জাতীয়
বাংলাদেশের কাছে যা চায় চীন

রাষ্ট্রীয় সফরে আজ চীনে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকার প্রধানের দায়িত্ব নেয়ার পর এটা তার দ্বিতীয় বিদেশ সফর হতে যাচ্ছে। এর আগে, গত জুনে দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি রেল ট্রানজিটসহ বিভিন্ন বিষয়ে দশটি সমঝোতা স্মারক সই করেন।
ভারত সফরের দুই সপ্তাহ পর প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক, উভয়দিক থেকেই বাংলাদেশের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, এই সফরের মাধ্যমে নতুন বাজেটের ঘাটতি পূরণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ পাওয়ার আশা করছে দেশটি।
গত ১৫ বছরে চীনকে বাংলাদেশের বেশ কিছু মেগা-প্রকল্পে ঋণ প্রদানের পাশাপাশি বাস্তবায়নকারীর ভূমিকাতেও অবতীর্ণ হতে দেখা গেছে। বহুল আলোচিত পদ্মা সেতুর অবকাঠামো নির্মাণ এবং কর্ণফুলি টানেল তৈরির পর দেশটি এখন তিস্তা প্রকল্পেও যুক্ত হতে চাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে চীন এত আগ্রহ দেখাচ্ছে কেন? এতে তাদের লাভ কী?
এ বিষয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, এই পুরো বিষয়টাতে বাংলাদেশের যতটুকু স্বার্থ রয়েছে, চীনের স্বার্থ তার থেকে একটুও কম না। তাছাড়া ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের দিক থেকেও চীনের কাছে বাংলাদেশের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।
বাংলাদেশে চীনের ঠিক কী কী ধরনের স্বার্থ রয়েছে এবং এই ভূখণ্ডে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়ে তারা আসলে কী অর্জন করতে চাচ্ছে? এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে শীর্ষ গণমাধ্যম বিবিসি বাংলা।
চীনা ঋণ ও বিনিয়োগ
গত দেড় দশকে এক ডজনেরও বেশি বড় প্রকল্প গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। এসব প্রকল্পের মধ্যে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ, কর্ণফুলি নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল, ঢাকায় বাস র্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থঋণ দিয়েছে চীন। বস্তুতঃ চীন এখন বাংলাদেশে শীর্ষ ঋণদাতা দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্যমতে, গত চার অর্থবছরে চীন এককভাবে বাংলাদেশকে প্রায় তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিয়েছে। আর ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটে’র (এইআই) ২০২৩ সালের এক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ রয়েছে সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি।
“চীনের হাতে এখন পর্যাপ্ত পরিমাণে উদ্বৃত্ত অর্থ রয়েছে, যা তারা বিনিয়োগ করার জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজছে,” বলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির।
তিনি আরও বলেন, “এক্ষেত্রে বাংলাদেশ অবশ্যই তাদের জন্য একটা ভালো অপশন, কারণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ নিজেও ঋণের সন্ধান করছে।”
আফ্রিকা থেকে শুরু করে এশিয়া, এমনকী ইউরোপেও বিভিন্ন দেশকে চীন ঋণ দিচ্ছে। কিন্তু সার্বিক বিবেচনায় অন্যদেশের তুলনায় বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়াটা তাদের জন্য বেশি লাভজনক বলে জানাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। কারণ ঋণ দিয়ে একদিকে তারা সুদের টাকা পাচ্ছে, অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে চীনা ঠিকাদাররাই ওইসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সেইসঙ্গে, বাংলাদেশের উপরেও চীনের প্রভাব বজায় থাকছে।
চীন এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে যত টাকা ঋণ দিয়েছে, তার সিংগভাগই এসেছে গত দেড় দশকে। মূলতঃ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ২০১২ সালে পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংক সরে যাওযার পর চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে। বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরির সিদ্ধান্ত নিলে ২০১৪ সালে সেটির অবকাঠামো নির্মাণের কাজ পায় চীনের চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানি।
এরপর চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সফরে আসেন এবং দুই ডজনেরও বেশি প্রকল্পে প্রায় ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দেন। বস্তুতঃ মি. শি’র ওই সফরের পর থেকেই বাংলাদেশে চীনা ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়তে দেখা গেছে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার ফলে চীনা নাগরিকদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ হচ্ছে। সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, যেসব প্রকল্পে চীন ঋণ দিচ্ছে, দেখা যাচ্ছে চীনা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোই সেখানে কাজ করছে। লোকবলেরও একটা বড় অংশ তাদের।
প্রায় দেড়শ কোটির মানুষের দেশ চীনে করোনা মহামারির পর ২০২৩ সালে বেকারত্বের হার রেকর্ড সংখ্যায় বেড়েছে। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে দেশটিতে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে বলে চীনের সরকারি বলা হয়েছে।
“কাজেই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ বিনিয়োগ করার মাধ্যমে চীনের সরকার তাদের বেকার নাগরিকদের কাজের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে,” বলে জানান মি. হোসেন।
বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের মধ্যে চীনা নাগরিকরাই শীর্ষে অবস্থান করছে বলে সরকারি হিসেবে দেখা যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, অনুমতি নিয়ে কাজ করতে আসা চীনা নাগরিকের সংখ্যা ছয় হাজারের কিছু বেশি বলে উল্লেখ করা হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেশি বলে মনে করেন অনেকে। অন্যদিকে, বিভিন্নখাত মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় সাতশ চীনা কোম্পানি কাজ করছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (এইআই) বলছে, গত কয়েক বছরে চীনা কোম্পানি গুলো বিভিন্নখাতের নির্মাণকাজের যেসব চুক্তি পেয়েছে, আর্থিক হিসেবে সেগুলোর পরিমাণ প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
“এখন চীন যদি নিজে ঋণ না দিতো, তাহলে কী তাদের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিকরা চীনা প্রকল্পে এখনকার মতো এককভাবে কাজ করতে পারতো?,” বলেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন।
সাত বছরে দ্বিগুণ হয়েছে বৈদেশিক ঋণ
আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটে’র (এইআই) হিসেবে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাৎসরিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যি প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পৌঁছেছে। বিশাল এই অঙ্কের প্রায় সবটাই আমদানি করে বাংলাদেশ। একক দেশ হিসেবে চীনের কাছ থেকেই বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করে থাকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে দেখা যাচ্ছে, গত ১০ বছরে চীন থেকে পণ্য আমদানি প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে চীন থেকে বছরে যেখানে সাড়ে ছয়শ কোটি মার্কিন ডলারের মতো পণ্য আমদানি করা হতো, এখন সেটি বেড়ে প্রায় দুই হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, আঞ্চলিক বিবেচনায় বাংলাদেশ চীনের বড় রপ্তানির উৎস। মূলতঃ বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কারণেই চীনের কাছে বাংলাদেশ বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।
বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি চীনের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জামও কিনে থাকে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে চীন থেকে দু’টি সাবমেরিনও কিনেছে দেশটি। ফলে চীনের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থের পাশাপাশি ভূ-রাজনীতির কৌশলগত দিক থেকেও চীনের কাছে বাংলাদেশ একটা বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে বলে জানাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বাড়তি এই গুরুত্বের প্রধান কারণ বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান।
“সুপার পাওয়ার হতে চাওয়া চীন মূলতঃ এ অঞ্চলে একটা আধিপত্য রাখতে চায়, বিশেষতঃ বঙ্গোপসাগরে,” বলেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন।
বঙ্গোপসাগরকে চীন যে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়, সেটির প্রধান কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজি’। ২০২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই স্ট্রাটেজি ঘোষণা করে। মূলতঃ ইন্দো-প্যাসিফিক বা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ বসবাস করে, যা পণ্যের বাজার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে, সমুদ্র বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এ অঞ্চলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির সরকার ও রাজনীতির শিক্ষক আলী রীয়াজ বলেন, আপনি যদি ২০৪০ সালের হিসাব করেন, তাহলে দেখবেন তখন সারা বিশ্বের জিডিপির ৪৫ শতাংশের বেশি এই অঞ্চলে থাকবে। দ্বিতীয় যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে, এই এলাকা দিয়েই মূলত: বৈশ্বিক জ্বালানীর একটা বড় অংশের সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। সেই কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে এই অঞ্চলের জন্য আলাদা কৌশল ঘোষণা করেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের আগেই ২০১৩ সালে ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ নামে একটি উন্নয়ন কৌশল ও কাঠামো উপস্থাপন করেছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এশিয়া, ইউরোপসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের সঙ্গে সড়ক ও রেলপথে সরাসরি সংযুক্ত হতে চায় চীন।
বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরই) নামের যে মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীন বিভিন্ন দেশে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা চালাচ্ছে, সেটি ঠেকানোর কৌশল হিসেবেই ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজি’ ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
এই কৌশলের অংশ হিসেবে জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতকে সঙ্গে নিয়ে একটি নিরাপত্তা জোটও গঠন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সেটি ‘কোয়াড্রিলেটারাল সিকিউরিটি ডায়ালগ’ (কোয়াড) নামে পরিচিত।
“ফলে নিজের নিরাপত্তা এবং আধিপত্যের বজায় রাখার স্বার্থেই চীন এখন বাংলাদেশ, মিয়ানমারসহ আশেপাশের দেশগুলোকে নিজের পক্ষে রাখতে চাচ্ছে,” বলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির।
ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজিতে চীনকে বাদ দিয়ে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, ফিলিপাইন, বাংলাদেশ-সহ অন্য দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে একটি নিরাপদ ‘ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল’ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নেতৃত্বাধীন ওই জোটে বাংলাদেশ অংশ গ্রহণ করুক, চীন সেটি চায় না।
এ বিষয়ে সতর্ক করে ২০২১ সালের মে মাসে ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেছিলেন, কোয়াডে অংশগ্রহণ চীন ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে “যথেষ্ট খারাপ করবে”।
বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা বর্তমান সম্পর্ককে আরও গভীর করার মাধ্যমে ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যেতে চায় চীন।
“বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কীভাবে আরও গভীর করা যায় এবং পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি অভিন্ন স্বার্থের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো নিয়ে (আসন্ন সফরে) দুই দেশের নেতারা কথা বলবেন,” বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার এবারের সফরের মাধ্যমে দু’দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে চীন।
কিন্তু কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক ‘নতুন উচ্চতায়’ পৌঁছাবে? এই প্রশ্নের জবাবে মিজ মাও যে পদক্ষেপগুলোর উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দু’টি পদক্ষেপ হচ্ছে, চীনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচটি মূলনীতি বা পঞ্চশীল চেতনা এবং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ সহযোগিতাকে এগিয়ে নেওয়া।
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে সত্তর বছর আগে চীন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচটি মূলনীতি ঘোষণা করেছিলো, যার সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মের পঞ্চশীলের মিল রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
সেই পাঁচটি নীতির মধ্যে রয়েছে: সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, হামলা বা আগ্রাসন থেকে বিরত থাকা, একে অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, সমতা ও পারস্পরিক সুবিধা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান।
বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন যে, নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ অঞ্চলে আধিপত্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে চীনের জন্য এই পাঁচটি মূলনীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তারা এই নীতির আলোকেই বন্ধুরাষ্ট্র গুলোর সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। একইসঙ্গে, চলছে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রকল্পকে এগিয়ে নেওয়ার কাজ। মূলতঃ এই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই বাংলাদেশের রেল ও সড়কপথ উন্নয়নে ঋণ দিচ্ছে চীন।
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের উপর নিজের একটি লেখায় ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, ২০২৩ সালকে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতার সুফল পাওয়ার মৌসুম হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। কেননা, ওই বছর ডজনখানেক মেগা প্রকল্পের মধ্যে বেশ কয়েকটির কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া বাকিগুলোর কাজেও বেশ অগ্রগতি হয়েছে বলে চীনা রাষ্ট্রদূতের লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, চীন যা-ই চায় না কেন, নিজ দেশের স্বার্থ মাথায় রেখে আমাদের সরকারের এমনভাবে কাজ করা উচিত, যাতে অন্যদেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ না হয়।
এমআই
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

জাতীয়
টানা ৯ দিনের ছুটি শেষে কাল খুলছে অফিস

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আজ শনিবার (০৫ এপ্রিল) শেষ হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৯ দিনের ছুটি। আগামীকাল রোববার (০৬ এপ্রিল) থেকে আবারও কার্যক্রম শুরু করবে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত অফিস।
ঈদের আগে, ২৭ মার্চ (বৃহস্পতিবার) ছিল সরকারি অফিসের কর্মচারীদের শেষ কর্মদিবস। এরপর শুক্রবার (২৮ মার্চ) থেকে শুরু হয় ৯ দিনের সরকারি ছুটি।
গত ২০ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ৩ এপ্রিল নির্বাহী আদেশে ছুটি দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়, যার ফলে এই দীর্ঘ ছুটি সম্ভব হয়।
৩১ মার্চ সোমবার ঈদুল ফিতর উদযাপন শুরু হয়, তবে সরকারি ছুটির তালিকা আগেই নির্ধারিত ছিল। এর আগে, উপদেষ্টা পরিষদ গত বছর ১৭ অক্টোবর ঈদুল ফিতরের জন্য পাঁচ দিনের ছুটির অনুমোদন দেয়, যা আগে ছিল ৩ দিন। গত ২১ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এদিকে, ৩ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা হওয়ায় এবার সরকারি চাকরিজীবীরা ৯ দিন ছুটি ভোগ করছেন, কারণ ৩ এপ্রিলের পর সাপ্তাহিক ছুটি ৪ ও ৫ এপ্রিল (শুক্রবার ও শনিবার) ছিল।
এখন, রোববার থেকে সরকারি অফিসগুলো পুনরায় খুলে যাবে এবং কর্মচারীরা তাদের দায়িত্বে ফিরে আসবেন।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
জাতীয়
দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই: খাদ্য উপদেষ্টা

খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, সরকারের কাছে যথেষ্ট খাদ্য মজুত রয়েছে, এ কারণে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরণের শঙ্কা নেই।
তিনি বলেন, গত বন্যায় আমন ধানের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে সরকার খাদ্যশস্য আমদানি করছে। এবার হাওরসহ সারা দেশে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে খাদ্য উদ্বৃত্ত হবে দেশ। কৃষক যেন ফসলের ন্যায্য মূল্য পান, সেটি নিশ্চিত করতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।
শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার অলওয়েবার সড়কের পাশে ভাতশালা হাওরে বোরো ধানের ফলন সরেজমিন পরিদর্শন ও কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আলী ইমাম মজুমদার বলেন, কৃষক ও জিরাতিরা (হাওরে বোরো ধান কাটা বা রোপণ করতে আসা লোকদের) হলো দেশ উন্নয়নের প্রথম সারির সৈনিক। তারা ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তারা যে ফসল ফলান, তা দিয়ে আমাদের বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্যের জোগান হয়।
তিনি এ সময় হাওরের সেচ সমস্যা, মাছ ধরার অজুহাতে অবৈধভাবে খালবিল শুকিয়ে ফেলার প্রবনতা, সার বীজের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, ফসল সংরক্ষণ ও ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও উপস্থিত সবাইকে আশ্বস্থ করেন।
হাওরের খাল বিল, নদ-নদী শুকিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, মেঘনাসহ বড় বড় নদীগুলো আজ নাব্য সঙ্কটে ভুগছে। হাওরের খাল-বিলগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। বড় নদ-নদীগুলো খনন করতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, হাওর এলাকায় এখন কৃষকরা কেবল ধান নয়, ভুট্টা, সবজি, হাঁসমুরগি পালন, মাছ চাষসহ নানাবিধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। কাজেই হাওর বিপুল সম্ভাবনাময় এক জনপদ। সরকার হাওরের যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপকভাবে কাজ করছে।
এসময় উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার জিরাতিদের কাছে তাদের সমস্যাগুলো জানতে চান। কয়েকজন জিরাতি, তাদের সেচ সমস্যা, রাস্তাঘাটের সঙ্কট, পানযোগ্য পানির অভাব নিয়ে কথা বলেন। জেলা প্রশাসককে এই সমস্যগুলো দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন উপদেষ্টা।
মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, অষ্টগ্রামের ইউএনও দিলশাদ জাহান, অষ্টগ্রামের কৃষি অফিসার অভিজিত সরকার উপস্থিত ছিলেন।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
জাতীয়
বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কোথাও নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সবসময় আছে। বাংলাদেশের মতো এত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কোথাও নেই। আশপাশে দেখবেন কীভাবে কী ঘটছে। আমাদের দেশে সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ধর্মাবলম্বীদের মহাঅষ্টমী পূণ্য স্নানোৎসব পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। শুক্রবার দিনগত রাত ২টা থেকে শুরু হয়ে ৫ এপ্রিল রাত ১২ টা ৪৫ পর্যন্ত দুই দিনব্যাপী এই উৎসব চলবে।
মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, অন্যান্য বারের তুলনায় এবার নদীর পানি ভালো ছিল। নদী যেন সবসময় ভালো থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পূণ্যার্থীদের সংখ্যাও অনেক বেশি। আমাদের সব রকমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। সেই সঙ্গে সবরকমের ব্যবস্থা রয়েছে সেবা দেওয়ার জন্য। আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করছি। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কোনো ভেদাভেদ নেই। আমরা সবাই বাংলাদেশি। বাংলাদেশি হিসেবেই আমরা সবাই এসেছি।
লাঙ্গলবন্দ পর্যটন কেন্দ্র করা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে কীভাবে পর্যটনকেন্দ্র করা যায় সে বিষয়টি দেখা হবে। পর্যটন কেন্দ্র থেকে বড় বিষয় হলো এটা পূণ্যভূমি। এটা ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য যেন নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অনেকে আছেন মিথ্যা সংবাদ দিলে প্রচার বেশি হয়, বেশি পয়সা পায় এজন্য তারা মিথ্যা সংবাদ দেন। বিদেশি মিডিয়া অনেক সময় মিথ্যা সংবাদ দেয়। আপনারা সত্য সংবাদ দিন। তাদের মুখে চুনকালি পড়বে। আমাদের যদি কোনো ভুল থাকে আপনারা বলেন কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু কোনো মিথ্যা সংবাদ দিবেন না। সত্যি সংবাদ দিবেন।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
জাতীয়
ভাগাড়ে কোনোভাবেই ময়লা পোড়ানো যাবে না: পরিবেশ উপদেষ্টা

ভাগাড়ে কোনোভাবেই ময়লা পোড়ানো যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ ও বন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
শনিবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাতুয়াইলে স্যানিটারি ল্যান্ডফিল (ময়লার ভাগাড়) এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, একইসঙ্গে ভাগাড়ে ব্যাটারি পোড়ানো বা ব্যাটারির সিসাও আলাদা করা যাবে না।
মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিলের আশপাশের এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিগগিরই এই ময়লার ভাগাড় মাতুয়াইল থেকে পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, পার্শ্ববর্তী দুটি স্টিলমিল বন্ধে নির্দেশ দেওয়া হবে।
ঢাকার বায়ুর মান উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে কমিটি গঠন করা হবে বলেও এ সময় জানান উপদেষ্টা।
প্রসঙ্গত, বায়ু দূষণ থেকে বাঁচতে মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিল (ময়লার ভাগার) দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ময়লা পোড়ানো বন্ধেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি তাদের।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
জাতীয়
জরুরি সভা ডেকেছেন প্রধান উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রেরে শুল্কারোপ ইস্যুতে জরুরি সভা ডেকেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এতে শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও কর্মকর্তারা যোগ দেবেন।
গত বুধবার (২ এপ্রিল) ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে
পারস্পরিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর বহুল আলোচিত পাল্টা শুল্কারোপ করেন তিনি।
ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। এতদিন দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল।
বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের একটি বড় অংশ রপ্তানি হয় যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রে বছরে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি হয় প্রায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন (৮৪০ কোটি) ডলার, যা প্রধানত তৈরি পোশাক।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন (৭৩৪ কোটি) ডলারে। নতুন করে উচ্চ মাত্রার শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে আশঙ্কা করা হচ্ছে।