে অপরের সঙ্গে সমতাপূর্ণ আচরণ করেছে ও সমলাভের ভিত্তিতে সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। বৈশ্বিক দক্ষিণের (গ্লোবাল সাউথ) দেশগুলোর মধ্যে চীন-বাংলাদেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও পারস্পরিক উপকারী অংশীদারত্বের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
সিজিটিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী বছর ‘জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের বর্ষকে (ইয়ার অব পিপল-টু-পিপল এক্সচেঞ্জস)’ সামনে রেখে দুই দেশকে সংস্কৃতি, পর্যটন, সংবাদমাধ্যম ও খেলাধুলার মতো খাতে বিনিময় এবং সহযোগিতা বাড়াতে চেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন সি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য বহুপক্ষীয় কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদার করতে চীন প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) সংবাদপত্র পিপলস ডেইলির ওয়েবসাইটে বুধবার রাতে হাসিনা-সির বৈঠকের প্রতিবেদনকে প্রধান খবর করা হয়েছে। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া থেকে নেওয়া প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল ‘সি বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন’।
বুধবার সিসিপির আরেক মুখপত্র গ্লোবাল টাইমস শেখ হাসিনা ও সির বৈঠক নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে। ‘চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নত ও বিস্তৃত হয়েছে’ শিরোনামের মন্তব্যধর্মী প্রতিবেদনে সিজিটিএনের মতো সির বক্তব্যের প্রায় একই বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে এতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ এক–চীন নীতি দৃঢ়ভাবে মেনে চলে, তাইওয়ান প্রশ্নে চীনের অবস্থানকে সমর্থন করে, চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করে এবং চীনের নিজের মূল স্বার্থ রক্ষার কাজকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে।’
প্রতিবেদনটিতে সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের গবেষণা বিভাগের পরিচালক কিয়ান ফেংয়ের মন্তব্য নেওয়া হয়েছে। তিনি হাসিনার সফরকে বেইজিং ও ঢাকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে একটি যোগসূত্র বলে উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের সহযোগিতার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
শেখ হাসিনার বেইজিং সফর নিয়ে গ্লোবাল টাইমসের সঙ্গে সাংহাই একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনের গবেষণা ফেলো হু ঝিয়াংও কথা বলেছেন। এই সফর দুই দেশের মধ্যে ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বকে আরও উন্নীত করবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
হু বলেন, দুই দেশের বিগত বছরগুলোর সহযোগিতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের কাছে কিছু জিনিস স্পষ্ট হয়েছে। চীনের বিভিন্ন ধারণা (আইডিয়া) ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে—এটা ঢাকা ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে।
গ্লোবাল টাইমস গত মঙ্গলবার ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, ব্যবসা এবং বিনিয়োগের সুযোগ-সংক্রান্ত শীর্ষ সম্মেলন’ নিয়েও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। শেখ হাসিনার বেইজিংয়ে আগমনের প্রথম দিন সোমবার সিসিপির এই মুখপত্রে চীনের কমিউনিকেশন ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের বিশেষজ্ঞ ঝাং জিয়াওউ একটি উপসম্পাদকীয় লিখেছেন।
হংকংভিত্তিক ব্যক্তিমালিকানাধীন গণমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (এসসিএমপি) বুধবার শেখ হাসিনার বেইজিং সফর নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ‘চীন ও বাংলাদেশ বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে লড়াই ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে চীনের ঋণ নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা বেইজিং সফরকালে এশিয়া ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিন লিকুনের সঙ্গে দেখা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সুদের হার কমাতে অনুরোধ করেছেন। শেখ হাসিনার বেইজিং সফরের আগে চীনের কাছে ৫০০ কোটি ডলার ঋণ চাওয়া হবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের ঘোষণার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে হংকংভিত্তিক গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে।
এসসিএমপি জানায়, বাংলাদেশের এই ঋণের অনুরোধের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চীনের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বাসসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন ইউয়ান (আরএমবি) সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।
এসএম
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আন্তর্জাতিক
শিলিগুড়ি করিডোরে সমরাস্ত্র বাড়াল ভারত: রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড

ভারত শিলিগুড়ি করিডোরে সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করেছে। দীর্ঘদিন ধরে যেটিকে ‘চোক পয়েন্ট’ বা দুর্বল অংশ হিসেবে দেখা হতো, সেটিকেই এখন পরিণত করা হয়েছে শক্ত ঘাঁটিতে।
এই ব্যবস্থার ফলে অঞ্চলটি এখন আর কেবল একটি দুর্বল সংযোগপথ নয়, বরং একটি সুরক্ষিত কৌশলগত দুর্গ। ভারতীয় গণমাধ্যম রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড এক প্রতিবেদনে এমনটি জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও কৌশলগত কমান্ড ইউনিটগুলো শিলিগুড়ি করিডোর এলাকায় মোতায়েন করেছে রাফাল যুদ্ধবিমান, ব্রাহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্য দিয়ে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে— এই করিডোরকে যেন আর কেউ, চীন হোক বা পাকিস্তান, ভারতের দুর্বল অংশ হিসেবে দেখার সাহস না করে।
বেইজিং থেকে ঢাকার নতুন অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রচেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে— ভারতের এই কড়া প্রতিরক্ষা জোরদার অনেকটাই তাৎপর্যপূর্ণ। পরিস্থিতির এই দ্রুত রূপান্তর এক ধরনের কৌশলগত বার্তা বহন করে, যেখানে দিল্লি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিচ্ছে, তারা নিজের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় আর কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে, চীনের আগ্রাসন নিয়ে দেরিতে প্রতিক্রিয়া জানানোর দিন শেষ— যেমনটা ডোকলামেও হয়েছিল। এখন ভারত আগেই প্রস্তুতি নিয়ে থাকে এবং চীনের যেকোনো পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকরীভাবে জানায়।
গত ২৮ মার্চ বেইজিংয়ের দ্য প্রেসিডেন্সিয়ালে চীনা ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক সংলাপে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে ব্যবসার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশটির বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
তিনি এ সময় বঙ্গোপসাগর ঘিরে বাণিজ্য ও ব্যবসা সম্প্রসারণের প্রসঙ্গে বলেন, ভারতের সাতটি উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য, যা সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত, তা স্থলবেষ্টিত। তাদের সমুদ্রে কোনো অ্যাকসেস নেই। আমরাই এই গোটা অঞ্চলে সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক।
তিনি বলেন, এটা একটা বিপুল সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে দিচ্ছে। এটা চীনের অর্থনীতির প্রসারের একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে, যেখানে তারা পণ্য তৈরি করতে পারে, বিপণন করতে পারে। চীনে পণ্য নিয়ে এসে সারা বিশ্বে তা বেচতে পারে।
পরে বুধবার ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ প্রতিনিধি খলিলুর রহমান বলেন, অধ্যাপক ইউনূস যা বলেছেন, তা কানেক্টিভিটির পটভূমিতেই বলেছেন।
বিমসটেকের প্ল্যাটফর্ম থেকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর বৃহস্পতিবার বলেন, বঙ্গোপসাগরের সবচেয়ে দীর্ঘ উপকূলরেখা কিন্তু ভারতেরই। এমনকি প্রশান্ত মহাসাগরেও উত্তর-পূর্ব ভারতের অ্যাকসেসের পথ প্রশস্ত হতে চলেছে বলে তিনি দাবি করেন।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
এবার মার্কিন পণ্যে পাল্টা ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল চীন

এবার যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানির ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে চীন।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বেইজিং এ ঘোষণা এ দিয়েছে।
তারা বলেছে, এই নতুন শুল্ক আগামী ১০ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
ভারতে ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাস, বোর্ডে থাকবেন অমুসলিম সদস্য

ভারতের রাজ্যসভাতেও পাস হয়ে গেল ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল। বুধবার বিলটি লোকসভায় পাস হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংসদের উচ্চকক্ষেও তা পাস হয়ে যাওয়ায় বিলটির আইনে পরিণত হতে এখন শুধু রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সই করার অপেক্ষা।
১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা বিতর্কের পর ভোটাভুটি শেষে বৃহস্পতি বার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায় বিলের পক্ষে পড়েছে ১২৮টি ভোট। আর বিপক্ষে পড়েছে ৯৫টি ভোট। ৩৩ ভোটের ব্যবধানে ওয়াকফ বিল রাজ্যসভায় পাস হয়ে যায়।
নতুন আইনে ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সংসদীয় বিষয়ক এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর বলেন, ওয়াকফ বোর্ড একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা। একটি বিধিবদ্ধ সংস্থায় শুধু মুসলিমরা থাকবেন, আর কেউ থাকতে পারবেন না, এটা কী ভাবে হবে? বিধিবদ্ধ সংস্থাকে ধর্মনিরপেক্ষ হতে হবে এবং সব ধর্মের প্রতিনিধিত্ব সেখানে থাকা উচিত। তিনি জানান, ২২ সদস্যের বোর্ডে সর্বোচ্চ চারজন অমুসলিম সদস্য থাকতে পারবেন।
ভারতীয় সংসদের বিরোধী দল গুলোর দাবি, ওয়াকফ আইনের এই সংশোধন ওয়াকফ বোর্ডের ক্ষমতাকে বেনজির ভাবে খর্ব করে দিচ্ছে। তবে রিজিজুর দাবি ওয়াকফ সম্পত্তির অন্যতম লক্ষ্য হল সেই সম্পত্তির মাধ্যমে মুসলিম সমাজের গরিব, মহিলা ও অনাথ শিশুদের উন্নয়ন। নতুন আইনে বিপুল রাজস্ব আদায় হবে বলেও রিজিজু সংসদে দাবি করেন। তার অভিযোগ, রাজস্ব সংগ্রহ করতে ‘ব্যর্থ’ হয়েছে ওয়াকফ বোর্ডগুলি। ২০০৬ সালে সাচার কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে ৪.৯ লক্ষ ওয়াকফ সম্পত্তি ছিল। এখান থেকে আয় হওয়া উচিত ছিল ১২ হাজার কোটি টাকা। হয়েছে মাত্র ১৬৩ কোটি টাকা।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কের ঘোষণায় বিশ্ব পুঁজিবাজারে ধস

২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অর্থাৎ বিশ্বের সব দেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি।
স্বাভাবিকভাবেই পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে। ধস নেমেছে এশিয়ার পুঁজিবাজারে। দেখা যাচ্ছে, প্রায় সব ধরনের বাজারেই প্রভাব পড়েছে। সোনার মূল্য বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রসহ চীন, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনামের মতো দেশের পুঁজিবাজারে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণার আগের দিন চাঙা ছিল এশিয়ার পুঁজিবাজারগুলো। লাভের মুখ দেখেছিল যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার সূচক সেনসেক্স ও নিফটি। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্স’র।
বৃহস্পতিবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার সূচক দ্রুত নামতে শুরু করে। যদিও ডলারের তুলনায় জাপানের মুদ্রা ইয়েনের দর বেড়েছে।
ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার সূচক নাসডাক ফিউচার্সের পতন হয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রযুক্তি খাতের বৃহৎ ৭টি প্রতিষ্ঠানের বাজার মূলধন কমেছে ৭৬০ বিলিয়ন বা ৭৬ হাজার কোটি ডলার। অ্যাপলের আইফোনের সিংহভাগ উৎপাদিত হয় চীনে। ফলে অ্যাপলের শেয়ারের দাম কমেছে সবচেয়ে বেশি বা ৭ শতাংশ।
এ ছাড়া এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ; এফটিএসই ফিউচার্স কমেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ; ইউরোপিয়ান ফিউচার্স কমেছে প্রায় ২ শতাংশ।
সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, ট্রাম্পের ঘোষণার জেরে টোকিওর নিক্কেই (টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের স্টক মার্কেট সূচক) প্রাথমিকভাবে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে যায়, যদিও পরে তা কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। পতনের হার শেষমেশ ২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়ায়। জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ এবং আমেরিকার অন্যতম ‘বন্ধু’ দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সে দেশের পুঁজিবাজারেও। হংকং ও সাংহাইয়ে একই প্রভাব পড়েছে। কোথাও পতনের হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ, কোথাও আবার ১ দশমিক ৪ শতাংশ।
ট্রাম্পের ঘোষণায় বিশ্ববাজারে সোনার দামেও প্রভাব পড়েছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সোনার দাম আবারও নতুন রেকর্ড গড়েছে। আউন্স প্রতি ৩ হাজার ১৬০ ডলারে উঠে গেছে।
শুধু সোনা নয়, প্রভাব পড়েছে তেলের দামেও। অপরিশোধিত তেলের ব্র্যান্ড ব্রেন্ট ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৫৬ ডলারে পৌঁছেছে।
গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় (বাংলাদেশের দিবাগত রাত দুইটা) ‘পাল্টা’ বা ‘পারস্পরিক শুল্ক’ নিয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বাংলাদেশের পণ্যে ৩৭ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন টিউলিপ

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির সঙ্গে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ছাড়া টিউলিপ ব্যক্তিগতভাবেও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছেন বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। সেসব দুর্নীতি মামলা মোকাবিলায় তার আইনজীবীরা প্রস্তুত, তিনি নিজেই এ ঘোষণা দিয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগে ব্রিটিশ মন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করার পর এটি তার প্রথম প্রকাশ্য মন্তব্য।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে টিউলিপ সিদ্দিক জানান, তার আইনজীবীরা বাংলাদেশে দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পর্কে যেকোনো আনুষ্ঠানিক প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত। বুধবার (২ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমটি।
টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে অভিযোগ আসছে এবং কেউ আমার সাথে যোগাযোগ করেনি।’
আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দলের সাথে তার স্পষ্ট সংশ্লিষ্টতার জন্য তিনি অনুতপ্ত কিনা জানতে চাইলে টিউলিপ বলেন, ‘আপনি আমার আইনি চিঠিটি কেন দেখেন না? সেখানে আমার কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আছে কি না… বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষ একবারও আমার সাথে যোগাযোগ করেনি। আমি তাদের কাছ থেকে শোনার জন্য অপেক্ষা করছি।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক। শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের দুর্নীতির সঙ্গে তার জড়িত থাকার প্রমাণ সামনে আসে। এতে দলের ভেতরে বাইরে চাপে পড়েন টিউলিপ। শেষমেশ বাধ্য হয়ে লেবার মন্ত্রিসভার ইকোনমিক সেক্রেটারি টু দি ট্রেজারি অ্যান্ড সিটি মিনিস্টারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
ওই পদে তার কাজ ছিল যুক্তরাজ্যের অর্থবাজারের ভেতরের দুর্নীতি সামাল দেওয়া। কিন্তু মন্ত্রী নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশ-বিদেশে কোণঠাসা হয়ে পড়েন টিউলিপ; পদত্যাগের পরও এর প্রভাব বিদ্যমান। সে সঙ্গে শেখ পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। সেসব তদন্তে নামে দুদক। প্রাথমিকভাবে যার প্রায় সব কটিরই বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পায় সংস্থাটি। এখনও তদন্ত চলমান।
প্রসঙ্গত, নিজেকে নির্দোষ দাবি করে প্রচার চালাচ্ছেন ব্রিটেনের সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক। দেশটির ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ এ কাজ চাতুরতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে নিয়োগ করেছেন আইনজীবী। সেই আইনজীবীদের তরফে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদককে) একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এমন তথ্য মার্চের শেষ দিকেই জানিয়েছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এবার আইনজীবী নিয়োগের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করলেন টিউলিপ।